৫২৬ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলী (রহঃ) মুগীরা (রাঃ)-এর সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৫২৭ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী বাকর বলেন, আমি মুগীরা (রাঃ)-এর পূত্র থেকে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। মাথার সম্মুখ ভাগ এবং পাগড়ি ও উভয় মোযার ওপর মাসেহ করলেন।
৫২৮ আবূবাকর ইবনু আবূ শায়বা ও মুহাম্মদ ইবনুল আলা (রহঃ) বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় মোযা ও পাগড়ীর ওপর মাসেহ করেছেন।
৫২৯ এ হাদীসটই সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) একই সনদে আমাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাদীসে এরুপ রয়েছে যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি ।
৫৩০ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) সুরাইয়া ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এলাম মোযার ওপর মাসেহ করার মাস’আলা জিজ্ঞেস করতো তিনি বললেন, আবূ তালিবের পূত্র (আলী (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে এ মাসআলা জিজ্ঞেস কর। কারণ সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সফর করত। অতঃপর আমরা তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিন দিন রাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং মুকীমের জন্য একদিন এক রাত। এ হাদীসের রাবী সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) যখন তার উস্তাদ আমর (রাঃ)-এর উল্লেখ করতেন তখন তাঁর প্রশংসা করতেন।
৫৩১ ইসহাক (রহঃ) হাকাম (রহঃ) থেকে একই সনদে অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৫৩২ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) সুরাইয়া ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আয়িশা (রাঃ)-কে মোযার ওপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আলীর কাছে যাও, কারণ এ ব্যাপারে সে আমার চেয়ে বেশী জানে। আমি আলী (রাঃ)-এর কাছে এলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরুপ উল্লেখ করলেন।
৫৩৩ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) বুরায়দা (বা) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতছে মক্কার দিন এক উযূ (ওজু/অজু/অযু) দিয়ে কয়েক (পাচ) ওয়াক্তের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন এবং মোযার উপরমাসেহ করেন। উমার (রাঃ)তাকে বললেন, আপনি আজ এমন কাজ করেছেন যা ইতিপূর্বে আর করেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উমার! আমি ইচ্ছে করেই এ রকম করেছি।
৫৩৪ নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী ওহামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ঘূম থেকে উঠে তখন সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পাত্রে না ঢূকায়। কারণ সে জাননা যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল।
৫৩৫ আবূ কুরায়ব ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৫৩৬ আবূবাকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন-নাকিদ, যুহায়র ইবনু ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) হুরায়রা (রাঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৫৩৭ সালামা ইবনু শাবীব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কেউ জাগ্রত হবে তখন সে তার হাত পাত্রে ঢূকাবার পূর্বে যেন তা তিনবার ধূয়ে নেয়। কারণ সে জানেনা যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল।
৫৩৮ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ), নাসরা ইবনু আলী (রহঃ), আবূ কুরায়ব (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ও আল হুলওয়ানী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)থেকে এই হাদীস বর্ণিত আছে- প্রত্যেকের বর্ণনাতেই (হাত না ধোয়া পর্যন্ত) রয়েছে। তাদের কেউ তিনবারের কথা উল্লেখ করেননি। কেবলমাত্র জাবির (রহঃ), ইবনুল মূসা য়্যিব (রহঃ) আবূ সালামা (রহঃ), আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ), আবূ সালিহ (রহঃ) ও আবূ রাযীন (রহঃ)-এর বর্ননায় তিন বার এর উল্লেখ রয়েছে।
৫৩৯ আলী ইবনু হুজর আসসা’দী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুরে মুখ দিল, তখন সে যেন তা ঢেলে ফেলে, তারপর পাত্রটি সাতবার ধূয়ে ফেলে।
৫৪০ মুহাম্মাদ ইবনুুস সাববাহ (রহঃ) আমাশ (রহঃ) থেকে এই সনদে অনুরুপ বর্ণিত আছে। কিন্তু তিনি (সে যেন তা ঢেলে ফেলে)-এর উল্লেখ করেননি।
৫৪১ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্র থেকে যখন কুকুরে পান করবে তখন সে যেন তা সাতবার ধুয়ে ফেলে।
৫৪২ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর মুখ লাগিয়ে পানকরবে তখন সে পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি হল সাতবার তা ধূয়ে ফেলে। প্রথম বার মাটি দিয়ে (ঘষে ফেলবে)।
৫৪৩ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুরে মুখ লাগিয়ে পান করবে, তখন সে পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি হলো, সাতবার ধুয়ে ফেলা।
৫৪৪ উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) ইবনুল মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে বললেন, তাদের কী হয়েছে যে, তারা কুকুরের পিছনে পড়লো? তারপর শিকারী কুকুর এবং বকরীর (পাহারা দেয়ার) কুকুর রাখার অনুমতি দেন এবং বলেন, কুকুর যখন পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান করবে তখন তা সাতবার ধুইয়ে ফেলবে এবং অষ্টমবার মাটি দিয়ে ঘষে ফেলবে।
৫৪৫ এ হাদীসটই ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আলহারিসী (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালীদ (রহঃ) শু’বা (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরুপ বর্ণিত আছে। তবে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-এর বর্ণনায় একটু অতিরিক্ত আছে। তা হল, তিনি বক্বরী পাহারা দেয়ার, শিকার করার এবং চাষাবাদ কারার কুকুর রাখার অনুমতি দিয়েছেন”। ইয়াহইয়া ছাড়া আর কারো বর্ণনায় চাষাবাদের কথা উল্লেখ নেই।
৫৪৬ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ও কুতায়বা (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্হির পানিতে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।
৫৪৭ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ)। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন পানিতে পেশাব করে পরে তা দিয়ে যেন গোসল না করে।
৫৪৮ মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (র। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি এমনটি করো না যে, প্রবাহিত নয় এমন স্থির পানিতে পেশাব করবে তারপর আবার তা থেকে গোসল করবে।
৫৪৯ হারুন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ), আবূ তাহির (রহঃ) ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমাদের কেউ যেন নাপাক অবস্থায় স্হির পানিতে গোসল না করে। রাবী বলল, আবূ হুরায়রা তখন সে কিভাবে (গোসল)করবে? তিনি বললেন, পানি উঠিয়ে করবে।
৫৫০ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ)আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দিল। তখন কিছু লোকজন তার কাছে গিয়ে দাড়াল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওকে ছেড়ে দাও এবং পেশাব করতে বাধা দিও না। রাবী বলেন, সে যখন পেশাব করল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি পানি চাইলেন। অতঃপর তা সেখালে ঢেলে দিলেন।
৫৫১ মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, একবার এক বেদূঈন মসজিদের মধ্যে এক কোণে দাঁড়িয়ে সেখানেই পেশাব করে দিল। অতঃপর লোকজন এতে হৈ চৈ শুরু করে দিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওকে ছেড়ে দাও। তার পেশাব শেষ হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বালতি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তার পেশাবের ওপর ঢেলে দিলেন।
৫৫২ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ইসহাকের চাচা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বসেছিলাম ইতিমধ্যে এক বেদুঈন এল। সে দাড়িয়ে মসজিদেই পেশাব করতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ বলতে লাগল, “থাম, থাম”। রাবী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা ওকে বাধা দিও না, ছেড়ে দাও ওকে। অতঃপর তাঁরা তাকে ছেড়ে দিল, সে পেশাব করা শেষ করল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন, “দেখ এই যে মসজিদগুলো এতে পেশাব করা বা একে কোন রকম নাপাক করা উচিৎ নয়। এ সব তো কেবল আল্লাহর যিকির করা, সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য”। অথবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের কিছু বলেছিলেন। রাবী বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাওমের কোন এক লোককে নির্দেশ দিলেন-সে এক বালতি পানি নিয়ে এল। তিনি তা সে পেশাবের ওপর ঢেলে দিলেন।
৫৫৩ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে শিশুদেরকে নিয়ে আসা হত। তিনি তাদের জন্য বরকতের দু’আ করতেন এবং কিছু চিবিয়ে তাদের মুখে দিতেন। একবার একটি শিশুকে তাঁর কাছে আনা হল। অতঃপর শিশুটি তাঁর শরীরে পেশাব করে দিল। অতঃপর তিনি পানি আনিয়ে পেশাবের জায়গায় ঢেলে দিলেন। আর (ভালো করে) তা ধূইলেন না।
৫৫৪ যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে একবার একটি শিশুকে আনা হল। শিশু তাঁর কোলে পেশাব করে দিল। অতঃপর পানি আনিয়ে পেশাবে ঢেলে দিলেন।
৫৫৫ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) হিশাম থেকে এই সনদে ইবনু নুমায়রের হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন।
৫৫৬ মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনুল মুহাজির (রহঃ) কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার এক শিশু পূত্রকে যে তখনো খাবার খেতে পারত না-নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোলে দিলেন। শিশুটি পেশাব করে দিল। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] শুধু পানি ছিটিয়ে দেয়ার বেশী আর কিছু করলেন না।
৫৫৭ এ হাদীসটই ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ), আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়রা (রহঃ), আমর আন নাকিদ (রহঃ) ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) সকলেই ইবনু উয়ায়না (রহঃ)-এর মাধ্যমে (রহঃ) থেকে এই সনদে বর্ণনা করেন এবং তিনি বলেন, অতঃপর তিনি [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] পানি এনে তা ছিটিয়ে দিলেন।
৫৫৮ হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা ইবনু মাসঊদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) যিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বায়আত গ্রহণকারীনী, প্রথম মুহাজির মহিলাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন বানূ আসা’দ ইবনু খূযায়মা গোত্রের উককাশা ইবনু মিহসান (রাঃ)-এর বোন। রাবী বলেন, তিনি (উম্মু কায়স) আমাকে জানোান যে, তিনি একবার তার এক পূত্রকে যে তখনো খাবার গ্রহণের বয়সে পৌছেনি তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে এলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন, তিনি আমাকে জানোান যে, তার সে পুত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে পেশাব করে দিল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনিয়ে তাঁর কাপড়ের ওপর ছিটিয়ে দিলেন, এবং তা ভাল করে ধূলেন না।
৫৫৯ ইয়াইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ)আলকামা (রহঃ) ও আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। একবার এক ব্যাক্তি আয়িশা (রাঃ)-এর মেহমান হল। অতঃপর সকালে সে তার কাপড় ধুতে লাগল। তখন আয়িশা (রাঃ)বললেন, তুমি যদি (কাপড়ে) তা (বীর্য)দেখতে পাও তবে তোমার জন্য শুধু সে জায়গাটা ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট হবে। আর যদি তা না দেখ তবে তার আশে পাশে পানি ছিটিয়ে দিবে। আমি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে তা নখ দিয়ে ভাল করে আচড়ে ফেলতাম। অতঃপর তিনি তা পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন।
৫৬০ উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বীর্য সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তা (বীর্য) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে নখ দিয়ে আচড়ে ফেলতাম।
৫৬১ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ), ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে করা সম্পর্কে আবূ শা’শা থেকে খালিদের হাদীসের অনুরুপ বর্ণিত আছে।
৫৬২ মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ)-এর সুত্রে ও আয়িশা (রাঃ)থেকে অনুরুপ হাদীস বর্ণিত আছে।
৫৬৩ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আমর ইবনু মায়মুন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সূলায়মান ইবনু ইয়াসার কে জিজ্ঞেস করলাম যে, বীর্য কোন লোকের কাপড়ে লেগে গেলে সে শুধু সেই বীর্য ধুয়ে ফেলবে না কাপড়টাই ধুয়ে ফেলবে? তিনি বললেন, আয়িশা (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর্য ধুয়ে ফেলতেন। তারপর সেই কাপড়েই সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য বেরিয়ে যেতেন আর আমি (পেছন থেকে) সে কাপড়ে ধোয়ার চিহ্ন দেখতে পেতাম।
৫৬৪ আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ), আবূকুরায়ব (রহঃ) ও ইবনু আবূ যায়িদা (রহঃ) এরা সকলেই আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ) থেকে এ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু যায়িদার হাদীসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর্য ধুইতেন। আর ইবনুল মুবারাক (রহঃ) ও আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে যে, আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে ধুয়ে ফেলতাম।
৫৬৫ আহমাদ ইবনু জাওয়াস আল হানাফী আবূ আসিম (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু শিহাব আল খাওলানী (রহঃ)- থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আয়িশা (রাঃ)-এর মেহমান ছিলাম। (রাতে) আমার কাপড়েই স্বপ্নদোষ হল। আমি সে কাপড় দুটি পানিতে ডুবিয়ে ধুচ্ছিলাম। আয়িশা (রাঃ)-এর এক দাসী আমাকে এরুপ করতে দেখে তাঁকে গিয়ে জানাল। আয়িশা (রাঃ) লোক পাঠিয়ে আমাকে ডেকে বললেন, তুমি তোমার কাপড় দুটিকে এরুপ করছ কেন? তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু শিহাব) বলেন, আমি বললাম, ঘুমন্ত ব্যাক্তি তার স্বপ্নে যা দেখে আমি তাই দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি কি কাপড় দুটিতে কিছু দেখতে পেয়েছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি যদি কিছু দেখ তে, তবে তা ধুয়ে ফেলতে। আমি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাপড় থেকে শুকনো বীর্য নখ দিয়ে আচড়ে ফেলতাম।
৫৬৬ আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা অন্য সুত্রে ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলল, আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কি করবে? তিনি বললেন, (প্রথমে) তা নখ দিয়ে আচড়ে ফেলবে। এরপর পানি দিযে রগড়িয়ে ফেলবে, তারপর ধুয়ে ফেলবে, তারপর তাতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে।
৫৬৭ আবূ কুরায়ব (রহঃ) ও আবূ তাহির (রহঃ)-প্রত্যেকেই হিশাম ইবনু উরওয়া (রহঃ) থেকে এ সনদে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের হাদীস (উপরোক্ত)-এর অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
৫৬৮ আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ), আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি বললেন, জেনে রাখ এ কবর বাসীদ্বয়কে আযাব দেয়া হচ্ছিল তবে কোন কঠিন (কাজের) দরুন তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছেনা। তাদের একজন চোগলখুরী করত। আর অপরজন তার পেশাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। তিনি [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেন, অতঃপর তিনি খেজুরের একটি কাচা ডাল আনিয়ে দু টুকরা করলেন। তারপর এ কবরের উপর একটি এবং অন্য কবরের উপর একটি পুতে দিলেন। এরপর বললেন, হয়ত বা এদের আযাব কিছুটা লাঘব করা হবে যতদিন পর্যন্ত এ দুটি না শুকিয়ে যাবে।
৫৬৯ এ হাদীসটই আহমাদ ইবনু ইউসুফ আল -আযদী (রহঃ) সুলায়মান আল আ’মাশ থেকে এ সনদে বর্ণিত আছে। তবে তিনি বলেন, আর অপরজন পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না”।
No comments:
Post a Comment