21 November, 2018

হায়েজ ২, মুসলিম শরিফের হাদিস

৬৬৯ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না এবং ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরি (রাঃ)থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর (বাড়ীর) কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংবাদ পাঠালেন। সে বেরিয়ে এল আর তার মাথা থেকে তখন ফোঁটা পানি ঝরছিল। তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়োর মধ্যে ফেলেছি। সে বলল, হ্যা, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তিনি বললেন , যখন (কোন কারণে) তোমাকে তাড়াতাড়ি করতে হয় বির্য্য নির্গত হবার আগেই উঠে পড়তে হয়। অথবা বীর্য্য ঠেকিয়ে রাখ তখন তোমার ওপর গোসল করা (ফরয) বরং তোমার ওপর শুধু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা জরুরী। [১] [১] এই হুকুম ইসলামের প্রাথমিক যূগে ছিল পরে তা রদ হয়ে যায়। সঙ্গমে বীর্য স্খলিত না হলেও গোসল ফরয হবে।
৬৭০ আবূ র-এরাবী আযযাহরানী (রহঃ) উবাই ইবনু কাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম সেই ব্যাক্তি সম্পর্কে যে ন্ত্রী সহবাস করে তারপর বীর্য্য নির্গত করে না। তিনি বললেন , ন্ত্রীর (লজ্জাস্থান) থেকে তার (লজ্জাস্হানে) যা লেগেছে তা ধুয়ে ফেলবে। তারপ উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।
৬৭১ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) উবাই ইবনু কা’ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। যে ব্যাক্তি তার স্ত্রী সহবাস করে তারপর বীর্য নির্গত করে না-তার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে, সে তার লজ্জাস্হান ধুয়ে ফেলবে এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।
৬৭২ যূহায়র ইবনু হারব ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) যায়িদ ইবনু খালিদ আন জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করেন কোন ব্যাক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং বীর্য নির্গত না করে তবে তার হুকুম কি? উসমান (রাঃ) বললেন , সে সালাত (নামায/নামাজ)-এর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র ন্যায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেবে এবং তার লজ্জাস্হান ধুয়ে ফেলবে। উসমান (রাঃ) বলেন, আমি এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।
৬৭৩ আবদুল ওয়ারিস ইবনু আবদুস সামাদ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরুপ শুনেছেন।
৬৭৪ যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , বলেন, যখন কেউ তার স্ত্রীর চার হাত-পায়ের মাঝখানে বসবে এবংতার সাথে মিলবে তখন তাঁর ওপর গোসল ফরয হবে। মাতার এর হাদীসে যদিও বীর্য নির্গত না করে-বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে। যুহায়র (রহঃ) তাঁর বর্ণনায় বলেছেন।
৬৭৫ মুহাম্মাদ আমর ইবনু আববাদ ইবনু জাবানা ও মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্নার সুত্রে কাতাদা থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। তবেশু’বার হাদীসে “তারপর মিলিত হয় কথাটির উল্লেখ আছে। কিন্তু যদিও বীর্য নির্গত না করে -কথাটির উল্লেখ নেই।
৬৭৬ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাজির ও আনসারদের একটি দল এ ব্যাপারে মতবিরোধ করল। আনসারগণ বলল সবেগে অথবা স্বাভাবিক গতিতে নির্গত পানি (বীর্য) বের হওয়া ছাড়া গোসল ফরয হয় না। আর মুহাজিরগণ বলল, স্ত্রীর সঙ্গে শুধু মিললেই গোসল ফরয (বীর্য বের হোক বা না হোক)। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন , আমি এ ব্যাপারে তোমাদেরকে শান্ত করছি। এরপর আমি উঠে গিয়ে . আয়িশা (রাঃ) -এর কাছে (প্রবেশের) অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেয়া হল। আমি তাকে বললাম, মা! অথবা (তিনি বলেছিলেন) হে মুমিনদের মা! আমি আপনার কাছে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করছি। তিনি বললেন , তুমি তোমার গর্ভধারিনী মাকে যে ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারতে সে ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করতে লজ্জাবোধ করো না। আমি তো তোমার মা। আমি বললাম, গোসল কিসে ফরয হয়? তিনি বললেন , জানোা-শোনা লোকের কাছে তুমি প্রশ্ন করেছ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন পুরুষ ন্ত্রীর চার হাত-পায়ের মাঝখানে বসবে এবং একের লজ্জাস্হান অপরের লজ্জাস্হানের সাথে স্পর্শ করবে তখন গোসল ফরয হবে।
৬৭৭ হারুন ইবনু মারুফ ও হারুন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কোন এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করল-যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তারপর বীর্য নির্গত হবার পূর্বেই তার পুরুষাঙ্গ বের করে ফেলে তাহলে কি তাদের উভয়ের ওপর গোসল ফরয হবে? এ সময়ে আয়িশা (রাঃ) সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , আমি এবং এ (আয়িশা (রাঃ) ঐরুপ করি এরপর আমরা গোসল করে ফেলি।
৬৭৮ আবদুল মালিক ইবনু ওসশু’আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, অগ্নি স্পর্শ খাবার খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা জরুরী। ইবনু শিহাব বলেন, উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) তাঁকে বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু ইবরাহীম ইবনু কারিয (রহঃ) তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) -কে মসজিদে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা অবস্হায় পেলেন। এরপর তিনি ( আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি পনিরের টূকরো খাবার কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছি। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা অগ্নি স্পর্শ খাবার খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনু খালিদ ইবনু আমর ইবনু উসমান-এর নিকট যখন এ হাদীসটি বর্ননা করছিলাম তখন তিনি আমাকে জানোান যে, তিনি উরওয়া ইবনুুয যুবায়রকে অগ্নি স্পর্শ দ্রব্যাদি সম্পর্কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন উরওয়া বলেছিল যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) -কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অগ্নিস্পর্শ খাবার খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর।
৬৭৯ আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কা’নাব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - একবার একটি বকরীর কাঁধের গোশত খেলেন তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।
৬৮০ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হাড়ে লাগানো গোশত অথবা গোশত খেলেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না বা পানি স্পর্শ করলেন না।
৬৮১ মুহাম্মাদ ইবনু সাববাহ (রহঃ) আমর ইবনু উমায়্যা আদ দামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার দেখলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরীর কাঁধের গোশত কেটে খাচ্ছেন। তারপর তিনি [রাসুল ] সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন আর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না।
৬৮২ আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) আমর ইবনু উমায়্যা আদ দামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলাম তিনি একটি বকরীর কাঁধের গোশত (ছুরি দিয়ে) কাটছেন। এরপর তিনি তা খেলেন। ইতিমধ্যেই সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য ডাকা হলে। তিনি তখন দাড়িয়ে গেলেন এবং ছুরিটি ফেলে দিলেন। এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন , কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না। আমর বলেন, বুকায়র ইবনুল আশাজ্জ কুরায়বের সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী মায়মুনা মূসা (রাঃ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর কাছে বসে কাঁধের গোশত খেলেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না। আমর বলেন, সাঈদ ইবনু আবূ হিলাল-এর সুত্রে আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য বকরীর পেটের গোশত ভূনা করতাম (তিনি তা খেতেন) তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না।
৬৮৩ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , একবার দুধ পান করলেন। তারপর পানি আনালেন, এরপর কুলি করলেন এবং বললেন , এতে তৈলাক্ত পদার্থ রয়েছে।
৬৮৪ আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) , যুহায়র ইবনু হারব, হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) প্রত্যেকেই ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে উকায়ল এর সনদে থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
৬৮৫ আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কাপড় পরে সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বের হলেন। ইতিমধ্যেই কিছু কাটা ও গোশত হাদিয়া এল। এরপর তিনি (তা থেকে) তিন লুকমা খেলেন। তারপর লোকদেরকে নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং পানি স্পর্শও করলেন না।
৬৮৬ আবূ কুরায়ব (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা এবং আব্বাস (রাঃ) -এর সাথে ছিলাম। এরপর তিনি ইবনু হালহালার হাদীস (উপরোক্ত হাদীস)-এর অনুরুপ বর্ণনা করেন। সেখানে উল্লেখ আছে যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। আর এ হাদীসের রাবী শুধু সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। ‘লোকদেরকে নিয়ে- কথাটির উল্লেখ করেননি’।
৬৮৭ আবূ কামিল ফুদায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এরকাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমি কি বকরীয় গোশত খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করব? তিনি বললেন , তোমার–ইচ্ছা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেও পার আর নাও করতে পার। সে বলল, আমি কি উটের গোশত খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করব? তিনি বললেন, হ্যা, উটের গোশত খেয়ে তুমি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে। সে বলল, আমি কি বকরির ঘরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারি? তিনি বললেন , হ্যা। সে বলল, আমি কি উটের ঘরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারি? তিনি বললেন , না।
৬৮৮ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও কাসিম ইবনু যাকারিয়া প্রত্যেকেই নিজ নিজ সনদে জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে আবূ কামিল-এর অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৮৯ আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব এবং আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আব্বাদ ইবনু তামীম তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে সেই ব্যাক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলেন সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে যার মনে হয় যেন কিছু (বায়ু) বের হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - বললেন , সে (সালাত (নামায/নামাজ) ছেড়ে) যাবে না যতক্ষন না (বায়ু বের হবার) শব্দ শুনবে অথবা (তার) গন্ধ পাবে। - আবূ বাকর ও যুহায়র ইবনু হারব তাঁদের বর্ণনায় উল্লেখ করেন যে, ঐ ব্যাক্তি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ)।
৬৯০ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু অনুভব করে তারপর তার সন্দেহ দেখা দেয় যে, পেট থেকে কিছু বের হল কিনা। তখন সে যেন মসজিদ থেকে কখনো বের নাহয় যতক্ষন না শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়।
৬৯১ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, মায়মুনা (রাঃ) -এর দাসীকে কেউ একটি বকরী সাদাকা দিল। পরে সে বকরীটি মারা যায়। ইতোমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মরে পড়ে থাকা বকরীটির কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ অবস্হা দেখে তিনি বললেন , তোমরা কেন এর চামড়া খূলে নিয়ে তা পাকা করে তা দিয়ে উপকৃত হওনা? সাহাবীগণ বললেন , এটা যে মৃত। তিনি বললেন , (তাতে কি) এটা খাওয়া হারাম (চামড়া ব্যবহার করা তো হারাম নয়)।
৬৯২ আবূ তাহির ও হারামালা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মৃত বকরী দেখলেন যা মায়মুনা (রাঃ) -এর দাসীকে সাদাকা স্বরুপ দেয়া হয়েছিল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হওনা কেন? সাহাবীগণ বললেন , এটা তো মৃত। তিনি বললেন , এটা তো আহার করা হারাম।
৬৯৩ হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ এই সনদে ইউনূস-এর রিওয়ায়াত-এর অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৯৪ ইবনু আবূ উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আয যুহুরি (রহঃ) ইবনু আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ফেলে দেয়া মরা বকরীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন যা মায়মুনা (রাঃ) -এর দাসীকে সাদাকা স্বরুপ দেয়া হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তারা এর চামড়া কেন খুলে নিল না? চামড়াটি পাকা করে তা দিঁয়ে উপকৃত হত!
৬৯৫ আহমাদ ইবনু উসমান আন নাওফালী (রহঃ) আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মায়মুনা (রাঃ) তাঁকে জানোান যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন এক স্ত্রীর একটি পেলিত বকরী ছিল সেটি মারা গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তোমরা কেন এর চামড়া খুলে নাওনা, অতঃপর তা দিয়ে উপকৃত হতো।
৬৯৬ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রাঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়মুনা (রাঃ) -এর দাসীর একটি মরা বকরীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন , তোমরা এর চামড়া কেন কাজে লাগাও না?
৬৯৭ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, চামড়া যখন পাকা (দাবাগাত) করা হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।
৬৯৮ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন নাকিদ, কুতায়বা ইবনু সাঈদ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ইবনু আব্বাস থেকে ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়ার হাদীসের অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৬৯৯ ইসহাক ইবনু মানসুর ও আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) আবূ ল খায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, - আমি আলী ইবনু ওয়ালা আসসাবাঈ কে চামড়ার পোশাক পরিহিত দেখে তা হাত দিয়ে স্পর্শ করলাম। তিনি বললেন, হাত দিয়ে কি দেখছ? আমি (এ ব্যাপারে) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করেছি যে, আমরা পশ্চিমের দেশে থাকি সেখানে বারবার ও অগ্নিপূজকদের সাথে বসবাস করি। তারা বকরী যবেহ করে আমাদের কাছে নিয়ে আসে। আমরা তাদের যবেহকৃত জন্তু খাই না। তারা আমাদের কাছে মশক নিয়ে আসে যাতে চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকে “ (তখন আমরা কি করব? )। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন যে, আমরা এ ব্যাপ্যরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন যে, পাকা (দাবাগত) করলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে।
৭০০ ইসহাক ইবনু মানসূর ও আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ইবনু ওয়ালা আস সাবাঈ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমরা পশ্চিম দেশে থাকি। সেখানে আমাদের কাছে অগ্নিপূজকরা মশক নিয়ে আসে, যাতে পানি এবং চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকে (আমরা সেগুলো ব্যবহার করব কি? )। তিনি বললেন , তা পান করে নাও। আমি বললাম, এটা কি আপনার নিজের অভিমত? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন , আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, চামড়া পাক (দাবাগাত) করলেই তা পবিত্র হয়ে যায়।
৭০১ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আয়িশা (রাঃ), থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন এক সফরে আমরা তাঁর সাথে বের হলাম। আমরা যখন বায়দা অথবা যাতুল জায়শ নামক স্হানে পৌছলাম তখন আমার হার খূলে পড়ে গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তালাশ করতে সেখানে থেমে গেলেন। আর লোকজনও তারসাথে সাথে থেমে পড়ল। তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি ছিলনা এবং তাদের নিজেদের কাছেও পানি ছিল না। অতঃপর লোকজন আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে এসে বলতে লাগল, আপনি দেখছেন না আয়িশা (রাঃ) কি করল? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে আটকে দিয়েছে এবং সেই সাথে সমস্ত লোককে আটকে রেখেছে। অথচ তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি নেই আর না তাদের নিজেদের কাছে পানি আছে। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) আমার কাছে এলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুর ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি এসে বললেন, তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সমস্ত লোকজনকে আটকে রেখেছ। অথচ না তারা পানির কাছাকাছি রয়েছে, আর না তাদের নিজেদের কাছে পানি আছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) আমাকে ভৎসনা করলেন এবং যতদুর বলার বললেন। তিনি তার হাত দিয়ে আমার পাজরে আঘাত করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুর ওপর থাকার কারণে আমি নড়তেও পেললাম না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়েই রইলেন। এমনি করে পানি বিহীনভাবে সকাল হল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। তখন উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) যিনি ছিলেন নকীব (দলপতি) দের অন্যতম বললেন, “হে আবূ বকর তনয়া! এটাই আপনার প্রথম বরকত নয়”। আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি যে উটের ওপর ছিলাম সেটিকে চলার জন্য উঠালাম। তখন উক্ত হারটি তার নিচে পাওয়া গেল।
৭০২ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা এবং আবূ কুরায়ব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবূ আসমা (রাঃ) থেকে একটি হার ধার নিয়ে ছিলেন। অতঃপর তা হারিযে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কিছু লোককে তা খুঁজতে পাঠালেন। (পথে) তাদের সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হয়ে গেল। তখন তারা উযূ (ওজু/অজু/অযু) ছাড়াই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে এ ঘটনা জানালেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। এ সময় উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ)বললেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম বদলা দান করুন। আল্লাহর কসম! আপনার ওপর যখনই কোন সমস্যা এসেছে তখন আল্লাহ তা’আলা আপনার জন্য এর সমাধানের পথ করে দিয়েছেন এবং মুসলমানদের জন্য তাতে বরকত রেখেছেন।
৭০৩ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি একবার আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ) ও আবূ মূসা (রাঃ)-এর কাছে বসেছিলাম। তখন আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, হে আবূ আবদুল রহমান! কোন ব্যাক্তি যদি জানবাতওয়ালা হয় (যার ফলে তার গোসল ফরয হয়) এবং সে এক মাস যাবত পানি না পায় তাহলে সে কিভাবে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে? আবদুল্লাহ বললেন, সে তায়ামুম করবে না যদিও একমাস পানি না পায়। আবূ মূসা বললেন, তাহলে সুরা মায়িদার এ আয়াত (‘যদি তোমরা-পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর—’) এরকি হবে? আবদুল্লাহ বললেন, এ আয়াতের দ্বারা তাদেরকে যদি তায়ামুমের অনুমতি দেয়া হয়, তাহলে (ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে পৌছবে যে) পানি ঠান্ডা বোধ হলে তারা মাটি দিয়ে তায়ামুম শুরু করবে। আবূ মূসা (রাঃ) তখন আবদুল্লাহকে বললেন, আপনি কি আম্মারের বর্ণনা শোনেন নি (তিনি বলেন) যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন এক প্রয়োজনে পাঠালেন। (পথিমধ্যে) আমি অপবিত্র হয়ে গেলাম এবং পানি পেলাম না। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম চতুষ্পদ জন্তু যেভাবে মাটিতে গড়াগড়ি দেয়। তারপর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে এ ঘটনা বললাম। তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )বললেন, তোমার জন্য হাত দিয়ে এরুপ করাই যথেষ্ট ছিল-এই বলে তিনি তাঁর দুই হাত একবার মাটিতে মারলেন। তারপর বাম হাত দিয়ে ডান হাত মাসেহ করলেন এবং উভয় হাতের কজির উপরিভাগ ও মুখমন্ডল মাসহ করলেন। আবদুল্লাহ বললেন , তুমি কি দেখনি যে, উমার (রাঃ) আম্মার (রাঃ) -এর কথা যথেষ্ট করেননি?
৭০৪ আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) …আবদুল্লাহ (রাঃ) -কে বললেন , এরপর আবূ মু’আবিয়ার হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তোমার জন্য এরুপ করাই যথেষ্ট ছিল। এই বলে তিনি তার উভয় হাত মাটিতে মারলেন। অতঃপর ঝেড়ে মুখমন্ডল এবং উভয় হাতের কব্জি মাসহ করলেন।
৭০৫ আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম আন-আবদী- (রহঃ) আবদূর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি উমার (রাঃ) - এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি, কিন্তু পানি পাইনি (তখন কি করব?)। তিনি বললেন , তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করোনা। তখন আম্মার (রাঃ) বললেন , “আমিরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমিও আপনি কোন এক অভিযানে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উভয়েই অপবিত্র হয়ে পড়লাম। আর ফোটাও পানি পেলাম না। তখন আপনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন না, কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে এ ঘটনা জানালে (তিনি) বললেন , তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তোমার উভয় হাত মাটিতে মারতে তারপর তা ঝেড়ে ফেলে তা দিয়ে তোমার মূখমশুল ও উভয় হাতের কব্জি মাসহ করতে” উমার (রাঃ) বললেন , আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর। তিনি (আম্মার) বললেন , আপনি চাইলে আমি এটা আর বর্ননা করব না”। হাকাম বলেন, আব্দুর রহমান ইবনু আবযার পূত্র তাঁর পিতা আবদুর রহমান থেকে আমার কাছে যারর-এর হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অতঃপর উমার (রাঃ) বললেন , তোমার বর্ণনার দায়-দায়িত্ব তোমার উপর।
৭০৬ ইসহাক হবন মানসুর (রাঃ) আবদূর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে এক ব্যাক্তি উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি এবং পানি পাইনি (তখন কি কবর?)-এর পর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। তাতে অতিরিক্ত আছে যে, আম্মার (রাঃ) বললেন , হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ তায়ালা আমার ওপর আপনার যে হক রেখেছেন (অর্থাৎ আপনাকে খলীফা বানিয়েছেন) তার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলছি: আপনি চাইলে আমি আর কারো কাছে এ বর্ণনা করব না। মুসলিম বলেন, নায়স ইবনু সা’দ – এর সুত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর আযাদকৃত দাস উমায়র থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, আমি এবং উম্মুল মুমিনীন মায়মুনা (রাঃ)-এর আযাদ কৃত দাস আবদুর রহমান ইবনু ইয়াসার একবার আবূল জাহম ইবনুল হারিস ইবনু সিম্মা-আনসারীর কাছে গেলাম। তখন আবূল জাহম (রহঃ) বললেন , রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বার বির-ই-জামাল (মদিনার নিকটবর্তি একটি স্হান)-এর দিক থেকে আসছিলেন। অতঃপর পথিমধ্যে এক ব্যাক্তি তার সাথে সাক্ষাৎ করে সালাম দিল কিন্তু তিনি তার উত্তর দিলেন না বরং একটি দেয়ালের কাছে গিয়ে তাঁর মুখমন্ডল এবং উভয় হাত মাসহ করলেন। তারপর সালামের জবাব দিলেন।
৭০৭ মুহাম্মদ ইবনু নুমায়র ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পেশাব করছিলেন। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাম করল। কিন্তু তিনি তার জবাব দিলেন না।
৭০৮ যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার মদিনার কোন এক রাস্তায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি ( আবূ হুরায়রা) তখন (জানবাত) অপবিত্র অবস্হায় ছিলেন। এই কারণে তিনি আস্তে করে পাশ কেটে চলে গেলেন এবং গোসল করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তালাশ করলেন। পরে আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , “ আবূ হুরায়রা। তুমি কোথায় ছিলে? তিনি বললেন , ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয় তখন আমি অপবিত্রাবস্হায় ছিলাম। তাই আমি গোসল না করে আপনার মজলিসে বসা ভাল মনে করি নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না।
৭০৯ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) - (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা অপবিত্র থাকা অবস্হায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে পাশ কেটে চলে গেলেন এবং গোসল করে পরে এলেন, এবং বললেন আমি জানবাত (গোসল ফরয হওয়ার কারণে নাপাক) অবস্হায় ছিলাম। রাসূলল্লাহ বললেন , মুসলিম তো নাপাক হয় না।
৭১০ আবূ কুরায়র মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ও ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময়ই আল্লাহর যিকর করতেন।
৭১১ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত’তামীমী ও আবূর রাবী আয যাহরানী (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগার থেকে বের হলেন। ইতিমধ্যে খানা হাজির করা হল। লোকজন তাকে উজ়ুর কথা স্মরন করিয়ে দিল। তিনি বললেন , আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের ইচ্ছা করছি যে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করব?
৭১২ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। তিনি পায়খানা থেকে এলেন। খানা হাযির করা হল। তাকে বলা হল আপনি কি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবেন না? তিনি বললেনঃ কেন আমি কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছি যে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করব?
৭১৩ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বার পায়খানায় গেলেন। পরে তিনি যখন (পায়খানা সেরে ফিরে) এলেন তখন তার সামনে খানা পেশ করা হল। অতঃপর তাঁকে বলা হল, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবেন না? তিনি বললেন , কেন, সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য?
৭১৪ মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু আব্বাদ ইবনু জাবাল (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগার থেকে প্রয়োজন সেরে এলেন তার সামনে খানা পেশ করা হল। তিনি পানি স্পর্শ না করে (উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করে) তা আহার করলেন। আমর ইবনু দিনার এর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হল, আপনি যে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না? তিনি বললেন , আমি তো আর এখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের ইচ্ছা করিনি যে, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করব। আমর ইবনু দ্বীনার বলেন এ হাদীসটি তিনি সাঈদ ইবনুল হুওয়ায়রিস (রহঃ) থেকে শুনেছেন।
৭১৫ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগারে প্রবেশ করার সময় বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুষ্ট পুরুষ জ্বীন ও নারী জ্বীন থেকে পানাহ চাচ্ছি।
৭১৬ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবদুল আযীয (রহঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৭১৭ যূহায়র ইবনু হারব ও শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, (একবার) সালাত (নামায/নামাজ) শুরু হয়ে যাচ্ছিল। তখন রাসুল এক ব্যাক্তির সাথে নিভৃতে আলাপ করছিলেন। অতঃপর তিনি এত দেরি করে এসে সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করলেন যে, লোকজন তখন (বসে বসে) ঘূমাচ্ছিলেন।
৭১৮ উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আযআল-আনরাবি (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন। একবার সালাত (নামায/নামাজ) শুরু হচ্ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তির সাথে একান্তে আলাপ করছিলেন। তিনি এভাবে এতক্ষণ পর্যন্ত আলাপ করতে থাকলেন যে, তাঁর সাহাবীগণ (বসে বসে) ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি এসে তাদের সহ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
৭১৯ ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) কাতাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে যেতেন, তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না। বর্ণনাকারী শুবা বলেন, আমি কাতাদাকে বললাম আপনি কি নিজে . আনাস (রাঃ) -এর কাছ থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন , হ্যা, আল্লাহর কসম”!
৭২০ আহমাদ ইবনু সাঈদ ইবনু সাখর আদ দারিমী (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, (একবার) এশার জামাআত দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। তখন এক ব্যাক্তি বলল, আমার কিছু প্রয়োজন আছে। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার সাথে আলাপ করতে লাগলেন। তিনি এতক্ষণ পর্যন্ত আলাপ করলেন যে, উপস্হিত সকলে অথবা কিছু লোক ঘুমিয়ে পড়ল (বসে বসে)। তারপর তাঁরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন