জেদ্দায় ফিরে পাসপোর্ট ফেরত দেয়। টিকিট থাকে হাজির কাছে।
গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান
গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান
- হজ্জ ক্যাম্প ঢাকা
- ঢাকা এয়ারপোর্ট
- জেদ্দা এয়ারপোর্ট
- মক্কার হোটেল
- মদিনার হোটেল
- মিনার অবস্থান
- আরাফার অবস্থান
- মুযদালিফার অবস্থান
সফরের রুট
সাধারণত বাংলাদেশি হাজিদের জন্য ৩-৪ ধরনের ব্যবস্থা করা হয়।
- ঢাকা-জেদ্দা-মক্কা। হজ্জ পর্যন্ত মক্কাতে অবস্থান এবং হজ্জ শেষে মদিনা। তারপর মদিনা থেকে জেদ্দা হয়ে ঢাকা ফেরত।
- ঢাকা-জেদ্দা-মদিনা। মদিনাতে ৮-১০ দিন থেকে তারপর মক্কায়। হজ্জ শেষে জেদ্দা হয়ে ঢাকা প্রত্যাবর্তন।
- ঢাকা-জেদ্দা-মক্কা। মক্কাতে উমরাহ শেষে মদিনা। ৮-১০ দিন পর হজ্জের জন্য মক্কা আগমন। তারপর মক্কা থেকে হজ্জ শেষে জেদ্দা হয়ে ঢাকা ফেরা।
- ঢাকা-জেদ্দা-মক্কা। মক্কাতে হজ্জের আগে হারামের কাছাকাছি থাকা। মক্কায় উমরাশেষে ৮-১০দিন মদিনায় অবস্থান। হজ্জের সময় মিনাতে ফিরে হজ্জ শেষে মিনা সংলগ্ন আজিজিয়াতে থাকা অথবা হারাম থেকে ২-৬ কিলোমিটার দূরের বাসায় অবস্থান করা। এটাকে ফিতরা বলে। এ ব্যবস্থায় খরচ কিছুটা কম। কিন্তু দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামায হারামে পড়া সম্ভব হয় না। কম খরচের প্যাকেজে হজ্জের আগে হারামের খুব নিকটের কোন হোটেলে রেখে হজ্জের পরে দূরে স্থানান্তর করে।
অনেক সময়ই এজেন্টরা হাজিদেরকে অযথা ঢাকা-জেদ্দা-মক্কা বা ঢাকা-জেদ্দা- মদিনার বিষয়ে ভুল বুঝায়। এ ব্যাপারে হাজিদের মাথা না ঘামানোই ভাল। আগে মক্কা নাকি আগে মদিনা তাতে হজ্জের কিছু যায় আসে না। বরং এ বিষয়ে একটু এদিক ওদিক হলে রাগারাগি বা কথা কাটাকাটিতে হাজিদের অনেক ক্ষতি হতে পারে। যে রুটে নিলে সুবিধা হয় সে রুটে নিক। এ ব্যাপারে হাজির দুশ্চিন্তার কোন কারণ নাই। এসব নিয়ে অযথা মন-মেজাজ খারাপ না করাই ভাল।
যাতায়াত ব্যবস্থা
সাধারণত হাজি ব্যক্তিগতভাবে নিজ খরচে বাসা থেকে বিমান বন্দরে আসে। সরকারী হাজি আশকোনা হজ্জ ক্যাম্পে আসে। কোন কোন স্থানীয় মুয়াল্লিম একই এলাকার হাজিকে ভাড়া করা গাড়ীতে বিমান বন্দর বা হজ্জ ক্যাম্পে নিয়ে আসে।
বাংলাদেশ বিমান হোক আর সৌদি বিমান হোক অথবা অন্য যে কোন বিমান হোক ঢাকা থেকে হাজিকে সরাসরি জেদ্দা বিমান বন্দরে নেয়। এ ব্যাপারে হাজির কিছুই করার নেই। জেদ্দা বিমান বন্দর থেকে মক্কা অথবা মদিনায় হোটেলে নেয়ার দায়িত্ব
সৌদি মুয়াল্লিমের। হজ্জ এজেন্টের সঙ্গে সৌদি মুয়াল্লিমের লোকজন এ দায়িত্ব পালন
করে।
জেদ্দা থেকে মক্কা বা মদিনায় হাজির ব্যাগেজও হোটেল পর্যন্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের। এজন্য হাজিকে আলাদা কোন অর্থ দিতে হয় না। তবে ইদানিং প্রায় বাসেই ড্রাইভার সুপারভাইজার এবং মালামাল উঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য হাজির কাছ
থেকে বখশিস আদায় করা হয়। এ ব্যাপারে হাজির বেশি উচ্চবাচ্য না করাই ভাল। সুযোগ-সুবিধা হলে বিষয়টি হজ্জ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে বিহিত করা যেতে পারে। তবে কোনভাবেই এটা নিয়ে দলাদলি গ্রুপিং হৈ চৈ চিৎকার করা উচিত নয়। হাজিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে দুর্বৃত্ত শয়তান নানা ওযুহাতে হাজিকে লক্ষ্য-ভ্রষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। হাজিকেও শয়তানের ফাঁদে পা না দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।
মক্কা ও মদিনায় এজেন্টের দায়িত্বে ঐতিহাসিক স্থানের নির্দিষ্ট সফর করানো হয়।
সেটার খরচ এজেন্ট বহন করে। এছাড়া কিছু দেখতে চাইলে নিজ খরচে করতে হয়। এছাড়া নফল উমরা পালনের জন্য আয়েশা মসজিদসহ অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের খরচ হাজির নিজ দায়িত্বে।
হজ্জকালীন সময়ে অর্থাৎ ৭/৮ই জিলহজ্জ মক্কা থেকে মিনায় নেওয়া, মিনা থেকে আরাফাতে গমন সৌদি মুয়াল্লিম এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আরাফাত
থেকে মুযদালিফা আগমনের সময় খুব বেশি ট্রাফিকের কারণে মুয়াল্লিমের বাস ব্যবহারে সমস্যা হয় অনেক সময়। তখন অনেকে হেঁটে আসেন। অন্যরা আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করে নিজ খরচে।
মিনাতে প্রথম দিন পাথর নিক্ষেপ শেষে হারামে আসা এবং মিনায় ফেরত যাওয়ার
দায়িত্ব সাধারণত হাজিকে নিতে হয়। মুয়াল্লিম অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখলে কখনও কখনও মুয়াল্লিমের বাস পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সময় মিলানো বেশ কষ্টকর।
মিনার তাঁবু থেকে জামারায় পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে সাধারণতঃ হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় মটর সাইকেল ও মাইক্রো নিজ
দায়িত্বে ব্যবস্থা করা যায়। তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে মিনা থেকে মক্কায় ফিরার সময়ে
মুয়াল্লিমের গাড়ি থাকে।
মিনা-মুযদালিফার মধ্যে ট্রেন চলাচল করে। নির্দিষ্ট মুয়াল্লিমের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজি এ সুবিধা নিতে পারে। ট্রেনে সময় সংক্ষিপ্ত হলেও স্টেশনের ভিড় এবং অপেক্ষার দুর্ভোগ হতে পারে।
গত কয়েক বছর মাত্র দুটি বিমান সংস্থা বাংলাদেশ থেকে হাজি বহন করার দায়িত্বে ছিল। সৌদি বিমান সংস্থা ও বাংলাদেশ বিমান। কোন্ হাজি কোন্ বিমানে যাবে এটার ব্যাপারে হাজির কিছু করণীয় নাই। বিমান সংস্থার সাথে এজেন্ট এটা নির্ধারণ করে। নানা কারণে বাংলাদেশ বিমান প্রায় সময়ই ফ্লাইট সিডিউল রক্ষা করতে পারে না। হাজিদের অনেক ভোগান্তি হয়। সৌদি বিমান এ ব্যাপারে কিছুটা ভাল হলেও সেখানেও সিডিউল বির্পযয় ঘটে। হাজিরা কষ্ট পায়। এ সব সমস্যার সমাধানে অনেক সময় এজেন্টের তেমন কিছু করার থাকেনা। আবার কখনও কখনও এজেন্ট ও বিমান সংস্থার বাড়াবাড়িও থাকে। তবে হাজিকে যে কোন অবস্থায় মাথা ও মেজাজ ঠা-া রাখতে হয় এবং অসীম র্ধৈয ধারণে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য কামনা করতে হয়। রাগারাগি গালাগালি ছটফট লাফালাফি করা হৈ চৈ বাঁধানো মোটেও উচিত নয়।
অনেক হজ্জ এজেন্ট ও স্থানীয় মুয়াল্লিম প্রথম ফ্লাইট ধরানোর চমক দিয়ে বাজার দখলের চেষ্টা করে। প্রথম ফ্লাইটে গেলে অনেক কিছু আরামে করা যায়, ভিড় কম থাকে, সবকিছুর খুব কাছে যাওয়া যায় ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় বয়ানে হাজিকে তার দিকে আকৃষ্ট করে। এ ব্যাপারে হাজির মোটেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। হজ্জ-উমরার কার্যাবলী আরাম-আয়েশে করার ব্যাপার খুবই আপেক্ষিক। ভিড়ের ব্যাপারে ব্যাখ্যাও বেশ জটিল। হাজি মহান আল্লাহর উপরে ভরসা করে তাঁকে খুশি করার অভিপ্রায়ে সাধ্যমত প্রচেষ্টা করবে। তাকে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে আরামে নাকি আরামের সাথে ভিড়ে আনন্দ-উপভোগ করাবেন এটা আল্লাহ তায়ালাই নির্ধারণ করেন। এ সর্ম্পকে এজেন্টের ব্যবসায়িক চাটুকারিতার দিকে হাজির নজর দেওয়া উচিত নয়।
দূরত্ব
জেদ্দা থেকে মক্কা - ৭২ কি.মি.
জেদ্দা থেকে মদিনা - ৪২৪ কি.মি.
মক্কা থেকে মদিনা - ৪৪৭ কি.মি.
মক্কা (হারাম) থেকে মিনা - ৮ কি.মি.
মক্কা থেকে আরাফাত - ২২ কি.মি.
আরাফাত থেকে মুযদালিফা - ৯ কি.মি.
মুযদালিফা থেকে মিনা - ৬ কি.মি.
সফর হজ্জের অংশ
হজ্জ সফরকে অন্য কোন সাধারণ সফরের মত মনে করা উচিত নয়। এটা হজ্জের অংশ। তওয়াফ সাঈ ইত্যাদী যেমন হজ্জের অংশ, হজ্জকালীন যাবতীয় যাতায়াতও হজ্জেরই অংশ। এটাকে হজ্জ থেকে আলাদা ভেবে যাচ্ছে তাই আচরণ করা উচিত নয়।হজ্জ সফরে অনেক সময় ১ ঘণ্টার পথ ১ ঘণ্টায় যাওয়া যায়, আবার অন্য কোন সময়ে বিভিন্ন কারণে ১ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ৩/৪ ঘণ্টাও লাগে। বিশেষ করে জেদ্দা থেকে মক্কা, মক্কা-মিনা, মিনা-আরাফা, আরাফা-মুযদালিফা, মক্কা-মদিনা বা মদিনা-মক্কা, মিনা-মক্কা গমনাগমনে ট্রাফিক পদ্ধতি ও অন্যান্য অজানা কারণে কল্পনাতীত বিলম্ব হতে পারে। এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার মধ্যেই কল্যাণ। চিৎকার ও হৈ চৈয়ে এ অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না বরং হাজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা
সাধারণত হাজি ব্যক্তিগতভাবে নিজ খরচে বাসা থেকে বিমান বন্দরে আসে। সরকারী হাজি আশকোনা হজ্জ ক্যাম্পে আসে। কোন কোন স্থানীয় মুয়াল্লিম একই এলাকার হাজিকে ভাড়া করা গাড়ীতে বিমান বন্দর বা হজ্জ ক্যাম্পে নিয়ে আসে।
বাংলাদেশ বিমান হোক আর সৌদি বিমান হোক অথবা অন্য যে কোন বিমান হোক ঢাকা থেকে হাজিকে সরাসরি জেদ্দা বিমান বন্দরে নেয়। এ ব্যাপারে হাজির কিছুই করার নেই। জেদ্দা বিমান বন্দর থেকে মক্কা অথবা মদিনায় হোটেলে নেয়ার দায়িত্ব
সৌদি মুয়াল্লিমের। হজ্জ এজেন্টের সঙ্গে সৌদি মুয়াল্লিমের লোকজন এ দায়িত্ব পালন
করে।
জেদ্দা থেকে মক্কা বা মদিনায় হাজির ব্যাগেজও হোটেল পর্যন্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের। এজন্য হাজিকে আলাদা কোন অর্থ দিতে হয় না। তবে ইদানিং প্রায় বাসেই ড্রাইভার সুপারভাইজার এবং মালামাল উঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য হাজির কাছ
থেকে বখশিস আদায় করা হয়। এ ব্যাপারে হাজির বেশি উচ্চবাচ্য না করাই ভাল। সুযোগ-সুবিধা হলে বিষয়টি হজ্জ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে বিহিত করা যেতে পারে। তবে কোনভাবেই এটা নিয়ে দলাদলি গ্রুপিং হৈ চৈ চিৎকার করা উচিত নয়। হাজিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে দুর্বৃত্ত শয়তান নানা ওযুহাতে হাজিকে লক্ষ্য-ভ্রষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। হাজিকেও শয়তানের ফাঁদে পা না দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।
মক্কা ও মদিনায় এজেন্টের দায়িত্বে ঐতিহাসিক স্থানের নির্দিষ্ট সফর করানো হয়।
সেটার খরচ এজেন্ট বহন করে। এছাড়া কিছু দেখতে চাইলে নিজ খরচে করতে হয়। এছাড়া নফল উমরা পালনের জন্য আয়েশা মসজিদসহ অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের খরচ হাজির নিজ দায়িত্বে।
হজ্জকালীন সময়ে অর্থাৎ ৭/৮ই জিলহজ্জ মক্কা থেকে মিনায় নেওয়া, মিনা থেকে আরাফাতে গমন সৌদি মুয়াল্লিম এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আরাফাত
থেকে মুযদালিফা আগমনের সময় খুব বেশি ট্রাফিকের কারণে মুয়াল্লিমের বাস ব্যবহারে সমস্যা হয় অনেক সময়। তখন অনেকে হেঁটে আসেন। অন্যরা আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করে নিজ খরচে।
মিনাতে প্রথম দিন পাথর নিক্ষেপ শেষে হারামে আসা এবং মিনায় ফেরত যাওয়ার
দায়িত্ব সাধারণত হাজিকে নিতে হয়। মুয়াল্লিম অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখলে কখনও কখনও মুয়াল্লিমের বাস পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সময় মিলানো বেশ কষ্টকর।
মিনার তাঁবু থেকে জামারায় পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে সাধারণতঃ হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় মটর সাইকেল ও মাইক্রো নিজ
দায়িত্বে ব্যবস্থা করা যায়। তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে মিনা থেকে মক্কায় ফিরার সময়ে
মুয়াল্লিমের গাড়ি থাকে।
মিনা-মুযদালিফার মধ্যে ট্রেন চলাচল করে। নির্দিষ্ট মুয়াল্লিমের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজি এ সুবিধা নিতে পারে। ট্রেনে সময় সংক্ষিপ্ত হলেও স্টেশনের ভিড় এবং অপেক্ষার দুর্ভোগ হতে পারে।
গত কয়েক বছর মাত্র দুটি বিমান সংস্থা বাংলাদেশ থেকে হাজি বহন করার দায়িত্বে ছিল। সৌদি বিমান সংস্থা ও বাংলাদেশ বিমান। কোন্ হাজি কোন্ বিমানে যাবে এটার ব্যাপারে হাজির কিছু করণীয় নাই। বিমান সংস্থার সাথে এজেন্ট এটা নির্ধারণ করে। নানা কারণে বাংলাদেশ বিমান প্রায় সময়ই ফ্লাইট সিডিউল রক্ষা করতে পারে না। হাজিদের অনেক ভোগান্তি হয়। সৌদি বিমান এ ব্যাপারে কিছুটা ভাল হলেও সেখানেও সিডিউল বির্পযয় ঘটে। হাজিরা কষ্ট পায়। এ সব সমস্যার সমাধানে অনেক সময় এজেন্টের তেমন কিছু করার থাকেনা। আবার কখনও কখনও এজেন্ট ও বিমান সংস্থার বাড়াবাড়িও থাকে। তবে হাজিকে যে কোন অবস্থায় মাথা ও মেজাজ ঠা-া রাখতে হয় এবং অসীম র্ধৈয ধারণে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য কামনা করতে হয়। রাগারাগি গালাগালি ছটফট লাফালাফি করা হৈ চৈ বাঁধানো মোটেও উচিত নয়।
অনেক হজ্জ এজেন্ট ও স্থানীয় মুয়াল্লিম প্রথম ফ্লাইট ধরানোর চমক দিয়ে বাজার দখলের চেষ্টা করে। প্রথম ফ্লাইটে গেলে অনেক কিছু আরামে করা যায়, ভিড় কম থাকে, সবকিছুর খুব কাছে যাওয়া যায় ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় বয়ানে হাজিকে তার দিকে আকৃষ্ট করে। এ ব্যাপারে হাজির মোটেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। হজ্জ-উমরার কার্যাবলী আরাম-আয়েশে করার ব্যাপার খুবই আপেক্ষিক। ভিড়ের ব্যাপারে ব্যাখ্যাও বেশ জটিল। হাজি মহান আল্লাহর উপরে ভরসা করে তাঁকে খুশি করার অভিপ্রায়ে সাধ্যমত প্রচেষ্টা করবে। তাকে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে আরামে নাকি আরামের সাথে ভিড়ে আনন্দ-উপভোগ করাবেন এটা আল্লাহ তায়ালাই নির্ধারণ করেন। এ সর্ম্পকে এজেন্টের ব্যবসায়িক চাটুকারিতার দিকে হাজির নজর দেওয়া উচিত নয়।
দূরত্ব
জেদ্দা থেকে মক্কা - ৭২ কি.মি.
জেদ্দা থেকে মদিনা - ৪২৪ কি.মি.
মক্কা থেকে মদিনা - ৪৪৭ কি.মি.
মক্কা (হারাম) থেকে মিনা - ৮ কি.মি.
মক্কা থেকে আরাফাত - ২২ কি.মি.
আরাফাত থেকে মুযদালিফা - ৯ কি.মি.
মুযদালিফা থেকে মিনা - ৬ কি.মি.
সফর হজ্জের অংশ
হজ্জ সফরকে অন্য কোন সাধারণ সফরের মত মনে করা উচিত নয়। এটা হজ্জের অংশ। তওয়াফ সাঈ ইত্যাদী যেমন হজ্জের অংশ, হজ্জকালীন যাবতীয় যাতায়াতও হজ্জেরই অংশ। এটাকে হজ্জ থেকে আলাদা ভেবে যাচ্ছে তাই আচরণ করা উচিত নয়।হজ্জ সফরে অনেক সময় ১ ঘণ্টার পথ ১ ঘণ্টায় যাওয়া যায়, আবার অন্য কোন সময়ে বিভিন্ন কারণে ১ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ৩/৪ ঘণ্টাও লাগে। বিশেষ করে জেদ্দা থেকে মক্কা, মক্কা-মিনা, মিনা-আরাফা, আরাফা-মুযদালিফা, মক্কা-মদিনা বা মদিনা-মক্কা, মিনা-মক্কা গমনাগমনে ট্রাফিক পদ্ধতি ও অন্যান্য অজানা কারণে কল্পনাতীত বিলম্ব হতে পারে। এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার মধ্যেই কল্যাণ। চিৎকার ও হৈ চৈয়ে এ অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না বরং হাজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
No comments:
Post a Comment