৮২২ আবদুল মালিক ইবনু শুআয়ব ইবনুল লায়স (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমার পিতা আবূ বাকর (রাঃ) -কে সালাত পড়াবার আদেশ দিলেন তখন আমি এই নির্দেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে তাঁকে বারবার অনুরোধ করতে লাগলাম। আমার এই পূনঃপূনঃ অনুরোধ এই কারণে ছিল আমার মনে এই ধারণার উদ্রেক যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর স্হানে যে দাঁড়াবে (ইমামত করবে) লোকেরা তাকে সর্বদা ভালবাসবে, বরং আমার ধারণা হল যে, তারপর যে ব্যাক্তি তাঁর স্হানে দাঁড়িয়ে ইমামত করবে লোকেরা তাকে অপয়া বলবে, তাই আমি চেয়েছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই নির্দেশ আবূ বকর (রাঃ) হতে অন্যত্র সরে যাক।
৮২৩ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পীড়িত অবস্হায়) আমার গৃহে প্রবেশ করে পরে বললেন , আবূ বকরকে আদেশ (শুনিয়ে) দাও, সে যেন লোকদের সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইমামত করে। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল হৃদয় ব্যাক্তি। তিনি যখন কুরআন পাঠ করেন, তখন অশ্রু সংবরণ করতে পারেননা। আপনি যদি আবূ বকর (রাঃ) -কে ব্যতীত অন্য কাউকে আদেশ করতেন (তবে উত্তম হতো)। আল্লাহর কসম! আমার এ কথা বলার উদ্দেশ্য ছিল, যেন লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর স্হানে সর্বপ্রথম দাড়ানোর কারনে তাঁর সম্পর্কে অপয়া হবার ধারণা করতে না পারে। তাই আমি এ ব্যাপারে তাঁর সাথে দু-তিন বার অনুরোধের পীড়াপীড়ি করেছি। এরপরেও তিনি বললেন , আবূ বাকর যেন লোকের সালাত (নামায/নামাজ) ইমামতি করে। (এবং বললেন)তোমরা হচ্ছ ইউসুফ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গিনীদের অনুরুপ।
৮২৪ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্হ অবস্হায় বিলাল (রাঃ) তাঁকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইমামতের জন্য ডাকতে আসলেন। তিনি বললেন , যাও, আবূ বকরকে ইমামত করতে বল। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি নিতান্ত নরম মানুষ। তিনি আপনার স্হানে দাড়িয়ে লোকদেরকে কুরআন পাঠ করে শোনাতে পারবেন না। আপনি উমারকে আদেশ করলে উত্তম হবে। কিন্তু তিনি তবুও বললেন , যাও, আবূ বকরকে ইমামত করতে বল। এরপর আমি হাফসাকে বললাম, তুমি তাঁকে বল যে, আবূ বকর অতি নরম লোক। তিনি আপনার স্থানে দাঁড়িয়ে মানুষকে কুরআন শোনাতে পারবেন না! আপনি উমারকে আদেশ করলে ভাল হবে। হাফসা তাঁকে তাই বললেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তোমরা অবশ্যই ইউসুফ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গিনীদের ন্যায়। যাও, আবূ বকরকে ইমামত করতে বল। শেষ পর্যন্ত লোকেরা আবূ বকর (রাঃ) -কে নির্দেশ শোনালেন এবং তিনি লোকদের ইমামত করলেন। তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আরম্ভ করার এক পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিঞ্চিৎ সুস্হবোধ করলেন। তিনি দুই জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মসজিদে প্রবেশ করলে তাঁর আগমন শব্দ পেয়ে আবূ বকর (রাঃ) পিছনে সরে আসার উপক্রম করলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাকে তাঁর স্থানে দন্ডায়মান থাকতে বললেন এবং নিজে এসে আবূ বকর (রাঃ) -এর বামপাশে বসে পড়লেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে বসে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইমামত করছিলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) দন্দায়মান অবস্হায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করছিলেন। আর অন্য মুসল্লীগণ আবূ বকর (রাঃ) -এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর অনুসরণ করছিল।
৮২৫ মিনজাব ইবনুল হারিস আত তামীমী (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আঁমাশ (রহঃ) থেকে উপরোক্তরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। এদের বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু রোগে যখন আক্রান্ত হলেন। ইবনু মুসহিরের হাদীসে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে এসে তার ( আবূ বকর (রাঃ) -এর) পাশে বসিয়ে দেওয়া হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের ইমামতি কর ছিলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) তাদেরকে তাকবীর শোনাচ্ছিলেন। ঈসার হাদীসে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে বসে লোকদের সালাত (নামায/নামাজ) পড়াচ্ছিলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) তাঁর পাশে থেকে লোকদের কে শোনাচ্ছিলেন।
৮২৬ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবূ কুরায়ব (রহঃ) এবং ইবনু নুমায়র (রহঃ)-… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পীড়িত অবস্হায় আবূ বকর (রাঃ) -কে ইমামতি করার নির্দেশ দান করেন। সে মতে তিনি ইমামতি করতে থাকেন। রাবী উরওয়া (রহঃ) বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিঞ্চিৎ সুস্হ্য বোধ করলে মসজিদে গমন করেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) লোকদের ইমামতি করছিলেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে আবূ বকর (রাঃ) পশ্চাতে সরে আসার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইশারায় তাঁর স্হানে থাকতে বললেন এবং নিজে তাঁর বরাবর পাশে বসে পড়লেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর ইমামতিতে আবূ বকর (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং অন্য মুসল্লীগণ আবূ বকরের ইমামতিতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
৮২৭ আমর আন নাকিদ (রহঃ), হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুরোগ শয্যায় শায়িতাবস্হায় আবূ বকর (রাঃ) তাদের সালাত (নামায/নামাজ) ইমামতি করতে থাকেন। এভাবে যখন সোমবার দিন সকলে সারিবদ্ধ হয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর ছিলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কক্ষের পর্দা উত্তোলন করে দাঁড়ানো অবস্হায় আমাদের দিকে তাকালেন। এবং তাঁর পবিত্র মুখমন্ডল স্বর্ণ পাতার ন্যায় জ্বল জ্বল করছিল তিনি আনন্দে হেসে উঠলেন। এদিকে আমরাও সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যেই তাঁর আগমন লক্ষ্য করে উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম। আবূ বকর (রাঃ) মনে করলেন যে, সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বের হচ্ছেন। তাই পিছনে সরে আসতে উদ্যত হলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারা করে বললেন যে, তোমরা তোমাদের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পন্ন কর। অতঃপর তিনি তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে দরজার পর্দা ফেলে দিলেন। এবং ঐ দিনই তিনি ইন্তেকাল করেন। আমর আন নাকিদ (রহঃ) ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শেষ বারের মত দেখেছিলাম যখন তিনি সোমবার দিন হূজরার পর্দা উত্তোলন করে ছিলেন। এবং এ প্রসঙ্গে রাবী সালিহ কতৃক বর্ণিত হাদীসটি অধিক পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ।
৮২৮ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যখন সোমবার হল, তারপর উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮২৯ মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না ও হারুন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট তিন দিন যাবত বের হননি। (তিন দিনের পরের ঘটনা) এক সালাত (নামায/নামাজ) ইকামত দেয়া হল। আবূ বকর (রাঃ) সামনে অগ্রসর হবেন ইত্যবসরে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা উত্তোলন করলেন। আমরা তাঁর চেহারা মুবারক অবলোকন করলাম তাকে এমন দেখা যাচ্ছিল যে, সেরুপ অপূর্ব দৃশ্য আগে আর আমরা ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। তিনি হাতের ইশারায় আবূ বাকর (রাঃ) -কে সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন। এরপর আর তিনি বের হতে পারেননি, ওফাত পর্যন্ত।
৮৩০ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পীড়িত হয়ে পরলেন। তার পীড়া বৃদ্ধি পেতে লাগল। তিনি বললেন , আবূ বকরকে নির্দেশ শুনিয়ে দাও যেন সে লোকদের ইমামতি করে। আয়িশা (রাঃ) বললেন , ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর হচ্ছেন নরম মানুষ। তিনি আপনার স্হানে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়াতে পারবেননা। তবু তিনি বললেন, যাও আবূ বকরকেই ইমামতি করতে বল। তোমরা হচ্ছো ইউসুফের সঙ্গিনীদের অনুরূপ। এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় আবূ বকর (রাঃ) ‘ই লোকদের সালাত (নামায/নামাজ) ইমামতি করেন।
৮৩১ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … সাহল ইবনু সারীদ আস-সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনু আওফ গোত্রে তাদের পরস্পরের মধ্যে মীমাংসার কাজে গমন করলেন। ইত্যবসরে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত উপস্হিত হলে মু’আযযিন (আযান দিয়ে) আবূ বকর (রাঃ) -এর নিকট গিয়ে বললেন , আপনি কি ইমামত করবেন? আমি ইকামত বলছি। আবূ বকর (রাঃ) বললেন -হ্যা। আবূ বকর (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ) পড়াচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছন দিক হতে আগমন করেন এবং মানুষের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে সালাত (নামায/নামাজ)-এর কাতারে শরীক হলেন। মুকতাদীগণ তালি বাজাতে লাগলেন। কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে অন্য কোন দিকে মনোযোগ দিতেন না। যখন মুকতাদীগণ অধিক তালি বাজাতে লাগলে তখন তিনি ফিরে তাকালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেয়ে পিছনে হটতে চাইলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারা করে বললেন , তুমি তোমার জায়গায় দণ্ডায়মান থাক। আবূ বকর (রাঃ) দুই হাত উপরে তুলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতৃক তাকে এই ইমামতির মর্যাদা প্রদানে আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন এবং পশ্চাতে হটে এসে মুকতাদীর কাতারে দাঁড়ালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবূ বকর! তুমি তোমার জায়গায় দন্ডায়মান থাকলে না কেন? আমি তো তোমাকে দণ্ডায়মান থাকতেই বলেছিলাম। আবূ বকর (রাঃ) বললেন , আবূ কুহাফার পূত্রের এমন দুঃসাহস নেই যে, আল্লাহর রাসূল -এর সামনে ইমামত করে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুকতাদীদের প্রতি তাকিয়ে) বললেন , কী ব্যাপার! তোমরা এত তালি বাজালে কেন? তোমাদের কারো সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে যখন কোন সমস্যা দেখা দেয়, তখন তোমরা ‘সূবহানাল্লাহ’বলবে, তোমরা ‘সূবহানাল্লাহ’ বললেই ইমাম তোমাদের প্রতি মনোযোগ দিবেন। তালি বাজানোর বিধান তো নারীদের জন্য।
৮৩২ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) সুহায়ল ইবনু মা’দ (রাঃ) থেকে মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ননা করেছেন। এবং এদের উভয়ের বর্ণনায় আছে, আবূ বাকর (রাঃ) তার হস্তদয় উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং পিছনে সরে এসে সারিতে দন্ডায়মান হলেন।
৮৩৩ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বাযী (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ আস- সাঈদী (রাঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনু আওফ গোত্রে একটি আপোস-মীমাংসার কাজে গমন করেন। সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করে পিছনের কাতার সমুহ ভেদ করে সামনের কাতারে এসে দাঁড়ালেন এবং . আবূ বকর (রাঃ) পাশ্চাৎ দিকে হটে আসলেন।
৮৩৪ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ও হাসান ইবনু আলী আল হূলওয়ানী (রহঃ) মুগীরা ইবনু শুবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাবুক যুদ্ধে অংশ-গ্রহণ করে ছিলেন। মুগীরা (রাঃ) বলেন, একদিন ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর পূর্বে (উক্ত তাবূক নামক স্হানে) রাসূলল্লাহ ইস্তেঞ্জা করার জন্য রওয়ানা হলেন আমি পানির পাত্র নিয়ে তার সঙ্গে গেলাম। যখন তিনি আমার নিকট ফিরে আসলেন আমি তাঁর হাতে পানি ঢেলে দিতে লাগলাম। প্রথমে তিনবার হাত ধৌত করলেন, অতঃপর মুখমন্ডল। তারপর তাঁর জুব্বার আস্তিন হাতের উপর দিকে উঠাতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন ছোট ছিল বিধায় তিনি জুব্বার নিচের দিকদিয়ে হাত ঢূকায় দুই হাত জুব্বার নিচ দিয়ে বের করে দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুইলেন। তারপর উভয় মোজার উপর মাসহ করলেন। তারপর রওয়ানা হলেন এবং আমিও তার সাথে রওয়ানা হলাম। ফিরে এসে দেখতে পেলাম, লোকজন আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) -কে আগে বাড়িয়ে দিয়েছে, তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাক’আত পেলেন এবং লোকজনের সাথে দ্বিতীয় রাক’আত আদায় করলেন। আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) যখন সালাম ফিরালেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাত (নামায/নামাজ) পূর্ন করার নিমিত্তে দাঁড়ালেন। মুসলমানগণ এই দৃশ্য দেখে ঘাবড়ে গেলেন এবং বেশী করে তাসবীহ পড়তে নাগলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে তাদের লক্ষ্য করে বললেন তোমরা উত্তম কাজ করেছ। সঠিক ওয়াক্তে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে লাগলেন।
৮৩৫ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ও আল হূলয়ানী (রহঃ) হামযা ইবনুল মুগীরা (রাঃ) থেকে আব্বাদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস সদৃশ বর্ণনা করেছেন। মুগীরা (রহঃ) বলেন, আমি অব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) -কে পিছনে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তাকে ছেড়ে দাও।
৮৩৬ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ), আমর আন নাকিদ (রহঃ), হরুন ইবনু মারুফ (রহঃ), ও হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পুরুষের জন্য ‘সূবহানাল্লাহ’ এবং নারীদের জন্য হল হাত চাপড়ানো। হারামালা তাঁর বর্ণনায় আরও বলেন যে, ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেছেন, আমি কতিপয় আলেমকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে সুবহানাল্লাহ, বলতে এবং ইশারা করতে দেখেছি।
৮৩৭ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ), আবূ কুরায়ব (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) - এর সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮৩৮ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তার বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে ‘সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে’ কথাটি।
৮৩৯ আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আল-হামদাযী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় শেষে বললেন , হে অমূক! তোমার সালাত (নামায/নামাজ) উত্তমরূপে আদায় করবে না কি? মুসুল্লী যখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তখন সে কি রুপে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তা কি সে লক্ষ্য করে না? অথচ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কারী তার নিজের কল্যাণের জন্যই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে। আল্লাহর শপথ করে বলছি আমি যেমন সামনের দিকে দেখি, তেমনি পিছনের দিকেও দেখি।
৮৪০ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি দেখছ-আমার কিবলা এই দিকে? অথচ আল্লাহর শপথ! আমার নিকট তোমাদের রুকু এবং সিজদা কোনটাই গোপন নয়। আমি তোমাদেরকে পিছন হতেও দেখছি।
৮৪১ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ও ইবনু বাশশার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের রুকু এবং সিজদা যথাযথভাবে আদায় করবে। আল্লাহর শপথ! তোমরা যখন রুকু-সিজদা কর, তখন তা আমি পিছন দিক হতে (রাবী কখনও বলেছেন)আমি পৃষ্ঠদেশের দিক হতে দেখে থাকি।
৮৪২ আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের রুকু-সিজদা গুলো পুর্ণরুপে আদায় করবে। আল্লাহর কসম! তোমরা যখন রুকু-সিজদা কর, তা আমি পিছন দিক হতে অবলোকন করি।
৮৪৩ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের অব্যবহিত পরই আমাদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন , হে লোক সকল! আমি তোমাদের ইমাম। সুতরাং রুকু, সিজদা, কিয়াম ও সালাম করার ক্ষেত্রে আমার হতে আগে বাড়িও না। কারণ আমি সম্মুখ ও পাশ্চাৎ হতে তোমাদেরকে দেখতে পাই। অতঃপর বললেন , যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ করে বলছি, আমি যা দেখছি, তোমরা তা দেখতে পেলে হাসতে কম, কাঁদতে বেশী। সাহাবা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কী দেখেছেন? তিনি বললেন , আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছি।
৮৪৪ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ), ইবনু নুমায়র (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে উপরোক্ত রূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জারীর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে ‘সালাম ফিরাবে না’ কথাটি নেই।
৮৪৫ খালাফ ইবনু হিশাম (রহঃ), আবূ রাবী আয যাহরানী (রহঃ) ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বলেছেন, ইমামের পূর্বে সিজদা হতে যে ব্যাক্তি মাথা তুলবে, তার ভয় করা উচিত, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথার মত করে দিবেন।
৮৪৬ আমর আন-নাকিদ (রহঃ) ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি ইমামের পূর্বে সিজদা হতে তার শির উত্তোলন করবে, সে কি নিশঙ্ক হয়ে গেল যে, আল্লাহ তার চেহারাকে গাধার চেহারায় রূপান্তরিত করে দিবেন।
৮৪৭ আব্দুর রহমান ইবনু সালাম আল-জুমাহী (রহঃ), আবদুর-এরাহমান ইবনুুর রাবী ইবনু মুসলিম (রহঃ), উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয ও আবূ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে উপরোক্ত রুপ বর্ণনা করেছেন। তবে আর-এরাবী ইবনু মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তার মুখমন্ডলকে গাধার চেহারায় রূপান্তরিত করে দিবেন।
৮৪৮ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে আকাশের দিকে তাকায়, অবশ্যই তাদের তা হতে বিরত হওয়া উচিত, অন্যথায় তাদের দৃষ্টি আর না আসতে পারে।
৮৪৯ আবূ তাহির ও আমর ইবনু সাওয়াদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যেন সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে দু’আর সময় আকাশের দিকে না তাকায় অন্যথায় তার দৃস্টি শক্তি নষ্ট করে দেয়া হবে।
৮৫০ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করে বললেন , তোমরা চঞ্চল ঘোড়ার লেজের মত হাত উঠাচ্ছ কেন? সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে নিশ্চল থাকবে (কোন অঙ্গ ভঙ্গি করবে না) একবার তিনি আমাদেরকে দলে দলে বিভক্ত দেখে বললেন , তোমরা পৃথক পৃথক রয়েছ কেন? আরেকবার আমাদের সামনে এসে বললেন , তোমরা এমন ভাবে কাতার বাধবে, যেমনিভবে ফেরেশতাগণ তাদের রবের সামনে কাতার বন্দী হয়ে থাকেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ফেরেশতাগণ তাঁদের রবের সামনে কীভাবে কাতার বন্দী হন? তিনি বললেন , ফেরেশতাগণ সামনের কাতারগুলী আগে পূর্ণ করেন এবং গায়ে গায়ে লেগে দাড়ান।
৮৫১ আবূ সাঈদ আল-আশাজ্জ (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আ’মাশ (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৮৫২ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সংগে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতাম, তখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষে ডান-বাম দিকে হাত ইশারা করে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’- বলতাম। তাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তোমরা চঞ্চল ঘোড়ার লেজ নাড়ার মত হাত ইশারা করছ কেন? (সালাত (নামায/নামাজ)-এর বৈঠকে) উরুর ওপর হাত রেখে ডানে-বামে অবস্হিত তোমাদের ভাইকে (মুখ ফিরিয়ে) ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতূল্লাহ’ বলাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।
৮৫৩ জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) পড়েছি। আমরা যখন সালাম ফিরাতাম, হাত দিয়ে ইশারা করে বলতাম, ‘আসসালামু আলাইকুম’। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বললেনঃ কি ব্যাপার তোমরা হাত দিয়ে ইশারা করছ- মনে হচ্ছে যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। তোমাদের কেউ যখন সালাম করে সে যেন তার সাথের লোকের দিকে ফিরে সালাম করে এবং হাত দিয়ে ইশারা না করে।
৮৫৪ আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা সমান্তরালভাবে দাঁড়াও এবং আগে-পেছে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দাঁড়িও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তর মতভেদে লিপ্ত হয়ে পড়বে। বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যাক্তিরা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে। অতঃপর এই গুণে যারা তাদের নিকটবর্তী তারা পর্যাক্রমে এদের কাছাকাছি দাঁড়াবে। আবূ মাসউদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আজকাল তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ-বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে।
৮৫৫ ইবনু উয়ানায়া হতে এই সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
৮৫৬ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ও জ্ঞানী লোকেরা আমার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাদের কাছাকাছি যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরা দাঁড়াবে। তিনি একথা তিনবার বলেছেন। সাবধান! তোমরা (মসজিদে) বাজারের মত শোরগোল করবে না।
৮৫৭ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ও ইবনু বাশশার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা রাখবে। কেননা কাতার সোজা করা সালাত (নামায/নামাজ)-এর পূর্ণতার অংশ।
৮৫৮ শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কাতার পূরা কর। কেননা আমি তোমাদেরকে পিছন হতে দেখে থাকি।
৮৫৯ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রহঃ) কতিপয় হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে আমাদের নিকট বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে কাতার সোজা রাখবে। কেননা, কাতার সোজা করা সালাত (নামায/নামাজ)-এর সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।
৮৬০ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ও ইবনু বাশশার (রহঃ) নুমান ইবনু বাশীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমরা তোমাদের কাতার সমূহ সোজা রাখবে। নতুবা আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।
৮৬১ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … নুমান ইবনু বাশীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতার গুলোকে এমন ভাবে সোজা করে দিতেন যেন তিনি ধনুকের কাঠিটি সোজা করছেন। যতক্ষন না তিনি অনুভব করতেন যে, আমরা বিষয়টি তাঁর নিকট হতে যথাযথ ভাবে বুঝে নিয়েছি। অতঃপর একদিন (হুজরা হতে) বের হয়ে এসে স্বীয় স্হানে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলবেন, এমন সময় দেখতে পেলেন যে, এক ব্যাক্তির বক্ষদেশ কাতার হতে আগে বেড়ে আছে। তখন বললেন , আল্লাহর বান্দ্বারা! তোমরা তোমাদের কাতার অবশ্যই সোজা কর। নতুবা আল্লাহ তোমাদের বিভেদ করে দিবেন।
৮৬২ হাসান ইবনুুর-এরাবী (রহঃ), আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ আওইয়ানাহ (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে আপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮৬৩ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্নিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষ যদি আযান ও প্রথম কাতারের সাওয়াবের কথা জানত এবং লটারী ছাড়া তা লাভের কোন উপায় না থাকত তবে তারা এর জন্য অবশ্যই লটারী করত এবং যদি (যূহরের সালাত (নামায/নামাজ) আওওয়াল ওয়াক্তে গমনের – ফযিলত যদি তারা জানত তবে তারা এর জন্য পরস্পরে প্রতিযোগিতা করত। আর এশা ও ফজরের মাহাত্ম্য যদি অবহিত হত, তবে তারা ঐ দুটির জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আগমন করত।
৮৬৪ শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) আবূ সাঈদ আল খুদুরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাগণকে পিছনের কাতারে দেখে- বললেন , আমার নিকটে আস এবং প্রথম কাতার পূরা কর, অতঃপর দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা তোমাদের অনুসরণ করবে। এমন কিছু লোক সবসময় থাকবে যারা সালাত (নামায/নামাজ) পিছনে আল্লাহ তাদেরকে (নিজ রহমত হতেও) পিছনে রাখবেন।
৮৬৫ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল-এরহমান আদ-দারিমী (রহঃ) … আবূ সাঈদ আল-খুদূরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে দেখলেন, তারা মসজিদের পেছনের দিকে আছেন। তারপর উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
৮৬৬ ইবরাহীম ইবনু দ্বীনার (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনু হারব আন-ওয়াসিতী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (অথবা বলেছেন তারা) যদি প্রথম কাতারের মাহাত্ম্য অবগত হতো, তবে লটারী করতে হতো। ইবনু হারব (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, প্রথম কাতারে লটারী করা ছাড়া কেউ যেতে পারত না।
৮৬৭ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের কাতারের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হল প্রথম কাতার এবং সর্বনিকৃষ্ট হচ্ছে শেষ কাতার। আর স্ত্রী লোকদের কাতারের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে শেষ কাতার (যা পুরুষের কাতার হতে দুরে থাকে), এবং সর্বনিকৃষ্ট হলো প্রথম কাতার (যদি পুরুষদের কাতারের নিকটে হয়)।
৮৬৮ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূহায়ল (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮৬৯ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি তহবন্দ খাটো হবার দরুন মানুষকে বালকের ন্যায় তাদের তহবন্দ গলায় বেঁধে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখেছি। তখন জনৈক ব্যাক্তি বলল, হে নারী সমাজ! পুরুষরা তাদের শির উত্তোলন না করা পর্যন্ত তোমরাও সিজদা হতে শির উত্তোলন করবে না।
৮৭০ আমর আন-নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … সালিমের পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো ন্ত্রী মসজিদে যেতে চাইলে তাকে নিষেধ করবে না।
৮৭১ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের স্ত্রী লোকগণ মসজিদে যেতে চাইলে তাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিবে না। রাবী (সালেম) বলেন, বিলাল ইবনু আবদুল্লাহ বললেন, আল্লাহর শপথ! আমরা অবশ্যই তাদেরকে বাধা দিব। রাবী (সালেম) বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) তার দিকে ফিরে অকথ্য ভাষায় তাকে তিরস্কার করলেন। আমি তাকে এর পূর্বে কখনো এভাবে তিরস্কার করতে শুনিনি। তিনি আরো বললেন, আমি তোমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছঃ আল্লাহর শপথ! আমরা অবশ্যই তাদেরকে বাধা দিব।
৮৭২ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর বাঁদীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিওনা।
৮৭৩ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মহিলারা মসজিদে যাওয়ার জন্য তোমাদের কাছে অনুমতি চাইলে তাদেরকে অনুমতি দিও।
৮৭৪ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলাদেরকে রাতের বেলা, মসজিদে যেতে বাধা দিওনা। আবদুল্লাহ ইবনু উমারের এক ছেলে (বিলাল) বলল, আমরা তাদেরকে বের হতে দিবনা। কেননা লোকেরা একাকে ফ্যাসা’দর রূপ দিবে। বারী বলেন, ইবনু উমার তার বুকে ঘুষি মেরে বললেন, আমি বলছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তুমি বলছ আমরা তাদেরকে (বাইরে যেতে) ছেড়ে দিব না!
৮৭৫ এই সনদে আ’মাশ থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৮৭৬ মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইবনু রাফি (রহঃ) ইবনু উমার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের ন্ত্রীলোকদের রাতে মসজিদে যেতে অনুমতি দিবে। তখন ওয়াকিদ নামক তার এক পূত্র বলল যে, তারা সেখানে গিয়ে প্রতারণা করবে। একথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ) তার বুকে হাত মেরে বললেন, আমি তোমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করছি আর তুমি বলছ, তাদেরকে যেতে দিবে না?
৮৭৭ হারুন ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা তোমাদের ন্ত্রীলোকগণকে রাতে মসজিদে পূণ্য লাভের জন্য যেতে নিষেধ করনা, যখন তারা তার অনুমতি চাইবে। তখন বিলাল বলল, আল্লাহর কসম! আমরা তাদেরকে নিষেধ করব। একথা শুনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন , আমি বলছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তুমি বলছ, আমরা তাদেরকে নিষেধ করব!
৮৭৮ হারুন ইবনু সাঈদ আন-আয়লী (রহঃ) যায়নাব আস-সাকাফিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন স্ত্রীলোক যখন ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে (মসজিদে) আসে, তখন সে যেন ঐ রাতে খোশবূ না লাগায়।
৮৭৯ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী মসজিদে আসবে, সে যেন খোশবূ ষ্পর্শও না করে।
৮৮০ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী কোন সুগন্ধির ধুনি নিবে, সে যেন ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আমাদের সাথে শরীক না হয়।
৮৮১ আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কা’নাব (রহঃ) … আমরা বিনতে আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর স্ত্রী আয়িশা (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি এ যুগের নারীদের আচরণের অবস্হা দেখতেন, তবে তাদেরকে বনী ইসরাঈলী নারীদের ন্যায় মসজিদে প্রবেশ করতে নিষেধ করতেন। রাবী ইয়াহইয়া বলেন, আমি আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বনী ইসরাঈলী নারীদেরকে কি মসজিদে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বললেন , হ্যা।
৮৮২ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না, আমর আন-নাকিদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি অনুরুপ সনদে হাদীস বর্ণনা
৮৮৩ আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনুুস-সাব্বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহ তায়াআলার পবিত্র বাণী সম্পর্কে বলেন, (মধ্যম আওয়াজে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার নির্দেশ সম্বলিত) এই আয়াত এমন সময় অবতীর্ণ হয়, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আত্মগোপন করে অবস্থান করছিলেন। রাসূলল্লাহ তার সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার সময় উচ্চস্বরে কিরা-আত পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শ্রবণ করে কুরআন, তা অবতীর্ণকারী এবং যার প্রতি তা অবতীর্ণ হয়েছে তাকে গালি-গালাজ করত। তখন আল্লাহ তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন আপনি সালাত (নামায/নামাজ) এত উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করবেন না যে, মুশরিকগণ তা শুনতে পায় এবং এত নিম্নস্বরেও পাঠ করবেন না যে, আপনার সাহাবীগণ তা শুনতে না পায়। বরং মধ্যম আওয়াজে কুরআন পাঠ করুন।
৮৮৪ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার এই নির্দেশ দু’আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে (অথাৎ অধিক উচ্চস্বরেও দুআ করবে না, আর অধিক নিম্নস্বরেও দুআ করবে না)
৮৮৫ কুতায়বা ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) সুত্রে এ সনদে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
৮৮৬ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ সম্পর্কে বলেন, জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ওহী নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসতেন তখন তার জিব্বা ও ওষ্ঠ সঞ্চালন করতেন এতে তাঁর ভীষণ কষ্ট হতো। এবং এ তার চেহার দেখে চিনা যেত। অতঃপর আল্লাহ তা’য়াআলা নাযিল করলেন, অর্থাৎ তড়িঘড়ি তা আয়ত্ত করার নিমিত্তে ওন্ঠ সঞ্চালন করবেন না, আপনার সীনায় আমিই তো সংরক্ষন করব। যেন পরে আপনি তা পাঠ করতে পারেন। আপনি মনোযোগ সহকারে শুনূন এবং চুপ থাকুন। আপনার যবানে পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। রাবী বলেন এরপর জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আগমণ করতেন তখনঁ মাথা নত করে করে থাকতেন এবং জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্গমন করলে তিনি আল্লাহর অঙ্গীকার মুতাবিক হুবহু তা আবৃত্তি করতেন।
৮৮৭ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বলেন, কুরআন নাযিলের সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তড়িঘড়ি তা আয়ত্ত করার নিমিত্ত ওষ্ঠ সঞ্চালন করতেন। এতে তাঁর অত্যধিক কষ্ট হতো। (রাবী বলেন) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রহঃ) আমাকে বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ওষ্ঠ সঞ্চালন করতেন আমি সেরুপ ওষ্ঠদ্বয় সঞ্চালন করব। সাঈদ বলেন, যে ভাবে ইবনু আব্বাস (রাঃ) ম্বীয় ওষ্ট নাড়াচ্ছিলেন, আমিও তদ্রূপ ওষ্ট নাড়াচ্ছি এরপর তার ওষ্ঠদ্বয় সঞ্চালন করলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়াআলা এই আয়াত নাযিল করলেন: আপনার সীনায় তা সংরক্ষণ করব। যেন পরে আপনি তা পাঠ করতে পারেন। “আপনি মনোযোগ সহকারে শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর তা আপনার দ্বারা পাঠ করানোর দায়িত্ত আমারই”। রাবী বলেন, এরপর জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ওহীসহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আগমন করতেন, তখন তা নীরবে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করতেন এবং জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্গমন করলে পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুবহু তা আবৃতি করতেন।
৮৮৮ শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বীনদের নিকট কুরআন পাঠ করেন নি এবং তাদের দেখেন নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সাহাবীর সঙ্গে উকায বাজারে গমন করেন তখন শয়তানদের জন্য আকাশের সংবাদ সংগ্রহ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তানদের উপর অগ্নিশিখা নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। তাই একদল শয়তান তাদের নিকট গিয়ে বলল, যে, আকাশের খবরাখবর জ্ঞাত হওয়া আমাদের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং আমাদের উপর আগুনের শিখা বর্ষিত হচ্ছে। তারা বলল, নিশ্চয়ই কোন নতূন ঘটনা ঘটে থাকবে। তোমরা দুনিয়ার পূর্ব হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত খোজ নিয়ে দেখ, কি কারণে আমাদের নিকট আকাশের খবর আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং তারা দুনিয়ার পূর্ব-পশ্চিম ঘূরে বেড়াতে লাগল। তাদের কিছু সংখ্যক লোক তেহামার পথে উকায বাজারে গমন করছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ‘নাখল’- নামক স্হানে স্বীয় সাহাবীগণ সহ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর ছিলেন। তারা (জ্বীন সম্প্রদায়) যখন কুরআন পাঠ শুনল, তখন তাতে মনোনিবেশ করল এবং বলল আকাশের খবরাখবর বন্ধ হওয়ার কারণ একমাত্র এটাই এরপর তারা তাদের কাওমের নিকট ফিরে গেল এবং বলল, হে আমাদের কাওম। আমরা এক আশ্চর্য কুরআন শ্রবণ করেছি, যা সত্য পথ-নির্দেশক। আমরা তাতে বিশ্বাস স্হাপন করেছি এবং এবং আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না। তখন আল্লাহ তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মাদ এর উপর (এ ওহী) –অবতীর্ণ করেন- বলুন: আমার প্রতি ওহী নযিল হয়েছে যে, জ্বীনদের একটি দল শুনেছে -।
৮৮৯ মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলকামাকে জিজ্ঞাসা করলাম জ্বীন-এরজনী -(অর্থাৎ যে রাত্রিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জ্বীনদের সহিত সাক্ষাৎ হয়েছিল) তে কি ইবনু মাসউদ (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন? তিনি বললেন , আমি ইবনু মাসঊদ (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করেছি, জ্বীন-এরজনী –তে কি তোমাদের মধ্য হতে কেউ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিল? তিনি বললেন , না! কিন্তু একরাত্রি আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেললাম। এবং তাঁকে পর্বতের উপত্যকা ও ঘাঁটিসমূহে খোঁজাখুজি করলাম। আমরা ভাবলাম জ্বীনেরা তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে কিংবা শুপ্ত ঘাতক তাকে মেরে ফেলেছে। আমরা রাত্রটি দ্বারুন উদ্বেগে কাটালাম। ভোরবেলা আমরা (দেখলাম যে,) তিনি হিরা (জাবাল-ই-নূর পর্বত, যা মক্কা ও মীনার মধ্যস্হলে অবস্হিত) পর্বতের দিক হতে আসছেন। রাবী বলেন, তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনাকে আমরা হারিয়ে বহু খোঁজাথুঁজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাইনি। ফলে দারুন উদ্বেগের মধ্যে আমরা রাত কাটিয়েছিা তিনি বললেন , জ্বীনদের একজন প্রতিনিধি আমাকে নেওয়ার জন্য এসেছিল। আমি তার সঙ্গে গেলাম এবং তাদের নিকট কুরআন পাঠ করলাম। এরপর তারা আমাকে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে গেল এবং তাদের নিদর্শন ও তাদের আগুনের নিদর্শনগুলো দেখাল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জ্বীনেরা তার নিকট খাদ্য প্রার্থনা করল। তিনি বললেন , যে সমস্ত প্রাণী আল্লাহর নামে যবেহ হবে, তাদের হাড্ডি তোমাদের খাদ্য। তোমাদের হস্তগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা গোস্তে পরিণত হয়ে যাবে, এবং সকল উষ্ট্রের বিষ্ঠা তোমাদের জীব জন্তুর খাদ্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তোমরা ঐ দুটি জিনিস (অস্হি ও উষ্ট্রের বিষ্ঠা) দ্বারা ইস্তিঞ্জা করবে না। কেননা, ওগুলো তোমাদের ভাই (জ্বীন ও তাদের জানোয়ার) দের খাদ্য।
৮৯০ আলী ইবনু হুজর আস সা’দী (রহঃ) দাঊদ (রহঃ) সুত্রে উপরোক্ত সনদে পর্যন্ত আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। শাবী বলেন, জ্বীনেরা তার নিকট তাদের খাদ্যের জন্য গ্রার্থনা করেছিল এবং তারা ছিল জাযীরার অধিবাসী।
৮৯১ আবূ বাবর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পর্যন্ত বর্ণনা করেন। পরের অংশ তিনি বর্ণনা করেন নি।
৮৯২ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জ্বীন-এরজনী-তে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম না। কিন্তু আমার বাসনা জাগে যে, আহা! সেদিন যদি আমি তাঁর সঙ্গে থাকতাম।
৮৯৩ সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদ আল জারমী ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) … মা’ন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন আমি মাসরূককে জিজ্ঞাসা করেছি যে রাতে জ্বীনেরা এসে কুরআন শ্রবণ করল সে রাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কে তাদের উপস্হিতি সংবাদ দিয়েছিল? তিনি বলেন, আমাকে তোমার পিতা অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন যে, তাঁকে জ্বীনের উপস্হিতি একটি বৃক্ষ সংবাদ দিয়েছিল।
৮৯৪ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না আল আনাযী (রহঃ) আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যুহর ও আসরের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহা ও দুটি সূরা পাঠ করতেন এবং কখনও কখনও আমরা আয়াত শুনতে পেতাম। আর যুহারের প্রথম রাকআত সূরা ফতিহা ও দুটি সূরা পাঠ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআত খাট করতেন। অনুরুপ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)ও।
৮৯৫ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও আসরের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহা ও আরও একটি সূরা পাঠ করতেন এবং কখনও আয়াত আমাদেরকে শোনাতেন। আর শেষের দু রাকআতে শুধু-সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন।
৮৯৬ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদূরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুহর ও আসরের সালাত (নামায/নামাজ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কিয়াম (দাঁড়ান)-এর পরিমাপ করতাম। যুহরের প্রথম দুই রাকআতে তাঁর কিয়াম, আলিফ লা-ম মীম তানযীল আস-সিজদাহ পাঠের সময়ের পরিমাণ হত। আর শেষ দুই রাকআতে তার অর্ধেক পরিমাণ। আসরের প্রথম দুই রাকআত যুহুরের শেষ দু-রাকআতের পরিমাণ দাড়াতেন এবং আসরের শেষ দুই রাকআতে এর অর্ধেক পরিমাণ এবং আবূ বাকর (রাঃ) তার রিওয়ায়াতে সূরা আলিফ লা-ম মীম তানযীল-এর উল্লেখ করেন নি, বরং ত্রিশ আয়াত পরিমাণ বলেছেন।
৮৯৭ শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদূরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দুই রাআতের প্রত্যেক রাকআতে ত্রিশ আয়াত পরিমাণ কিরা’আত পাঠ করতেন এবং শেষ দুই রাকাআত পনের আয়াত পরিমাণ। অথবা বলেন, এর অর্ধেক পরিমাণ। এবং আসরের প্রথম দুই রাকআতের প্রত্যেক রাকআতে পনের আয়াত পরিমাণ কিরা-আত পাঠ করতেন এবং শেষ দুই রাকআতে এর অর্ধেক পরিমাণ।
৮৯৮ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, কুফাবাসিগণ সা’দের সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট অভিযোগ করল। উমার (রাঃ) তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আগমন করলে উমার তাঁর সালাত (নামায/নামাজ) সম্পর্কে কুফা বাসীদের অভিযোগের কথা অবহিত করলেন। সা’দ (রাঃ) বললেন , আমি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মতই তাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে থাকি। তাতে একটুকুও ক্রটি করিনা। আমি প্রথম দুই রাকআত লম্বা করি এবং শেষের দুই রাকআত সংক্ষেপে আদায় করে থাকি। তখন উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন , হে আবূ ইসহাক! তোমার নিকট হতে এটাই আশা করা যায়।
৮৯৯ কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবদুল মালিক উমায়র (রাঃ) সুত্রে এই সনদে বর্ণনা করেন।
৯০০ মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) সা’দ (রাঃ) কে বললেন , মানুষ তোমার বিরুদ্ধে সকল ব্যাপারে অভিযোগ করছে এমন কি সালাত (নামায/নামাজ)-এর ব্যাপারেও। সা’দ (রাঃ) বললেন , আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর অনুসরণ করার ক্ষেত্রে মোটেই কসুর করি না। উমার (রাঃ) বললেন , তোমার থেকে এটাই আশা করা যায়। অথবা বললেন , তোমার সম্পর্কে আমার এই রূপই ধারণা।
৯০১ আবূ কুরায়ব (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরুপ বর্ণিত। অবশ্য তিনি কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সা’দ (রাঃ) বললেন, আরব বেদূঈনগণ আমাকে সালাত (নামায/নামাজ) শিক্ষা দিবে।
৯০২ দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করা হত। অতঃপর কোনও আগমনকারী ‘বাকী’ নামক স্হানে গমন করত এবং তার প্রয়োজন সেরে পরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে ফিরে আসত। তখনও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কিরা’আত) দীর্ঘ করার কারণে প্রথম রাকআতেই থাকতেন।
৯০৩ মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) কাযা’আহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর নিকট আগমন করলাম। তখন তাঁর নিকট অনেক লোকের সমাগম ছিল। তারা চলে গেলে আমি বললাম, এরা যা জিজ্ঞাসা করেছে, আমি আপনার নিকট তা জিজ্ঞাসা করব না, বরং আমি আপনাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সার্গীত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। তিনি বললেন, এতে তোমার কোনও ফায়দা নেই (কেননা, তুমি ঐরূপ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে সক্ষম হবে না) তিনি (কাযা’আহ) পূনরায় তাই জিজ্ঞাস করলেন। তখন আবূ সাঈদ (রাঃ) বললেন, যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করা হত। তারপর আমাদের মধ্য হতে কেউ ‘বাকী’ পর্যন্ত যেত এবং (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন সেরে নিজ গৃহে এসে উযূ (ওজু/অজু/অযু) বানাত। অতঃপর মসজিদে ফিরে যেত, তখনও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম রাক’আতেই থাকতেন।
৯০৪ হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু সাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -মক্কায় আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং সূরা মু’মিনূন শুরু করলেন। যখন মূসা ও হারুন (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অথবা ঈসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামের উল্লেখিত আয়াত পর্যন্ত পৌছলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাশি আসল। তিনি রুকুতে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবনুুস সাইব (রাঃ) তখন উপস্থিত ছিলেন। আব্দুর রাযযাকের রিওয়ায়াতে আছে, তিনি কিরা’আত বন্ধ করে দিলেন এবং রুকুতে গেলেন।
৯০৫ যুহায়র ইবনু হারব, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) । আমর ইবনু হুরাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) সূরা তাকভীর পাঠ করতে শুনেছেন।
৯০৬ আবূ কামিল আল-জাহদারী, ফূযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) কুতুবা ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তিনি যখন সূরা কাফ তিলাওয়াত শুরু করে আয়াত পর্যন্ত পৌছলেন (রাবী বলেন) আমি আয়াতটি বারবার আবৃত্তি করতে লাগলাম।
৯০৭ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) কুতবা ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এবং সমুন্নত খেজুর গাছ যাতে আছে গুচ্ছ খেজুর (সূরা ক্বাফ, ৫০:১০) পড়তে শুনেছি।
৯০৮ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) যিয়াদ ইবনু ইলাকা-এর চাচার সুত্রে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )প্রথম রাক’আতে এই আয়াত পড়লেন এবং কখনও বলেছেন, সূরা ‘ক্বাফ’ (পড়েছেন)।
৯০৯ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) সূরা পড়তেন। তাঁর অন্যান্য সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত হত।
৯১০ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি সিমাক সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) সংক্ষিপ্ত করতেন ঐ সকল লোকের মত (দীর্ঘ করে) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন না। রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালতে কিংবা তৎসদৃশ (সুরা সমূহ) পড়তেন।
৯১১ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) পড়তেন এবং আসরের সালাত (নামায/নামাজ)ও অনুরুপ সূরা এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) তার চেয়েও দীর্ঘ সুরা পড়তেন।
৯১২ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) জাবির ইবনু সামূরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) পাঠ করতেন এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) তদপেক্ষা দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন।
৯১৩ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) ষাট হতে একশ’ আয়াত পাঠ করতেন।
৯১৪ আবূ কুরায়র (রহঃ) আবূ বারযা আন-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) ষাট হতে একশ, আয়াত পাঠ করতেন।
৯১৫ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) উম্মল ফযল বিনত হারিস (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে সূরা পাঠ করতে শুনে বললেন, হে আমার পুত্র! তুমি এই সূরাটি পাঠ করে আমাকে ম্মরণ করিয়ে দিলে যে , এটি এমন এক সূরা যা আমি সর্বশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) পাঠ করতে শুনেছি।
৯১৬ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আবদ ইবনু হুমায়দ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) যুহরি (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেন। কিন্তু সাহিল কর্তুক বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত এই কথাটি আছে, এরপর ওফাত পর্যন্ত তিনি আর কোনও সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন নি।
৯১৭ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) জুবায়র ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) সূরা তূর পাঠ করতে শুনেছি।
৯১৯ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব, হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) সুত্রে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেন।
৯১৯ উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয আল-আম্বারী (রহঃ) বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ছিলেন। তিনি ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন এবং এক রাকআতে সূরাটি পাঠ করেন।
৯২০ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তিনি তাতে সূরা পাঠ করলেন।
৯২১ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ইশার সালাত (নামায/নামাজ) পাঠ করতে শুনেছি। আমি তার থেকে অধিক সুন্দর আওয়াজ কারও কাছে শুনিনি।
No comments:
Post a Comment