21 November, 2018

কিতাবুস সালাত ৪, মুসলিম শরিফের হাদিস

১০২২ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সালাত (নামায/নামাজ) সষ্পূর্ণ আদায় করতেন, আর আমি তাঁর সামনে কিবলার দিকে আড়াআড়ি ভাবে পড়ে থাকতাম। যখন বিতর আদায় করতে ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগ্রত করতেন। আমিও তখন বিতর (সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম।
১০২৩ আমর ইবনু আলী (রহঃ) উরওয়া ইবনুুয যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন সামনে দিয়ে কী অতিক্রম করলে সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়? আমরা বললাম, ন্ত্রীলোক ও গাধা। তিনি বললেন, স্ত্রীলোক একটি মন্দ প্রাণী? অথচ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে জানাযার মত আড়াআড়ি হয়ে শুয়ে খাকতাম আর তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।
১০২৪ আমর আবূ-নাকিদ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) আল আসওয়েদি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ)-এর সামনে আলোচনা হচ্ছিল যে, কুকুর গাধা ও স্ত্রীলোক সামনে দিয়ে গেলে সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যায়। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তোমরা আমাদের গাধা ও কুকুরের সমতুল্য গণ্য করছ? আল্লাহর কসম, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি আর আমি তাঁর সামনে কিবলার দিকে তখন পাশে শুয়ে থাকতাম। যখন ওঠার প্রয়োজন হতে তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে বসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কষ্ট দেয়া আমি অপছন্দ করতাম। আমি তখন পাশের পায়ের দিক দিয়ে সরে পড়তাম।
১০২৫ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আমাদের কুকুর ও গাধার পর্যায় ভুক্ত করছ। অথচ আমি তখন পোশের উপর শুয়ে থাকতাম, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তখন পোশের মাঝখানে সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়াতেন। তাঁকে কষ্ট দেওয়া আমার অপছন্দ হতো তাই আমি তখতপোশের পায়ের দিক দিয়ে লেপের নিচ থেকে সরে পড়তাম।
১০২৬ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে ঘুমিয়ে থাকতাম। অমার পা দু’টি তার কিবলার দিকে থাকতো। যখন সিজদা দিতেন তখন আমাকে ঠেলা দিতেন, আর আমি পা টেনে নিতাম। আর তিনি যখন দাড়িয়ে যেতেন আমি পা ছড়িয়ে দিতাম। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন ঘরে বাতি থাকত না।
১০২৭ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর আবূ শায়বা (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী মায়মুনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন আর আমি ঋতুমতী অবস্হায় তাঁর পাশে থাকতাম। কখনও সিজদা করতে তাঁর কাপড় আমার গায়ে লেগে যেত।
১০২৮ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিকালে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর আমি ঋতূমতী অবস্থায় তার পাশে থাকতাম। আমি একটি চাঁদর গায় দিতাম, তার কিছু অংশ তাঁর গায়েও থাকত।
১০২৯ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, তোমাদের প্রত্যেকেরই কি দুই কাপড় আছে?
১০৩০ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া ও আবদুল মালিক ইবনু শু’আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
১০৩১ আমর আন-নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উদ্দেশ্য করে বলল, আমাদের মধ্যে কেউ কি একটি কাপড় পরিধান করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারবে? তিনি বললেন, তোমাদের প্রত্যেকেরই কি দুটি করে কাপড় রয়েছে?
১০৩২ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন-নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ তার কাঁধের উপর একাংশ থাকে না- এই ভাবে এক কাপড় পরিধান করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে না।
১০৩৩ আবূ কুরায়ব (রহঃ) উমার ইবনু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উম্মু সালামার গৃহে এক কাপড় পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি। তিনি আর দুই প্রান্ত কাঁধের উপর রেখেছিলেন।
১০৩৪ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইসহাক ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) উরুওয়া থেকে বর্নিত। তিনি এরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১০৩৫ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) উমার ইবনু আবূ সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উম্মু সালামার ঘরে এক কাপড়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি। তার উভয় প্রান্ত তিনি বিপরীত দিকে দিয়ে ছিলেন।
১০৩৬ কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) উমার ইবনু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এক কাপড়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি। তিনি তার দু প্রান্ত দুই বিপরীত দিকে নিয়ে জড়িয়ে রেখে ছিলেন। ঈসা ইবনু হাম্মাদ তাঁর বর্ণনায় দুই কাঁধের উপর কথাটি অতিরিক্ত বলেছেন।
১০৩৭ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এক কাপড়ে ‘তাওয়াশগুহ’ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।
১০৩৮ মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছে তবে ইবনু নুমায়রের বর্ণনায় ‘আমি দেখেছি’ কথাটির স্হানে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট প্রবেশ করলাম কথাটি বলা হয়েছে।
১০৩৯ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ যূবায়র আল মাক্কী (রহঃ) বলেন, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে এক কাপড়ে তাওয়াশগুহ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছেন। অথচ তাঁর নিকট একাধিক কাপড় ছিল। জাবির (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ঐরুপ করতে দেখেছেন।
১০৪০ আমর আন-নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদূরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে দেখলাম, তিনি একটি চাটাইয়ের উপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছেন ও তার উপর সিজদা করছেন। আরও দেখলাম, এক কাপড়ে তাওয়াশগুহ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন।
১০৪১ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, আবূ কুরায়ব ও সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) আল আমাশ থেকে বর্ণিত। তিনি উপরোক্তরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ কুরায়বের রিওয়ায়াতে কাপড়ের দুপ্রান্ত দুই কাঁধের উপরে রাখার কথা উল্লিখিত হয়েছে এবং আবূ বকর ও সুওয়ায়দের রিওয়ায়েতে তাওয়াশগুহ এর কথা বলা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন