02 November, 2018

গ্রাম বাংলার ধাধা ২

ধাঁধা সমগ্র অধ্যায় ০৫

০০১.
কাঁচাতে যেই ফল
সর্বজনে খায়,
পাঁকলে সেই ফল
গড়াগড়ি যায়। 

উত্তরঃ ডুমুর।

০০২.
তলে মাটি উপরে মাটি
তার মধ্যে সুন্দর বেটি। 

উত্তরঃ হলুদ।

০০৩.
কুল কুল কুলেরি
ভাদ্র মাসে ধুলোরি
কাঁচায় পাকায় সবাই খায়
নেংটো হয়ে হাটে যায়। 

উত্তরঃ তেঁতুল।

০০৪.
রাজার বেটা রাম দাস
খায় খোলা তার ফেলায় শাঁস। 

উত্তরঃ চালতা।

০০৫.
ইকরের তলে তলে
ভিকমতির ছানি,
কোন দেশে দেখিয়াছ
গাছের আগায় পানি। 

উত্তরঃ নারিকেল।

০০৬.
হাতির দাঁত,
কদম্বের পাত
হয় শুধু ফুল
খাও বসে মূল

উত্তরঃ মূলা।

০০৭.
এক থালা সুপারী
গণিতে পারে কোন ব্যাপারী। 

উত্তরঃ আকাশের তারা।

০০৮.
সফেদ শয্যা পড়ে আছে
কেউ তাতে না শোয়,
ভিতর থেকে খোলাম কুচি
আঙিনাতে থোয়

উত্তরঃ সমুদ্র।

০০৯.
সকালে চার পায়ে হাঁটে
দুপুরে দুই পায়ে,
সন্ধায় তিন পায়ে হাঁটে
বলো তো কে যায়?

উত্তরঃ মানুষ।

০১০.
ইটে গুরুগুরু, বৈঠা নাগর
বিনা বৈঠায় বায় সে সাগর। 

উত্তরঃ কচ্ছপ।

০১১.
জ্বলছে তবু পুড়ছে না
কোন সে প্রানী বলো তা। 

উত্তরঃ জোনাকী।

০১২.
টুক্কা দিলে টাকাটা
লাল শাকের ঐ ডাঁটাটা। 

উত্তরঃ কেন্নো।

০১৩.
হাড়গোড় নেই কেবল মাসে। 
কালা কুচু জলে ভাসে। 

উত্তরঃ জোঁক।

০১৪.
ছোট কালে লেজ হয়
বড় কালে খসে
বাঘের মত লাফ দেয়
কুকেুরের মত বসে। 

উত্তরঃ ব্যাঙ্গ।

০১৫.
নেই পা, চলছে চাকা তবু
তারা দুই ভাই চলছে কেবল
শব্দ নাহি কভু। 

উত্তরঃ দিনরাত্রি।

০১৬.
একটুখানি জলে
মাছ কিলবিল করে
কারো বাবার সাধ্য নাই
হাত দিয়ে তায় ধরে। 

উত্তরঃ ফুটন্ত ভাত।

০১৭.
মেটো গোয়াল, কাঠের গাই
বাঁছুর ছাড়াই দুধ পাই। 


উত্তরঃ খেঁজুর গাছ।

০১৮.
দেয়াল আছে, ছাদও আছে
এমন এক ঘর
ভিতর তার প্রবেশ করার
একটাও নেই দ্বার। 

উত্তরঃ মশারি।

০১৯.
লেজ, মাথা, পাখা আছে
পাখি তবুও নয়,
ডানা তার মেলে দিয়ে
উড়ে চলে যায়। 

উত্তরঃ উড়োজাহাজ।

০২০.
সারা মাথায় পক্ক কেশ
মাথার ঘিলু খেতে বেশ। 

উত্তরঃ তালের আঁটি।

ধাঁধা সমগ্র অধ্যায় ০৬

০০১.
লাল টুকটুক ছোটমামা
গায়ে পরে অনেক জামা। 

উত্তরঃ পেঁয়াজ।।

০০২.
যমজ ভাই যায় আসে
একবার গিয়ে না ফিরলে
ধরেতে না প্রাণ থাকে। 

উত্তরঃ শ্বাস-প্রশ্বাস।

০০৩.
ছোট্ট একটা ঘরে,
পঞ্চাশ টুপি পরা
সৈনিক বাস করে। 

উত্তরঃ দেশলাই।

০০৪.
এরা বাপ বেটা ওরা বাপ বেটা
আমতলা দিয়ে যায়,
তিন খানা পাকা আম পেড়ে নিয়ে
সমান ভাগেতে খায়। 

উত্তরঃ বাপ-ছেলে-নাপিত।

০০৫.
কাঁচায় তুলতুলে পাকায় সিঁদূর
যে না বলতে পারে সে ধেড়ে ইঁদুর। 

উত্তরঃ মাটির হাঁড়ি।

০০৬.
চার রূপসী চার রং
মিলন হলে এক রং। 

উত্তরঃ পান-চুন-খয়ের-সুপারী।

০০৭.
জন্ম দিয়ে মা কাহার
ফেলিয়া পালালো,
পাড়া প্রতিবেশী বুঝি
তাহারে পালিলো। 

উত্তরঃ কোকিল।

০০৮.
অষ্ট চরণ য়োল হাঁটু
মাছ ধরতে যায় লাটু
শুকনো ডাঙায় পেতে জাল
শিকার ধরে চিরকাল। 

উত্তরঃ মাকড়সা।

০০৯.
পিতার আদেশ পেয়ে কোন যোগীবরে
জননীর মাথা কাটে ভুমিতলে পাড়ে
কী তাহার নাম বল শাস্ত্রে আছে লেখা
বলতে কি পারো তার নাম আছে শেখা। 

উত্তরঃ পরশুরাম।

০১০.
মন দিয়ে শোনা সবে
কালিদাসের ছন্দ
হাজার দুয়ারী ঘরে
স্বামী স্ত্রীতে বন্ধ। 

উত্তরঃ মশারি।

০১১.
চারি দিকে কাঁটা বেত
মাথায় মুকুট খান সাহেব। 

উত্তরঃ আনারস।

০১২.
সুখাদ্য মোটেও না তবু লোকে খায়
হুমড়ি খেয়ে অসর্তকে পড়ি এ ধরায়
বৃদ্ধরা খায় যদি, করে হায় হায়
যুবকে খেলে পরে লাজে মরে যায়। 

উত্তরঃ আছার।

০১৩.
ওপার থেকে এলো বুড়ি
সাদা কাপড় পরে
মহানন্দে বসল খেতে
ঘাড় নেড়ে নেড়ে। 

উত্তরঃ বক।

০১৪.
কোন দেশ ঝোলে গাছে
কোন দেশ বাজে
কোন দেশ বলো দেখি
তেল ঘিতে ভাজে। 

উত্তরঃ মরিচ, কাশী, পুরী।

০১৫.
চৌদ্দ পুরুষ ডাকছে ‘মামা’ আমিও তাই ডাকি
সকলেরই মামা তিনি নাম তার কি জানি?

উত্তরঃ চাঁদ-সূর্য।

০১৬.
কোন ফলের বীজ নাই
বল দেখি দাদা
বলতে যদি না পারো তো
বুঝবো তুমি হাঁদা। 

উত্তরঃ নারিকেল।

০১৭.
এ হে হে হে হে
তোমার গা ছুঁয়ে গেল কে?
বুজতে পারলে বলুন কে সে?

উত্তরঃ বাতাস।

০১৮.
পানির জন্তু নয় তবুও পানিতেই বাস করে 
হাত নেই পা নেই তবু সাঁতার কাটে। 

উত্তরঃ নৌকা।

০১৯.
তিন অক্ষরে নাম যার সবার ঘরে রয়
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে সর্ব লোকে খায়। 
পেট তার কেটে দিলে মধুর গান গায়
শেষ অক্ষর বাদ দিলে খুব কামরায়

উত্তরঃ বিছানা।

০২০.
বলুনতো এমন কোন সে বস্তু
পৃথিবীতে নেই
তোমার আমার মুখের কথায়
তবু আছে সে-ই। 

উত্তরঃ ঘোড়ার ডিম।

ধাঁধা সমগ্র অধ্যায় ০৭

০০১.
দু’অক্ষরে নাম তার বহু লোকে খায়
শেষের অক্ষর বাদ দিলে হেঁটে চলে যায়। 

উত্তরঃ পান।

০০২.
তিন অক্ষরে নাম ব্যঞ্জনে দেয়
তাহার প্রভাবে আহা, স্বাদ ভালো হয়। 
মাথা কেটে গেলে সে যে গণ্য হবে কাঠি
পেট কেটে ময়লা সে, নয় পরিপাটি। 

উত্তরঃ মশলা।

০০৩.
দু’অক্ষরে নাম লজ্জা নিবারণী
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে হয় আমার জননী
শেষের অক্ষর বাদ দিলে ভাশুর ঘরণী। 

উত্তরঃ জামা।

০০৪.
আগে যায় ফিরে চায়
ওটি তোমার কে
ওর শ্বশুরকে আমার শ্বশুর
বাবা বলেছে। 

উত্তরঃ।

০০৫.
কৃষ্ণবর্ণ তণুখান গুটি ছয় পা
চুপচাপ রক্ত খায় নাহি কাটে রা। 

উত্তরঃ উকুন।

০০৬.
প্রাণ নেই বন্ধু নয়, চলে সাথে সাথে
আলো পেলে তবে চলে দিনে কিংবা রাতে। 

উত্তরঃ ছায়া।

০০৭.
তিন অক্ষরে নাম তার প্রতি ঘরে পাবে
অধ্যক্ষর বাদ দিলে বৎসর বুঝাবে
মধ্য অক্ষর গেলে সবার ক্ষতি করে
শেষের অক্ষর গেলে সবাই অবস্থান করে। 

উত্তরঃ বাসন।

০০৮.
দুই অক্ষরের নাম যার সব যায়গায় রায়
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে খাবার জিনিস হয়,
শেষের অক্ষর বাদ দিলে আপনজন হয়। 

উত্তরঃ মাটি।

০০৯.
দু’অক্ষরের নাম তার সবার ঘরে রয়
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে খাবার জিনিস হয়
শেষের অক্ষর বাদ দিলে জন্মদাতা হয়। 

উত্তরঃ।

০১০.
তিন অক্ষরে নাম তার মেয়েরা গায়ে মাখে
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে গাছ বেয়ে উঠে
মাঝের অক্ষর বাদ দিলে গাছে ফলে থাকে। 
শেষের অক্ষর বাদ দিলে হাঁটার পথ থাকে। 

উত্তরঃ আলতা।

০১১.
বলতে পার কোন সে দেশ সূর্য উঠে না
কোন সে দেশে জলও নাই মানুষ থাকে না। 

উত্তরঃ সন্দেশ।

০১২.
তিন অক্ষর নাম, বাঙ্গালীরা খায়
মাঝের অক্ষর গেলেও একই জিনিস হয়,
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে শীত পোশাক হয়
শেষের অক্ষর বাদ দিলে চীনের খাদ্য হয়। 

উত্তরঃ চাউল।

০১৩.
প্রাণীর দেহে থাকলে যা
শেষ অক্ষর বাদ দিলেও তা
মাথা কাটলে প্রাণহীন
কি এ জিনিসটা?

উত্তরঃ চামড়া।

০১৪.
হাত নেই পা নেই
মুরো লেজ আছে
যেখানে সেখানে ছোটে
জলে মাঠে গাছে। 

উত্তরঃ সাপ।

০১৫.
একদন্ত তবুও গণপতি নয়
অতি বড় বপু তাতে প্রাণ নাহি রয়
দুটি হাত পাতালের গভিরে তাহার
কে বলিতে পারে এই হেঁয়ালির সার। 

উত্তরঃ ঢেঁকি।

০১৬.
যা দিবে তাই খাবে
পানি দিলে মরে যাবে। 

উত্তরঃ চুলা।

০১৭.
তোমার ঘরে আমার ঘরে সবার ঘরে রয়
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে পানির রাস্তা হয়
শেষের অক্ষর বাদ দিলে সবাই জ্ঞাত হয়। 
পেট কাটলে সবাই অস্থিত হয়। 
বলুনতো দিকি তা কি হয়?

উত্তরঃ জানালা।

০১৮.
পেট ভরে না
তবু খায় সর্ব প্রাণি
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে
খেলার নাম হয়। 

উত্তরঃ বাতাস।

০১৯.
কোন সে গাছের নাম বল তুমি শুনি
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে বলে কথা গণি
মাঝের অক্ষর বাদ দিলে 
ব্যবহার করে নারী। 

উত্তরঃ বাবলা।

০২০.
তিন অক্ষরে বর্ষা কি এলো
মাথা কেটে কত লোক সারি বসে গেল
পা কেটে চলে যায় বাতিলের দলে
ঘনছায়া, সূর্যকে কিসে দেয় ঢেকে। 

উত্তরঃ বাদল।

ধাঁধা সমগ্র অধ্যায় ০৮

০০১.
সাবান সোডা মাজন দিয়েও
ময়লা নাহি যায়
তিন অক্ষরে তারে ছাড়া
রন্ধনে সংশয় হয়। 

উত্তরঃ কয়লা।

০০২.
মার্জনা করি আমি
যত মলিনতা
একশটি ভাই মিলে
বোঝায় একতা। 
নারীর হাত থাকি আমি
এত সম্মান
তবুও শ্রদ্ধাহীন,
কী আমার নাম?

উত্তরঃ ঝাঁটা।

০০৩.
কোথাও কোন জল দেখিনা
মাঠের মাঝে জল
চার অক্ষরের নাম তার
কী এমন সে ফল?

উত্তরঃ তরমুজ।

০০৪.
দিতে যদি দিতে হয় শ্বশুরকুলে দিই
আর যদি দিতে হয় পরপুরুষে দিই
বাপের ঘরে দেব কারে, লজ্জা করে ছিঃ
তুমি আমার আমি তোমার
তোমায় দেব কি?

উত্তরঃ ঘোমটা।

০০৫.
বনের মাঝে আলো করা
সুন্দর সে টিয়া
সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে
এলো বাহিরিয়া। 

উত্তরঃ আনারস।

০০৬.
এখান থেকে দিলাম বৃষ্টি
ঐ গাছটি বড়ই মিষ্টি

উত্তরঃ আখ গাছ।

০০৭.
আ-কার ই-কার হীন
বলো কোন গ্রাম
মোয়া হতে বল সোনা
সেই গ্রামের নাম। 

উত্তরঃ জয়নগর।

০০৮.
ওপর থেকে পড়ল ছুরি
ছুরি বলছে ঘুরে পড়ি। 

উত্তরঃ বাঁশপাতা।

০০৯.
গণপতি নয় তবে
সেও গুণধর
একদন্ড বলা যায়
লম্বা দেহ ধর। 

উত্তরঃ ঢেঁকি।

০১০.
হাত নেই পা নেই
সব মানুষকে ধরে
প্রভাবে কাতর হয়
মাথা নুয়ে পড়ে। 

উত্তরঃ মাথা ধরাু।

০১১.
বাঁদিক পাবে পেটটি কেটে
কাটলে মাথা -মূল্য
তিন অক্ষরের প্রিয় খাবার
নেই কিছু তার তুল্য। 

উত্তরঃ বাদাম।

০১২.
তিন অক্ষরে নাম, কাঁচায় পাকায় খায়
প্রথম অক্ষর বাদ দিলে প্রাণটা চলে যায়,
শেষ অক্ষর বাদ দিলে মিষ্টি সে ফল
ঝটপট এখন আমায় নামটা খুলে বল

উত্তরঃ আমড়া।

০১৩.
এমন একটি সুন্দর ফল
উপরে তার ফিটফাট
ভিতরে তার সদরঘাট। 

উত্তরঃ মাকাল ফল।

০১৪.
তিন অক্ষরে প্রাণী জলের
পেট কাটলে নারীর গলে। 

উত্তরঃ হাঙর।

০১৫.
বলছো দুবার দাম
ছুটছে নাকি ঘাম। 

উত্তরঃ দরদর।

০১৬.
ছোট ছোট বেনো বনে
কত হরিণ চড়ে
দশ শিকারীর দল খোঁজে তায়
দুই শিকারী মারে। 

উত্তরঃ উকুন।

০১৭.
মা মেয়েতে একই সাথে
নদীতে নাও বাইতে থাকে। 


উত্তরঃ মাঝি (মা+ঝি)।

০১৮.
এক ঠোঙা, ফুল ওঠে
মাথা বেঁকে থাকে
রোদে পোড়ে জলে ভিজে
চেন নাকি তারে। 

উত্তরঃ ছাতা।

০১৯.
পাঁচ মেয়েকে তুলে দিল
বত্রিশ জনের ঘাড়ে
দূরে ছিল কর্তা-দিদা
টেনে নিল ঘরে। 

উত্তরঃ খাবার খাওয়া।

০২০.
ডগায় খসখসে
গোড়ায় মধু
বলতে না পারে যে
সে এক ভোঁদু। 

উত্তরঃ আখ।

Post by Md.Ripon Mia

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন