বাসস্থান
হজ্জকালীন সময়ে আবাসস্থানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব হাজি বেশি চিন্তা করেন হারাম থেকে বাসা/ হোটেলের দূরত্ব নিয়ে। বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা দরকার। হজ্জের জন্য এজেন্টরা যে বাজেট নির্ধারণ করে তার মধ্যে বাসা ভাড়াই সর্বাধিক; এরপরে বিমান ভাড়া, মুয়াল্লিম ফি, খাওয়া খরচ ও অন্যান্য। বাসা ভাড়ার পরিমাণ অনেকাংশে নির্ভর করে হারাম থেকে বাসার দূরত্বের উপরে। বাসা যত নিকটে তত বেশি ভাড়া। যত দূরে তত কম ভাড়া। বাসা ভাড়া নির্ধারণে দ্বিতীয় বিষয় হলো এক রুমে কতজন থাকে। তৃতীয় বিষয় হলো বাসার সুযোগ সুবিধা কেমন? যেমন লিফট থাকা, এসি থাকা ইত্যাদি।
নামাযের জন্য হাজিরা হারামে মূলত তিন সময়ে যাতায়াত করে।
হজ্জকালীন সময়ে আবাসস্থানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব হাজি বেশি চিন্তা করেন হারাম থেকে বাসা/ হোটেলের দূরত্ব নিয়ে। বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা দরকার। হজ্জের জন্য এজেন্টরা যে বাজেট নির্ধারণ করে তার মধ্যে বাসা ভাড়াই সর্বাধিক; এরপরে বিমান ভাড়া, মুয়াল্লিম ফি, খাওয়া খরচ ও অন্যান্য। বাসা ভাড়ার পরিমাণ অনেকাংশে নির্ভর করে হারাম থেকে বাসার দূরত্বের উপরে। বাসা যত নিকটে তত বেশি ভাড়া। যত দূরে তত কম ভাড়া। বাসা ভাড়া নির্ধারণে দ্বিতীয় বিষয় হলো এক রুমে কতজন থাকে। তৃতীয় বিষয় হলো বাসার সুযোগ সুবিধা কেমন? যেমন লিফট থাকা, এসি থাকা ইত্যাদি।
নামাযের জন্য হাজিরা হারামে মূলত তিন সময়ে যাতায়াত করে।
- রাত ২-৩ টায় তাহাজ্জুদের জন্য গিয়ে ফজর শেষে ফিরতে হয়।
- যুহরের সময় যাওয়া এবং আসা।
- আসরের সময় গিয়ে এশা শেষ করে আসা।
বাদ ফজর তওয়াফ যিকির, এশরাক শেষে হারাম সংলগ্ন দোকান থেকে নাস্তা করা যায়। প্রয়োজনে সাথে গামছা লুঙ্গি থাকলে হারাম সংলগ্ন বাথরুম ব্যবহার করে হারামেই বিশ্রাম করা যায়। তাতে বাসস্থান নিয়ে খামখা দুুঃশ্চিন্তা, তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনা থেকে বাঁচতে পারে। ইবাদত বন্দেগি ইত্যাদিতে অনেক বেশি সময় ও শ্রম দিয়ে অনেকের তুলনায় অনেক বেশি কিছু অর্জন করতে পারে। অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধরা যুহর/ আসর অথবা অবস্থাভেদে উভয়টা হারামে যাওয়া বাদ দিতে পারে।
নিজের থাকার স্থানকে মাহরুম করবেন না:
যে হোটেলে থাকেন, যে কক্ষে ঘুমান সেখানকারও কিছু হক আছে। নামায দু‘আ তাসবিহ পাঠ করবেন, সবাই মিলে দ্বীনি আলোচনা, প্রতিদিনের কার্যক্রম আলোচনা, আগামী দিনের পরিকল্পনা গ্রহণ ইত্যাদী করবেন। যদি কারও কোন বিশেষ সাহায্য সহযোগিতা লাগে সেগুলো কে কীভাবে কখন করবেন তা ঠিক করবেন। রুম ও হোটেল থেকে বের হওয়ার সময়, বাইরে থেকে হোটেল ও রুমে ঢোকার সময় নির্দিষ্ট দু‘আ পাঠ করবেন।
যোগাযোগ
বর্তমান সময়ে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মোবাইল ফোন। সৌদিতে ল্যান্ড ফোনের
বেশ সুবিধা আছে। তারপরেও মোবাইল ব্যবহারই সবদিক থেকে সুবধিাজনক। যে
কোন সেট নিতে পারেন। বাংলাদেশে থাকতে আগেই অথবা বিমান বন্দরে সিম সংগ্রহ করা যায়। বিমান বন্দরে কিছু কিছু কোম্পানি ফ্রি সিম প্রদান করে। মক্কা-মদিনায় বিভিন্ন কোম্পানির দোকানে এবং স্টেশনারি দোকানে বিভিন্ন ধরনের সিম পাওয়া যায়। একেক কোম্পানির একেক ধরনের প্যাকেজ হয়। মক্কাতে হারামের বেজমেন্টে বা নিচ তলার অনেক স্থানে নেটওয়ার্ক থাকে না। এছাড়া নামাযের আগে পরে তওয়াফ সাঈ-এর সময়ে মোবাইল বন্ধ রাখা অথবা কমপক্ষে সাইলেন্ট করে রাখা উচিত। রিংটোনের ব্যাপারে হাজিকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে যেন তা শব্দ দূষণ ও রুচি দূষণ মুক্ত হয়। শুধু কথোপকথন ছাড়াও মোবাইল থেকে আরও অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। অনেক সেটে ইন্টারনেট সুবিধা থাকে। এছাড়া কুরআন তিলাওয়াত দু‘আ যিকির হাদিসসহ নামায রোযা হজ্জ সংক্রান্ত নানা তথ্য সমৃদ্ধ সেটও পাওয়া যায়। যারা মোবাইল ব্যবহারে পারদর্শী তারা এমন সেট নিতে পারেন যেখানে এ সুযোগগুলো আছে। যেমন স্মার্ট ফোন। টেলিফোনে কথা বলার সময়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন আশে- পাশে যেন নামায দু‘আ যিকির সহ অন্যান্য ইবাদত এমনকি কারও ঘুমের অসুবিধা না হয়।
খাদ্য
খাদ্য আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ার প্রায় সব ধরনের খাবার সৌদিতে পাওয়া যায়। সেখানে খাদ্য ভেজালমুক্ত। যেকোন খাদ্য নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়। অধিকাংশ এজেন্ট দু’বেলা খাবার চুক্তি করে। সকালের নাস্তা যার যার। কিছু এজেন্ট তিন বেলার দায়িত্ব নেয়। রান্না সম্বন্ধে সৌদি আইন কানুন ও ট্রাফিকসহ আরও কিছু কারণে দুপুর ও রাতের খাবার মাঝে মধ্যে দু-একদিন বিলম্ব হতে পারে মক্কা ও মদিনায়। রান্নার গুণাবলী অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। মাছ গোশতের গুণাগুণ ও রান্নার স্বাদ সকলের ভাল নাও লাগতে পারে। সবজি না থাকা, গোশত সিদ্ধ না হওয়ার অভিযোগ থাকতে পারে। খুব অসুবিধা হলে অন্য ব্যবস্থা করা সম্ভব।রুমে বা হোটেলে এবং হারামের সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে ফজর, আসর, এশার পর চা- নাস্তা একসঙ্গে নিজ নিজ খরচে অথবা কয়েকজন মিলে মজা করে উপভোগ করা যায়। ব্যাগের মধ্যে চকলেট, খেজুর, বাদাম রাখা যায়। নিজেও খাওয়া যায়, রুমমেটসহ অন্যদেরকেও খাওয়ানো যায়। সাধ্য অনুযায়ী অন্যকে আপ্যায়ন করার সুযোগ নেওয়া উচিত অকৃপণভাবে। হারামের ভিতরেও সুবিধামত সময়ে আশেপাশের দেশি-বিদেশি হাজিদেরকে শরিক করা যায়। সামর্থ অনুযায়ী এর ভোগ উপভোগের সুযোগ গ্রহণ করা উচিত হাজিদের। প্রকৃত হাজিদের একটা বৈশিষ্ট্য হলো তারা মানুষকে আপ্যায়নে আনন্দ পান।মিনা আরাফা ও মুযদালিফায় খাদ্যের ব্যাপারে কিছুটা সতর্কতা নিতে হয়। আরাফাতে মুয়াল্লিম দুপুরে খাবার দেয়। মুযদালিফায় খাবারের দায়িত্ব নিজের। মিনাতে কোন কোন মুয়াল্লিম দু’বেলা খাবার দেয়, আবার অনেকে হাজিদের দায়িত্বে রাখে। সাদা ভাত সবজি ছাড়া যাদের চলেনা তাদের কিছুটা সমস্যা হয়। তেলে ভাজা ভাত, সঙ্গে ভাজা মুরগি এবং গরু/খাসি বা উট/দুম্বার গোশত দিয়ে পোলাও বিরিয়ানি পাওয়া যায় সবখানে। নানা প্রকার রুটি ও ফলমূলও যেখানে সেখানে থাকে। প্যাকেটের দই সফট ড্রিংস ইত্যাদিও হাতের কাছে পাওয়া যায়। এসবে যাদের অসুবিধা হতে পারে, তাদের জন্য চিড়া, কলা, বিস্কুট, মুড়ি, গুড় ইত্যাদি সঙ্গে রাখা ভাল।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
মক্কার আবহাওয়া শুকনো গরম। দিনে প্রচ- তাপ। কিন্তু জলীয় বাষ্প কম হওয়ায় গা ঘামে না। প্রচুর পানি, ড্রিংকস এবং রসাল ফল খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মিনা আরাফা ও মুযদালিফাতে মাল্টা কমলা জাতীয় ফল খাওয়া দরকার। মদিনাতে সারাটা দিন তাপমাত্রা বেশ ভাল থাকে এবং ঠা-া লাগার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু ফজরের নামাযের সময়ে সুন্দর একটা ঠা-া বাতাস থেকে প্রচ- সর্দি-কাশি এবং জ্বর হতে পারে। সুতরাং তাহাজ্জুদ ও ফজরে যাতায়াতের সময়ে বেশ সাবধান থাকা দরকার। চাদর মাফলার অথবা স্কার্ফ জাতীয় বড় রুমাল দিয়ে রাস্তায় চলাচলের সময় কান ও নাক ঢেকে রাখতে হয়। পায়ে মোজা ব্যবহার করতে হয়। মসজিদের ভিতরে পুরোটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সেখানেও ঠা-া লাগতে পারে। মসজিদে নববিতে পুরোটা কার্পেট থাকে। এজন্যে মুসল্লিরা এক ধরনের ফ্লুতে প্রায়ই আক্রান্ত হয়। দিনে অন্তত দুবার সুন্দরভাবে পরিষ্কারের ব্যবস্থা থাকলেও প্রত্যেকেরই নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সেক্ষেত্রে নাক মুখ ঢাকার জন্যে যে রুমাল সেটা অথবা সাধারণরুমাল গামছা জায়নামায সিজদাহর জায়গাতে বিছিয়ে নিলে কার্পেট থেকে ফ্লু সঞ্চারণ ঠেকানো যায়। যথেষ্ট সাবধান থাকার পরেও কেউ অসুস্থ হতে পারে। তাতে মন খারাপ না করে চিকিৎসা নিতে হবে। বেশি খারাপ লাগলে বিশ্রামে থাকবে, রুমে অবস্থান করবে। খুব কষ্ট নিয়ে মসজিদে যাতায়াত করা উচিত নয়।বেসরকারি হাসপাতালের সুবিধা নিজ খরচে গ্রহণ করা যায়। বাংলাদেশের হজ্জ মিশনে বাংলাদেশি ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে। রোগী সেখানে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে এবং ঔষধপত্র পেতে পারে। এছাড়া সৌদি সরকারি হাসপাতাল এবং সমাজ সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহ ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
যারা বিভিন্ন অসুখে নিয়মিত ঔষধ সেবন করেন তারা প্রয়োজনীয় ঔষধ পরিমাণমত
দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া উচিত। সৌদিতে ঔষধের দাম অনেক বেশি।
No comments:
Post a Comment