02 June, 2018

স্কিন সার্জারি ও ডার্মো সার্জারি


মুখের লোম কিংবা তিল বা আঁচিল। চোখের পাতায় জমা চর্বি, ব্রনের ও মেছতার দাগ ইত্যাদি নিয়ে বিব্রত? এইসব সমস্যা নিয়ে বিব্রত হওয়ার কোনো কারণ নেই। লেজার ও ডার্মো সার্জারির মাধ্যমে খুব সহজেই এই সমস্যা সমাধান করা যায়। নিম্নে আলোকপাত করা হল।
ডার্মো সার্জারি
ত্বকের শল্য চিকিৎসার নাম ডামো সার্জারি। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ব্যথামুক্ত ও দাগবিহীন পদ্ধতিতে করা হয় নানা রকমের ডার্মো সার্জারি।সাধারণত ছোট ছোট টিউমার, তিল, আঁচিল, ফ্রেকলস ইত্যাদি চিকিৎসার জন্য ইলেকট্রো সার্জারি করা হয়। আঁচিল বা টিউমার ছোট হলে লোকাল অ্যানেথেশিয়া না দিলেও হয়। অপারেশনের পর একটি টপিক্যাল অ্যান্টিবায়োটিক মলম অপারেশনের জায়গায় লাগানোর জন্য দেয়া হয়, খাওয়ার ঔষধও দেয়া হয়।
চোখের পাতায় চর্বি জমাকে বলা হয় জ্যানথেলেসমা। এই চর্বি জমা দেহের পড়্গে অত্যন্তô ক্ষতিকর। চোখের পাতায় জমা চর্বিকে কেমিক্যাল কটারির মাধ্যমে তুলে দেয়া হয়। এ অবস্থায় রোগীকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সংযত থাকতে হয়। তৈলাক্ত জিনিস খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং কিছু ব্যায়ামও করার পরামর্শ দেয়া হয়। ৫-৭ দিনের মধ্যে জায়গাটি পরিষ্কার হয়ে যায়। সাধারণতঃ সন্তান জন্মানোর পর বা অত্যধিক পরিমাণে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ার ফলেও মেছতা দেখা যায়। মুখে মেছতার দাগ দূর করার জন্য মলম লাগাতে বলি। এছাড়া সূর্যের আলো প্রতিরোধক ক্রিম লাগাতে দিই। কিন্তু এতে কোনো ফল না হলে কেমিক্যাল পিলিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়। সাধারণত ব্রণের দাগ, মেছতার দাগ, লোমকূপের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়া বা হালকা বলিরেখা পড়া দূর করার জন্য কেমিক্যাল পিলিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়। যেসব মহিলার মুখে লোম আধিক্য থাকে বা যেসব মহিলার মুখে পুরম্নষদের মত দাড়ি-গোঁফ থাকে তা ইলেকট্রো লাইসিস পদ্ধতিতে সারানো হয়। কয়েকটা সিটিংয়ের মাধ্যমে এই লোম নির্মূল করা হয় অবশ্য তা নির্ভর করে মুখে কতটা লোম আছে তার ওপর। সাধারণত শ্বেতীর চিকিৎসায় পাঞ্চ গ্রাফটিং করা হয়। তবে শ্বেতী মানেই পাঞ্চ গ্রাফটিং নয়। প্রথমে ঔষধ দিয়ে শ্বেতী সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। শ্বেতী যদি পুরোটা নাও সারে এবং তা যাতে আর বাড়তে না পারে সেই চেষ্টা করা হয়। শ্বেতী না ছড়িয়ে একবারে থেমে গেলে তখন সেখানে পাঞ্চ গ্রাফটিং করা হয়।

শীতে পা ফাটা ও খুশকিতে করণীয়


শীতে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যাওয়ায় এবং ধুলাবালি থেকে আসার পর মাথা পরিষ্কার না করলে খুশকি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কারোই খুশকি হতে পারে। খুশকি হলে- মাথা চুলকাবে এবং মাথা থেকে সাদা ছোট পাতলা আবরণ বের হবে,যা কাপড়ে লেগে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন খুশকি থাকলে গোড়া থেকে চুল পড়ে যেতে পারে।
যে কারণে মাথা অপরিষ্কার হয়:
অপরিচ্ছন্ন থাকলে খুশকি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শীতে মাথার তালুর চামড়া শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে খুশকি হতে পারে। বংশগত কারণেও খুশকি হয়। এমন হলে তা নির্মূল করা কঠিন। নিয়মিত শ্যাম্পু, লোশন ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া দিয়ে খুশকি হলে তা দূর করা সম্ভব। খুশকি ছোঁয়াচে। এটি একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। এ জন্য খুশকি আছে এমন ব্যক্তির চিরুনি, টাওয়েল অন্য ব্যক্তির ব্যবহার না করা উত্তম।
চিকিৎসা সপ্তাহে দু'তিনবার পাইরিথ্রিয়ন, কিটোকোনাজল বা টার জাতীয় শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধোয়া ভালো। খুশকির পরিমাণ বেশি হলে বা মাথা বেশি চুলকালে মাথা থেকে চামড়া নিয়ে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করা ভালো। যদি ছত্রাক দিয়ে হয় তবে মুখে ছত্রাকনাশক ঔষধ যেমন কিটোকোনাজল, ফ্লুকোনাজল, ইটরোকোনাজল নির্দিষ্ট মেয়াদে খেতে হবে। এ ছাড়া কিটোকোনাজল গ্রুপের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। খুশকি থেকে চুল পড়ে গেলে স্ক্যাল্প লোশন ক্লোবিটাসল মাথায় ব্যবহার করতে হবে। ফাঙ্গাস থেকে খুশকি হলে কিটোকোনাজল লোশন ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধোয়া সম্ভব না হলে নরমাল সাবান দিয়েও মাথা পরিষ্কার রাখা যায়।
খুশকি থেকে জটিলতা
বাচ্চাদের এ জটিলতা হয় বেশি। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনফেকশন হয়ে সারভাইকাল লিল্ফম্ফ নোড ফুলে যায়। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা প্রয়োজন। বিশেষ করে যে বাচ্চারা এটোপিক, বংশগতভাবে ঠাণ্ডার ধাত আছে অর্থাৎ শীত এলে সর্দি-কাশি, চুলকানি বা অ্যাজমায় আক্রান্ত হয় তারা এ জটিলতায় ভোগে বেশি।
এ ছাড়া বাচ্চাদের চামড়া পাতলা বলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া দেহে ঢুকে যেতে পারে। শুধু খুশকি নয়, মাথায় সোরিয়াসিসও হতে পারে। বংশগত ও দুরারোগ্য একটি অসুখের নাম সোরিয়াসিস, যা মাথার তালুতেও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তালু থেকে চটা বা চামড়াগুলো একটু মোটা হয়ে ওঠে এবং ওঠার সময় রক্তপাত হয়, যা খুশকিতে হয় না। এটি ছেলেমেয়ে যে কারও হতে পারে এবং বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু করে ৪০-৪৫ বছর পর্যন্ত বেশি হয়। স্টেরয়েড জাতীয় শ্যাম্পু, ক্রিম ও লোশন এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। পা ফেটে গেলে শীতের শুষ্কতায় পা ফেটে যাওয়া বা ক্র্যাকড সোলের অনেক রোগী পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা খালি পায়ে হাঁটে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অধিক। কারণ এ অবস্থায় পা সরাসরি পরিবেশের সংস্পর্শে আসে এবং ত্বক দেহে পানি ধরে রাখতে পারে না। এ ছাড়া অ্যাকজিমার জন্যও পা ফেটে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যাকজিমার চিকিৎসা করাতে হবে। সাধারণত ভেসেলিন ফাটা পায়ে নিয়মিত লাগালে সাত দিনে ভালো হয়ে যায়। ফাটা বেশি হলে স্যালিসাইলিক এসিডের সঙ্গে ভেসেলিন লাগিয়ে ব্যবহার করা যায়। সঙ্গে স্টেরয়েড ক্রিম লাগাতে হয়। রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে লোশন মিশিয়ে লাগালে পা ফাটা কমে যায়।

শীতে ত্বক ফাটা রোগ


আমরা অনেকেই হয়ত জানি না যে, শীত এলে বেশ কিছু চর্ম রোগ দেখা যায়, যা কিনা গরমকালে তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না। আরেকটা ব্যাপার আমরা প্রায়ই লক্ষ করে থাকি যে, রোগীরা এসে বলে শীত এলে তার শরীর খুবই চুলকায়। অথচ রোগীর শরীর পরীক্ষা করলে কিন্তু কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে চুলকানির মূল কারণ হচ্ছে, শীত এলে তার ত্বক অধিক পরিমাণে শুষ্ক হয়ে যায় আর এই শুষ্কতার কারণ হচ্ছে বাতাসে যেহেতু শীতকালে জলীয় বাষ্প কমে যায়, তাই বায়ুম-ল ত্বক থেকে পানি শুষে নিয়ে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ত্বকের চুলকানি শুরু হয়। সেই চুলকানি আরও বেড়ে যায় যখন নখ বা অন্য কিছু দিয়ে বার বার ত্বকের গায়ে চুলকাতে থাকে।
মনে রাখতে হবে, আপনি যতই চুলকাবেন চুলকানির গতি ততই প্রবল হতে থাকবে। তাই নখ দিয়ে কখনই চুলকানো উচিত নয়। যদি একান্তই অসহ্য হয়ে পড়ে, তবে সে ক্ষেত্রে হালকাভাবে হাতের তালু দিয়ে ত্বক চুলকানো যেতে পারে। যদি শুষ্কতার কারণেই এ রকম চুলকানি দেখা দেয় তাহলে ভাল কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক ভাল থাকে। ময়েশ্চারাইজার পাওয়া না গেলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করলেও ত্বক ভাল থাকে। চুলকানির পরিমাণ মারাত্মক হলে গ্লিসারিনের সাথে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করলেও ভাল ফল পাওয়া যায়।
এরপর একটি রোগের কথায় আসা যাক যা কিনা শীত এলেই বাড়ে। সেটির নাম হচ্ছে ইক্থায়োসিস। এ রোগটি আবার অনেক ধরনের আছে। সেদিকে না গিয়ে বরং ইকথায়োসিস ভালগ্যরিস নিয়ে আজ একটু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা যাক। এটি একটি জন্মগত রোগ এবং এ রোগটি শিশুকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায়। এবং দেখা গেছে যে, প্রতি হাজারে একজন এ রোগে ভুগে থাকে। নারী-পুরুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাও সমপরিমাণ। এ রোগে যারা আক্রান্ত হয় তাদের হাত ও পায়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ত্বক ফাটা ফাটা এবং ছোট গুঁড়ি গুঁড়ি আঁইশ পায়ের সামনের অংশে ও হাতের চামড়ায় দেখা যাবে। তবে হাত ও পায়ের ভাঁজযুক্ত স্থান থাকবে সম্পূর্ণই স্বাভাবিক। তাদের কাছে প্রশ্ন করলে তারাই বলবে যে, রোগটি তার দেহে ছোটবেলা থেকেই আছে এবং প্রতিবছর শীত এলেই এটা বেড়ে যায়। এদের হাতের ও পায়ের তালুর দিকে তাকালে দেখা যাবে, হাতের রেখাগুলো খুবই স্পষ্ট যা কিনা সাধারণ লোকের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় নয়। তাদেরকে এ্যালার্জির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারাই বলবে, তাদের নাক দিয়ে প্রায়ই পানি পড়তে থাকে অর্থাৎ তাদের সর্দি অবস্থা থাকে। তাদের বাবা-মার ব্যাপারে খবর নিলে আরও পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে যে, তাদেরও কোন না কোন ধরনের এ্যালার্জিক সমস্যা ছিল বা এখন আছে।
এ রোগটি কখনই একেবারে ভাল হয় না। তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যদি ত্বকের গায়ে তৈলাক্ত পদার্থ নিয়মিত মাখা যায়। সে ক্ষেত্রে আলফা হাইড্রোক্সি এ্যাসিড খুবই কার্যকর। এটি পাওয়া না গেলে গ্লিসারিনের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলেও খুবই ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে গ্লিসারিন ব্যবহারের সমস্যা হচ্ছে যে, ত্বক আঠা আঠা হয়ে যায়।
সে ক্ষেত্রে একটি টাওয়েল দিয়ে অতিরিক্ত গ্লিসারিনটুকু চেপে তুলে নিলে ত্বকের আঠালো বা চট চটে ভাবটা কেটে যায় এবং ত্বক খুবই ভাল রাখা সম্ভব। একজিমার নাম আমরা সকলেই জানি। সেই একজিমাও কিন্তু শীত এলে বাড়তে পারে। তাই একজিমায় আক্রান্ত রোগীকে আমরা সব সময়েই বলে দেই যে, ভাল হওয়ার পরও যেন সেই স্থানটি শুষ্ক হতে দেওয়া না হয়। একটি বিশেষ ধরনের একজিমা আছে যার নাম হচ্ছে একজিমা ক্রাকুয়েলেটাম। এটি সাধারণত চল্লিশ বছরের উর্ধের লোকদের হয়। এটি শীত এলেই বাড়ে কারণ শীতে বাতাসের জলীয় পদার্থ কমে যায়। এক্ষেত্রে শুষ্ক ত্বকের গায়ে ফাটা ফাটা দাগ ও হালকা পরিমাণ আইশ লক্ষ করা যায়। কখনও কখনও ত্বক পুরো হয়ে পড়তেও দেখা যায়। একটা কথা মনে রাখা খুবই প্রয়োজন, ত্বক চুলকালে ত্বক পুরো হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা শক্ত ও অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে থাকে।
আর একটি রোগ আছে যার নাম আমরা প্রায় সকলেই জানি। রোগটি হচ্ছে স্কেবিস। বাংলায় খুঁজলি-পাঁচড়াও বলে থাকেন অনেকেই। এটির সাথে যদিও সরাসরি শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতার কোন সম্পর্কের কথা জানা যায় না, তবুও দেখা গেছে এ রোগটি শীত এলেই ব্যাপক আকারে দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হতে থাকে। হতে পারে শীতকালে যেহেতু এক বিছানায় একত্রে অনেকেই চাপাচাপি করে শোয় সে কারণে রোগটি এ সময় ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে। এ রোগটি আমাদের দেশের গরিব শ্রেণীর মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে সব শিশু স্কুলে যায় তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম হচ্ছে স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই। এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতে চুলকানির তীব্রতা আরও বাড়ে।
খুবই সাধারণ হলেও রোগটির চিকিৎসায় দেরি হলে এমন সব অবস্থা নিয়ে রোগীরা ডাক্তারের কাছে আসে যে, ভাল অভিজ্ঞতা না থাকলে অনেকেই ভুল চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ঘরের একাধিক ব্যক্তি এ রোগে ভুগে থাকেন। ফলে ঘরের সবাইকেই এ রোগের চিকিৎসা একসঙ্গে করাতে হয়, নয়ত ভাল হয়ে এ রোগ আবার তার দেহে দেখা দেবেই।
এছাড়াও কিছু কিছু রোগ আছে যেমন হাম ও চিকেন পক্স। এগুলোর সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত। এগুলো ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। লক্ষ্য করলে দেখাতে পাবেন যে, এগুলোও শীতকালেই বেশি হয়ে থাকে।

শীতে চর্ম রোগ


আমরা অনেকেই হয়তো জানি না যে শীত এলে বেশ কিছু চর্ম রোগ দেখা যায় যা কিনা গরমকালে তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না। আর একটা ব্যাপার আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করে থাকি যে রোগীরা এসে বলে শীত এলে তার শরীর খুবই চুলকায়। অথচ রোগীর শরীর পরীক্ষা করলে কিন্তু কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না।
আমরা অনেকেই হয়তো জানি না যে শীত এলে বেশ কিছু চর্ম রোগ দেখা যায় যা কিনা গরমকালে তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না। আর একটা ব্যাপার আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করে থাকি যে রোগীরা এসে বলে শীত এলে তার শরীর খুবই চুলকায়। অথচ রোগীর শরীর পরীক্ষা করলে কিন্তু কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে চুলকানির মূল কারণ হচ্ছে শীত এলে তার ত্বক অধিক পরিমাণে শুষ্ক হয়ে যায় আর এ শুষ্কতার কারণ হচ্ছে বাতাসে যেহেতু শীতকালে জলীয় বাষ্প কমে যায় তাই বায়ুমন্ডল ত্বক থেকে পানি শুষে নিয়ে যায় ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ত্বকে চুলকানি শুরু হয়। সেই চুলকানি আরো বেড়ে যায় যখন নখ বা অন্য কিছু দিয়ে বারবার চুলকানো হয়।
মনে রাখতে হবে আপনি যতই চুলকাবেন চুলকানির গতি ততই প্রবল হতে থাকবে। তাই নখ দিয়ে কখনই চুলকানো উচিত নয়। যদি একান্তই অসহ্য হয় তবে সে ক্ষেত্রে হালকাভাবে হাতের তালু দিয়ে চুলকানো যেতে পারে। যদি শুষ্কতার কারণেই এরকম চুলকানি দেখা দেয় তাহলে ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকে। ময়েশ্চারাইজার পাওয়া না গেলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলেও ত্বক ভালো থাকে। চুলকানির পরিমাণ মারাত্মক হলে গি্লসারিনের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
এর পর একটি রোগের কথায় আসা যাক যা কিনা শীত এলেই বাড়ে। সেটির নাম হচ্ছে ইকথায়োসিস। এ রোগটি আবার অনেক ধরনের আছে। সেদিকে না গিয়ে বরং ইকথায়োসিস ভালগ্যারিস নিয়ে আজ একটু সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা যাক। এ রোগটি একটি জন্মগত রোগ। এবং এ রোগটি শিশুকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায় এবং দেখা গেছে যে প্রতি হাজারে একজন এ রোগে ভুগে থাকে। নারী পুরুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাও সমপরিমাণ। এ রোগে যারা আক্রান্ত হয় তাদের হাত ও পায়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে ত্বক ফাটা ফাটা এবং ছোট গুড়ি গুড়ি আঁইশ পায়ের সামনের অংশে ও হাতের চামড়ায় দেখা যাবে। তবে হাত ও পায়ের ভাঁজযুক্ত স্থান থাকবে সম্পূর্ণই স্বাভাবিক তাদের কাছে প্রশ্ন করলে তারাই বলবে যে রোগটি তার দেহে ছোটবেলা থেকেই আছে এবং প্রতিবছর শীত এলেই এটা বেড়ে যায়। এদের হাতের ও পায়ের তালুর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে হাতের রেখাগুলো খুবই স্পষ্ট যা কিনা সাধারণ লোকের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় নয়। তাদের অ্যালার্জির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারাই বলবে যে তাদের নাক দিয়ে প্রায়ই পানি পড়তে থাকে অর্থাৎ তাদের সর্দি অবস্থা থাকে। তাদের বাবা মার ব্যাপারে খবর নিলে আরো পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে তাদেরও কোনো না কোনো ধরনের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা ছিল বা এখন আছে।
এ রোগটি কখনই একেবারে ভালো হয় না। তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব যদি ত্বকের গায়ে তৈলাক্ত পদার্থ নিয়মিত মাখা যায়। সে ক্ষেত্রে আলফা হাইড্রোক্সি এসিড খুবই কার্যকরী। এটি পাওয়া না গেলে গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলেও খুবই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তবে গ্লিসারিন ব্যবহারের সমস্যা হচ্ছে যে ত্বক আঠা আঠা হয়ে যায়।
সেক্ষেত্রে একটি টাওয়েল দিয়ে অতিরিক্ত গ্লিসারিনটুকু চেপে তুলে নিলে ত্বকের আঠালো বা চট চটে ভাবটা কেটে যায় এবং ত্বক খুবই ভালো রাখা সম্ভব। একজিমার নাম আমরা সবাই জানি। সেই একজিমাও কিন্তু শীত এলে বাড়তে পারে। তাই একজিমায় আক্রান্ত রোগীদের আমরা সব সময়ই বলে দেই ভালো হওয়ার পরও যেন সেই স্থানটি শুষ্ক হতে দেয়া না হয়। একটি বিশেষ ধরনের একজিমা আছে যার নাম হচ্ছে একজিমা ক্রাকুয়েলেটাম। এটি সাধারণত চল্লিশ (৪০) বছরের ঊর্দ্ধেবয়স্ক লোকদের হয়। এটি শীত এলেই বাড়ে কারণ শীতে বাতাসের জলীয় পদার্থ কমে যায়। এক্ষেত্রে শুষ্ক ত্বকের গায়ে ফাটা ফাটা দাগ ও হালকা পরিমাণ আঁইশ লক্ষ্য করা যায়। কখনো কখনো ত্বক পুরো হয়ে পড়তেও দেখা যায়। একটা কথা মনে রাখা খুবই প্রয়োজন ত্বক চুলকালে ত্বক পুরো হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা শক্ত ও অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে থাকে।
আর একটি রোগ আছে যার নাম আমরা প্রায় সবাই জানি। রোগটি হচ্ছে স্কেবিস। বাংলায় খুজলি পাঁচড়াও বলে থাকেন অনেকেই। এটির সঙ্গে যদিও সরাসরি শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতার কোনো সম্পর্কের কথা জানা যায় না তবুও দেখা গেছে এ রোগটি শীত এলেই ব্যাপক আকারে দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হতে থাকে। হতে পারে শীতকালে যেহেতু এক বিছানায় একত্রে অনেকেই চাপাচাপি করে শোয় সে কারণে রোগটি এ সময়ে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে। এ রোগটি আমাদের দেশের গরিব শ্রেণীর মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে সব শিশু স্কুলে যায় তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম হচ্ছে স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই। এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতে চুলকানির তীব্রতা আরো বাড়ে।
রোগটি খুব সাধারণ হলেও চিকিৎসায় দেরি হলে, এমন সব অবস্থা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে যে ভালো অভিজ্ঞতা না থাকলে অনেকেই ভুল চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ঘরের একাধিক ব্যক্তি এ রোগে ভুগে থাকেন। ফলে ঘরের সবাইকেই এ রোগের চিকিৎসা এক সঙ্গে করাতে হয় নয়ত ভালো হয়ে এ রোগ আবার তার দেহে দেখা দেবেই।
এছাড়াও কিছু কিছু রোগ আছে যেমন হাম ও চিকেন পকস এগুলোর সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত। এগুলো ভাইরাসজনিত চর্ম রোগ। লক্ষ্য করলে দেখতে পাব যে এগুলো শীতকালেই বেশি হয়ে থাকে।

পুরুষের যে কারণে মাথা টাক হয়ঃ


চুলপড়া সমস্যার চিকিত্সা যত বেশী জরুরী তার চেয়ে বেশী জরুরী রোগীর আস্থা ও ধৈর্য। কারণ ধৈর্য ধরে যথাযথ চিকিত্সা নিতে পারলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।চুলপড়া সমস্যা সব বয়সেই হতে পারে। কি পুরুষ কি মহিলা অথবা কিশোর-কিশোরী। আমি সব সময় বলে আসছি চুলপড়া সমস্যা কোন রোগ নয়। যে কোন রোগ অথবা সমস্যা থেকে চুলপড়তে পারে। এবার আমরা মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বা পুরুষের এক ধরণের চুলপড়া নিয়ে আলোচনা করবো। মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস হচ্ছে পুরুষের চুলপড়া সমস্যার অন্যতম একটি ধরন। সাধারণত:জিন ও পুরুষ সেক্স হরমোন হিসাবে খ্যাত টেসটেসটেরনই দায়ী। এধরণের চুলপড়া সমস্যাকে এড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া বলা হয়। এধরণের চুলপড়া সমস্যা বুঝতে বা ডায়াগনোসিস করতে খুব একটা সমস্যা হয়না। হেয়ারলাইন বা কপালের উপরের অংশের চুল ফাকা হয়ে যায় এবং মাথার উপরি ভাগের অংশে চুল কমে যায়। এ ক্ষেত্রে চুলপড়ার ধরণ দেখেই বুঝা যায় এটা হরমোনাল বা বংশগত কারণে চুল পড়ছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ হরমোন জনিত চুলপড়া সমস্যার কোন ভালো চিকিত্সা নেই। কারণ হরমোন পরিবর্তন করে চুলপড়া সমস্যার চিকিত্সা যৌক্তিক নয়। তবে মেলপ্যাটার্ন বল্ডনেস বা পুরুষের চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে মার্কিন ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন এ পর্যন্ত দু'টো ঔষধ অনুমোদন দিয়েছে। আশার কথা এ দু'টো ঔষধই এখন বাংলাদেশে তৈরী হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে মিনক্সিডিল। মিনক্সিডিল হচ্ছে এক ধরণের লোশন বা সলিউশন যা সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে হয়। এই ঔষধটি হেয়ার ফলিকিউল স্টিমুলেট করে এবং চুলগজাতে সাহায্য করে।এছাড়া এড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়ায় আর একটি ঔষধ ব্যবহার করা হয়।এটি হচ্ছে ফিনাস্টেরাইড।এটা এক ধরণের মুখে খাবার ঔষধ। দৈনিক ১ মিলিগ্রাম করে এধরণের ঔষধ সেবন বাঞ্ছনীয়। এই ঔষধটি মিনক্সিডিল অপেক্ষা ভালো এবং চুলপড়া কমাতে সাহায্য করে।পাশাপাশি চুল গজাতেও কার্যকর।তবে যে কথাটি আমি সব সময় বলে থাকি চুলপড়া সমস্যা কোন রোগ নয় এবং চুলপড়া সমস্যার কোন ম্যাজিক চিকিত্সা নেই। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগীরা চিকিত্সা নিতে নিতে হতাশ হয়ে পড়ে। ছুটতে থাকে এক ডাক্তার থেকে অন্য ডাক্তারের কাছে। ঔষধও পরিবর্তন করতে হয় বারবার। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়না।
স্কিন স্পেশালিষ্টদের প্রতি আস্থা হারিয়ে রোগীরা ছোটে তথাকথিত অপচিকিত্সার দিকে। এজন্য আমরা ডাক্তাররাও কিছুটা দায়ী। রোগীর সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় দেইনা। রোগীর মানসিক অবস্থা ও চুলপড়া নিয়ে হতাশাও বুঝতে চেষ্টা করিনা। ফলে বড় বড় ডাক্তারদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে রোগীরা। আর একটা কথা মনে রাখতে হবে শুধু ঔষধ দিয়েই চুলপড়া সমস্যার সমাধান হবেনা। চুলপড়া সমস্যার প্রকৃত কারণ জেনে চিকিত্সার পাশাপাশি যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। আর রোগীকে আস্থাশীল করতে না পারলে রোগীও দীর্ঘ মেয়াদী চিকিত্সা নিতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই চুলপড়া সমস্যার চিকিত্সা যত বেশী জরুরী তার চেয়ে বেশী জরুরী রোগীর আস্থা ও ধৈর্য। কারণ ধৈর্য ধরে যথাযথ চিকিত্সা নিতে পারলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।

ছানির চিকিৎসায় অপারেশন


ফ্যাকো সার্জারি:
ছানির আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে ফ্যাকো সার্জারি। চোখের পাশে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিমিটার ছিদ্র করে এই অপারেশন করা হয়। লেন্সের উপরের আবরণে গোল করে কেটে এর মধ্যেই ফ্যাকো মেশিনের সাহায্যে আলট্রাসনিক পাওয়ার দিয়ে লেন্সটিকে টুকরা টুকরা করে গলানো হয়। এভাবে লেন্সটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেলে এই আবরণের মধ্যেই একটি কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়।
ফোল্ডঅ্যাবল লেন্স বা ভাঁজ করা যায় এমন লেন্স ব্যবহার করলে ওই ছিদ্র দিয়েই লেন্স ভাঁজ করে প্রবেশ করানো হয়। চোখের ভেতরে এই লেন্সটি সুন্দরভাবে সেট হয়ে যায়। ফোল্ডঅ্যাবল লেন্স ব্যবহার না করলে ওই ছিদ্রটিকে ৫-৬ মি.মি. বড় করে ওই মাপের পিএমএমএ বা হার্ড লেন্স প্রবেশ করানো হয়। ২ পদ্ধতিতেই সেলাইয়ের প্রয়োজন হয় না।
অভিজ্ঞ ফ্যাকো সার্জনরা চোখের পাশে একটি ইনজেকশন দিয়ে অবশ করে অথবা কোনো কোনো রোগীকে ইনজেকশন ছাড়াই শুধু ফোঁটা ঔষধ ব্যবহার করে চোখের উপরে অবশ করে এই অপারেশন করে থাকেন।
এসআইসিএস:
লেন্স বেশি ম্যাচিউর হয়ে গেলে অনেক সময় মেশিনের সাহায্যে লেন্স গলানো কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এসব ক্ষেত্রে স্মল ইনসিশন ক্যাটার্যাক্ট সার্জারি বা এসআইসিএস খুবই উপযোগী। এই পদ্ধতিতেও ফ্যাকো পদ্ধতির মতো লেন্সের আবরণীর উপরের অংশ গোল করে কেটে এর ভেতর থেকে লেন্সের শক্ত অংশটি বা নিউক্লিয়াসটিকে পানি, জেল বা ভেকটিস যন্ত্রের সাহায্যে বের করা হয়। পরে লেন্সের নরম অংশ পরিষ্কার করে সাধারণত হার্ড লেন্স চোখে দেয়া হয়।এই অপারেশনে লেন্সের ম্যাচিউরিটি অনুযায়ী ৫-৭ মি.মি. পরিমাণ ইনসিশন দেয়ার প্রয়োজন হয়। এই অপারেশনেও সাধারণত সেলাই প্রয়োজন হয় না। অভিজ্ঞ সার্জনের হাতে এই অপারেশনের ফলাফলও খুব ভালো।
ইসিসিই:
তুলনামূলক পুরনো ছানি অপারেশন। এই অপারেনে ৯ -১১ মি.মি. ইনসিশন দিয়ে লেন্সটি বের করা হয় এবং পরিষ্কার করে কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়। এই অপারেশনে ৪-৮ টি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়। সঠিকভাবে অপারেশন করা গেলে এই পদ্ধতিতেও রোগী ভালো দেখবেন। তবে সেলাইয়ের কারণে অনেকের চোখে কাঁটা কাঁটা লাগতে পারে বা এলার্জি হতে পারে।

চোখ দিয়ে পানি পড়া


সুন্দর সুস্থ চোখ কার না কাম্য।কিন্তু সেই চোখ হতে কান্না ব্যতিত অনবরত পানি পড়তে থাকলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।
চোখ দিয়ে পানি পড়ার কারণ
স্বাভাবিক চোখ সবসময় একটু ভেজা থাকে। অতিরিক্ত পানি চোখের ভেতরের কোনায় অবস্থিত নল (নেত্রনালী) দিয়ে নাকে চলে যায় এবং শোষিত হয়। কোন কারণে চোখে অতিরিক্ত পানি তৈরী হলে, অথবা নেত্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে চোখের পানি উপচে পড়ে, একে লেক্রিমেশন বা এপিফোরা বলে।
শিশুর জন্মের পর পর যদি নেত্রনালী বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত: এক বছরের মধ্যে আপনি আপনিই নেত্রনালী খুলে গিয়ে পানি পড়া ভাল হয়ে যায়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর প্রদাহজনিত কারণে নেত্রনালী সরু হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এক্ষেত্রে নেত্রনালীতে ইনফেকশন হয়ে পূঁজ জমতে পারে। চোখের ভেতরের কোনায় চাপ দিলে পানি ও পূঁজ বের হতে পারে।
বয়স্ক লোকের নেত্রনালী বয়সজনীত পরিবর্তনের কারণে সরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বয়সের কারণে চোখের চারদিকের মাংশপেশী দূর্বল হবার কারণেও নেত্রনালী অকার্যকর হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এছাড়াও নেত্রনালীর সমস্যা ছাড়াও চোখের এ্যালার্জী, চোখ ওঠা রোগ, গ্লুকোমা, কর্ণিয়ার ঘা, চোখের আঘাত ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে যে কোন বয়সে চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। অতিরিক্ত সর্দি হলে নাকের প্রদাহের কারণে নেত্রনালীর ছিদ্র মুখ বন্ধ হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে।
করণীয়
শিশুদের ক্ষেত্রে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে ডাক্তারের পরামর্শে চোখের কোনায় মালিশ এবং এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহারে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পানি পড়া বন্ধ হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রোবিং সার্জারীর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হয়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ড্রপ, কোন কোন ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক/স্টেরইড এর মিশ্রণ ব্যবহার করলে এ সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হয়। চোখে জমে থাকা পূঁজ চোখের কোনায় চাপ দিয়ে নিয়মিত পরিস্কার করা প্রয়োজন। ওষুধে ভাল না হলে ‘ডিসিআর’ অপারেশনের মাধ্যমে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব।
বেশী বয়স্কদের নেত্রনালী সংকুচিত হওয়ার কারণে ডিসিআর অপারেশন করা সম্ভব হয়না।সেক্ষেত্রে ডিসিটি অপারেশন করা হয়। এক্ষেত্রে পূঁজ জমা বন্ধ হয়, কিন্তু পানি পড়া বন্ধ হয়না। যে সব বয়স্ক লোকের ছানিরোগ আছে, আবার তাদের যদি নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি ও পূঁজ পড়ে, সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই ছানি অপারেশনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শে বয়সভেদে ডিসিআর অথবা ডিসিটি অপারেশন করতে হবে, না হলে চোখের কোনায় জমে থাকা জীবানু ছানি অপারেশনের সময় চোখের ভেতরে ঢুকে মারাত্মক ইনফেকশন করতে পারে। নেত্রনালী সমস্যা ব্যাতিত অন্য কারণে পানি পড়লে সেই কারণ চিহ্নিত করে ডাক্তারের পরামর্শে তার চিকিৎসা করাতে হবে। বর্তমানে লেসার রশ্নির সাহায্যে চামড়া না কেটে অল্পসময়ে ডিসিআর অপারেশন করা সম্ভব, ফলে অপারেশনের পরে চামড়ায় দাগ পড়েনা।

বুকের ব্যাথার বিভিন্ন কারন


বুকের ব্যাথা এতোটা জটিল সমস্যা যার জন্য কোনো ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়। বিভিন্ন কারণে বুকে ব্যাথা হয়ে থাকে। প্রথমে দেখতে হবে বুকে ব্যাথা আঘাত জনিত কারণে না আঘাত বিহীন কারণে। যদি আঘাত বিহীন কারণে বুকে ব্যাথা হয় তাহলে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে হৃদরোগজনিত কারণে না অন্য কোনো কারণে বুকে ব্যাথা হয়েছে। এই কারণ নির্ধারনের জন্য রোগীর কাছ থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে হবে এবং এর পর শারীরিক ও ল্যাব পরীক্ষা করে সঠিক রোগ নির্ণয় করলে বেশীর ভাগ বুকের ব্যাথা ভাল করা সম্ভব।
খাবার পর, শোবার সময়, গরম খাবার, মদ পান করলে এবং খালী পেটে যদি ব্যাথা বাড়ে, এ্যান্টাসীড জাতীয় ঔষধ খেলে কমে যায়, তাহলে খাদ্য নালী জানিত কারণ।বুকের ব্যাথার সাথে শ্বাস কষ্ট হলে হৃদরোগ, পালমোনারী অ্যামবলিজম নিমোনিয়া নিউমোথোরাক্স হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।
পরিশ্রম শুরু করার কিছুক্ষণ পর থেকে ব্যাথা শুরু হয়, বিশ্রাম নিলেও ব্যাথা থাকে, যদি ব্যাথা নিরাময় জাতীয় ঔষধ থেকে ব্যাথা কমে তাহলে মাংশপেশী জনিত কারণ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।
বুকে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাথা, হঠাৎ কোন শব্দ হলে বুকের ব্যাথা বেড়ে যায় ও বুক ধড়পড় করে, কোনো মৃত্যুর সংবাদ শুনলে বুকে ব্যাথা শুরু হয়, বিভিন্ন ধরনের দুঃচিন্তা করলে বুকে ব্যাথা বেড়ে যায় তাহলে মানসিক কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।
অনেক সময় পেট ব্যাথার সাথে বুকে ব্যাথা থাকতে পারে যেমন পিত্তথলীতে পাথর হলে হয়। যে কারণেই বুকে ব্যাথা হোক না কেন রোগী অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যেমন বুকের পরীক্ষা করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা করালে বেশীর ভাগ রোগী ভাল হয়ে যায় এবং অনেক সময় দ্রুত হৃদরোগ নির্ণয় করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোনো রোগের কারণ না পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে রোগীকে সঠিক উপদেশ দিয়েও বুকের ব্যাথা ভাল করা সম্ভব।

লো ব্লাড প্রেসার হলে…


নানাবিধ কারণে মানুষের শরীরে নিম্নরক্তচাপ হয়ে থাকে। সাধারণত ডায়াস্টলিক রক্তচাপ ৬০ বা ৫৫-এর নিচে থাকলে আমরা নিম্নরক্তচাপ বলি। আবার সিস্টলিক চাপ ৯০ বা ৮০-এর নিচে থাকলেও নিম্নরক্তচাপ বুঝে থাকি।
খুব নিম্নরক্তচাপের দরুন শরীরে প্রতিটি শিরা ও কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পরিমাণমত সরবরাহ হয় না। ফলে স্বাভাবিকভাবে মস্তিষ্ক (Brain), রেচনতন্ত্র (Kidney) বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। বেশি মোটা বা বেশি পাতলা লোকও নিম্নরক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারে।
কারণ
দীর্ঘদিন জটিল রোগে ভোগা এবং কিছু কিছু ঔষধের ব্যবহার। মারাত্মক রক্তশূন্যতা এবং ক্রিমি, যক্ষ্মা, মৃদুজ্বর, পেটের অসুখ বা অরুচির জন্যও এ রোগে দেখা যায় পুষ্টির অভাব, চর্বি, প্রোটিন ও ভিটামিনযুক্ত খাদ্যের অভাব। দীর্ঘদিন বিষণ্নতা বা মানসিক রোগে ভোগা। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে ভোগা। অতিরিক্ত নিদ্রা হরণ বা রাত্রি জাগরণ। বেশি শারীরিক পরিশ্রম ও বিশ্রামহীন জীবনযাপন।
লক্ষণ
শরীর দুর্বল ও মাথা ঘোরা থাকে এবং ঘুম কম হয়। রোগী অস্থির বোধ করে। মাথা ব্যথা করে, স্মরণশক্তি লোপ পায় এবং চেহারা ফ্যাকাশে দেখায়। কোনো কাজে মন বসে না এবং একটু খাটা-খাটুনিতে হাঁপিয়ে পড়ে এবং নাড়ির গতি দ্রুত হয়। হজমশক্তি, ক্ষুধাহীনতা এবং প্রায়ই জ্বর ও সর্দি-কাশি লেগে থাকে। অনেকক্ষণ কাজ করা বা বসা থেকে হঠাত্ উঠে দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখে, চোখ-মুখ উল্টিয়ে ফেলে। রক্তচাপ মাপলে দেখা যাবে সিস্টোলিক ৯০-এর নিচে এবং ডায়াস্টোলিক ৫৫-এর নিচে নেমে গেছে। অতিরিক্ত রক্তচাপের দরুন মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কম হলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায় এবং ঘামতে থাকে।
চিকিৎসা
পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে। নিয়মিত (Balance diet) খাদ্য গ্রহণ এবং শরীরের আহার, শ্রম, নিদ্রা ও বিশ্রামের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে।
পরামর্শ: অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর প্রভাব শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি হতে পারে। তবে মস্তিষ্ক, হার্ট ও কিডনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রণে থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি সাতগুণ বেড়ে যায়, হার্ট ফেইলুরের ঝুঁকি ছয়গুণ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তিনগুণ বাড়ে। আমাদের দেশে ১৮ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ লোক উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। যদি কোনো লোকের ৫০ বছর বয়সেও স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকে এবং সে যদি ৮০ বছর বাঁচে; তবে তার উচ্চ রক্তচাপে ভোগার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ।
সাধারণত আমরা বলে থাকি ১১৫/৭৫ mm.Hg রক্তচাপ থাকা ভালো। তার ওপরে যদি রক্তচাপ থাকে তবে তাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীদের এই ঝুঁকি আরও বেশি। রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ mm.Hg-এর ওপরে থাকে তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। রক্তচাপের ঠিকমত চিকিৎসা না করলে সেটা অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের পর্যায়ে পড়ে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের ঠিকমত চিকিৎসা করা উচিত।
আমাদের জানা ভালো
১. স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mm.Hg বা এর কম।
২. যাদের উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ রয়েছে তাদের চিকিৎসার পর রক্তচাপ ১৩০/৮৫ mm.Hg থাকা উচিত।
৩. চিকিৎসার পরও যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগ আছে তাদের রক্তচাপ ১৩০/৮০ mm.Hg থাকা উচিত।
যেসব কারণে আমাদের দেশে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়-
সাধারণ রোগীর জন্য
১. রোগীর শিক্ষার মান না থাকায় তারা রক্তচাপ সম্পর্কে অজ্ঞ।
২. আমাদের দেশে অধিকাংশ লোকের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় তারা চিকিৎসা নিতে পারে না।
৩. উচ্চ রক্তচাপের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নানা ধরনের শঙ্কা কাজ করে।
৪. স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নীতি-নির্ধারকদের এগিয়ে না আসা।
৫. উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় প্রয়োজনে সারা জীবন ঔষধ খেতে হয়। এই দীর্ঘমেয়াদি ঔষধ না খাওয়ায় অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়।

হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে


সারাদিনের কর্মব্যস্ত কাজের শেষে বিকালে যখন আপনি বাসায় ফিরছেন তখন হঠাত্ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন, সঙ্গে খুব ঘাম এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। সেই তীব্র ব্যথা ক্রমাগত মুখের চোয়াল হয়ে আপনার বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ছে। আপনি খুব অস্থির অনুভব করছেন। যারা হার্ট অ্যাটাকের রোগী তাদের কাছে এই অভিজ্ঞতা খুব সাধারণ।
হার্ট অ্যাটাক হলে হাসপাতালে নেয়ার আগ পর্যন্ত যদি কিছু টিপস মেনে চলা যায় তাহলে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। তাই হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের জন্য এবং যাদের হার্ট অ্যাটাকের মতো এরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে তাদের জন্য কিছু করণীয় বিষয় উল্লেখ করছি।
হার্ট অ্যাটাক হলে ভয় পাবেন না। আমাদের হার্ট যখন অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালন করে তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। হার্ট অ্যাটাকের ১০ সেকেন্ডের মধ্যে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে আপনি খুব দ্রুত জোরে এবং ঘন ঘন কাশি দেবেন যেন কাশির সঙ্গে কফও বের হয়ে আসে। প্রতিবার কাশি দেয়ার আগে দীর্ঘশ্বাস নিন। এভাবে ঘন ঘন কাশি এবং দীর্ঘশ্বাস প্রতি দুই মিনিট পর পর করতে থাকুন। এতে করে আপনার হার্ট কিছুটা হলেও নিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালন করবে।
হার্ট অ্যাটাকের প্রত্যেক রোগীর জন্য এই টিপস জেনে নেয়া আবশ্যক। হাসপাতালে নেয়ার আগে এই টিপস অনেকখানি সাহায্য করবে রোগীকে। কারণ দীর্ঘশ্বাসের ফলে আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বেশি হয়। আর ঘন ঘন এবং জোরে কাশি দেয়ার ফলে বুকে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাতে করে হার্ট পর্যাপ্ত ও নিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হয়।
কেবল ত্রিশ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নয়, বরং আজকাল জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হওয়াতে যে কারও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই সবারই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

ইসমাইল হোসেন