28 February, 2016

জিপির নতুন অফার

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে SIMরেজিস্ট্রেশন করতে আপনারনিকটস্থ আঙ্গুলের ছাপ চিহ্নিতস্থানে চলে আসুন। রেজিস্ট্রেশনকরলেই পাচ্ছেন 1GB ইন্টারনেটমাত্র ৯ টাকায়। অফারটি পেতেডায়াল করুন *5000*99#

22 February, 2016

নামাজের মর্যাদা

নামাযের মর্যাদাআল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতে সঠিকভাবে ঈমান আনার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয় তা আল্লাহ তাআলা সূরা আন নাসে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ মানুষের রব, বাদশাহ ও ইলাহ বা মাবূদ । কুরআনে আরও একটি সম্পর্কের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। সেটি আরো আবেগময়।আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে ঈমানদারদের ওয়ালী বা অভিভাবক। জীবন্ত নামায আল্লাহর সাথে এ চার রকম সম্পর্ক মযবুত করতে থাকে। মুমীনের রুহানী তরক্কীর জন্য নামাযই সবচেয়ে বেশি কার্যকর । রাসূল (স) নামাযকে তাঁর চোখের মণি বলেছেন। কখনো কোন পেরেশানীর কারণ ঘটলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসল্লাম নামাযের মাধ্যমে প্রশান্তি বোধ করতেন।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদীসে বলেন: ()বোখারী শরীফে বর্ণিত এ হাদীসটির অর্থ : তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন সে তার রবের সাথে গোপনে কথা বলে এবং তার রব তার ও কিবলার মাঝে বিরাজ করেন।জীবন্ত নামাযের বাস্তব অবস্থা এটাই । মুমিন দুনিয়াকে পেছনে রেখে নামাযে যখন দাঁড়ায় তখন তার ও কিবলার মাঝে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ থাকে না। নামাযে যা কিছু পড়া হয় এ সবই আল্লাহর সাথে একান্তে বলা হয়। তাই এ সবই আল্লাহর সাথে গোপন সংলাপ।নামায মুমিনের মেরাজ কথাটি প্রচলিত আছে। সহী হাদীসে এ ভাষায় কথাটি না থাকলেও উপরের হাদীসটি থেকে একথাটি নামাযের বেলায় প্রযোজ্য । পার্থক্য এটুকু অবশ্য রয়েছে যে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজে গিয়েছিলেন সশরীরে আর নামাযে মুমীনের মেরাজ হয় শুধু রূহানীভাবে। নামাযে আল্লাহরই সাথে নামাযীর সংগোপনে সংলাপ চলে । এটা অন্তরে অনুভব করার বিষয় । নামায যতটা জীবন্ত হয় এ অনুভুতি ততই গভীর হয়।বহু হাদীস থেকে জানা যায়, অগণিত ফেরেশতা নামাযের বিভিন্ন অবস্হায় রয়েছে। একদল ফেরেশতা শুধু দাঁড়িয়ে আছে, একদল শুধু রুকুতে আছে, একদল শুধু সিজদায় আছে। হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, কোন একদল ফেরেশতা পূর্ণ নামায আদায় করে।আল্লাহ তাআলা মানুষকে পূর্ণ নামায আদায়ের মাধ্যমে ফেরেশতার চেয়ে মর্যাদা দান করেছে। তাই আল্লাহর সাথে বান্দাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার জন্য নামাযই শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। জীবন্ত নামাযের মজা যারা পেয়েছে তাদের নিকট নামাযই সবচেয়ে প্রিয় । নামাযেই আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া যায়।নামাযে দেহ ও রূহ নির্মাণের জন্য যা করণীয় তা প্রতি ওয়াকতে এবং প্রতি রাকআতে করা সম্ভব নয়। এর জন্য মনকে অবসর করে প্রয়োজনীয় যথেষ্ট সময় লাগিয়ে নামায আদায় করতে হয়। এর জন্য উপযুক্ত সময় হলো শেষ রাত। তাহাজ্জুদের অভ্যাস করতে পারলেই এটা সম্ভব ও সহজ মনে হবে। ৫ ওয়াকতের নামাযে তাহাজ্জুদের মতো নিরিবিলি পরিবেশ ও মানবিক প্রস্তুতি সম্ভব নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয নামাযের পর তাহাজ্জুদের নামায একই সকল নফল নামাযের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষনা করেছেন। তাহাজ্জুদ সম্পর্কে একটি হাদীস উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করি :অর্থ : রাত জাগা তোমাদের কর্তব্য । কেননা এটা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের তরীকা, তোমাদের রবের নৈকট্যের মাধ্যমেই আগের গুনাহর কাফফারা এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখার উপায়।(তিরমিযী)রাসূল (স) এ হাদীসে তাহাজ্জুদের ৪টি ফযীলত বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য একটি আল্লাহর দরবারে ধরনা দেবার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমই হলো নামায। আল্লাহর সাথে এটা বান্দাহর সরাসরি সম্পর্কের মহা সুযোগ।নামাযের রূহের দিকটাকে না বুঝলে নামায নিতান্তই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হতে বাধ্য । এ প্রাণহীন নামাযে কী করে মজা পাওযা যেতে পারে। এ জাতীয় নামাযই আমাদের সমাজে চালু আছে। এ কারণেই এ ধরনের নিস্প্রাণ নামায দ্বারা নামাযের উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে না।আল্লাহ তাআলা বলেন :অর্থ : আমাকে স্মরণে রাখার জন্য নামায কায়েম কর। (সূরা তোয়াহা : ১৪ )বারবার নামাযে হাযির হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় । যাতে আল্লাহর কথা ভুলে না যায় সেজন্যই বারবার নামায । নামায শেষ হলে দুনিয়ার দায়িত্ব পালনকালে কি আল্লাহকে ভুলে থাকার অনুমতি আছে?সূরা জুমআর ১০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন :অর্থ : যখন নামায শেষ হয় তখন যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিযক) তালাশ কর। এ সময় আরও বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার।এ আয়াতে নামাযের বাইরে আরও বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাদীসে আছে যে আল্লাহ বলেন, “ বান্দাহ যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথেই থাকি। যখন সে একা স্মরণ করে আমিও তখন একা তাকে স্মরণ করি। যখন সে কোন জামায়াতে আমাকেস্মরণ করে তখন এর চেয়ে ভাল জামায়াতে (ফেরেশতাদের মধ্যে )আমি তাকে স্মরণ করি। যখন সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তখন তার দিকে একহাত এগিয়ে যাই। যখন সে একহাত আমার দিকে এগিয়ে আসে আমি তার দিকে একগজ এগিয়ে যাই। যখন সে আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তখন তার দিকে দৌড়ে যাই।”আল্লাহর সাথে বান্দাহর এ সম্পর্ক নামাযের মাধ্যমেই গড়ে উঠে ও বৃদ্ধি পেতে থাকে।বিতরের নামাযবিতরের নামাযের সঠিক সময় তাহাজ্জুদের পর । এ নামায ওয়াজিব তাই । শেষ রাতে যারা উঠার অভ্যাস করেনি তাদেরকে এশার পরই বিতর পড়তে হয়, যাতে ওয়াজিব তরক হয়ে না যায়।এ নামাযের তৃতীয় রাকাআতে দোয়া কুনুত পড়তে হয়। এ দোয়াটির অর্থের দিকে খেয়াল করলে বুঝা যায় যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাই এর উদ্দেশ্য। দোয়াটি বড়ই আবেগময়। কুনুতে দুটো দোয়াই প্রচলিত। এর একটি হানাফী মাযহাব অনুসারী নামাযীদের মধ্যে এবং অপরটি আহলি হাদীসের মধ্যে প্রচলিত। দোয়া দুটোর অনুবাদ এখানে পেশ করা হল :“ হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারি নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই উপর ভরসা করি এবং সকল মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। আমরা তোমার অবাধ্যদের সাথে সম্পর্ক রাখিনা। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামায পড়ি এবং তোমাকেই সিজদা করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমরাই রহমত আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। আর তোমার আযাবতো কাফিরদের জন্যই নির্ধারিত।“হে আল্লাহ তুমি যাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছ, আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে তাদের মধ্যে শামিল কর। যাদেরকে ক্ষমা ও সুস্থতা দান করেছ, আমাকেও ক্ষমা ও সুস্থতা দান করে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি তাদের অভিভাবক হয়েছ, আমাকেও তাদের মধ্যে শামিল কর। তুমি আমাকে যা দিয়েছ তাতে বরকত দান কর। তোমার মন্দ ফায়সালা থেকে আমাকে রক্ষা কর। তুমিই আসল ফায়সালাকারী, তোমার উপর কারো ফায়সালা চলে না। তুমি যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ তাকে কেউ অপদস্থ করতে পারে না। তুমি যাকে শত্রু সাব্যস্ত করেছ তাকে কেউ ইজ্জত দিতে পারে না। হে আমাদের রব! তুমিই বরকতময় ও মহান।”Source : https://jibontonamaz.wordpress.com/2011/03/20/namajer-morjada/

16 February, 2016

তারাবির নামাজ

তারাবী হ নামাজের হুকুমঃরমজান মাসের এশার নামাজের পর ২০ রাকায়াত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ নামাজকে তারাবীহ নামাজ বলা হয়। তারাবী শব্দটি আরবী । তারাবীহাহ্ তার বহুবচন, যার অর্থ ক্ষনিক বিশ্রাম। রমজানের এই নামাজে প্রতি ৪ রাকায়াতের পরে কিছু সময় অর্থাৎ ৪ রাকায়াত নামাজের সম পরিমান সময় বিলম্ব ও বিশ্রামের নিয়ম থাকায় এ নামাজে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে । তারাবীহ নামাজের ফজিলতঃরাসূল (সাঃ) বলেন, "(হে আমার উম্মতগন), তোমরা জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং উহার রাত্রে তারাবীহের নামাজ সুন্নাত করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি খালেস নিয়তে ঈমানের সাথে কেবল সোয়াবের আশায় এ মাসে দিনের বেলায় রীতিমত রোজা রাখবে এবং রাত্রিতে রীতিমত তারাবীহের নামাজ পড়বে তার বিগত সব সগীরা গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে।" অতএব, এ পবিত্র মাসে অধিক নেকী সঞ্চ্য করে লওয়া উচিৎ। এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান নেকী পাওয়া যায়। তারাবীহ নামাজের সময়ঃযে রাতে রমজানের চাঁদ দেখা যাবে সে রাত থেকে তারাবীহ নামাজ শুরু করতে হবে। ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গেলে তারাবীহ বন্ধ করতে হবে। তারাবী নামাজের সময় এশার নামাজের পর থেকে শুরু হয় এবং ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত থাকে । যদি কী এশার নামাজের পূর্বে তারাবী পড়ে তাহলে তারাবী হবে না। (দুররুল মুখতার) তারাবীহ নামাজের জামায়াতঃরাসুল (সাঃ) রমজানে তিন রাত ২৩, ২৫ এবং ২৭ শে রাত তারাবীহ নামাজ জামায়াতে পড়িয়েছিলেন। তারপর তিনি যখন সাহাবীদের মধ্যে বিরাট উৎসাহ উদ্দীপনা ও অনুরাগ দেখলেন তখন মসজিদে এলেন না। সাহাবাগন তখন তাঁ দরজায় আওয়াজ দিতে লাগলেন। তখন নবীজি বললেন, আল্লাহ তোমাদের উৎসাহ উদ্দীপনায় আরও বরকত দিন । আমি এ আশংকায় মসজিদে যাইনি যে, এ নামাজ তোমাদের উপর ফরজ হয়ে না যায় এবং সর্বদা তোমরা তা পালন করতে না পার। কারণ, নফল নামাজ ঘরে পড়াতে বেশী সওয়াব ও বরকতের জারণ হয় (বুখারী)। এ হাদিস থেকে প্রমানিত হয় যে, রাসূল (সাঃ) ৩ রাত জামায়াতের পরে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) রীতিমত জামায়াত কায়েম করেন এবং সাহাবায়ে কিরাম তা মেনে নেন। পরবর্তীকালে কোন খলিফাই এ সুন্নতের বিরোধিতা করেননি। এ জন্য আলেম সমাজ এ নামাজকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়া বলেছেন। তারাবীহ নামাজের নিয়াতঃنَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْتراويح سُنَّةُ رَسُوْلُ للَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ-উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকাতাই ছালাতিত তারাবীহ সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।অর্থঃ কিবলামুখী হয়ে দু'রাকায়াত তারাবীর নামাজ এই ইমামের পিছনে আদায় করছি "আল্লাহু আকবার"।তারাবীহ নামাজের দোয়াঃতারাবীহ নামাজে প্রতি চার রাকাত অন্তর অন্তর বসে নিম্নলিখিত দোয়াটি মনে মনে পাঠ করবেঃسُبْحَانَ ذِى الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوْتِ سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَىِّ الَذِيْ لَا يَمُوْتٌ، سُبُّوْحٌ قُدُوْسٌ رَّبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَاءِكَةِ وَلرُوْحِ، اللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ، يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ-উচ্চারণঃ সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা যিল ইজ্জাতি, ওয়াল আজমাতে, ওয়াল হায়বাতি,ওয়াল কুদরাতি, ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়া জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা, সুববুহুন ক্কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়ার রূহ ।অর্থঃ পবিত্রতে ঘোষণা করছি তাঁর, যিনি ইহজগত, ফেরেশতা জগতের প্রভু সেই আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করছি যিনি মহিমাময় বিরাট, ভীতিপূর্ণ, শক্তিময়, গৌরবময় এবং বভত্তর। আমি সে প্রতিপালকের গুনগান করছি, যিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনও নিদ্রা যান না এবং যাঁর কখনও মৃত্যু ঘটে না। পুতঃপবিত্র তিনি। তিনি আমাদের পালনকর্তা, ফেরেশতাকুল এবং আত্মাসমূহের পালনকর্তা। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমরা আপনার কাছে বেহেশত চাচ্ছি এবং দোযখ থেকে মুক্তি চাচ্ছি ।তারাবীহ নামাজের মাসয়ালাঃ০১। তারাবীহ নামাজের নিয়ত এভাবে করতে হবে আমি দু’রাকায়াতের সুন্নাত তারাবীহ নামাজের নিয়ত করছি। এমনিভাবে দশ সালাম সহ ২০ রাকায়াত নামাজ পুরা করতে হবে।০২। তারাবীহ নামাজের পর বেতেরের নামাজ পড়া উত্তম । কিন্তু কোন কারণে যদি কিছু তারাবীহ পড়ার পূর্বে অথবা সমস্ত তারাবীহ পড়ার পূর্বে বেতেরের নামাজ পড়াও জায়েজ হবে।০৩। যদি কোন মুক্তাদির বিলম্বে নামাজে যোগ দেবার করণে তার কিছু তারাবীহ বাকী থাকতে ঈমাম বেতেরের নামাজের জন্য দাঁড়ালেন, এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উচিৎ হবে ঈমামের সাথে বেতেরের নামাজ পড়া এবং তারপর বাদ পড়া তারাবীহ পড়া।০৪। চার রাকায়াত পড়ার পর এত সময় পর্যন্ত বিশ্রাম নেয়া মুস্তাহাব যত সময়ে চার রাকায়াত পরা হয়েছে।০৫। যদি এশার ফরজ না পড়ে তারাবীতে শরীক হয় তাহলে তার তারাবী দুরস্ত হবে না ।০৬। যদি কেউ এশার ফরজ জামায়াতে পড়ল এবং তারাবীহ জামায়াতে পড়ল না, সে-ও বেতেরের নামাজ জামায়াতে পড়তে পারে।০৭। যদি কেউ এশার ফরজ জামায়াতে পড়ল না সে তারাবীহ ও বেতেরের নামাজ জামায়াতে পড়তে পারবে।০৮। বিনা কারণে বসে বসে তারাবীহ নামাজ পড়া মাকরূহ ।০৯। ফরজ ও বেতের এক ঈমাম এবং তারাবীহ অন্য ঈমাম পড়াতে পারে।১০। তারাবীহ দ্বিতীয় রাকায়াতে বসার পরিবর্তে ঈমাম দাঁড়িয়ে গেল, যদি তৃ্তীয় রাকায়াতে সিজদার পূর্বে তার মনে পড়ে যায় অথবে কোন মুক্তাদি মনে করিয়ে দেয় তাহলে ঈমামের উচিত বসে যাওয়া এবং তাশাহুদ পড়ে এক সালাম ফিরিয়ে সিজদায় সাহু দেবে, তারপর নামাজ পুরা করে সালাম ফেরাবে। তাতে দু’রাকায়াত সহীহ হবে। আর যদি তৃ্তীয় রাকায়াতের সিজদা করার পর মনে পড়ে তাহলে এক রাকায়াতের সাথে মিলিয়ে চার রাকায়াত পুরা করবে।১১। যারা এশার নামাজ জামায়াতে পড়েনি, তাদের জন্য তারাবীহ জামায়াতে পড়া দুরস্ত নয়।১২। কেউ যদি মসজিদে এমন সমইয়ে পৌছে যখন এশার ফরজ হয়ে গেছে, তাহলে প্রথমে সে এশার ফরজ পড়বে এবং পরে তারাবীতে শরীক হবে। তারাবি’র যে সব রাকায়াত বাদ যাবে সেগুলো হয় বিরতির সময় পড়ে নেবে অথবে জামায়াতে বেতের পড়ার পর পড়ে নেবে।১৩। তারাবীতে কুরআন পড়ার নিয়ম হলো, কোন সূরায় বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পড়তে হবে। পুরা কুরআন পাঠকারীকে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে এবং শ্রবণকারীকে শুনতে হবে। এজন্য হাফেজকে উচ্চস্বরে পড়তে হবে।১৪। কেউ কেউ তারাবীহতে তিনবার ক্কুলহু আল্লাহ পড়ে। তা পড়া মাকরূহ ।১৫। কুরআন খতম করার পর সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় কুরআন শুরু করা সুন্নাত। রাসূল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ এ কাজ পছন্দ করেন যে কেউ কুরআন খতম করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রথম থেকে আবার শুরু করে “আলিফ লাম মিম .....................মুফলিহুন” পর্যন্ত পড়বে।তারাবীর সময় বেতেরের নামাজের জামায়াতঃশুধু রমজান মাসে বেতেরের নামাজ জামায়াতে পড়া প্রমাণিত আছে। রমজান মাস ছাড়া অন্য মাসে বেতের জামাতে পড়া জায়েজ নেই। যারা একাকী তারাবীহ নামাজ পড়ল তারাও জামায়াতে বেতের পড়তে পারে। কিন্তু যারা তারাবী জামায়াতে পড়ল তাদে জন্য বেতের জামায়াতে পড়া দরকার। বেতের নামাজ তারাবীর পরে অথবা আগে পড়া যায়।তারাবীহ নামাজে কুরআন খতমঃপবিত্র রমজান মাসে একবার কুরআন ক্রমানুসারে খতম করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। (ইলমুল ফিকাহ) রাসূল (সাঃ) প্রতি বছর রমজান মাসে জিবরাইল (আঃ) কে পুরা কুরআন শরীফ শুনাতেন। যে বছর তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেন, সে বছর তিনি জিবরাইল (আঃ) কে দু’বার কুরআন শুনিয়েছেন।

15 February, 2016

নামাজের মোস্তাহাব সমূহ

 নামাযের মোস্তাহাব সমূহনামাযের মোস্তাহাব সমূহএক্বামতের সময়ে “হাইয়্যালাল ফালাহ্” বলামাত্র নামাযে ঠিকভাবে দাঁড়ান ।তাকবীরে তাহরীমা বলার সময়ে আন্তিন হতে হাতের তালু বাহির করা ।দাঁড়াবার সময়ে সিজদার জায়গার প্রতি দৃষ্টি রাখা ।রুকুতে পায়ের পাতার দিকে দৃষ্টি রাখা ।বৈঠকে কোলের দিকে দৃষ্টি রাখা ।সাধ্যানুযায়ী হাসি ও কাশি বন্ধ রাখা ।রুকুতে মাথা ও পৃষ্ঠ ভাগ সমান উঁচু রাখা ।সিজদায় প্রথমে দুই হাঁটু ,তারপর দুই হাত জমিনে রাখা, পরে নাক ও তারপরে কপাল জমিনে রাখা এবং সেজদা হতে উঠার সময়ে যথাক্রমে প্রথমে কপাল, পরে নাক উঠিয়ে তৎপর দুই হাত হাঁটুর উপরে রেখে বসা ।সিজদায় দুই হাতের মধ্যে মাথা রাখা, নাক দুই বৃদ্ধাংগুলির মধ্যে বরাবর রাখা ।হাত-পায়ের আঙ্গুলিসমূহ কেবলা মুখ করে রাখা ।ছালাম ফিরানোর সময় দুই সিনার প্রতি দৃষ্টি রাখা ।সেজদায় পুরুষের দুই হাত পৃথক ভাবে রাখা এইভাবে উঁচুতে রাখতে হবে  যেন বকরীর বাচ্চা যাতায়াত করতে পারে । কিন্তু স্ত্রীলোকের জন্য সেজদায় এর বিপরীত করতে হবে । যেমন দুই হাত চাপিয়ে রাখা এবং রানের উপর পেট রাখা ।তিন বারের অধিক-বেজোড় তছবীহ্ পড়া ।ফযরের নামাযে (سورة الحجراة – سورة البلد ) এর মধ্যে যে কোন ২টি সুরা পড়া।আছরের নামাজে ( سورة الشمس – سورة البينة)  এর মধ্যে যে কোন ২টি  সুরা  পড়া ।মাগরিবের নামাজে ছোট ছোট সূরাহ (سورة الزلزال  -  سورة الناس) পাঠ করা ।এশার নামাজে (سورة الحجراة – 

নামাজের সুন্নত সমূহ

 নামাযের সুন্নত সমূহনামাযের সুন্নত সমূহতাকবীর বলে দুই হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠান ।হাতের আঙ্গুল পরস্পর পৃথক রাখা ।ইমামের জন্য নামায আরম্ভের তাকবীর উচ্চঃস্বরে পড়া ।ছানা পাঠ করা ।“আউযুবিল্লাহ্” পাঠ করা ।“বিছমিল্লাহ্” পাঠ করা ।সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ঈমাম ও মুস্তাদিগণের মৃদুস্বরে “আমীন” বলা ।পুরুষের জন্য নাভীর নীচে তাহরিমা বাঁধা আর স্ত্রী লোকের জন্য ছিনার উপরে তাহরিমা বাঁধারুকুর তাকবীর বলা ।রুকুতে দুই হাঁটু ধরা ও আঙ্গুল সমুহ পরস্পর পৃথক রাখা ।রুকুর ভিতরে তিন, পাঁচ বা সাতবার তাছবীহ্ বলা ।রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ান ।রুকু হতে উঠার সময়ে ইমামের “ছামিয়াল্লাহ হুলিমান হামীদা” ও মোক্তাদিগণের “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলা ।সেজদায় গিয়ে দুই হাঁটু ও তাকবীর বলে বসা ।সেজদায় তাছবীহ্ পড়া ।পুরুষের জন্য ছেজদাহ হতে উঠে ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসা, আর স্ত্রীলোকের উভয় পা ডান দিকে বাহির করে ছতরের উপর বসা ।ছেজদা থেকে উঠার পর এক তছবীহ্ পরিমাণ সময় বসে থাকা ।দরুদ শরীফ পাঠ করা ।দোয়ায়ে মাছুরা পড়া ।দুই দিকে ছালাম ফিরান ।

নামাজের ওয়াজিব সমূহ

 নামাযের ওয়াজিব সমূহনামাযের ওয়াজিব সমূহনামাজের মধ্যে মোট ওয়াজিব ১৪টি। এগুলো একটি ভুল করে ছেড়ে দিলে শেষ বৈঠকে সিজদায় সাহু পড়তে হবেঃসুরা ফাতিহা পড়াসুরা ফাতেহার সঙ্গে সুরা মিলানোরুকু ও সেজদায় দেরী করারুকু হইতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোদুই সেজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসাদরমিয়ানী বৈঠকদুই বৈঠকে আত্ত্যাহিয়াতু পড়াঈমামের জন্য কেরাত আস্তের জায়গায় আস্তে পড়া এবং জোরে জায়গায় জোরে পড়াবিতিরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়াদুই ঈদের নামাজে ছয় তকবীর বলা ৷ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাত কেরাতের জন্য নির্ধারিত করা ৷্রত্যেক রাকাতের ফরজ গুলির তরতীব ঠিক রাখা ৷প্রত্যেক রাকাতের ওয়াজিব গুলির তরতীব ঠিক রাখা ৷আস্আলামু আ'লাইকুম ও'রাহ...বলিয়া নামাজ শেষ করা

নামাজের ফরজ সমূহ

 নামাজের ফরজ সমূহনামাজের ফরজ সমূহনামাজের বাহিরে এবং ভিতরে ১৩টি ফরজ রয়েছে।নামাজের বাহিরে ৭ ফরজশরীর পাককাপড় পাকনামাজের যায়গা পাকসতর ঢাকাক্বিবলামূখী হওয়াওয়াক্ত মত নামাজ পড়ানামাযের নিয়ত করানামাজের ভেতরে ৬ ফরজতাকবীরে তাহরীমাহ বলাদাঁড়িয়ে নামাজ পড়াক্বির আত পড়ারুকু করাদুই সিজদা করাআখিরী বৈঠকছালামের সহিত নামায ভঙ্গ করা সুন্নত । নামায আদায় করতে গিয়ে উপরোক্ত ১৪টি [বাহিরের ৭ টি + ভেতরের ৬টি] ফরযের কোন একেটি ভুলেও ছেড়ে দিলে নামায শুদ্ধ হবে না; নামায পুণরায় পড়তে হবে ।

Ripon


ইসমাইল হোসেন