06 December, 2018

হজ্জকালীন সময়ের সাধারণ ভুলভ্রান্তি


  • ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা।
  • ময়লা হওয়া সত্ত্বেও ভুল ধারণাবশত ইহরামের কাপড় পরিবর্তন না করা।
  • নিয়ত না করে শুধু ইহরামের কাপড় পড়াতেই ইহরাম হয়ে যাওয়া মনে করা।
  •  ইহরামের  পোশাকসহ  ইহরাম  অবস্থায়,  তওয়াফ  সাঈকালীন এবং  আরাফা মুযদালিফা বা মিনায় ওকুফ চলা অবস্থায় ছবি তোলা।
  • হজ্জের ইহরাম বাঁধার জন্য অনেক অসুবিধা সত্ত্বেও কাবাতে বা হারামে যাওয়া জরুরী মনে করা।
  •  পুরুষেরা ইহরাম অবস্থায় আন্ডার গার্মেন্টস ব্যবহার করা।
  • ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত সাবান, টিস্যু, ওয়েট টিস্যু (বিমানে) দাঁতের মাজন বা তৈল ব্যবহার করা।
  • ইহরাম অবস্থায় গোসল করা ঠিক নয় মনে করে গোসল না করা।
  • তওয়াফ শুরুর অনেক আগে থেকে ইজতিবা করা এবং তওয়াফ শেষ হওয়ার পরেও ইজতিবা অব্যাহত রাখা।
  •  তওয়াফের সময় উচ্চ স্বরে নিয়ত বলা।
  •  ভিড় সত্ত্বেও হাজরে আসওয়াদ চুমু খাওয়া বা স্পর্শ করা জরুরী মনে করা।
  •  রুকনে ইয়ামিনিতে চুমু খাওয়া বা ইশারা করা।
  •  তওয়াফ সাঈতে দল ধরে উচ্চ স্বরে দু‘আ করা।
  • কাবার দেওয়ালে বরকতের আশায় কাপড় ঘষা।
  •  তওয়াফের দু’রাকাত নামায দীর্ঘ করা।
  •  তওয়াফে বিদা করার পর দীর্ঘ সময় মক্কায় অবস্থান করা।
  •  সাঈর সময়ে সাফা মারওয়ার চূড়ায় উঠার চেষ্টা করা।
  •  মাথা মু-ানোর আগে ইহরাম খোলা।
  •  মদিনায় রসূল স. এর রওজার কাছে দাঁড়িয়ে দু‘আ করা।
  • বরকতের উদ্দেশ্যে রওজাতে চুমু খাওয়া বা কাপড় ঘষা।
  •  মসজিদে নববিতে জোরে কথা বলা, চিৎকার করা।
  •  দাড়ি কাটা।
  •  মিনা আরাফা এবং মুযদালিফার নির্ধারিত সীমানায় অবস্থান না করা।
  •  তাঁবুসহ অন্যান্য অবস্থানে নিজের জন্য অযথা বেশি জায়গা দখলে রাখা।
  • মাগরিবের পূর্বেই আরাফা ত্যাগ করা।
  •  আরাফা মুযদালিফায় নামাযের ব্যাপারে মতানৈক্য করা।
  • আরাফার মাঠে জাবালে রহমতের দিকে মুখ করে দু‘আ করা।
  • আরাফার দিনকে অন্য সাধারণ দিনের মত মনে করা।
  • মুযদালিফায় মাগরিব-এশা পড়ার পর না ঘুমিয়ে গল্প করা বা জেগে থাকা।
  •  আরাফা ত্যাগের পর তালবিয়া পড়া বন্ধ করা।
  •  ১০ জিলহজ্জ তওয়াফ শেষে মিনায় ফেরত না আসা।
  •  আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে তাশরিক না করা।
  •  জামারাকে শয়তান মনে করা।
  • জামারাতে জুতা স্যান্ডেল থুথু মারা।
  •  কংকর পানিতে ধোয়া।
  • একসাথে ৭টি কংকর মারা।
  • সকল জামারাতে দু‘আ করা।
  •  নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কংকর মারা।
  •  সামর্থ থাকা সত্ত্বেও অন্যকে দিয়ে কংকর মারা।
  •  সাতটির কম বা বেশি কংকর মারা।
  •  জামারা থেকে কংকর সংগ্রহ করে ব্যবহার করা।
  •  উঁচু স্থান থেকে কংকর মারা।
  • বড় পাথর ভেঙ্গে সাত টুকরা করে সেগুলো নিক্ষেপ করা।
  •  তওয়াফে বিদার পর জামারায় পাথর নিক্ষেপ করা।
  • মক্কা-মদিনায় হেরা পর্বত আরাফাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বরকতের জন্য মাটি পাথর
  • সংগ্রহ করা।
  •  ভাল হজ্জের জন্য থাকা খাওয়া যাতায়াতের ব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া।
  •  কুরবানির জন্য এজেন্টকে টাকা দিয়ে সন্দেহে থাকা অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে
  • কুরবানি করাকে বৈধ মনে না করা।
  • না বুঝে অপ্রয়োজনে দম বা কুরবানি করা।



হজ্জের ফল না পাওয়ার কারণ

 
  • আল্লাহ তায়ালাকে খাঁটি মনে বিশ্বাস না করা এবং সত্যিকারভাবে না ভালবাসা।
  •  দৈনন্দিন জীবনের সব পরীক্ষায় ফেল করে হজ্জ ও কুরবানির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া।
  •  কুরআনের ব্যাপারে মারাত্মক দুর্বলতা সংশোধন না করে কুরআন নাযিলের স্থানে অবস্থান করা।
  •  মানুষের প্রতি এমনকি অন্য মুসলিমের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ, জিঘাংশায় পরিপূর্ণ মন পরিবর্তন না করে হজ্জ করা।
  • অবৈধ উপার্জন ও ভোগ-বিলাসে গড়ে ওঠা দেহ-মন পরিচ্ছন্ন না করে হজ্জ করা।
  • মন-মগজে প্রতিষ্ঠিত কুফরি মতবাদকে স্থায়ী রেখে হজ্জ করা।
  •  চিন্তা-চেতনা ও কর্মকা-ের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে দুর্বৃত্ত শয়তানকে উপড়ে না ফেলে হজ্জ করা।
  •  পরিবার, কর্মস্থল ও সমাজে আল্লাহ বিমুখ, ইসলাম বিরোধী নিয়ম নীতিতে সন্তুষ্ট  থেকে হজ্জ করা।
  •  বিশ্বব্যাপী  মুসলিম  নিধনে  বর্তমান  সময়ের  আবরাহা  বাহিনীকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে হজ্জ করা।
  •  হজ্জের টাকা হালাল না হওয়া।
  •  হজ্জকে প্রকৃত অর্থে সুন্দর ও সার্থক করার কোন আগ্রহ না নিয়ে হজ্জ করা।
  • শুধু দুনিয়াবী নানাবিধ সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্যে হজ্জ করা।
  • ক্স মুসলিম উম্মাহ এবং মানব জাতির কল্যাণময় জীবন ও শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য না নিয়ে হজ্জ করা।
  • মক্কা-মদিনার জাঁকজমকের আকর্ষণে হজ্জ করা।
  • হজ্জের সব আনুষ্ঠানিকতা ঠিক মত না করে হজ্জ করা।
  •  হজ্জ ফরজ না হওয়া সত্তেও অনেক কষ্ট করে ঋণ করে হজ্জ করা।
  •  প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যাথা থেকে সামলিয়ে নেওয়ার জন্য হজ্জ করা।
  • দলীয় যোগাযোগ, সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ, এমনকি ভিক্ষাবৃত্তিসহ অন্যান্য উপায়ে অর্থ উপার্জনের খেয়ালে হজ্জ করা।
  • সরকারি-বেসরকারি সংস্থার বদান্যতায় অজ্ঞতা ও অবহেলা নিয়ে হজ্জ করা।
  • নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী যখন যেমন খুশি তেমনভাবে হজ্জ করা।
  •  গতানুগতিক ভুল মানসিকতা এবং ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হজ্জ ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে হজ্জ করা। 
  •  হজ্জকে ফলপ্রসূ করা এবং  হাজিদের মধ্যে  ইপ্সিত  গুণাবলী  সৃষ্টির  উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব।
  • হাজির গুণগত মান উন্নয়নের ব্যাপারে আগ্রহ ও উদ্যোগের অভাব।
  • বেপরোয়া চলাফেরা ও পর্দার বিষয়ে দুর্বলতা।
  • মোবাইল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির যথেচ্ছ ব্যবহার।
  • কুরবানি ব্যবস্থাপনাতে স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতার অভাব।
  •  মুসলিম উম্মাহর দিক নির্দেশনামূলক খুতবা/বক্তব্যের অনুপস্থিতি এবং ভাষণ বোঝার ক্ষেত্রে দুর্বলতা।
  •  সময় সম্পদ ও শক্তি শুধুমাত্র বৈষয়িক বিষয়াদির দিকে নিয়োজিত করা।
  •  মক্কা মদিনার স্বাভাবিক সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ আমূল পরিবর্তন করে পশ্চিমা স্টাইলের থাকা খাওয়া চলাফেরার আয়োজন ব্যাপকভাবে জোরদার করা।
  •  হজ্জের সমাবেশকে উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিরাট সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার উপযুক্ত পদক্ষেপ ও ব্যবস্থাদি গ্রহণ না করা।
  •  জেদ্দা থেকে মক্কা বা মদিনার পথে বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য 
  •  বিমান বন্দরে নিরাপত্তার নামে ব্যাগেজ নিয়মে অযথা বাড়াবাড়ি, তাড়াহুড়া ও দুর্ব্যবহার।
  • হজ্জের শিক্ষা বাস্তবায়নে হাজিদের জন্যে হজ্জ পরবর্তী গঠনমূলক কর্মসূচির অভাব।

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন