৭২১ আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলমানরা মদিনায় আসার পর একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ে নিত। এ জন্য কেউ আযান দিত না। একদিন তারা ব্যাপারটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। তাদের একজন বলল, নাসারাদের নাকূসের অনুরূপ একটা নাকূস (ঘন্টা) ব্যবহার কর। তাদের অপরজন বলল, ইহুদীদের শিঙ্গার অনুরূপ একটি শিঙ্গা ব্যবহার কর। উমার (রাঃ) বললেন, তোমরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য আহবান করতে একটি লোক পাঠাওনা কেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল! উঠো এবং সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য ডাক।
৭২২ খালাফ ইবনু হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, . বিলাল (রাঃ) -কে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল আযানের শব্দগুলো দু-বার করে বলতে এবং ইকামাতের শব্দ গুলো এক বার করে বলতে। ইয়াহইয়া তার হাদীসে ইবনু উলায়্যার মাধ্যমে এতটুকু যোগ করেন যে, আমি আইউব (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন , কদ কমাতিচ্ছলাহ শব্দ টি ছাড়া (এটি দু’বার বলবে) বাকী শব্দ গুলো এক বার করে বলবে।
৭২৩ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন (একদা) সাহাবায়ে কিরাম কোন পরিচিত জিনিসের মাধ্যমে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত জানিয়ে দেয়া সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করলেন। এ ব্যাপারে তারা আগুন জ্বালানো অথবা নাকুস (শঙ্খ) বাজানোর কথা উল্লেখ করলেন। শেষে . বিলাল (রাঃ) -কে নির্দেশ দেয়া হল, আযানের শব্দগুলো কে দু-বার করে বলতে এবং ইকামাতের শব্দ গুলোকে এক বার করে বলতে।
৭২৪ মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) … খালিদ আল হাযযা থেকে উক্ত সনদে বর্ণিত আছে যে, তখন লোকজন বেশী হয়ে গেল তখন তারা সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত জানিয়ে দেয়ার আলোচনা করল এরপর সাকাফীর হাদীস-এর অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এতে উল্লেখ রয়েছে।
৭২৫ উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) -কে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল আযানের শব্দ গুলো দু-বার করে বলতে এবং ইকামাতের শব্দগুলো এক বার করে বলতে।
৭২৬ আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মালিক ইবনু আবদুল ওয়াহিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ মাহযুবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই আযান শিখিয়ে ছিলেন “আল্লাহু আকবর” (আল্লাহ মহান); আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লালাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই); আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুল আল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল); এরপর আবার বলবে। হাই আল-আস সালাহ দুই বার (সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য এস) দুই বার, হাই আ-লাল ফালাহ (কল্যাণের দিকে এস) দুই বার। ইসহাক তার বর্ণনায় ও বাক্য দু’টি বর্ণনা করেছেন।
৭২৭ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুই জন মু’আযযিন ছিল। বিলাল এবং দৃষ্টিহীন সাহাবী ইবনু উষ্মি মাকতূম।
৭২৮ ইবনু নুমায়র (রহঃ) … আয়িশা (রহঃ) সুত্রেও অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৭২৯ আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আল হামদানী আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ইবনু উম্মু মাকতূম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুমতিক্রমে আযান দিতেন। আর তিনি ছিলেন দৃস্টিহীন।
৭৩০ মুহাম্মাদ ইবনু সালামা আল মুরাদী (রহঃ)-হিশাম এর সুত্রেও অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৭৩১ যুহায়র ইবনু হারব (ব)… আনাস ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে শক্রর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করতেন। আযান শোনার অপেক্ষা করতেন। আযান শুনতে পেলে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতেন। আযান শুনতে না পেলে আক্রমণ করতেন। এক বার তিনি কোন এক ব্যাক্তিকে বলতে শুলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তুমি ফিতরাত (দ্বীন ইসলাম)-এর উপর রয়েছ। এর পর সে ব্যাক্তি বলল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তুমি জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে এলে। সাহাবায়ে কিরাম লোকটির প্রতি লক্ষ্য করে দেখতে পেলেন যে, সে ছিল একজন ভেড়ার রাখাল।
৭৩২ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদূরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমরা আযান শুনবে তখন মু-আযযিন যা বলে তাই বলবে।
৭৩৩ মুহাম্মাদ ইবনু সালামা আল মুরাদী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুল কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুয়াজ্জ্বীনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তাই বলবে। তারপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ করবে। কারণ যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করেন। পরে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে। ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্হান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোন এক বান্দাকে দেয়া হবে। আমি আশাকরি যে, আমিই হব সেই বান্দা। যে আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
৭৩৪ ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ওমর ইবনুল খাত্তাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মু'আযযিন যখন বলে তখন তোমাদের কেউ যদি বলল। তারপর মু-আযযিন যখন বলে, তখন সেও বলল। অতঃপর মু’আযযিন যখন বলে, তখন সেও বলল। পরে মু’আযযিন যখন বলে, তখন সে বলল। এরপর মু’আযযিন যখন বলে, তখন সেও বলল। তারপর মু’আযযিন যখন বলে, তখন সেও বলল-এসবই যদি সে বিশুদ্ধ অন্তরে বলে থাকে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
৭৩৫ মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি মু-আযযিনের আযান শুনে নিম্নের দুঁআটি পাঠ করে তার শোনাহ মাফ করে দেয়া হয়ঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই তিনি এক, কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি সন্তুষ্ট আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ কে রাসুল হিসেবে পেয়ে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে।
৭৩৬ মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) তালহা ইবনু ইয়াহইয়ার চাচা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি (একবার) মু’আবিয়া (রহঃ) ইবনু আবূ সুফিয়ানের কাছে ছিলাম। মু’আযযিন এসে তাকে সালাত (নামায/নামাজ) এর জন্য ডাকল। মু’আবিয়া (রহঃ) বললেন , আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন মুয়াযযিনদের ঘাড় সকলের চেয়ে লম্বা হবে।
৭৩৭ ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) মুঅবিয়া (রহঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৭৩৮ কুতায়বা ইবনু সাঈদ, উসমান ইবনু আবূ শায়বা ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) . জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বলতে শুনেছি যে, শয়তান যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর আযান শোনে তখন (মদিনা থেকে) রাওহা পর্যন্ত চলে যায়। সুলায়মান (আ’মাশ) বলেন, আমি রাবী আবূ সুফিয়ান কে (রাওহা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন , এ জায়গাটি মদিনা থেকে ছত্রিশ (৩৬) মাইল দুরে অবস্থিত।
৭৩৯ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বু ও আবূ কুরায়বের সুত্রে আ’মাশ থেকেও হাদীসটি বর্ণিত আছে।
৭৪০ কুতায়বা ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শয়তান যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর আযান শোনে তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে দৌড়ে পালায় যাতে সে আযানের শব্দ শুনতে না পায়। অতঃপর আযান যখন থেমে যায় তখন ফিরে এসে ওয়াসওসা (ধোঁকা)দেয়। তারপর যখন ইকামাত শোনে তখন আবার চলে যায় যাতে তার শব্দ সে শুনতে না পায়। অতঃপর যখন তা (ইকামাত)- শেষ হয় তখন ফিরে এসে ওয়াসওয়াসা (ধোঁকা) দেয়।
৭৪১ আব্দুল হামীদ ইবনু বায়ান আল ওয়াসিতী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মু’আযযিন যখন আযান দেয় শয়তান তখন পেছন ফিরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে দৌড় দেয়।
৭৪২ উমায়্যা ইবনু বিসতাম (রহঃ) সূহায়ল (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বানূ হারিসা নামক গোত্রের কাছে পাঠালেন। আমার সাথে তখন আমাদেরই একটি গোলাম ছিল, বর্ণনান্তরে (তিনি বলেন) আমার এক জন সঙ্গী ছিল। অতঃপর একটি বাগানের প্রাচীর থেকে কেউ তার নাম ধরে ডাক দিল। তিনি বলেন, আমার সঙ্গী তখন প্রাচীরের দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখল, কিন্তু কিছু দেখতে পালনা। পরে এ ঘটনা আমি আমার পিতার কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন , আমি যদি জানতাম যে, তুমি এরুপ অবস্হার সম্মূখীন হবে তাহলে তোমাকে আমি পাঠাতাম না। তুমি (ভবিষ্যতে) যখন এরুপ আওয়াজ শুনবে তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর আযান দিবে। কারণ আমি আবূ হুরায়রাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন, যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর আযান দেয়া হয় তখন শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পলায়ন করে।
৭৪৩ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর আযান দেয়া হয় তখন শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পিছন ফিরে দৌড় দেয়, যাতে সে আযানের ধ্বনি শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে আবার ফিরে আসে। আর যখন ইকামাতের তাকবীর বলা হয় তখন আবার পিছন দিকে ফিরে দৌড় দেয়। ইকামাত শেষ হলে ফিরে আসে এবং মানুষের অন্তরে ওয়াস ওয়াসা (ধোকা) দেয়। সে তাকে এমন সব জিনিসের কথা সরণ করিয়ে দেয় যা সে ইতিপূর্বে মনেও করেনি। ফলে সে কয় রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল- তা ঠিক মনে করতে পারে না।
৭৪৪ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। তবে সেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, ফলে সে কিভাবে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল তা খেয়াল করতে পারে না।
৭৪৫ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী, সাঈদ ইবনু মানসুর, আবূ বাকর আবূ শায়বা, আমর আন-নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) সালিম-এর পিতা ইবনু উমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি যখন সালাত (নামায/নামাজ) আরম্ভ করতেন তখন উভয় হাত উঠাতেন। এমনকি তা একেবারে তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর হয়ে যেত। আর রুকু করার এবং যখন রুকু থেকে উঠতেন (তখনো অনুরুপ ভাবে হাত উঠাতেন)। কিন্তু উভয় সিজদার মাঝখানে তিনি হাত উঠাতেন না।
৭৪৬ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (ব)… ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য দাড়াতেন তখন উভয় হাত উঠাতেন। এমন কি তা তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর হয়ে যেত। তারপর তাকবীর বলতেন। পরে যখন রুকু করার ইরাদা করতেন তখন ও অনুরুপ করতেন। আবার রুকু থেকে যখন উঠতেন তখনও অনুরুপ করতেন। কিন্তু সিজদা থেকে যখন মাথা তুলতেন তখন এরুপ করতেন না।
৭৪৭ মুহাম্মদ ইবনু রাফি ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কাহযায (রহঃ) যুহরি (রহঃ) সুত্রে উক্ত সনদে ইবনু জুরায়জ (রহঃ)-এর অনুরুপ বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন তারপর তাকবীর বলতেন।
৭৪৮ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবূ কিলাবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিস (রহঃ)-কে দেখলেন, তিনি যখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দাঁড়ালেন তখন তাকবীর বলে উভয় হাত উঠালেন। আর যখন রুকু করার ইচ্ছা করলেন তখন উভয় হাত উঠালেন। আর রুকু থেকে যখন মাথা উঠালেন তখন আবারও হাত উঠালেন এবং (পরে) বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরুপ করতেন।
৭৪৯ আবূ কামিল আল জাহদারী (ব)… মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিস (রহঃ) থেকে বর্নিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবির (তাকবীরে তাহরিমা) বলে উভয় কান বরাবর হাত উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন তখনও কান বরাবর উভয় হাত উঠাতেন। আবার যখন রুকু থেকে মাথা তুলে বলতেন তখনো অনুরুপ করতেন।
৭৫০ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেন যে, মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রহঃ) বলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কান বরাবর হাত তুলতে দেখেছেন।
৭৫১ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) (একবার) তাদের সালাত (নামায/নামাজ) ইমামতি করলেন, তিনি সব কয়বার নিচু হওয়ার এবং উঠার সময় বললেন। তিনি সালাত (নামায/নামাজ) সমাপ্ত করার পর আমাদের দিকে ফিরে বললেন , আল্লাহর কসম! আমি সালাত (নামায/নামাজ)-এর দিক দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অধিক সদৃশ তোমাদের চাইতে।
৭৫২ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রাঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়াতেন তখন দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। তারপর রুকু করার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর যখন রুকু থেকে পিঠ তুলতেন তখন বলতেন। তারপর দাড়ান অবস্থায় বলতেন তারপর সিজদায় ঝুকবার সময় তাকবির বলতেন। তারপর সিজদা থেকে যখন মাথা উঠাতেন তখন তাকবীর বলতেন। তারপর সিজদা করার সময় (আবার) তাববীর বলতেন। তারপর মাথা তুলবার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করা পর্যন্ত পূর্ণ সালাত (নামায/নামাজ)ই এরুপ করতেন। তারপর দুই রাকআতের বৈঠকের পর উঠে দাঁড়াবার সময় তাকবীর বলতেন। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন , তোমাদের সকলের চাইতে আমার সালাত (নামায/নামাজ) রাসুল –এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর অধিক সদৃশ।
৭৫৩ মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (নামায/নামাজ) দাড়াতেন তখন দাড়াবার সময় তাকবীর বলতেন। ইবনু জুরায়জ এর হাদীসের অনুরুপ। কিন্তু তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর উক্তি তোমাদের সকলের চেয়ে আমি সালাত (নামায/নামাজ)-এর দিক দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর অধিক সদৃশ- এর উল্লেখ করেননি।
৭৫৪ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রাঃ) আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রহঃ)-কে মারওয়ান যখন মদিনার গভর্ণর নিযুক্ত করেন, তখন তিনি ফরয সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য দাঁড়ালে তাকবীর বলতেন। এরপর ইবনু জুরায়জ-এর হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন। তার হাদীসে (আরো) রয়েছে যে, অতঃপর তিনি যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করতেন এবং সালাম ফিরাতেন তখন মসজিদে উপস্হিত লোকদের দিকে মুখ করে বলতেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জানো! তোমাদের সকলের চেয়ে আমার সালাত (নামায/নামাজ) রাসুল এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর সদৃশ।
৭৫৫ মুহাম্মদ ইবনু মিহরান আর রাযি (রহঃ) আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) সালাত (নামায/নামাজ) প্রত্যেক বার উচু এবং নিচু হবার সময় তাকবীর বলতেন। আমরা বললাম, হে আবূ হুরায়রা! এ কেমন তাকবীর? তিনি বললেন , এটাইতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ)।
৭৫৬ কুতায়বা ইবনু সাঈদ এর সুত্রে সুহায়ল-এর পিতা থেকে বর্ণিত যে, . আবূ হুরায়রা (রাঃ) প্রত্যেক বার নিচু এবং উচু হবার সময় তাকবীর বলতেন এবং বর্ণনা করতেন যে, রাসূলল্লাহ এরুপ করতেন।
৭৫৭ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও খালাফ ইবনু হিশাম (রহঃ) মুতাররিফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) আলী আবূ তালিব (রাঃ) -এর পেছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। তিনি যখন সিজদায় গেলেন তখন তাকবীর বললেন। আর যখন (সিজদা থেকে) মাথা তূললেন তখন তাকবীর বললেন। আর যখন দু’রাকআত এর পর দাঁড়ালেন তখন তাকবীর বললেন। অতঃপর আমরা যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলাম তখন ইমরান (রাঃ) আমার হাত ধরে বললেন , ইনি আমাদের কে নিয়ে ঠিক মুহাম্মাদ এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। অথবা তিনি বলেন, ইনি আমাকে মুহাম্মাদ এর সালাত (নামায/নামাজ)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
৭৫৮ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) উবাদা ইবনুুস সামিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, যে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করবে না তার (পরিপূর্ণ) সালাত (নামায/নামাজ) হবে না।
৭৫৯ আবূ তাহির ও হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ ইরশাদ করেন, যে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করল না তার সালাত (নামায/নামাজ) হবে না।
৭৬০ আল হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানি (রহঃ) উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে উম্মুল কুরআন পাঠ করবে না তার সালাত (নামায/নামাজ) হবে না।
৭৬১ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ হুমায়দ-এর সুত্রে অনুরুপ বর্ণিত আছে। সেখানে ‘আরেকটূ বেশী’ শব্দটি অতিরিক্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
৭৬২ ইসহাক ইবনু ইবরাহিম আল হানযালী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল (অথচ) তাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করল না সে সালাত (নামায/নামাজ) হবে অসস্পূর্ণ তিন বার এটা বললেন। অতঃপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করা হল, আমরা তো ইমামের পেছনে থাকি (তখনো কি ফাতিহা পড়ব?) তিনি বললেন , তখন মনে মনে তা পড়। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক করে ভাগ করেছি। আর বান্দা যা চাইবে- তা সে পাবে। অতঃপর বান্দা যখন বলে, (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য); আল্লাহ তা’আলা এর জবাবে বলেন- আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, ‘আর রহমানির রহীম’ (তিনি অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়); আল্লাহ তাআলা বলেন- বান্দা আমার তা‘রিফ করেছে, গুণগান করেছে। সে যখন বলে, ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দ্বীন; (তিনি বিচার দিনের মালিক); তখন আল্লাহ বলেন- আমার বান্দা আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছে। তিনি এও বলেন, বান্দা সমস্ত কাজ আমার উপর সোপর্দ করেছে। সে যখন বলে, ‘ইয়্যাকানা‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন’ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি); তখন আল্লাহ বলেন- এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। আমার বান্দা যা চায় তাই দেয়া হবে। যখন সে বলে, ‘ইহ্দিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম, সিরাতাল্লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম অলাদ-দোয়াল্লীন’ (আমাদের সরল-সঠিক ও স্থায়ী পথে পরিচালনা করুন। যে সব লোকদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন, যারা অভিশপ্তও নয় এবং পথভ্রষ্টও নয়- তাদের পথেই আমাদের পরিচালনা করুন); তখন আল্লাহ বলেন- এসবই আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দা যা চায় তা তাকে দেয়া হবে। সুফিয়ান বলেন, আলা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ইয়া‘কুবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে এ হাদীস বর্ণনা করে শোনান। এ সময় তিনি রোগ শয্যায় ছিলেন এবং আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।
৭৬৩ আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- যে ব্যাক্তি সালাত (নামায/নামাজ) পড়ল অথচ তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না সুফিয়ানের হাদীসের অনুরূপ। তাদের উভয়ের হাদীসে রয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন- আমি সালাত (নামায/নামাজ)কে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি, এর অর্ধেক আমার বান্দার।
৭৬৪ আহমাদ ইবনু জা’ফর আল মাকিরী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি; সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল (অথচ) তাতে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করল না সে সালাত (নামায/নামাজ) অসম্পূর্ণ। তিন বার এ বাক্যটি বললেন , উপরের বর্ণনাকারীদের হাদীসের অনুরুপ।
৭৬৫ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সালাত (নামায/নামাজ) হবে না কিরা’আত ছাড়া। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সালাত (নামায/নামাজ) উচ্চস্বরে আদায় করেছেন তোমাদের জন্য আমরাও তা উচ্চ স্বরে আদায় করি আর যা নিম্ন স্বরে আদায় করেছেন আমরাও তা নিম্ন স্বরে আদায় করি।
৭৬৬ আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক সালাতে (নামায) কিরা’আত পাঠ করা উচিৎ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব সালাত (নামায/নামাজ) আমাদের কে শুনিয়ে কিরা’আত পাঠ করেছেন সে সব সালাত (নামায/নামাজ) আমরাও তোমাদের কে শুনিয়ে পাঠ করি। আর যে সব সালাত (নামায/নামাজ) কিরা’আত নীরবে পাঠ করেছেন সে সব সালাত (নামায/নামাজ) আমরাও নীরবে পাঠ করি। অতঃপর তাকে এক ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করল, আমি যদি উম্মুল কুরআন এর চেয়ে আর বেশী না পড়ি? তিনি বললেন , তুমি যদি উম্মূল কুরআনের পর আরো বেশী পড় তাহলে তা হবে উত্তম। আর যদি শুধু উম্মুল কুরআনই পড় তাহলে তা হবে তোমার জন্য যথেষ্ট।
৭৬৭ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক সালাতে (নামায) কিরা’আত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যে সালাত (নামায/নামাজ) (কিরা’আত) শুনিয়েছেন, আমরাও সে সালাত (নামায/নামাজ) তোমাদের কে শোনাই আর যে সালাত (নামায/নামাজ) নীরবে পাঠ করেছেন আমরাও সে সালাত (নামায/নামাজ) নীরবে পাঠ করি। যে ব্যাক্তি উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করবে তার জন্য তা যথেষ্ট হবে। আর যে আরো! বেশী পাঠ করবে তা হবে উত্তম।
৭৬৮ মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক বার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন একটি লোক প্রবেশ করল। সে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল। তারপর এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে সালাম করল। সালামের জবাব দিয়ে বললেন , ফিরে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। কারণ তোমার সালাত (নামায/নামাজ) হয়নি। লোকটি ফিরে গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে এসে সালাম করল। রাসূলল্লাহ উত্তর দিয়ে বললেন , গিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। কারণ তোমার সালাত (নামায/নামাজ) হয়নি। এই রুপ তিন বার করলেন। অতঃপর লোকটি বলল, আপনাকে সত্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের এর চেয়ে ভাল কোন পন্হা থাকলে আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন , যখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য দাড়াবে তখন তাকবীর বলবে। তারপর তুমি কুরআনের যতটুকু জানো তা থেকে যা সহজ হয় তাই পাঠ করবে। তারপর রুকু করবে। এমন কি নিবিষ্ট ভাবে (কিছুক্ষণ) রুকু করতে থাকবে। তারপর (রুকু থেকে) উঠবে, সোজা ভাবে (কিছুক্ষণ) দণ্ডায়মান থাকবে। তারপর সিজদা করবে। (কিছুক্ষণ) নিবিষ্ট ভাবে সিজদারত থাকবে। তারপর উঠে বসবে। এবং (কিছুক্ষণ) সোজা ভাবে বসে থাকবে। তোমার গোটা সালাত (নামায/নামাজ)ই এরুপ করবে।
৭৬৯ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক পাশে ছিলেন। এরপর রাবী উপরোক্ত ঘটনার অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। এ রিওয়ায়াতটিতে রাবীদ্বয় আরেকটু যোগ করেছেন যে, “যখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইচ্ছা করবে তখন সুন্দর করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে তারপর কিবলামুখী হয়ে তাকবীর বলবে”।
৭৭০ সাঈদ ইবনু মানসূর ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলাল্লাহ (একবার) আমাদের কে নিয়ে যুহর অথবা আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। (সালাত (নামায/নামাজ) শেষে) তিনি বললেন , তোমাদের কে আমার পেছনে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ সুরাটি পড়ছিলে? এক ব্যাক্তি বলল, আমি। আর এর দ্বারা মঙ্গল লাভ ছাড়া আমার ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য ছিলনা। তিনি বললেন , আমার মনে হল, তোমরা কেউ এ নিয়ে আমার পাঠে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছ।
৭৭১ মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এক লোক তার পেছনে সূরাটি পড়ল। সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করে বললেন , তোমাদের মধ্যে কে কিরা’আত পাঠ করেছ? অথবা বললেন , তোমাদের মধ্যে কিরা’আত পাঠ কারী কে? এক ব্যাক্তি বলল, আমি। তিনি বললেন , আমার মনে হচ্ছিল তোমাদের কেউ এ নিয়ে আমার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছ।
৭৭২ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে বললেন , আমি মনে করলাম তোমাদের কেউ এ নিয়ে আমার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছ।
৭৭৩ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ) -এর পেছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি, কিন্তু তাঁদের কাউকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম সরবে পড়তে শুনিনি।
৭৭৪ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) শুবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি (নিজে) কি এটা আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন , হ্যা, আমরা এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করে ছিলাম।
৭৭৫ মুহাম্মাদ ইবনুল মিহরান আর রাযী (রহঃ) আবদা থেকে বর্ণিত যে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এই বাক্যগুলি সরবে পাঠ করতেন। কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে যে, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর, উমার ও উসমান (রাঃ) -এর পেছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। তারা সবাই সালাত (নামায/নামাজ) আরম্ভ করতেন ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ পাঠ দিয়ে। তারা কিরাআতের শুরুতেও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম উল্লেখ করতেন না, শেষেও না।
৭৭৬ মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান (রহঃ) ইসহাক ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে এই হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন।
৭৭৭ আলী ইবনু হূজর আাস সা’দী ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে ছিলেন। হঠাৎ তাঁর কিছুটা তন্দ্রার ভাব হল, এরপর তিনি মুচকি হেসে মাথা উঠালেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিসে আপনার হাসি এল? তিনি বললেন , এই মাত্র আমার উপর একটি সূরা নাযিল হয়েছে। এই বলে তিনি পড়লেন, এরপর বললেন , তোমরা কি জানো (কাওসার) কি? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেন , সেটা হল একটি নহর। আল্লাহ তাআলা আমাকে যার ওয়াদা করেছেন। সেখানে বহু কল্যাণ রয়েছে। সেটি একটি জলাশয়। কিয়ামাতের দিন আমার উম্মাত (পানি পানের জন্য) সেখানে আসবে। তার গ্লাসের সংখ্যা হবে আকাশের তারকার সমান। অতঃপর তাদের মধ্যে থেকে এক জন বান্দাকে সেখান থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া হবে। তখন আমি বলব, পরোয়ারদেগার! সে তো আমার উম্মত। বলা হবে, আপনার জানানেই যে, আপনার পরে এরা কি নতুন রীতি (বিদাআত) উদ্ভাবন করেছিল। ইবনু ছুজর আরো একটু যোগ করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে মসজিদে বসা ছিলেন। শেষে আছে আল্লাহ বলবেন, এ সেই ব্যাক্তি যে আপনার পর বিদআত করেছিল।
৭৭৮ আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনু মুসহির বর্ণিত (উপরিউক্ত) হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন যে, এক বার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কিছুটা তন্দ্রার ভাব দেখা দিল । এ রিওয়াতে ‘হাউযের গ্লাসের সংখ্যা তারকার সমপরিমাণ কথাটির উল্লেখ নেই’। শুধূ এতটুকু বলা হয়েছে যে, তা (কাওসার) হল জান্নাতের একটি নহর যা আমার রব আমাকে দেয়ার ওয়াদা করেছেন।
৭৭৯ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে দেখেছেন তিনি যখন সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করলেন তখন উভয় হাত উঠিয়ে তাকবীর বললেন। রাবী হুমাম বলেন, উভয় হাত কান বরাবর উঠালেন। তারপর কাপড়ে ঢেকে নিলেন (গায়ে চাঁদর দিলেন)। তারপর তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন। তারপর রুকু করার সময় তার উভয় হাত কাপড় থেকে বের করলেন। পরে উভয় হাত উঠালেন এবং তাকবীর বলে রুকুতে গেলেন। যখন বললেন , তখন উভয় হাত তুললেন। পরে উভয় হাতের মাঝখানে সিজদা করলেন।
৭৮০ আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ার সময় (বৈঠকে) বলতাম, ‘আল্লাহর উপর সালাম হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেন- বস্তুত আল্লাহ নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। অতএব তোমাদের কেউ যখন সালাত (নামায/নামাজ) বসে সে যেন বলে, যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। যখন সে একথাগুলো বলে তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়, সে আসমানেই থাক অথবা জমীনে। “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ” অতঃপর সালাত (নামায/নামাজ)ী তার ইচ্ছা অনুযায়ী সে যে কোন দোয়া পড়তে পারে।
৭৮১ উল্লেখিত সনদ সূত্রে মানসুর থেকে একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় “অতঃপর সালাত (নামায/নামাজ)ী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দোয়া পড়তে পারে” এ কথাটুকু উল্লেখ নেই।
৭৮২ একই সনদে মানসূর থেকে একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনার শেষ অংশ হচ্ছে- অতঃপর সালাত (নামায/নামাজ)ী তার ইচ্ছা অনুযায়ী অথবা নিজের পছন্দমত যে কোন দোয়া পড়তে পারে।
৭৮৩ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে বসতাম মনসূরের হাদীসের অনুরূপ। এর শেষাংশের বর্ণনা হচ্ছে- এর পর সে যে কোন দোয়া পাঠ করবে।
৭৮৪ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন আমার হাত তাঁর হাতের মধ্যে রেখে যেমনিভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। এবং তিনি অন্যান্য রাবীর তাশাহুদের ন্যায় বর্ণনা করেছেন।
৭৮৫ কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনি ভাবে আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন তেমনি ভাবে আমাদেরকে তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন। ইবনু রুমহ এর বর্ণনায় রয়েছে তিনি যে ভাবে আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন।
৭৮৬ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন, যেমনি ভাবে শিক্ষা দিতেন আমাদেরকে কুরআনের সূরা।
৭৮৭ সাঈদ ইবনু মানসূর, কুতায়বা ইবনু সাঈদ, আবূ কামিল আল জাহদারী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী (রহঃ) হিত্তান ইবনু আবদুল্লাহ আর রুকাশী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন (একবার) আমি আবূ মূসা (রাঃ) -এর সাথে এক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তিনি তখন তাশালূদের বৈঠকে ছিলেন তখন মুসল্লীদের মধ্য থেকে এক ব্যাক্তি বলে উঠল, (সালাত (নামায/নামাজ) নেকী ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে)। হিত্তান বলেন, আবূ মূসা যখন সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলেন এবং সালাম ফিরালেন তখন বললেন , তোমাদের মধ্যে এই ধরনের কথা কে বলেছে? সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার বললেন , এরকম কথা তোমাদের কে বলেছে? সবাই চুপ রইল। তিনি বললেন , “হিত্তান! তুমিই হয়ত এরকম বলেছ। হিত্তান বললেন , আমি এটা বলিনি আমি ভয় করলাম যে, তিনি একারনে হয়তোবা আমার ওপর রাগ হয়ে যাবেন। অতঃপর এক ব্যাক্তি বলল, আমি এটা বলেছি। আর আমি এটা কেবলমাত্র সাওয়াব হাসিলের জন্য বলেছি”। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন , তোমরা তোমাদের সালাত (নামায/নামাজ) কি বলবে তা জাননা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদেরকে খুতবা দিলেন। তিনি আমাদের করনীয় কাজ সমূহ পরিষ্কার ভাবে বর্ণনা করলেন এবং আমাদেরকে সালাত (নামায/নামাজ) শিক্ষা দিয়ে বললেন যখন তোমরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইচ্ছা করবে তখন তোমাদের কাতার সোজা করবে। তারপর তোমাদের একজন ইমামত করবে। ইমাম যখন তাকবীর বলবে তখন তোমরা সবাই তাকবীর বলবে আর যখন ‘গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওলাদদল্লীন’ বলবে তখন তোমরা আমীন বলবে এতে আল্লাহ তোমাদের দুই দু’আ কবুল করবেন। অতঃপর ইমাম যখন তাকবীর বলবে এবং রুকু করবে, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে এবং রুকু করবে। কারন ইমামকে তোমাদের আগে রুকুতে যেতে হয় এবং তোমাদের আগে উঠতে হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , ফলে তোমাদের এই দেরি ইমাম কতৃক কিছু আগে তাকবীর ও রুকু করার সময়ের গণ্য হবে। আর যখন ইমাম ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে তখন তোমরা বলবে ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ আল্লাহ তাআলা তোমাদের দুয়া শুনেন। কারন তিনি তার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র যবানিতে বলেছেন যে, যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শুনেন। আর যখন ইমাম তাকবীর বলবে এবং সিজদা করবে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে এবং সিজদা করবে। কারণ ইমামকে তোমাদের আগে তাকবীর বলতে হয় এবং তোমাদের কিছু আগে উঠতে হয়। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , ফলে তোমাদের এই দেরী ইমাম কতৃক কিছু আগে তাকবীর ও রুকু করার সময়ের সমান গণ্য হবে। ইমাম যখন তাশাহুদে বসবে তখন সর্বপ্রথমে তোমরা বলবে, ‘আত্তাহিয়াতু তাইয়্যেবাতুস সালাওয়াতু লিল্লাহি আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম য়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হু। ’
৭৮৮ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) আরো একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, “ইমাম যখন কিরা’আত পড়বে তখন তোমরা চুপ থাকবে”। আবূ কামিল (রহঃ) আবূ আওয়ানা (রহঃ) থেকে যে রিওয়াত করেছেন সেটিতে ছাড়া আর কারো বর্ণনায় এ বাক্যটি নেই যে, কারণ আল্লাহ তাআলা তার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যবানীতে বলেছেন, যে তার প্রশংসা করে তিনি তা শোনেন। ”ইসহাক (ইমাম মূসলিমের ছাত্র) বলেন, আবূ নযর-এর ভাগিনা আবূ বাকর (রহঃ) এ রিওয়াত সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বললেন , তুমি কি কাউকে সুলায়মান থেকে বেশী স্মরণশক্তি সম্পন্ন বলে মনে কর? আবূ বাকর (রহঃ) বললেন , তাহলে আবূ হুরায়রা (রাঃ) -এর হাদীস? অর্থাৎ ইমাম যখন কিরা’আত পড়ে তখন তোমরা চুপ থাক” (এটার কি হবে?) তিনি বললেন , এটা আমার কাছে সহীহ। আবূ বাকর বললেন , তাহলে সেটা আপনি এখানে কেন আনলেন না? তিনি জবাব দিলেন, আমি সব সহীহ হাদীসই এখানে আনছি না বরং এখানে কেবল সেগুলোই আনছি যার উপর মুহাদ্দিসগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
৭৮৯ কাতাদা থেকে উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষায় জানিয়ে দিলেন- যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শোনেন।
৭৯০ আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন সা’দ ইবনু উবাদার (রাঃ) বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। বশীর ইবনু সা‘দ (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ আপনার উপর দুরূদ পাঠ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কী ভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করব? রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা আপসোস করে বললাম, সে যদি তাঁকে এ প্রশ্ন না করত। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেলন- তোমরা বল “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা ফিল আলামিন। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”। আর সালাম দেয়ার নিয়ম তোমাদের জানা আছে। দুরূদ শরীফের অর্থঃ “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ কর- যে ভাবে তুমি ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বরকত ও প্রাচুর্য দান কর- যে ভাবে তুমি ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখেরাতে বরকত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। “
৭৯১ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না ও মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক বার কাবা ইবনু উজরা (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন , আমি তোমাকে একটি হাদিয়া দেব না? একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন! আমরা বললাম, (ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)আপনাকে কিভাবে সালাম দিতে হয় তাতো আমরা জানি, কিন্তু আপনার উপর দুরুদ আমরা কি ভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন , তোমরা বলবে “আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।
৭৯২ যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব এর সুত্রে হাকাম থেকে উক্ত সনদে অনুরুপ বর্ণিত আছে। তবে তিনি ‘আমি কি তোমাকে একটি হাদিয়া দেব না’ বাক্যটি উল্লেখ করেন নি।
৭৯৩ মুহাম্মাদ ইবনু বাককার-এর সুত্রে হাকাম থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। তবে তিনি তার রিওয়াতে শুধু “ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন” এর উল্লেখ করেছেন। “আল্লাহুমা” শব্দটির উল্লেখ করেন নি।
৭৯৪ মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) - আবূ হুমায়দ আস সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কিভাবে আপনার উপর দুরুদ পাঠ করব? তিনি বললেন , তোমরা বলবে, “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা সাল্লাইতা আলা আলে ইবরাহীমা (ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ) ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। ’’
৭৯৫ ইয়াহইয়া ইবনু আইউব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত নাযিল করবেন।
৭৯৬ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, তিনি বলেন, রাসুল বলেছেন, ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামীদা’ বলেন, তোমরা তখন আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ” বলবে। কেননা, যার বাক্য ফিরিশতাদের বাক্যের অনুরুপ হবে, তার পূর্ববতী সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যাবে।
৭৯৭ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৭৯৮ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম আমীন বলবেন, তোমরাও তখন আমীন বলবে। কেননা, যে ব্যাক্তি ফিরিস্তাদের আমীন বলার সাথে একই সময় আমীন বলবে, তার পূর্ববতী সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যাবে। রাবী ইবনু শিহাব বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমীন বলতেন।
৭৯৯ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর নিকট শুনেছি এই বলে মালিকের হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইবনু শিহাবের কথা উল্লেখ করেননি।
৮০০ হারামাল ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে আমীন বলবে ও ফিরিস্তারা আকাশের উপর আমীন বলবে এবং উভয়টি একই সময় হবে, যখন তার অতীতের সমস্ত শোনাহ মাফ হয়ে যাবে।
৮০১ আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা আল কানাবী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ আমীন বলবে এবং ফিরিস্তারা আকাশের ওপর আমীন বলবেন, আর উভয়টি একই সময় উচ্চারিত হবে তখন তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।
৮০২ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি- (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে উপরোক্তরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮০৩ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন পাঠকারী (ইমাম) যখন বলবেন এবং তাঁর পিছনের ব্যাক্তি (মুকতাদী) আমীন বলবে, এবং তার বাক্য আকাশ বাসীর (ফিরিশতার) বাক্যর অনুরুপ একই সময় উচ্চারিত হবে, তখন তার পূর্ববর্তী সমুদয় পাপমোচন হয়ে যাবে।
৮০৪ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ার দরুণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরের দক্ষিন পাশ ছিলে যায়। আমি তাকে সেবা করতে গেলাম। ইতিমধ্যে সালাত (নামায/নামাজ)-এর ওয়াক্ত হল। আমাদের নিয়ে বসে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আমরাও বসে বসে তার পেছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম, সালাত (নামায/নামাজ) শেষ হওয়ার পর বললেন , অনুসরণ করার জন্য ইমাম মনোনীত হন। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বল, তিনি যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা কর, তিনি যখন উঠেন, তোমরাও উঠবে তিনি যখন তোমরা তখন বল। আর যখন বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন, তোমরাও তখন বসেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর।
৮০৫ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত যে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্ব পিঠ হতে পড়ে গিয়ে তাঁর ডান পাজরে আঘাত প্রাপ্ত হলেন। অতঃপর বসে বসে আমাদেরকে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন! হাদীসের অবশিষ্ট অংশ উপরোক্ত রুপ বর্ণনা করেন।
৮০৬ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া হতে পড়ে গেলেন। তাঁর ডানপাশ আঘাত প্রাপ্ত হলো। তারপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন। অবশ্য তিনি একটি কথা বেশী বলেছেন তাহল, ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তোমরাও তখন দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।
৮০৭ ইবনু আবূ উমার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় সাওয়ার হলেন। তারপর পড়ে গিয়ে তার ডান পার্শ্বদেশ যখম হলো। এরপর তিনি উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ননা করেন। এতেও বলা হয়েছে যে, “ইমাম যখন দাড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন তখন তোমরাও দাড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর।
৮০৮ আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে যান এবং দক্ষিণ পার্শ্বদেশ যখম প্রাপ্ত হয়। তারপর তিনি পূর্বানুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু এতে ইউনুস ও মালিকের বর্ণিত অতিরিক্ত কথাটি নেই।
৮০৯ আবূ বাকর ইবনু আল শায়ব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঘাত প্রাপ্ত হলে তার শুশ্রষার জন্য সাহাবায়ে কিরাম আগমন করলেন। তাদেরকে নিয়ে বসে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। কিছুলোক দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করলে তিনি তাদেরকে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে ইশারা করলেন। তাই তারা বসে পড়লেন। সালাত (নামায/নামাজ) সমাপনান্তে বললেন , ইমাম নিয়োগ করা হয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্য। তিনি রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে। আর তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে তোমরাও বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।
৮১০ আবূ রাবী আয-যাহরানী (রহঃ) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) … হিশাম ইবনু উরওয়া থেকে উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
৮১১ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) জাবির (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুগ্নবস্হায় আমরা তাঁর পেছনে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) (মুকাব্বির হিসাবে) লোকদেরকে তাঁর তাকবীর শোনাচ্ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে দেখলেন যে, আমরা দাঁড়িয়ে। তিনি আমাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন আমরা বসলাম। এবং আমরা তার পেছনে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। অতঃপর সালামান্তে তিনি বললেন , এই মুহূর্তে যে কাজটি করেছ, তা পারস্য ও রোমবাসীদের অনুরুপ। তারা তাদের সমরাটের সন্মুখে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সমরাট থাকে বসে। তোমরা এরুপ কখনো করবে না। বরং সর্বদা স্বীয় ইমামের অনুসরণ করবে। তিনি দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) পড়ালে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে তোমরাও বসে আদায় করবে।
৮১২ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং আবূ বাকর তার পিছনে ছিলেন। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বলতেন আবূ বকরও আমাদেরকে শোনাবার জন্য তাকবীর বলতেন। তারপর লায়স কত্রিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৮১৩ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অনুসরণের জন্য ইমাম মনোনীত হন। তোমরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবে না। তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে। ইমাম রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। তিনি বললে তোমরাও বলবে।। তিনি সিজদা করলে তোমরাও সিজদা করবে। আর তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে তোমরাও সকলে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।
৮১৪ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮১৫ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু খাশরাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনিবলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তালিম দিতেন এবং বলতেন যে, তোমরা ইমামের থেকে আগে বেড়ে যেওনা তাকবীর বললে তোমরা তাকবীর বলবে। তিনি বললে তোমরাও বলবে। তিনি রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। তিনি বললে তোমরাও বলবে।
৮১৬ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বণিত যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত রূপ হাদীস বর্ণনা করেন। এই সনদের বর্ণনায় এরপর বলার কথাটি নেই। তবে এই কথাটি বেশী আছে, তোমরা ইমামের আগে (মাথা) উঠাবে না।
৮১৭ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) অবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম হলেন ঢালস্বরুপ। তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে তোমরাও বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। তিনি বললে তোমরাও বলবে। পৃথিবীবাসীর (মুসল্লির) কথা যখন আকাশবাঁসীর (ফিরিস্তার) কথার অনুরুপ হবে, তখন তার বিগত সমস্ত শোনাহ মাফ হয়ে যাবে।
৮১৮ আবূ তাহির (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম নিযুক্ত করা! হয় অনুসরণের উদ্দেশ্যে। তিনি তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে। তিনি রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। তিনি বললে তোমরাও বলবে। তিনি দাড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে তোমরাও দাড়িয়ে আদায় করবে। তিনি বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে তোমরাও বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।
৮১৯ আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) -এর নিকট উপস্হিত হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুখের বৃত্তান্ত জানতে চাইলাম। তিনি বললেন , নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগাক্রান্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন লোকজন কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে? আমি বললাম, জী না। তারা আপনার প্রতীক্ষায় আছে। তিনি বললেন - আমার জন্য গামলায় পানি রাখ। আমি পানি দিলাম। তিনি গোসল করলেন। অতঃপর গমনোদ্যত হলে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন। চেতনা পেয়ে পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে? আমি বললাম জী না, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা আপনার অপেক্ষা করছে তিনি বললেন , গামলায় পানি দাও আমি তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। অতঃপর গমণৌদ্যত হলে পূনরায় সংজ্ঞাহারা হলেন। সংজ্ঞা পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে? আমি বললাম, জী না, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা আপনার অপেক্ষায় রয়েছে তিনি বললেন , গামলায় পানি দাও। আমি তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন এবং গমনোদ্যত হয়ে বেহুশ হয়ে পড়লেন। অতঃপর হুশ হলে পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে। আমি বললাম জী না, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, লোকেরা ইশার সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের অপেক্ষায় মসজিদে বসেছিল। অবশেষে তিনি লোক মারফত আবূ বকর (রাঃ) কে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বলে পাঠালেন। লোকটি আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এসে বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আপনাকে লোকদের সালাত (নামায/নামাজ) ইমামত করার আদেশ করেছেন। আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। তাই উমার (রাঃ) - কে বললেন হে উমার! তুমি সালাত (নামায/নামাজ) পড়িয়ে দাও। উমার (রাঃ) বললেন জী না, আপনই এই কাজের অধিক যোগ্য ব্যাক্তি। আয়িশা (রাঃ) বলেন, সুতরাং আবূ বকর (রাঃ) ঐ কয়েক দিন সালাত (নামায/নামাজ) ইমামত করেন। ইত্যবসরে একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিঞ্চিত সুস্হবোধ করলেন। এবং দুই জন মানুষের কাঁধে ভর করে যোহরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে মসজিদে গেলেন। ঐ দু’জনের একজন ছিলেন আব্বাস (রাঃ)। রাসুলূল্লাহ মসজিদে পৌছে দেখেন যে, আবূ বকর (রাঃ) ইমাম হিসাবে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছেন। তিনি তাঁকে দেখে পিছে হাটতে চাইলেন। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাঁকে পিছে হটতে বারণ করলেন। এবং স্বীয় সঙ্গী দু’জনকে বললেন যে, আমাকে আবূ বকর (রাঃ) - এর পাশে বসিয়ে দাও তারা তাঁকে আবূ বকর (রাঃ) –এর পাশে বসিয়ে দিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে বসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর সালাত (নামায/নামাজ)-এর অনুসরণ করতে লাগলেন। লোকজন সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে আবূ বকর (রাঃ) - এর অনুসরণ করছিল। উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) - এর নিকট পোছে বললাম, আমি কি আপনাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগকালীন সালাত (নামায/নামাজ)-এর আয়িশা (রাঃ) কতৃক বর্ণিত হাদীসটি শোনাবো? তিনি বললেন , বর্ণনা কর। আমি তাঁকে হাদীসটি শোনালাম, তিনি পুরা হাদীসের কোথাও আপত্তি করলেন না বটে, কিন্তু আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আব্বাস (রাঃ) -এর সাথে অপর ব্যাক্তিটির নাম কি তোমার কাছে আয়িশা (রাঃ) উল্লেখ করেছেন? আমি বললাম, জী না! তিনি বললেন , সেই ব্যাক্তি ছিলেন আলী (রাঃ)।
৮২০ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম মায়মুনা (রাঃ) -এর গৃহে অসুস্হ হয়ে পড়েন! অতঃপর তাঁর সকল সহধর্মিনীর নিকট আয়িশা (রাঃ) এর গৃহে পরিচর্যা লাভের আকাংখা প্রকাশ করেন। তারা সকলেই অমুমতি প্রকাশ করলেন। একদিন তিনি মসজিদে যাওয়ার জন্য বের হলেন। তার একখানা হাত ফযল ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাঁধের উপর এবং অপর হাত খানা অন্য এক ব্যাক্তির কাঁধের উপর ছিল। দুর্বলতার জন্য মাটিতে পা হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে চলছিলেন উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি এই হাদীসটি ইবনু আববাস (রহঃ) কে শোনালে তিনি বললেন , আয়িশা (রাঃ) অন্য যে ব্যাক্তির নাম উচ্চারণ করেননি, তাঁর নাম কি তুমি জানো? তিনি ছিলেন আলী (রাঃ)।
৮২১ আব্দুল মালিক ইবনু শুআয়ব ইবনুল লায়স (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পত্নী আয়িশা (রাঃ) বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পীড়িত হয়ে পড়লেন এবং ক্রমেই পীড়া বৃদ্ধি পেয়ে চলল, তখন তিনি তার স্ত্রীগণের নিকট অনুমতি চাইলেন আমার গৃহে পরিচর্যা লাভের নিমিত্ত। তারা সকলেই তাঁকে অনুমতি প্রদান করলেন। (ঐ সময়ে একদিন) তিনি দুই ব্যাক্তির সহায়তায় মাটিতে দুই পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হলেন। একজন আব্বাস ইবনু আবাদুল মুত্তালিব (রাঃ) এবং আরেকজন অন্য ব্যাক্তি। উবায়দুল্লাহ বলেন, আয়িশা (রাঃ) -এর এই বর্ণনাটি আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে অবহিত করলে তিনি বললেন , আয়িশা (রাঃ) যে ব্যাক্তির নাম উচচারণ করেননি, তার নাম কি তুমি জানো? আমি বললাম , না! তিনি বললেন , তিনি আলী (রাঃ)।
No comments:
Post a Comment