21 November, 2018

কিতাবুস সালাত ৩, মুসলিম শরিফের হাদিস

৯২২ মুহাম্মাদ ইবনু আববাদ (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। অতঃপর ফিরে আসতেন এবং তার নিজ লোকদের সালাত (নামায/নামাজ) ইমামত করতেন। এক রাতে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। অতঃপর স্বীয় লোকদের কাছে আসলেন। এবং তাদের ইমামত করলেন। এতে তিনি সূরা বাকারা পড়া শুরু করেন। এতে জনৈক ব্যাক্তি সরে গিয়ে সালাম ফিরাল এবং একাকী সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে চলে গেল। লোকেরা তাকে বলল, তুমি কি মুনাফিক হয়ে গিয়েছ? সে বলল, না আল্লাহর কসম আমি মুনাফিক নই। আমি অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট যাব এবং তাকে একথা জানাব। অতঃপর সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসল এবং বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা তো দিনে উট দিয়ে পানি সেচের কাজ করি। আর মু’আয (রাঃ) আপনার সঙ্গে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে আসেন এবং সূরা বাকারা পাঠ করা শুরু করেন। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুা’আযের প্রতি ফিরলেন এবং বললেন, হে মু’আয তুমি কি ফেৎনা সৃষ্টি কারী? তুমি এই সূরা পাঠ করবে। সুফিয়ান বলেন, আমি আমরকে বললাম, আবূ যুবায়র (রহঃ) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বললেন, পাঠ করবে। আমর (রাঃ) বললেন এমনই।
৯২৩ কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমহ (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মু’আয ইবনু জাবাল আল-আনসারী (রাঃ) তাঁর লোকজনদের নিয়ে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবেন এবং তা খুবই দীর্ঘ করেন। আমাদের মধ্যে জনৈক ব্যাক্তি সরে গিয়ে একাকী সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল। মু’আযকে এ বিষয়ে অবগত করা হল। তখন বললেন, ঐ ব্যাক্তি মুনাফিক! এই খবর ঐ ব্যাক্তির নিকট পৌছল। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেল এবং মু’আযের উক্তি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’আয (রাঃ)-কে বললেন, হে মু’আয তুমি ফিতনা সৃষ্টি কারী হতে চাও? তুমি যখন সালাত (নামায/নামাজ) ইমামতি করবে, তখন পাঠ করবে।
৯২৪ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আয ইবনু জাবাল (রহঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। অতঃপর ম্বীয় লোকদের নিকট আসতেন এবং তাদের নিয়ে সেই সালাত (নামায/নামাজ)ই ইমামতি করতেন।
৯২৫ কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও আবূর রাবী আয-যাহরানী (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আয (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। অতঃপর স্বীয় কাওমের মসজিদে এসে তাদেরকে নিয়ে সেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।
৯২৬ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ মাসঊদ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আগমন করে বলল, আমি অমুক ব্যাক্তির কারণে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আসছি না। কেননা, সে আমাদের নিয়ে (সালাত (নামায/নামাজ) দীর্ঘ করে। তখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে নসীহত করার ক্ষেত্রে কখনও এত অধিক রাগান্বিত হতে দেখি নি, যতটা দেখলাম সে দিন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা (দ্বীন সম্পর্কে) ঘৃণা তৈরি করেছে। তোমাদের যে কেউ লোকদের ইমামতি করবে, সে যেন সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত করে। কেননা, তার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও অভাবগ্রস্ত (মানুষ) থাকে।
৯২৭ আবূ বকর ইবনু শায়বা, ইবনু নুমায়র ও ইবনু আবূ আমর (রহঃ) ইসমাঈল সুত্রে উপরোক্ত সনদে হুশায়মের হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
৯২৮ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন তোমাদের মধ্যে কেউ লোকদের ইমামতি করবে, তখন (সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত করবে। কেননা, তাদের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ, দুর্বল, ও রুগ্ন, লোক থাকে। আর যখন একাকী সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে তখন যেভাবে মন চায় তা আদায় করবে।
৯২৯ ইবনু রাফি (রহঃ) হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রহঃ) আমাদের নিকট মুহাম্মাদুর বাসূলূল্লাহ -এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী আরও বলেন, তার মধ্যে একটি এই, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে তখন সংক্ষিপ্ত ভাবে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। কেননা, তাদের মধ্যে বৃদ্ধ ও দুর্বল (লোক) থাকে। আর যখন একাকী সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে তখন যত ইচ্ছা তা আদায় করবে।
৯৩০ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে তখন সংক্ষিপ্ত করবে। কেননা, লোকদের মধ্যে দুর্বল, রুগ্ন ও অভাবী (মানুষ) থাকে।
৯৩১ আব্দুল মালিক ইবনু শু’আয়ব ইবনুল লাইস (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এই সনদে) অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রুগ্ন এর স্থলে বৃদ্ধ বলেছেন।
৯৩২ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) উসমান ইবনু আবূল-আস আস-সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, তুমি তোমার কাওমের ইমামত করবে। তিনি বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি এই ব্যাপারে ভয় পাই। তিনি বললেন, আমার কাছে আস। এবং আমাকে তাঁর সামনে বসালেন। অতঃপর তার হাত আমার বুকের মাঝে রাখলেন। এরপর বললেন, ফিরে বস এবং আমার পিঠের ওপর দুই কাঁধের মাঝে তার হাত রাখলেন। অতঃপর বললেন, নিজ কাওমের ইমামত কর। আর যে কেউ তার কাওমের ইমামত করবে, সে যেন তার সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত করে। কেননা, তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, রুগ্ন, দুর্বল এবং এমন লোকও রয়েছে যার কোন প্রয়োজন আছে। অবশ্য যখন একাকী সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে তখন সে যেরুপ ইচ্ছা করতে পারে।
৯৩৩ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) উসমান ইবনু আবূল আস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যে শেষ উপদেশ দিয়েছিলেন তা হচ্ছে, যখন তুমি তোমার কাওমের ইমামত করবে, তখন তাদের সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষেপ করবে।
৯৩৪ খালাফ ইবনু হিশাম ও আবূ রাবী আয-যাহরানী (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -সংক্ষেপে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন কিন্তু তা হতো পূর্ণাঙ্গ।
১৪৩৭ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা রাতে পথ চলছিলাম। রাত যখন শেষ হয়ে এলো এবং প্রভাত নিকট বর্তী হল, তখন আমরা শুয়ে পড়লাম। এটি মুসাফিরের জন্য হয়ে এলো এবং প্রভাত নিকটবর্তী হল, তখন আমরা শুয়ে পড়লাম। এটি মুসাফিরের জন্য এমন একটি কাঙ্খিত বস্তু যার তুলনা হয় না। তারপর সূর্য কিরণ ছাড়া আমাদের কেউ জাগাতে পারেনি। পরে কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সহ সালম ইবনু যারীরের অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেনা উক্ত হাদীসে এই বর্ণনাও রয়েছে যে, উমর (রাঃ) জেগে উঠে লোকদের অবস্হা দেখলেন। তিনি ছিলেন উচ্চ কণ্ঠের অধিকারী এবং খুবই শক্তিশালী। তারপর তিনি উচচঃস্বরে তাক্ববীর দিতে লাগলেন। তাঁর শব্দের উচ্চ সূরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন। তাঁর জাগার পর লোকেরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে নানা অভিযোগ করতে লাগল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন ক্ষতি নেই, এই স্হান ত্যাগ কর পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরুপ বর্ননা করেছেন।
৯৩৯ হামিদ ইবনু উমার আল-বাকরাবী ও আবূ কামিল ফূযায়ল ইবনু হুসায়ন আল-জাহদারী (রহঃ) বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত (নামায/নামাজ) গতীর ভাবে প্রত্যক্ষ করেছি। অতএব, তাঁর কিয়াম (সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ান), রুকু, রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ান, অতঃপর সিজদা এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী বসা অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদা এবং সালাম ও (মূসা ল্লীদের দিকে) ফিরে বসার মধ্যবতী বৈঠক-এই সবগুলোকে প্রায়ই সমান সমান পেয়েছি।
৯৪০ উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয আল-আম্বারী (রহঃ) আল হাকাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আশ’আসের শাসন কালে জনৈক ব্যাক্তি যার নাম তিনি উল্লেখ করেছিলেন কুফা বাসীদের উপর তার আধিপত্য স্হাপন করেছিল। আবূ উবায়দা ইবনু আবদুল্লাহ কে সালাত (নামায/নামাজ) ইমামত করতে নির্দেশ দিলেন। সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কালে তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন আমার এ দু’আটি পাঠ করা পরিমাণ সময় পর্যন্ত দাড়িয়ে থাকতেন। (হেআল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমান ও যমীন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণ-তা ছাড়াও যত টূকু আপনি ইচ্ছা করেন। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। আপনি যা দান করবেন তা রোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা রোধ করবেন তা দান করারও কেউ নেই। এবং কোনও সম্পদশালী কেই তার সস্পদ আপনার শাস্তি থেকে বাচাতে পারবে না। ) হাকাম বলেন, আমি একথা আব্দুর-এরাহমান ইবনু আবূ লায়লার নিকট বললাম। তিনি বললেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রুকু এবং রুকু হতে দাঁড়ান, তারপর সিজদা এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময় এ সকল প্রায়ই সমান সমান হত। শুবা (রহঃ) বলেন, আমি আমর ইবনু মুররা’র সাথে এ হাদীস নিয়ে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, আমি আব্দুর-এরাহমান ইবনু আবূ লায়লাকে দেখেছি, তার সালাত (নামায/নামাজ) এরুপ ছিল না।
৯৪১ মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) আল-হাকাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাতার ইবনু নাজিয়া যখন কুফার উপর আধিপত্য স্হাপন করলেন তখন আবূ উবায়দাকে লোকদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করলেন।
৯৪২ খালাফ ইবনু হিশাম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিয়ে ঐরুপ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে ক্রটি করব না, যে রুপ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে আমাদেরকে নিয়ে রাবী বলেন, আমি আনাসকে কিছু কাজ করতে দেখতাম, তোমাদেরকে তা করতে দেখিনা, তিনি যখন রুকু হতে মাথা উঠাতেন, তখন সোজা ভাবে দাড়িয়ে যেতেন, এমনকি কেউ কেউ মনে করত যে, তিনি (হয়ত) ভুলে গেছেন। প্রথম সিজদা থেকে মাথা তুলেও এরুপ বসে যেতেন যে, কেউ কেউ মনে করত, তিনি (হয়ত) ভূলে গেছেন।
৯৪৩ আবূ বাকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাত (নামায/নামাজ)কে পূর্ণরুপে আদায় করা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত সালাত (নামায/নামাজ) আমি আর কারও পিছনে আদায় করিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর রুকন সমূহ প্রায় সমান সমান হত। আবূ বকরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর (রুকন সমূহ) ও প্রায় সমান সমান হত। যখন ওমর (রাঃ)-এর যামানা আসল, তিনি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) দীর্ঘ করলেন। রাসূলল্লাহ যখন বলতেন, তখন এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, আমরা মনে করতাম সম্ভবত তিনি বেখেয়াল হয়ে পড়েছেন। তারপর সিজদা করতেন এবং দুই সিজদার মাঝে এত দীর্ঘ সময় বসে থাকতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি সম্ভবত বেখেয়াল হয়ে পড়েছেন।
৯৪৪ আহমাদ ইবনু ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারা ইবনু আযিব (রাঃ) আমার নিকট বলেছেন, তিনি অসত্য বলেন নি। তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) রাসূলল্লাহ -এর পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। তিনি যখন ‘রুকু” থেকে মাথা তুলতেন, তখন তার কপাল মাটিতে না রাখা পর্যন্ত আমাদের কাউকে পিঠ ঝুকাতে দেখিনি। অতঃপর তার পিছনের সবাই সিজদায় চলে যেতেন।
৯৪৫ আবূ বাকর ইবনু খাল্লাদ আল-বাহিলী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারা ইবনু আযিব (রাঃ) আমার নিকট বলেছেন এবং তিনি অসত্য বলেন নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন - বলতেন, আমাদের মধ্যে কেউ পিঠ ঝুকাতনা যে পর্যন্ত না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় যেতেন। (তিনি সিজদায় তারপর আমরা সিজদায় যেতেন)।
৯৪৬ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর-এরহমান ইবনু সাহম আনতাকী (রহঃ) বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, যখন তিনি রুকু করতেন, তাঁরাও রুকু করতেন। যখন তিনি রুকু হতে মাথা উঠাতেন এবং বলতেন। বারা ইবনু আযিব (রাঃ) বলেন তখন আমরা দাড়িয়ে থাকতাম। তারপর যখন তাকে মাটির উপর কপাল রাখতে দেখতাম, তখন আমরাও তার অনুসরণ করতাম।
৯৪৭ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) বারা ইবনু আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে (সালাত (নামায/নামাজ) আদায়) আমাদের এ নিয়ম ছিল আমরা যতক্ষন পর্যন্ত তাঁকে সিজদা করতে না দেখতাম, ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ ঝুঁকাত না।
৯৪৮। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু সাহম আল আনতাকী (রহঃ) বাড়া ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতেন, যখন তিনি রুকু করতেন, তারাও রুকু করতেন। যখন তিনি রুকু হতে মাথা উঠাতেন এবং সামিয়াল্লা হুলিমান হামিদাহ বলতেন, তখন আমরা দাড়িয়ে থাকতাম। তারপর যখন তাকে মাটির উপর কপাল রাখতে দেখতাম, তখন আমরাও তাঁর অনুসরণ করতাম।
৯৪৯। যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) বাড়া (ইবনু আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (সালাত আদায়ে) আমাদের নিয়ম ছিল আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে সিজদা করতে না দেখতাম, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ ঝুকাত না।
৯৫০। মুহরিয ইবনু আবূ আওন (রহঃ) আমর ইবনু হুরায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে ফজরের সালাত আদায় করলাম। তখন তাকে পড়তে শুনলাম, অর্থাৎ "আমি শপথ করি পশ্চাঁদপসরণকারী নক্ষত্রের, যা প্রত্যাগমন করে ও অদৃশ্য হয়। (সূরা আত-তাকবীরঃ ১৫-১৬) এবং তিনি পূর্ণভাবে সিজদায় না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ ঝুকাত না।
৯৫১। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু থেকে পিঠ উঠাতেন, তখন বলতেন, অর্থাৎ সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ, মিলাসসামাওয়াতি ওয়া মিল আরদি ওয়া মিল ---- (অর্থাৎ প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ্‌ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমানপূর্ণ ও যমিনপূর্ণ এবং পূর্ণতা ছাড়াও যা আপনি ইচ্ছা করেন)
৯৫২ উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) ও যূহায়র ইবনু হারব (রহঃ) শু’বা (রহঃ) সুত্রে মু’আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে ‘ওয়াসখ” শব্দের স্হলে ‘দ্বারান, উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইয়াযীদের বর্ণনায় ‘ওয়াসাখ’- শব্দের স্হলে “দানাস’ বলা হয়েছে।
৯৫৩। আবদুল্লাহ ইবনু আব্দুর-এরাহমান আদ-দারিমী (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদুরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু হতে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেনঃ
৯৫৪. আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকু হতে মাথা উঠাতেন, তখন এই দুআ পড়তেন :
৯৫৫ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পর্যন্ত বর্ণিত আছে এই রিওয়ায়াতে (বর্ণিত দু’আর) পরবর্তী অংশের উল্লেখ নাই।
৯৫৬ সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত্যু রোগে আক্রান্ত অবস্হায় হুজ্বরা শরীফের) পর্দা খুলে দিলেন। তখন লোকেরা আবূ বকরের পিছনে কাতার বন্দী অবস্হায় ছিলেন। তিনি বললেন, হে লোকগণ। এখন আর সত্য স্বপ্ন ব্যতীত নবূওয়াতের সুসংবাদ দেওয়ার কিছু অবশিষ্ট থাকবে না (কেননা, আমার উপর নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটেছে) মুসলমানগণ তা দেখবে। তোমরা সাবধান হও। আমাকে রুকূ এবং সিজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তোমরা রুকুতে তোমাদের রবের মহত্ত বর্ণনা করবে। এবং সিজদায় অধিক পরিমাণ দুআ পড়বে। তোমাদের দু’আ কবুল হওয়ার উপযুক্ত হাদীসটি আবূ বকর বলে বর্ণনা করেছেন।
৯৫৭ ইয়াহইয়া ইবনু আইউব (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে ইন্তেকাল করেছেন, সে রোগে আক্রান্ত অবস্হায় আমাদের উদ্দেশ্যে পর্দা খূলে দিলেন। তাঁর মাথায় তখন পট্টি বাধা ছিল। এরপর বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছয়েছি? এরুপ তিন বার বললেন। বস্তুত আমার পরে নবুওয়াতের কোনও সুসংবাদ দান কারী থাকবে না। কিন্তু সত্য স্বপ্ন থেকে যাবে। নেক বান্দা তা দেখবে অথবা তাকে দেখানো হবে। তারপর রাবী সুফিয়ানের অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন।
৯৫৮ আবূ তাহির ও হারামালা (রহঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু এবং সিজদারত অবস্হায় (কুরআন) পড়তে নিষেধ করেছেন।
৯৫৯ আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু এবং সিজদারত অবস্হায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।
৯৬০ আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু এবং সিজদায় কিরাআত পড়তে নিষেধ করেছেন। আমি বলি না যে, তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।
৯৬১ যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার হাবীব আমাকে রুকু এবং সিজদারত অবস্হায় কিরাআত পড়তে নিষেধ করেছেন।
৯৬২ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ঈসা ইবনু হাম্মাদ আল মিসরী, হারুন ইবনু আবদুল্লাহ আল মুকাদ্দামী, হারুন ইবনু সাঈদ আল আয়লী, ইয়াহইয়া ইবনু আইউব, কুতায়বা ইবনু হুজর এবং হান্নাদ ইবনুুস সারী (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু করা কার্লীন কিরাআত পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। তারা সকলেই আলী (রাঃ) সুত্রে বলেছেন যে, তিনি আমাকে রুকু অবস্থায় কিরাআত পড়তে নিষেধ করেছেন, কিন্তু সিজদায় কিরাআত পড়ার নিষেধ সম্পর্কে তারা তাদের রিওয়াতে কোন উল্লেখ করেননি। যে রুপ যুহুরী, যায়দ ইবনু আসলাম, ওয়ালীদ ইবনু কাসীর ও দাঊদ ইবনু কায়স উল্লেখ করেছেন।
৯৬৩ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রাঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে সিজদা অবস্হায় (কিরাআত পড়ার) কথার উল্লেখ নেই।
৯৬৪ আমর ইবনু আলী (রাঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রুকুতে থাকাকালীন অবস্হায় কিরাআত পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ সনদে আলীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
৯৬৫ হারুন ইবনু মারূফ ও আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) আবূ হূরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিজদার অবস্থায়ই বান্দা তার রবের অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। অতএব, তোমরা (সিজদায়) অধিক পরিমাণ দুআ পড়বে।
৯৬৬ আবূ তাহির ও ইউনূস ইবনু আবদুল আলা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় (এ দু’আটি) পড়তেন - হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ মাফ করে দিন। সল্প এবং অধিক, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য।
৯৬৭ যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু এবং সিজদাসমূহে অধিকাংশ সময় এই দু’আটি পাঠ করতেন- তিনি কুরআনের উপর আমল করতেন।
৯৬৮ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকালের পূর্বে এই দুআটি পাঠ করতেন- আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি দেখছি যে আপনি নতূন নতুন বাক্য বলছেন? এ সব কি? তিনি বললেন আমার উম্মাতের মধ্যে আমার নিদর্শন রাখা হয়েছে। আমি যখন তা দেখি, তখন আমি এই বাক্যগুলো বলতে থাকি নাসর সূরার শেষ পর্যন্ত।
৯৬৯ মুহাষ্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা নাসর নাযিল হওয়ার পর আমি লক্ষ্য করেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই সালাত (নামায/নামাজ) পড়তেন, তখনই দুআ করতেন এবং বলতেন
৯৭০ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় এ দু’আ পড়তেন- আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আামি লক্ষ্য করছি যে, আপনি প্রায় দু'আটি পাঠ করে থাকেন। তিনি বললেন, আল্লাহ রাব্বুল ইযযাত আমাকে সংবাদ প্রদান করেছেন যে, আমি আমার উস্মাতের মধ্যে অচিরেই একটি নিদর্শন দেখব। তাই যখন আমি তা দেখছি, অধিক মাত্রায় পড়ছি। ঐ নিদর্শন সম্ভবত এই যে, অর্থাৎ মক্কা বিজয় এ কথা বলে তিনি সূরাটি শেষ অবধি পাঠ করলেন:
৯৭১ হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি রুকু’তে কি বলছ? তিনি বললেন, আমি বলছি। কেননা, ইবনু মুলায়কা আয়িশা (রাঃ) হতে আমর নিকট বর্ণনা করেনঃ আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আমি এক রাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কাছে না পেয়ে মনে করলাম যে, সম্ভবত তিনি তাঁর অন্য কোন ন্ত্রীর নিকট গমন করেছেন। আমি গোপনে তালাশ করলাম এবং (না পেয়ে) ফিরে এলাম। দেখলাম, তিনি রুকু কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) সিজদায় আছেন এবং বলন আমি বললাম, আমার মা-বাপ আপনার জন্য (উৎসর্গিত) আমি এক ধারণায় ছিলাম আর আপনি অন্য কাজে মগ্ন আছেন।
৯৭২ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়রা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিছানায় না পেয়ে (অন্ধকারে) হাতড়াতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত খানি তাঁর পায়ের তালুতে গিয়ে লাগল। তিনি সিজদারত আছেন, পা দু-খানি খাড়া রয়েছে। তিনি বলছিলেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তোষ থেকে তোমার সন্তোষের মাধ্যমে এবং তোমার আযাব হতে তোমার ক্ষমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আমি তোমার (শাস্তি) হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে সক্ষম নই। তুমি তেমনই যেমন তুমি নিজে তোমার প্রশংসা করেছ।
৯৭৩ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আয়িশা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু এবং সিজদায় এ দুআ পড়তেন;
৯৭৪ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উপরোক্তরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৯৭৫ যুহায়র ইবনু হারব (রাঃ) মাঁদান ইবনু আবূ তালহা ইয়ামুরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আযাদকৃত গোলাম সাওবন (রাঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি বললাম, আপনি আমাকে এমন একটি আমলের সংবাদ দান করুন, যার উপর আমল করলে আল্লাহ আমাকে জানো্নতে দাখিল করাবেন কিংবা তিনি বললেন, আপনি আমাকে আল্লাহর একটি প্রিয়তম আমলের সংবাদ দিন। তিনি নীরব রইলেন। আমি আবার বললাম, তিনি এবারও কিছু বললেন না। অতঃপর আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন, আল্লাহর উদ্দেশ্যে অধিক সিজদা কর। কেননা, তুমি যখনই আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদা করবে, তখন এ দিয়ে আল্লাহ তা’আলা তোমার মর্যাদা এক ধাপ বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করে দিবেন। মা’দান বলেন, অতঃপর আবূদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। তাঁর নিকটও আমি একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনিও সাওবান (রাঃ)-এর অনুরুপই বললেন।
৯৭৬ আল-হাকাম ইবনু মূসা আবূ সালিহ (রহঃ) রাবী’আ ইবনু কা’ব আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রাত যাপন করি। আমি তার পানি এবং তার যা প্রয়োজন তা এগিয়ে দই। তখন তিনি আমাকে বললেন, চাও। আমি এ-ই চাই। তিনি বললেন, তাহলে তুমি অধিক সিজদা দ্বারা তোমার নিজের ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করবে।
৯৭৭ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ রাবী আয-যাহরানী (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার চুল ও কাপড় গুটানো নিষেধ করা হয়েছে। ইহা ইয়াহইয়ার বর্ণনা। আবূ রাবী- বলেন, সাতটি অঙ্গের উপর (সিজদা করতে আদেশ করা হয়েছে) এবং চুল ও কাপড় গুটাতে নিষেধ করা হয়েছে। (আর ঐ সাতটি অঙ্গ হচ্ছে) দুই হাত, দুই হাঁটু, দুই পা এবং কপাল।
৯৭৮ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করতে এবং কাপড় ও চুল না গুটাতে।
৯৭৯ আমর আবূ-নাকিদ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাত (অঙ্গ)-এর উপর সিজদা করতে আদেশ করা হয়েছে এবং চুল ও কাপড় গুটাতে নিষেধ করা হয়েছে।
৯৮০ মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি-কপাল, (বর্ণনা কারী বলেন) তিনি এই সময় তাঁর নাকের দিকে ইশারা করলেন, দুই হাত, দুই হাটূ এবং দুই পায়ের অগ্রভাগ। আর কাপড় ও চুল না গুটাতে।
৯৮১ আবূ তাহির (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ূলাহ বলেছেন, আমি আদিষ্ট হয়েছি সাতটির উপর সিজদা করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে। (সাতটি হল) কপাল ও নাক, দুই হাত, দুই হাটু এবং দুই পা।
৯৮২ আমর ইবনু সাওয়াদ আমিরী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস কে দেখতে পেলেন যে, তিনি তার চুলগুলোকে পিছনে বেধে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তা খুলে দিলেন। তিনি সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে ইবনু আব্বাসের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমার মাথার এবং আপনার (এ কর্মের) ব্যাপারটি কি? আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, এই ব্যাক্তির উদাহরণ (যে ব্যাক্তি সালাত (নামায/নামাজ)-এর অবস্হায় মাথার চুল বেধে রাখে) ঐ ব্যাক্তির মত যে তার হাত বাধা অবস্হায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে।
৯৮৩ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , তোমরা সিজদার সময় অংগসমূহ সঠিক রাখবে-কুকুরের মত দুই হাত দিবেনা।
৯৮৪ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না, ইবনু বাশশার ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব মুহাম্মাদ ইবনু জাফর এবং জাফর ইবনু খালিদ (রহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে শুবা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তবে ইবনু জাফরের হাদীসে উক্ত হাদীসের – এর স্হলে - রয়েছে।
৯৮৫ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি সিজদা করবে, তখন তোমার দুই হাতের তালূ (ভূমিতে) রাখবে এবং দুই কনূই (ভূমি থেকে) উঠিয়ে রাখবে।
৯৮৬ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়নাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় (সিজদা) করতেন তখন তাঁর উভয় হাত পার্শ্বদেশ থেকে এতখানি পৃথক রাখতেন যে তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেত।
৯৮৭ আমর ইবনু সাওয়াদ (রহঃ) আমর ইবনুল হারিস এবং লায়স ইবনু সা’দ (রহঃ) সুত্রে উভয়ই জাফর ইবনু রাবী’আ (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন তবে আমর ইবনু হারিসের বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তাঁর দুই হাত এমন ভাবে পৃথক করে রাখতেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। লায়সের বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তাঁর দুই হাত বগল থেকে এমন ভাবে পৃথক রাখতেন যে, আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেতাম।
৯৮৮ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন কোন মেসশাবক ইচ্ছা করলে তাঁর দুহাতের মধ্য দিয়ে চলে যেতে পারত।
৯৮৯ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তাঁর দুই হাত (পার্শ্বদেশ থেকে) এরুপ দুরে রাখতেন যে, তাঁর বগলের উজ্জ্বলতা পিছন হতে দেখা যেত। এবং যখন বসতেন, তখন তাঁর বাম উরুর উপর শান্ত হয়ে বসতেন।
৯৯০ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন-নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) শব্দ গুলো আমরের, মায়মূনা বিনতুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তাঁর দুবাহু পৃথক করে রাখতেন। যারা তাঁর পিছনে থাকতেন, তারা তাঁর বগলের উজ্জ্বল্য দেখতে পেতেন। ওয়াকী (রহঃ) বলেন, মায়মুনা (রাঃ) ঔজ্জ্বল্য দ্বারা শুভ্রতা বুঝিয়েছেন।
৯৯১ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) শব্দ ইসহাকের, আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -, তাকবীর দ্বারা সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করতেন এবং সূরা ফাতিহা দ্বারা কিরা’আত আরম্ভ করতেন। যখন রুকু করতেন তখন তাঁর মাথা উঠিয়েও রাখতেন না, ঝুঁকিয়েও রাখতেন না; বরং মাঝামাঝি রাখতেন। আর যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সিজদায় যেতেন না। আর যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন, তখন সোজা হয়ে না বসে (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতেন না। এবং প্রতি দু-রাক’আতে আততাহিয়্যাতু পড়তেন বাম পা বিছিয়ে রাখতেন আর ডান পা খাড়া করে রাখতেন। শয়তানের মত পাছার উপর বসা থেকে নিষেধ করতেন। পূরুষকে তার দু’বাহু হিংস্র জন্তুর মত বিছিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি সালামের দ্বারা সালাত (নামায/নামাজ) সমাপ্ত করতেন।
৯৯২ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের যে কেউ তার সম্মুখে হাওদার পিছনের খাড়া কাঠের পরিমাণ কিছু স্হাপন করে, যেন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। এরপর সেটির পিছন কেউ গেলে কোন পরোয়া করবে না।
৯৯৩ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম এবং আমাদের সম্মুখ দিয়ে পশুগুলো যাতায়াত করত আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এ বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কারও সম্মুখে হাওদার পিছনের কাঠ পরিমাণ কোনও কিছু থাকবে সেটির বহিরে দিয়ে কোন কিছুর যাতায়াত তার কোন ক্ষতি করবে না। ইবনু নুমায়র (রহঃ) বলেন, তার বাইরে দিয়ে ‘কোনও ব্যাক্তির’ যাতায়াত ক্ষতি করবে না।
৯৯৪ যূহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুসল্লীর সূতরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, হাওদার পিছনের কাঠের পরিমাণ।
৯৯৫ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুসল্লীর সূতরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, তা হাওদার পিছনের কাঠটির মত।
৯৯৬ মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঈদের সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বের হতেন, তখন ক্ষুদ্র বর্শা সংগে নেয়ার জন্য আদেশ করতেন। তারপর তা তার সামনে স্থাপন করা হতো এবং তিনি সেটির দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। আর লোকেরা তার পিছনে থাকত। সফরেও তিনি এরূপ করতেন। এ থেকেই শাসকগনও তা গ্রহন করেছেন।
৯৯৭ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণীত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাঠি গেড়ে রাখতেন। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, পুতে রাখতেন। এবং সেটির দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। ইবনু আবূ শায়বা বাড়িয়ে বলেন, উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেছেন, তা হল ক্ষুদ্রাকৃতির বর্শা।
৯৯৮ আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাওয়ারীকে সামনে রেখে সেটির দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।
৯৯৯ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাওয়ারির দিকে ফিরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। ইবনু নূমায়র (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।
১০০০ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম। তখন তিনি আবতাহ নামক স্হানে লাল চামড়ার তাবুতে অবস্হান করছিলেন। বিলাল (রাঃ) তার উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি নিয়ে বের হলেন, অতঃপর কেউ অবশিষ্ট পানি পেল আর কেউ অন্যের নিকট থেকে পানির ছিটা নিল। আবূ জুহায়ফা (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাল চাঁদর গায়ে দিয়ে বের হলেন। আমি যেন এখনও তাঁর পায়ের গোছাদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। আমি এদিক-ওদিক মুখ ফিরিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম। বিলাল (রাঃ) যথাক্রমে ডানে ও বামে মুখ ফিরালেন ও বললেনঃ বলার পর অগ্রভাগে লৌহযুক্ত ছোট যষ্টি (আনাযা) পুঁতে দেয়া হল। তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং যুহরের দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তাঁর সামনে দিয়ে গাধা, কুকুর আসা-যাওয়া করছিল। তিনি তাদের বাধা দেননি। তারপর আসরের দু-রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরূপে মদিনায় পৌছা পর্যন্ত তিনি দুই দুই রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন।
১০০১ মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) আওন ইবনু আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে লাল চামড়ার তাবুতে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমি বিলাল (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অবশিষ্ট পানি বের করতে দেখলাম। আর দেখলাম লোকেরা ঐ পানির জন্য তাড়াহুড়া করছে। যে ঐ পানি পেল, সে তা তার গায়ে মাখল। আর যে তা পালনা সে তার সাথীর হাতের অদ্রতা থেকে কিছু নিল। তারপর দেখলাম একটি অগ্রভাগে লৌহযুক্ত যষ্ঠি বের করে গেড়ে দিলেন। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাল ডোরা যুক্ত চাঁদর পরিধান করে তা উঠিয়ে বের হলেন। অতঃপর লোক জনকে নিয়ে যষ্ঠি সামনে রেখে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আর দেখলাম মানুষ ও জীবজন্তুকে বর্শার সম্মুখ দিয়ে চলা ফেরা করছে।
১০০২ ইসহাক ইবনু মানসূর, আবদ ইব হূমায়দ ও আল কাসিম ইবনু যাকারিয়া আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে মালিক ইবনু মিগওয়াল বর্ণিত হাদীসে আছে, যে, যখন দুপূর হলো, তখন বিলাল (রাঃ) বের হলেন এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর আযান দিলেন।
১০০৩ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশার (রহঃ) আবূ জুহায়ফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপূর বেলা বাতহার দিকে বের হয়ে গেলেন। তারপর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে দু-রাকআত যুহরের ও দু’রাকআত আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তাঁর সামনে একটি বর্শা প্রোথিত ছিল। তার অপর দিক দিয়ে নারী ও গাধা যাতায়াত করছিল।
১০০৪ যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) শুবা থেকে বর্ণিত যে, এ হাদীসটি উপরোক্ত হাদীসের অনূরুপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আল-হাকওমের বর্ণনায় ‘লোকেরা তার উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি সংগ্রহ করতে লাগল’ কথাটি বেশি আছে।
১০০৫ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, আমি গাধার উপর সাওয়ার হয়ে মীনার দিকে এলাম। আমি তখন যৌবনে উপনীত প্রায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজন নিয়ে সেখানে সালাত (নামায/নামাজ)রত ছিলেন। আমি কাতারের সামনে এসে অবতরণ করলাম এবং গাধাটিকে চরবার জন্য ছেড়ে দিয়ে কাতারে প্রবেশ করলাম। এতে কেউই আমার উপর আপত্তি তোলেন নি।
১০০৬ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া উবায়াদূল্লহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে জানিয়েছেন সে, তিনি গাধার উপর আরোহণ করে মীনার দিকে আসেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বিদায় হাজ্জ (হজ্জ) উপলক্ষে লোকজনসহ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, গাধাটি কাতারের সামনে দিয়ে ঘোরাফেরা করল। তারপর তা থেকে নামলেন এবং লোকদের সাথে কাতারে শামিল হলেন।
১০০৭ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আমর আন-নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন।
১০০৮ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ হুমায়দ (রহঃ) যুহুরি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এই রিওয়াতে মীনা ও আরাফাত কোনও উল্লেখ করেন নি। বরং বিদায় হাজ্জ (হজ্জ)- কিংবা –মক্কা বিজয়- উল্লেখ করেছেন।
১০০৯ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদূরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তখন তার সম্মুখ দিয়ে কাউকে যেতে দিবে না। বরং যথাসাধ্য তাকে বাধা দিবে। যদি সে না মানে, তবে তার সাথে লড়াই করবে। কেননা, সে একটি শয়তান।
১০১০ শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) হুমায়দ ইবনু হীলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার এক জন সঙ্গী একটি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। সহসা আবূ সালিহ আস-সাম্মান বলে উঠল, আমি আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর নিকট যা শুনেছি এবং দেখেছি, - তা এখন তোমার নিকট বলব। আমি আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। একটি ‘সুতরা’ সামনে রেখে শুক্রবার দিন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। ইত্যবসরে আবূ মু’আয়ত গোত্রের একজন জওয়ান এসে উপস্থিত হলো এবং সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সাঈদ (রাঃ) তার বুকে হাত দিয়ে বাধা দিলেন। কিন্তু সে আবূ সাঈদ (রহঃ)-এর সম্মুখ ছাড়া অন্য কোনও পথ পালনা। তাই সে পূনরায় যেতে চাইল। আবূ সাঈদ (রাঃ) এবার আরও জোরে তার বুকে ধাক্কা দিলেন। এবার সে ছবির মত গেল এবং আবূ -সাঈদ (রাঃ)-এর নিকট থেকে তিরস্কার পেল। তারপর লোকজন এসে ভিড় জমালে সে মদিনার গভর্ণর মারওয়ানের নিকট গিয়ে অভিযোগ দায়ের করল। আবূ সাঈদ (রাঃ) ও মারওয়ানের দরবারে প্রবেশ করলেন। তারপর মারওয়ান তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলল, আপনি ও আপনার ভাতিজার মধ্যে কি ঘটেছে? সেতো এসে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে আবূ সাঈদ (রাঃ) জওয়াব দিলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মানুষকে আড়াল করবার নিমিত্ত সুতরা রেখে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং কোনও ব্যাক্তি তার সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইবে, সে যেন তার বুকে হাত দিয়ে বাধা দেয়। যদি সে না মানে, তবে তার সাথে লড়াই করবে। কেননা সে একটি শয়তান।
১০১১ হারুন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তখন সে কাউকে তার সম্মুখ দিয়ে যেতে দিবে না। যদি সে না মানে, তবে তার সাথে লড়াই করবে। কেননা, তার সাথে একটি সহচর (শয়তান) রয়েছে।
১০১২ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উপরোক্ত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
১০১৩ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইহা (রহঃ) বুসর ইবনু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যায়িদ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ) তাঁকে আবূ জুহায়ম (রাঃ)-এর নিকট এ কথা জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠিয়েছিলেন যে, সালাত (নামায/নামাজ)রত ব্যাক্তির সম্মুখ দিয়ে গমন কারী সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট থেকে তিনি কী শুনেছেন। আবূ জুহাহাম (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি সালাত (নামায/নামাজ)রত ব্যাক্তির সম্মুখ দিয়ে গমনকারী ব্যাক্তি জানত যে, তার উপর কি পাপের বোঝা চেপেছে, তবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত থাকাও তার পক্ষে তা অপেক্ষা উত্তম হতো। আবূন-নাযর বলেন, আমি জানিনা, তিনি চল্লিশ দিন বলেছেন কিংবা মাস অথবা বছর।
১০১৪ আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ইবনু হায়্যান আল-আবদী (রহঃ) জুহায়ম আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা কয়েছেন।
১০১৫ ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকী (রহঃ) সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্হান এবং সুতরার মধ্যকার ব্যবধান এই পরিমাণ প্রশস্ত ছিল যে, একটি বকরী যেতে পারে।
১০১৬ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) সালামা ইবনুল আকওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাসবীহ ও নফল সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য মিসহাফ নামক স্হানে আসন গ্রহণ করতেন এবং বলতেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ স্হানটিতে আসন গ্রহণ করতেন। ঐ স্থানটি মিম্বার ও কিবলার মধ্যকার একটি যেতে পারে এই পরিমাণ ছিল।
১০১৭ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, সালামা (রাঃ) মিসহাফের নিকটে অবস্হিত খুটির পাশে সালাত (নামায/নামাজ)-এর আসন গ্রহণ করতেন। রাবী বলেন, আমি তাকে বললাম, হে আবূ মুসলিম! আমি লক্ষ্য করছি, আপনি বরাবর এই খুঁটিটির নিকটেই সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্হান নির্বাচন করেন। তিনি জওয়াব দিলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এর নিকটেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।
১০১৮ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ-সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়াবে, তখন তার সম্মুখে হাওদার পিছনের কাণ্ঠ পরিমাণ কোনও বস্তু রেখে দিবে। যদি এরূপ কোনও বস্তু না থাকে, তবে তার সম্মুখ দিয়ে গাধা স্ত্রীলোক ও কালো কুকুর গমন করলে তার সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যাবে। রাবী ইবনু সামিত বলেন, আমি বললাম, হে আবূ যার! গমন করলে তার সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যাবে। রাবী ইবনু সামিত বলেন, আমি বললাম, হে আবূ যার! লাল কুকুর ও হলুদ কুকুর থেকে কালো কুকুরকে পৃথক করার কারণ কি? তিনি জওয়াব দিলেন, হে ভাতিজা, আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তোমার মত এই বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, কালো কুকুর একটি শয়তান।
১০১৯ শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) হুমায়দ হিলাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইউনুস কর্তূক বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
১০২০ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল-মাখযুমী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারী, গাধা ও কুকুর সম্মুখ দিয়ে গেলে সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যায়। তা রক্ষার উপায় হলো, মুসল্লীর সামনে হাওদার কাণ্ঠ পরিমাণ কোনও বস্তু রাখা।
১০২১ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আবূ-নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিকালে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর আমি কিবলার দিকে তার সামনে জানাযার মত আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে থাকতাম।

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন