01 March, 2018

মেয়ে শিশু অর্থসহ মেয়ে শিশুদের ইসলামী নাম (পূর্ণাঙ্গ)


১ - আতকিয়া আজরা - ধার্মিক কুমারী

২ - আতকিয়া আসিমা - ধার্মিক সতী নারী

৩ - আতকিয়া আয়মান - ধার্মিক শুভ

৪ - আতকিয়া আতিয়া - ধার্মিক কুমারী

৫ - আতকিয়া আদিবা - ধার্মিক শিষ্টাচার

৬ - আতকিয়া আদিলাহ - ধার্মিক ন্যায় বিচারক

৭ - আতকিয়া আবিদা - ধার্মিক এবাদতকারিণী

৮ - আতকিয়া আফিয়া - ধার্মিক পুর্ণবতী

৯ - আতকিয়া আকিলা - ধার্মিক বুদ্ধিমতী

১০ - আতকিয়া আনতারা - ধার্মিক বীরাঙ্গনা

১১ - আতকিয়া আনজুম - ধার্মিক তারা

১২ - আতকিয়া আয়েশা - ধার্মিক সমৃদ্ধিশীলা

১৩ - আতকিয়া আমিনা - ধার্মিক বিশ্বসী

১৪ - আতকিয়া আজিজা - ধার্মিক সম্মানিতা

১৫ - আতকিয়া আফলাহ - ধার্মিক অধিক কল্যাণকর

১৬ - আতকিয়া আনিকা - ধার্মিক রূপসী

১৭ - আতকিয়া বশীরাহ - ধার্মিক উজ্জ্বল

১৮ - আতকিয়া বিলকিস - ধার্মিক রাণী

১৯ - আতকিয়া বাসিমাহ - ধার্মিক হাস্যজ্জ্বল

২০ - আতকিয়া বুশরা - ধার্মিক শুভ নির্দশন

২১ - আতকিয়া ফাহমিদা - ধার্মিক বুদ্ধিমতী

২২ - আতকিয়া ফারজানা - ধার্মিক বিদূষী

২৩ - আতকিয়া ফাবলীহা - ধার্মিক অত্যন্ত ভালো

২৪ - আতকিয়া ফাইজাহ - ধার্মিক বিজয়িনী

২৫ - আতকিয়া ফারিহা - ধার্মিক সুখী

২৬ - আতকিয়া ফওজিয়া - ধার্মিক সফল

২৭ - আতকিয়া ফাখেরা - ধার্মিক মর্যাদাবান

২৮ - আতকিয়া ফান্নানা - ধার্মিক শিল্পী

২৯ - আতকিয়া ফঅইরুজ - ধার্মিক সমৃদ্ধিশীলা

৩০ - আতকিয়া গালিবা - ধার্মিক বিজয়িনী

৩১ - আতকিয়া হামিদা - ধার্মিক প্রশংসাকারিণী

৩২ - আতকিয়া হামিনা - ধার্মিক বান্ধবী

৩৩ - আতকিয়া জলিলা - ধার্মিক মহতী

৩৪ - আতকিয়া জমিলা - ধার্মিক রূপসী

৩৫ - আতকিয়া লাবীবা - ধার্মিক জ্ঞানী

৩৬ - আতকিয়া মাদেহা - ধার্মিক প্রশংসাকারিণী

৩৭ - আতকিয়া মামুদা - ধার্মিক প্রশংসিতা

৩৮ - আতকিয়া মুরশিদা - ধার্মিক পথপদর্শিক

৩৯ - আতকিয়া মাসুদা - ধার্মিক সৌভাগ্যবতী

৪০ - আতকিয়া মাসুমা - ধার্মিক নিষ্পাপ

৪১ - আতকিয়া মালিহা - ধার্মিক রূপসী

৪২ - আতকিয়া মুনওয়রা - ধার্মিক দীপ্তিমান

৪৩ - আতকিয়া মোমেনা - ধার্মিক বিশ্বাসী

৪৪ - আতকিয়া মায়মুনা - ধার্মিক ভাগ্যবতী

৪৫ - আতকিয়া মুকাররামা - ধার্মিক সম্মানিতা

৪৬ - আতকিয়া সাদিয়া - ধার্মিক সৌভাগ্যবতী

৪৭ - আতকিয়া সাঈদা - ধার্মিক পুণ্যবতী

৪৮ - আতকিয়া সামিহা - ধার্মিক দানশীল

৪৯ - আজরা আসিমা - কুমারী সতী নারী

৫০ - আজরা আতিয়া - কুমারী দানশীল

৫১ - আজরা আদিবা - কুমারী শিষ্টচারী

৫২ - আজরা আদিলাহ - কুমারী ন্যায বিচারক

৫৩ - আজরা আবিদা - কুমারী এবাদতকারিণী

৫৪ - আজরা আফিয়া - কুমারী পুণ্যবতী

৫৫ - আজরা আতিকা - কুমারী সুন্দর

৫৬ - আজরা আফিফা - কুমারী সাধ্বী

৫৭ - আজরা আকিলা - কুমারী বুদ্ধিমতী

৫৮ - আজরা আনতারা - কুমারী বীরাঙ্গনা

৫৯ - আজরা বিলকিস - কুমারী রানী

৬০ - আজরা ফাহমিদা - কুমারী বুদ্ধিমতী

৬১ - আজরা গালিবা - কুমারী বিজয়িনী

৬২ - আজরা হামিদা - কুমারী প্রশংসাকারিণী

৬৩ - আজরা হামিনা - কুমারী বান্ধবী

৬৪ - আজরা হোমায়রা - কুমারী সুন্দরী

৬৫ - আজরা জমীলা - কুমারী সুন্দরী

৬৬ - আজরা মাহবুবু - কুমারী প্রিয়া

৬৭ - আজরা মাহমুদা - কুমারী প্রশংসিতা

৬৮ - আজরা মাসুদা - কুমারী সৌভাগ্যবতী

৬৯ - আজরা মাসুমা - কুমারী নিষ্পাপ

৭০ - আজরা মালিহা - কুমারী রূপসী

৭১ - আজরা মুমতাজ - কুমারী মনোনীতা

৭২ - আজরা মায়মুনা - কুমারী ভাগ্যবতী

৭৩ - আজরা মুকাররামা - কুমারী সম্মানিতা

৭৪ - আজরা রুমালী - কুমারী কবুতর

৭৫ - আজরা রাশিদা - কুমারী বিদূষী

৭৬ - আজরা রায়হানা - কুমারী সুগন্ধী ফুল

৭৭ - আজরা শর্মিলা - কুমারী লজ্জাবতী

৭৮ - আজরা শাকিলা - কুমারী সুরূপ

৭৯ - আজরা সাবিহা - কুমারী রূপসী

৮০ - আজরা সাজিদা - কুমারী ধার্মিক

৮১ - আজরা সাদিয়া - কুমারী সৌভাগ্যবতী

৮২ - আজরা সাঈদা - কুমারী পুণ্যবতী

৮৩ - আজরা সামিহা - কুমারী দানশীল

৮৪ - আজরা তাহিরা - কুমারী সতী

৮৫ - আতিয়া আনিসা - দানশীলা কুমারী

৮৬ - আতিয়া আদিবা - দানশীলা শিষ্টাচার

৮৭ - আতিয়া আফিয়া - দানশীলা পুণ্যবতী

৮৮ - আতিয়া আফিফা - দানশীলা সাধ্বী

৮৯ - আতিয়া আয়েশা - দানশীলা সমৃদ্ধিশীলা

৯০ - আতিয়া আজিজা - দানশীলা সম্মানিতা

৯১ - আতিয়া বিলকিস - দানশীলা রানী

৯২ - আতিয়া ফারিহা - দানশীলা সুখী

৯৩ - আতিয়া ফাইরুজ - দানশীলা সমৃদ্ধিশীলা

৯৪ - আতিয়া হামিদা - দানশীলা বান্ধবী

৯৫ - আতিয়া মাহমুদা - দানশীলা প্রশংসিতা

৯৬ - আতিয়া মাসুদা - দানশীলা সৌভাগ্যবতী

৯৭ - আতিয়া রাশীদা - দানশীলা বিদূষী

৯৮ - আতিয়া শাহনা - দানশীলা রাজ কুমারী

৯৯ - আতিয়া সানজীদাহ - দানশীলা বিবেচক

১০০ - আতিয়া শাকেরা - দানশীলা কৃতজ্ঞ

১০১ - আতিয়া তাহিরা - দানশীলা সতী

১০২ - আতিয়া ওয়াসিমা - দানশীলা সুন্দরী

১০৩ - আতিয়া যয়নাব - দানশীলা রূপসী

১০৪ - আফিয়া আসিমা - পুণ্যবতী সতী নারী

১০৫ - আফিয়া আয়মান - পুণ্যবতী শুভ

১০৬ - আফিয়া আনিসা - পুণ্যবতী কুমারী

১০৭ - আফিয়া আদিবা - পুণ্যবতী শিষ্টাচারী

১০৮ - আফিয়া আদিলাহ - পুণ্যবতী ন্যায়বিচারক

১০৯ - আফিয়া আবিদা - পুণ্যবতী এবাদতকারিণী

১১০ - আফিয়া আফিফা - পুণ্যবতী সাধবী

১১১ - আফিয়া আকিলা - পুণ্যবতী বুদ্ধিমতী

১১২ - আফিয়া আনতারা - পুণ্যবতী বীরাঙ্গনা

১১৩ - আফিয়া আনজুম - পুণ্যবতী তারা

১১৪ - আফিয়া আয়েমা - পুণ্যবতী সমৃদ্ধিশালী

১১৫ - আফিয়া আমিনা - পুণ্যবতী বিশ্বাসী

১১৬ - আফিয়া আজাজা - পুণ্যবতী

১১৭ - আফিয়া বিলকিস - পুণ্যবতী

১১৮ - আফিয়া ফাহমিদা - পুণ্যবতী

১১৯ - আফিয়া ফারজানা - পুণ্যবতী

১২০ - আফিয়া হামিদা - পুণ্যবতী

১২১ - আফিয়া হোমায়রা - পুণ্যবতী

১২২ - আফিয়া মাজেদা - পুণ্যবতী

১২৩ - আফিয়া মাদেহা - পুণ্যবতী

১২৪ - আফিয়া মুবাশশিরা - পুণ্যবতী

১২৫ - আফিয়া মাহমুদা - পুণ্যবতী

১২৬ - আফিয়া মুরশিদা - পুণ্যবতী

১২৭ - আফিয়া মাসুদা - পুণ্যবতী

১২৮ - আফিয়া মুতাহারা - পুণ্যবতী

১২৯ - আফিয়া মাসুমা - পুণ্যবতী

১৩০ - আফিয়া মালিহা - পুণ্যবতী

১৩১ - আফিয়া মুনাওয়ারা - পুণ্যবতী

১৩২ - আফিয়া মুকাররামা - পুণ্যবতী

১৩৩ - আফিয়া নাওয়ার - পুণ্যবতী

১৩৪ - আফিয়া শাহানা - পুণ্যবতী

১৩৫ - আফিয়া সাইয়ারা - পুণ্যবতী রাজকুমারী

১৩৬ - আফিয়া জাহিন - পুণ্যবতী বিচক্ষণ

১৩৭ - আফিয়া যয়নাব - পুণ্যবতী রূপসী

১৩৮ - আনতারা আসীমা - বীরাঙ্গনা সতী নারী

১৩৯ - আনতারা আনিসা - বীরাঙ্গনা কুমারী

১৪০ - আনতারা আজিজা - বীরাঙ্গনা সম্মানিতা

১৪১ - আনতারা আনিকা - বীরাঙ্গনা সুন্দরী

১৪২ - আনতারা বিলকিস - বীরাঙ্গনা রানী

১৪৩ - আনতারা ফাহমিদা - বীরাঙ্গনা বুদ্ধিমতী

১৪৪ - আনতারা ফায়রুজ - বীরাঙ্গনা সমৃদ্ধিশীলা

১৪৫ - আনতারা হামিদা - বীরাঙ্গনা প্রশংসাকারিণী

১৪৬ - আনতারা হোমায়রা - বীরাঙ্গনা সুন্দরী

১৪৭ - আনতারা খালিদা - বীরাঙ্গনা অমর

১৪৮ - আনতারা লাবীবা - বীরাঙ্গনা জ্ঞানী

১৪৯ - আনতারা মুবাশশিরা - বীরাঙ্গনা সুসংবাদ বহনকারী

১৫০ - আনতারা মুরশিদা - বীরাঙ্গনা পথপ্রর্শিকা

১৫১ - আনতারা মালিহা - বীরাঙ্গনা রূপসী

১৫২ - আনতারা মুকাররামা - বীরাঙ্গনা সম্মানিতা

১৫৩ - আনতারা রাইদাহ - বীরাঙ্গনা নেত্রী

১৫৪ - আনতারা রাশীদা - বীরাঙ্গনা বিদূষী

১৫৫ - আনতারা রইসা - বীরাঙ্গনা রানী

১৫৬ - আনতারা শাহানা - বীরাঙ্গনা রানী

১৫৭ - আনতারা সাবিহা - বীরাঙ্গনা রূপসী

১৫৮ - আনতারা সামিহা - বীরাঙ্গনা দানশীল

১৫৯ - আনতারা শাকেরা - বীরাঙ্গনা কৃতজ্ঞ

১৬০ - আনতারা যাইমা - বীরাঙ্গনা নেত্রী

১৬১ - আফরা আবরেশমী - সাদা সিল্ক

১৬২ - আফরা আসিয়া - সাদা স্তম্ভ

১৬৩ - আফরা আনজুম - সাদা তারা

১৬৪ - আফরা আনাম - সাদা মেঘ

১৬৫ - আফরা আনিকা - সাদা রূপসী

১৬৬ - আফরা বশীরাহ - সাদা উজ্জ্বল

১৬৭ - আফরা গওহর - সাদা মুক্তা

১৬৮ - আফরা নাওয়ার - সাদা ফুল

১৬৯ - আফরা রুমালী - সাদা কবুতর

১৭০ - আফরা রায়হানা - সাদা সুগন্ধী ফূল

১৭১ - আফরা সাইয়ারা - সাদা তারা

১৭২ - আফরা ওয়াসিমা - সাদা রূপসী

১৭৩ - আফরা ইয়াসমিন - সাদা জেসমিন ফুল

১৭৪ - আসমা আফিয়া - অতুলনীয় পুণ্যবতী

১৭৫ - আসমা আতিকা - অতুলনীয় সুন্দর

১৭৬ - আসমা আকিলা - অতুলনীয় বুদ্ধিমতী

১৭৭ - আসমা আনিকা - অতুলনীয় রূপসী

১৭৮ - আসমা আতেরা - অতুলনীয় সুগন্ধী

১৭৯ - আসমা গওহর - অতুলনীয় মুক্তা

১৮০ - আসমা হোমায়রা - অতুলনীয় সু্ন্দরী

১৮১ - আসমা মাসুদা - অতুলনীয় সৌভাগ্যবতী

১৮২ - আসমা মালিহা - অতুলনীয় রূপসী

১৮৩ - আসমা নাওয়ার - অতুলনীয় ফূল

১৮৪ - আসমা রায়হানা - অতুলনীয় সুগন্ধী ফুল

১৮৫ - আসমা শাহানা - অতুলনীয় রাজকুমারী

১৮৬ - আসমা সাবিহা - অতুলনীয় রূপসী

১৮৭ - আসমা সাদিয়া - অতুলনীয় সৌভাগ্যবতী

১৮৮ - আসমা তাবাস্সুম - অতুলনীয় হাসি

১৮৯ - আসমা তারান্নুম - অতুলনীয় গুনগুন শব্দ

১৯০ - আসমা ওয়াসীমা - অতুলনীয় রূপসী

১৯১ - আসমা ইয়াসমিন - অতুলনীয় জেসমিন সু্ন্দর ফুল

১৯২ - আবলাহ আনিসা - নিঁখুতভাবে গঠিত কুমারী

১৯৩ - আতিকা বাশাশাত - সুন্দর প্রনোচ্ছলতা

১৯৪ - আনিকা তাহসিন - সুন্দর উত্তম

১৯৫ - আনিকা তাবাস্সুম - সুন্দর হাসি

১৯৬ - আনিকা বুশরা - সুন্দর শুভ নিদর্শন

১৯৭ - আনিকা গওহর - সুন্দর মুক্তা্

১৯৮ - আনিকা নাওয়ার - সুন্দর ফুল

১৯৯ - আনিকা রায়হানা - সুন্দর সুগন্ধি ফুল

২০০ - আনিকা শামা - সুন্দর মোমবাতি

২০১ - আনিকা শর্মিলা - সুন্দর লজ্জাবতী

২০২ - ফাবলিহা আফিয়া - অত্যন্ত ভালো পূণ্যবতী

২০৩ - ফাবলিহা আতেরা - অত্যন্ত ভালো সুগন্ধী

২০৪ - ফাবলিহা আফাফ - অত্যন্ত চারিত্রিক শুদ্ধতা

২০৫ - ফাবলিহা বুশরা - অত্যন্ত ভালো শুভ নিদর্শন

২০৬ - ফাবলিহা আনবার - অত্যন্ত ভালো শুভ সংবাদ

২০৭ - ফারহাত লামিসা - আনন্দ অনুভূতি

২০৮ - ফওজিয়া আবিদা - সফল এবাদতকারিণী

২০৯ - ফওজিয়া আফিয়া - সফর পূণ্যবতী

২১০ - ফওজিয়া ফারিহা - সফল সুখী

২১১ - ফাইরুজ আনিকা - সমৃদ্ধিশীল সুন্দরী

২১২ - ফাইরুজ গওহর - সমৃদ্ধিশীলা মুক্তা

২১৩ - ফাইরুজ হোমায়রা - সমৃদ্ধিশীলা সুন্দরী

২১৪ - ফাইরুজ লুবনা - সমৃদ্ধিশীলা বৃক্ষ

২১৫ - ফাইরুজ মাসুদা - সমৃদ্ধিশীলা সৌভাগ্যবতী

২১৬ - ফাইরুজ মালিহা - সমৃদ্ধিশীলা রূপসী

২১৭ - ফাইরুজ নাওয়ার - সমৃদ্ধিশীলা ফুল

২১৮ - ফাইরুজ বিলকিস - সমৃদ্ধিশীলা রানী

২১৯ - ফাইরুজ শাহানা - সমৃদ্ধিশীলা রাজকুমারী

২২০ - ফাইরুজ সাদাফ - সমৃদ্ধিশীলা ঝিনুক

২২১ - ফাইরুজ ওয়াসিমা - সমৃদ্ধিশীলা সুন্দরী

২২২ - ফাইরুজ ইয়াসমিন - সমৃদ্ধিশীলা সুন্দর

২২৩ - ফারজানা ফাইজা - বিদূষী বিজিয়ীনী

২২৪ - ফাহমিদা ফাইজা - বুদ্ধিমতী বিজয়ীনী

২২৫ - হোমায়রা আদিবা - সুন্দরী শিষ্টাচারী

২২৬ - হোমায়রা আফিয়া - সুন্দরী পূণ্যবতী

২২৭ - হোমায়রা আনজুম - সুন্দরী তারা

২২৮ - হোমায়রা বিলকিস - সুন্দরী রানী

২২৯ - হোমায়রা ইয়াসমিন - সুন্দর জেসমিন ফূল

২৩০ - হোমায়রা আসিমা - সুন্দরী সতী নারী

২৩১ - হোমায়রা আতিয়া - সুন্দরী দানশীলা

২৩২ - হোমায়রা আনিসা - সুন্দরী কুমারী

২৩৩ - মায়িশা বিলকিস - সুখী জীবন যাপনকারী বুদ্ধিমতী

২৩৪ - মায়িশা ফাহমিদা - সুখী জীবন যাপনকারী বুদ্ধিমতী

২৩৫ - মায়িশা ফারজানা - সুখী জীবন যাপনকারী বিদূষী

২৩৬ - মায়িশা মালিহা - সুখী জীবন যাপনকারী সুন্দরী

২৩৭ - মায়িশা মুমতাজ - সুখী জীবন যাপনকারী মনোনীত

২৩৮ - মায়িশা মুনাওয়ারা - সুখী জীবন যাপনকারী দীপ্তিমান

২৩৯ - মায়িশা সামিহা - সুখী জীবন যাপনকারী দানশীল

২৪০ - মাহফুজা আসিমা - নিরাপদ সতী নারী

২৪১ - মাহফুজা আনজুম - নিরাপদ তারা

২৪২ - মাহফুজা আনাম - নিরাপদ মেঘ

২৪৩ - মাহফুজা আনিকা - নিরাপদ সুন্দরী

২৪৪ - মাহফুজা বিলকিস - নিরাপদ রানী

২৪৫ - মাহফুজা ফারিহা - নিরাপদ সুখী

২৪৬ - মাহফুজা গওহর - নিরাপদ মুক্তা

২৪৭ - মাহফুজা লুবনা - নিরাপদ বৃক্ষ

২৪৮ - মাহফুজা মালিয়াত - নিরাপদ সম্পদ

২৪৯ - মাহফুজা মাসুদা - নিরাপদ সৌভাগ্যবতী

২৫০ - মাহফুজা মুতাহারা - নিরাপদ পবিত্র

২৫১ - মাহফুজা মায়িশা - নিরাপদ সুখী জীবন যাপনকারিণী

২৫২ - মাহফুজা মাসুমা - নিরাপদ নিষ্পাপ

২৫৩ - মাহফুজা মালিহা - নিরাপদ সুন্দরী

২৫৪ - মাহফুজা নাওয়ার - নিরাপদ ফূল

২৫৫ - মাহফুজা রুমালী - নিরাপদ কবুতর

২৫৬ - মাহফুজা রিমা - নিরাপদ সাদা হরিণ

২৫৭ - মাহফুজা রাহাত - নিরাপদ শান্তি

২৫৮ - মাহফুজা শাহানা - নিরাপদ রাজকুমারী

২৫৯ - মাহফুজা সাদাফ - নিরাপদ ঝিনুক

২৬০ - মাহফুজা সাবিহা - নিরাপদ রূপসী

২৬১ - মাহফুজা সিমা - নিরাপদ কপাল

২৬২ - মাহফুজা মুমতাজ - সুন্দরী মনোনীত

২৬৩ - মাহফুজা মুনাওয়ারা - সুন্দরী দীপ্তিমান

২৬৪ - নাজিফা আনজুম - পবিত্র তারা

২৬৫ - নাজিফা তাবাস্সুম - পবিত্র হাসি

২৬৬ - নাজিফা আনজুম - বিরল তারা

২৬৭ - নুঝাত তাবাস্সুম - প্রফুল্ল হাসি

২৬৮ - নাফিয়া আয়মান - মূল্যবান শুভ

২৬৯ - নাফিয়া আতেরা - মূল্যবান সুগন্ধী

২৭০ - নাফিয়া আতিয়া - মূল্যবান উপহার

২৭১ - নাফিয়া আনজুম - মূল্যবান তারা

২৭২ - নাফিয়া গওহর - মূল্যবান মুক্তা

২৭৩ - নাফিয়া লুবাবা - মূল্যবান খাঁটি

২৭৪ - নাফিয়া লুবনা - মূল্যবান বৃক্ষ

২৭৫ - নাফিয়া মালিয়াত - মূল্যবান সম্পদ

২৭৬ - নাফিয়া নাওয়াল - মূল্যবান উপহার

২৭৭ - নাফিয়া নাওয়ার - মূল্যবান ফুল

২৭৮ - নাফিয়া রুমালী - মূল্যবান কবুতর

২৭৯ - নাফিয়া রুম্মান - মূল্যবান ডালিম

২৮০ - নাফিয়া রায়হানা - মূল্যবান সুগন্ধী ফূল

২৮১ - নাফিয়া শামীম - মূল্যবান সুগন্ধী

২৮২ - নাফিয়া শামা - মূল্যবান মোমবাতি

২৮৩ - নাফিয়া সাদাফ - মূল্যবান ঝিনুক

২৮৪ - নাফিয়া ইয়াসমিন - মূল্যবান জেসমিন ফূল

২৮৫ - নাফিয়া নায়লাহ - আনন্দ অর্জনকারিণী

২৮৬ - নিশাত আতিয়া - আনন্দ উপহার

২৮৭ - নিশাত আনজুম - আনন্দ তারা

২৮৮ - নিশাত আফাফ - আনন্দ চারিত্রিক শুদ্ধতা

২৮৯ - নিশাত আনাম - আনন্দ মেঘ

২৯০ - নিশাত আনবার - আনন্দ সুগন্ধী

২৯১ - নিশাত আফলাহ - আনন্দ অধিক কল্যাণকর

২৯২ - নিশাত ফারহাত - আনন্দ উল্লাস

২৯৩ - নিশাত গওহর - আনন্দ মুক্তা

২৯৪ - নিশাত লুবনা - আনন্দ বৃক্ষ

২৯৫ - নিশাত মাহিয়াত - আনন্দ উল্লাস

২৯৬ - নিশাত মুনাওয়ারা - আনন্দ দীপ্তমান

২৯৭ - নিশাত মালিয়াত - আনন্দ সম্পদ

২৯৮ - নিশাত নাবিলাহ - আনন্দ ভদ্র

২৯৯ - নিশাত নাওয়াল - আনন্দ উপহার

৩০০ - নিশাত নাওয়ার - আনন্দ ফুল

৩০১ - নিশাত নুঝাত - আনন্দ প্রফুল্ল

৩০২ - নিশাত রুমালী - আনন্দ কবুতর

৩০৩ - নিশাত রাবাব - আনন্দ সাদা মেঘ

৩০৪ - নিশাত রাবিয়াহ - আনন্দ বাগান

৩০৫ - নিশাত রিমা - আনন্দ সাদা হরিণ

৩০৬ - নিশাত রুম্মান - আনন্দ ডালিম

৩০৭ - নিশাত রায়হানা - আনন্দ সুগন্ধী ফুল

৩০৮ - নিশাত সুবাহ - আনন্দ প্রভাত

৩০৯ - নিশাত শামা - আনন্দ প্রদীপ

৩১০ - নিশাত সাদাফ - আনন্দ ঝিনুক

৩১১ - নিশাত সিমা - আনন্দ কপাল

৩১২ - নিশাত সালসাবিল - আনন্দ বেহেশতি ঝর্না

৩১৩ - নিশাত সাইদা - আনন্দ নদী

৩১৪ - নিশাত সালমা - আনন্দ প্রশস্ত

৩১৫ - নিশাত সালিমা - আনন্দ সুস্থ

৩১৬ - নিশাত সাইয়ারা - আনন্দ তারা

৩১৭ - নিশাত আনুজম - আনন্দ তারা

৩১৮ - নিশাত তামান্না - আনন্দ ইচ্ছা

৩১৯ - নিশাত তাফাননুম - আনন্দ উচ্ছ্বাস

৩২০ - নিশাত তাহিয়াত - আনন্দ অভিবাদন

৩২১ - নিশাত তাবাস্সুম - আনন্দ হাসি

৩২২ - নিশাত তারান্নুম - আনন্দ গুঞ্জরণ

৩২৩ - নিশাত তাসনিম - আনন্দ বেহেশতি ঝর্না

৩২৪ - নিশাত ওয়ামিয়া - আনন্দ বৃষ্টি

৩২৫ - নিশাত ইয়ামিন - আনন্দ জেসমিন ফূল

৩২৬ - নোশিন আতিয়া - সুন্দর উপহার

৩২৭ - নোশিন আনজুম - সুন্দরী তারা

৩২৮ - নোশিন আনবার - সুন্দর সুগন্ধী

৩২৯ - নোশিন গওহর - সুন্দর মুক্তা্

৩৩০ - নোশিন নাওয়াল - সুন্দর উপহার

৩৩১ - নোশিন নাওয়ার - সুন্দর ফুল

৩৩২ - নোশিন রুমালী - সুন্দর কবুতর

৩৩৩ - নোশিন শারমিলি - সুন্দর লজ্জাবতী

৩৩৪ - নোশিন সাইয়ারা - সুন্দরী তারা

৩৩৫ - নোশিন তাবাস্সুম - মিষ্টি হাসি

৩৩৬ - নোশিন তারান্নুম - মিষ্টি গুনগুন শব্দ

৩৩৭ - নোশিন ইয়াসমিন - সুন্দর জেসমিন ফুল

৩৩৮ - রামিসা আনজুম - নিরাপদ তারা

৩৩৯ - রামিসা আনাম - নিরাপদ মেঘ

৩৪০ - রামিসা বিলকিস - নিরাপদ রানী

৩৪১ - রামিসা ফারিহা - নিরাপদ সুখী

৩৪২ - রামিসা গওহর - নিরাপদ মুক্তা

৩৪৩ - রামিসা মালিয়াত - নিরাপদ সম্পদ

৩৪৪ - রামিসা মালিহা - নিরাপদ সুন্দরী

৩৪৫ - রওশন তাবাস্সুম - উজ্জ্বল হাসি

৩৪৬ - রানা সুবাহ - সুন্দর কমনীয় প্রভাত

৩৪৭ - রানা আবরেশমী - সুন্দর সিল্ক

৩৪৮ - রানা আদিবা - সুন্দর শিষ্টাচারী

৩৪৯ - রানা আতিয়অ - সুন্দর উপহার

৩৫০ - রানা আনজুম - সুন্দর তারা

৩৫১ - রানা গওহর - সুন্দর মুক্তা্

৩৫২ - রানা লামিসা - সুন্দর অনুভূতি

৩৫৩ - রানা নাওয়াল - সুন্দর উপহার

৩৫৪ - রানা নাওয়ার - সুন্দর ফুল

৩৫৫ - রানা রুমালী - সুন্দর কবুতর

৩৫৬ - রানা রায়হানা - সুন্দর সুগন্ধী ফূল

৩৫৭ - রানা শামা - সুন্দর প্রদীপ

৩৫৮ - রানা শারমিলা - সুন্দর লজ্জাবতী

৩৫৯ - রানা সাইদা - সুন্দর নদী

৩৬০ - রানা সালমা - সুন্দর প্রশান্ত

৩৬১ - রানা তাবাস্সুম - সুন্দর কামনীয় হাসি

৩৬২ - রানা তারান্নুম - সুন্দর গুঞ্জন

৩৬৩ - রানা ইয়াসমিন - সুন্দর জেসমিন ফূল

৩৬৪ - সারাফ আনিসা - গানরত কুমারী

৩৬৫ - সারাফ আনজুম - গানরত তারা

৩৬৬ - সারাফ আনিকা - গানরত সুন্দরী

৩৬৭ - সারাফ নাওয়ার - গানরত ফুল

৩৬৮ - সারাফ রুমালী - গানরত কবুতর

৩৬৯ - সারাফ ওয়ামিয়া - গানরত বৃষ্টি

৩৭০ - সারাফ ওয়াসীমা - গানরত সুন্দরী

৩৭১ - সালমা তাবাস্সুম - প্রশান্ত হাসি

৩৭২ - সালমা আফিয়া - প্রশান্ত পুণ্যবতী

৩৭৩ - সালমা আনজুম - প্রশান্ত তারা

৩৭৪ - সালমা আনাম - প্রশান্ত মেঘ

৩৭৫ - সালমা আনিকা - প্রশান্ত সুন্দরী

৩৭৬ - সালমা ফারিহা - প্রশান্ত সুখী

৩৭৭ - সালমা ফুওজিয়া - প্রশান্ত ফসল

৩৭৮ - সালমা মাহফুজা - প্রশান্ত নিরাপদ

৩৭৯ - সালমা মাসুদা - প্রশান্ত সৌভাগ্যবতী

৩৮০ - সালমা মালিহা - প্রশান্ত মুন্দরী

৩৮১ - সালমা নাবিলাহ - প্রশান্ত ভদ্র

৩৮২ - সালমা নাওয়ার - প্রশান্ত ফুল

৩৮৩ - সালমা সাবা - প্রশান্ত পূবালী বাতাস

৩৮৪ - সালমা সুবাহ - প্রশান্ত প্রভাত

৩৮৫ - সালমা সাবিহা - প্রশান্ত রূপসী

৩৮৬ - যারীন তাননিম - প্রশান্ত সোনালি বেহেশতী ঝর্ণা

৩৮৭ - যারীন ইয়াসমিন - প্রশান্ত জেসমিন ফুল

এক নজরে ২ নং কিচক ইউনিয়ন পরিষদ


কালের স্বাক্ষী বহনকারী গাংনই নদীর তীরে গড়ে উঠা শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হলো কিচক ইউনিয়ন ।কাল পরিক্রমায় আজ কিচক ইউনিয়ন শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার নিজস্ব স্বকীয়তা আজও সমুজ্জ্বল
এক নজরে ২নং কিচক ইউনিয়ন পরিষদ, শিবগঞ্জ, বগুড়া।
১। ২নং কিচক ইউনিয়নের আয়তন পূর্বের জরিপ অনুযায়ী=৬২৮২ একর
,, ,, ,, বর্তমান ,, ,, =৬২৮০.২৫ একর
,, ,, ,, ,, ,, ,, =২৫৫৩ হেক্টর।
২।২নং কিচক ইউনিয়নের মৌজার সংখ্যা = ২০টি
৩। ,, ,, ,, গ্রাম/পাড়ার সংখ্যা =৬৪ টি
৪। ,, ,, ,, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা=১৪টি
৫। ,, ,, ,, এফতেদায়ী/ এতিমখানা = ৪টি
৬। ,, ,, ,, উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা =১টি
৭। ,, ,, ,, নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা = ২টি (তার মধ্যে বালিকা ১টি)
৮। ,, ,, ,, দাখিল মাদ্রাসার সংখ্যা =৫টি
৯। ,, ,, ,, খুতবাতুল জামে মসজিদের সংখ্যা =৬৮টি
১০। ,, ,, ,, কেজি স্কুলের সংখ্যা = ৭টি
১১।,, ,, ,, হাটের সংখ্যা = ১টি
১২। ,, ,, ,, পুরুষ ভোটারের সংখ্যা হাল=১২২১৯ জন
,, ,, ,, মহিলা ,, ,, ,, =১২২৬৫ জন
সর্বমোট =২৪৪৮৪ জন
১৩। ,, ,, ,, কৃষি বিষয়ক পরিসংখ্যান
ক)মোট আবাদি জমি =২৪৪৩ হেক্টর
খ) তিন ফসলী জমি = ২৪৪৩ হেক্টর
গ) মোট ফসলী জমি = ৭৩২৯ হেক্টর
ঘ) কৃষি পরিবারের সংখ্যা= ৭১০২টি
ঙ) ভূমিহীন ,, ,, = ১৮৫৯টি
চ) প্রান্তিক ,, ,, = ৩৯৫৬টি
ছ) ক্ষুদ্র ,, ,, = ৭৬৭ টি
জ) মাঝারী ,, ,, =৪৯০টি
ঝ) বড় ,, ,, = ৩০টি
***জমির শ্রেণী বিন্যাস অনুযায়ী জমির পরিমানঃ-
ক) উচুঁ জমির পরিমান =২৬৭ হেক্টর
খ) মাঝারী উঁচু জমির পরিমান =১৮০০ হেক্টর
গ) ,, নিচু ,, ,, = ৩৪২ হেক্টর
ঘ) নিচু জমির পরিমান = ৩৪ হেক্টর
সর্বমোট =২৪৪৩ হেক্টর
ঞ) গুরুত্বর্পূণ ধর্মীয় স্থান- ১ টি।
ট) ঐতিহাসিক/পর্যটন স্থান – নাই।
ঠ) ইউপি ভবন স্থাপন কাল – ২৭/০৫/২০০৬ইং।
ড) নব গঠিত পরিষদের বিবরণ –
১) শপথ গ্রহণের তারিখ – ০২/০৮/২০১৬ইং
২) প্রথম সভার তারিখ – ০৩/০৮/২০১৬ ইং
৩) মেয়াদ উর্ত্তীনের তারিথ – ০১/০৮/২০২১ ইং

১১. জ্বালানি সংকট ও বিকল্প শক্তি, বাংলা রচনা

বাংলা রচনা


(সংকেত: ভূমিকা; বাংলাদেশে জ্বালানি শক্তির উৎস; জ্বালানি সংকটের কারণ; প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের কারণ; কয়লা সংকটের কারণ; বিকল্প শক্তির উৎস; জৈব গ্যাস; সৌর শক্তি; বায়ু শক্তি; পরমাণু শক্তি; অন্যান্য শক্তি; উপসংহার।)

ভূমিকা: বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এ দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই প্রয়োজন অনুসারে মানুষ তাদের চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছে না। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী যোগানের ঘাটতি এখন জ্বালানি ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি শক্তির উপরই নির্ভর করে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব, কিন্তু আমাদের দেশের জ্বালানি শক্তির সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। তাই এই জ্বালানি সংকটের সমাধানের জন্য বিকল্প শক্তির প্রসার ঘটানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশে জ্বালানি শক্তির উৎস: বাংলাদেশ জ্বালানি শক্তিতে তেমন সমৃদ্ধ নয়। এ দেশে জ্বালানির অবাণিজ্যিক উৎস সমূহ হলো- জৈব জ্বালানি, কৃষির অবশিষ্টাংশ, বৃক্ষের কাঠ এবং প্রাণীর মলমূত্র ইত্যাদি। আবার জ্বালানির বানিজ্যিক উৎস সমূহ হলো- জীবাশ্ম জ্বালানি তথা কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পানি শক্তি ইত্যাদি।

জ্বালানি সংকটের কারণ: বাংলাদেশের জ্বালানির অন্যতম উৎস হলো কয়লা, গ্যাস এবং তেল। শিল্প, পরিবহন, রান্না এবং জমিতে সেচের কাজে প্রচুর গ্যাস, কয়লা এবং তেল ব্যবহার করা হয়। নিম্নে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, খনিজ তেল এবং পানি শক্তির সংকটের কারণ সর্ম্পকে আলোচনা করা হলো-

প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের কারণ: বাংলাদেশের অন্যতম জ্বালানি সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। এটি মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের ৭৫ ভাগ পূরণ করে। এদেশে গ্যাস ক্ষেত্রের সংখ্যা ২৫ টি। কিন্তু ১৯টি গ্যাস ক্ষেত্রের ৮৩টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। বাংলাদেশ যে সব আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাথে গ্যাস উত্তোলন এবং আবিষ্কারের জন্য চুক্তি করেছে তাদের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। নাইকো নামে কানাডার অখ্যাত কোম্পানির কাছে টেংরাটিলাসহ সিলেটের বিরাট সম্ভাবনাময় এলাকা ইজারা দেওয়া হয়। কোম্পানীটি গ্যাস ক্ষেত্রের মরাত্মক ক্ষতি করেছে। আমেরিকার অক্সিডেন্টাল কোম্পানি মৌলভীবাজারের মাগুড়ছড়ায় কূপ খনন কাজ শুরু করলেও ১২ দিনের মাথায় অগ্নিকান্ডের মতো বিপর্যয় ঘটে। এ আগুন দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ চলতে থাকে। এতে দেশের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ২৮ কোটি মার্কিন ডলার। এভাবে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট তৈরি হচ্ছে।

কয়লা সংকটের কারণ: দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রংপুরের খালাশপীর, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ি দীঘিপাড়া এবং বগুড়ার জামালগঞ্জসহ মোট ৫টি কয়লা ক্ষেত্র আছে। আমাদের দেশে বিপুল পরিমানে উন্নত মানের কয়লা আছে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রকৌশলী এবং টেকনোশিয়ানরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ নয়। সঠিক উপায়ে উত্তোলন করতে না পারার কারণে কয়লা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

খনিজ তেলের সংকট: ১৯৮৬ সালে সিলেটে হরিপুরের গ্যাস ক্ষেত্রের ৭ম কূপ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ তেল উৎপাদন শুরু হলে ১৯৯৪ সাল থেকে এর তেল উৎপাদন স্থগিত করা হয়। দেশে খনিজ তেলের যে চাহিদা সেই অনুযায়ী খনি নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে তেলের চাহিদা ৪৫০০০ ব্যারেল। যার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ দেশে তেলের খনি সন্ধানে পরিকল্পনার অভাব এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাবের কারণে মানুষের চাহিদার তুলনায় তেলের সংকট বেড়েই চলেছে।

বিকল্প শক্তির উৎস: জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা থেকে মুক্তির জন্য সারা বিশ্বের মানুষ আজ বিকল্প শক্তির উৎস খুঁজে চলেছে। এ সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলনে মিলিত হচ্ছে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব দিয়ে চৌদ্দটি বিকল্প উৎসের কথা বলেছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সৌর শক্তি, সমুদ্রের বায়ু শক্তি, পরমাণু শক্তি, জোয়ার ভাটা থেকে প্রাপ্ত শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, সাগরের তাপীয় শক্তি এবং বায়ো গ্যাস ইত্যাদি।

জৈব গ্যাস: জৈব গ্যাস হলো বাতাসের অনুপস্থিতিতে জৈব বস্তুর অনুজীবীয় ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট গ্যাস। এই গ্যাস মূলত মিথেন এবং কার্বন-ডাই অক্সাইডের সমন্বয়ে গঠিত। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বা সায়েন্স ল্যাবরেটরির যৌথ উদ্যোগে সত্তর দশকের প্রথম দিকে জৈব গ্যাস উৎপাদনের যন্ত্র নির্মাণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ১৯৭৬ সালে সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ৩ ঘনফুট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন জৈব গ্যাস উৎপাদক যন্ত্র স্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে গবাদি পশুর মোট সংখ্যা ২,৪১,৯০,০০০ যা থেকে প্রতিদিন ২৪,২০,০০০০০ কিলোগ্রাম বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এই পরিমাণ পশু বর্জ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩,১৯,১০৯ ঘনমিটার জৈব গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। ২০০৪-০৫ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। এটি ১৯৯৬ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই পশু র্বজ্য থেকে আরো বেশি জৈব গ্যাস তৈরি সম্ভব। ৫-৬টি গবাদি পশু যে পরিবারে আছে সে পরিবারের দৈনন্দিন জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সাধারণ আকৃতির জৈব গ্যাস উৎপাদন যন্ত্রই যথেষ্ট। জৈব গ্যাস জ্বালানি গ্যাস এবং কেরোসিনের উপর চাপ কমায়।

সৌর শক্তি: সৌর শক্তি বিকল্প জ্বালানির অন্যতম উৎস। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এ দেশে জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে সেপ্টেম্বর এর মাঝা-মাঝি সময় পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। বছরের বাকী সময় আকাশ মেঘমুক্ত এবং রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে। সুতরাং সূর্যরশ্মি জ্বালানির অভাব মেটাতে বিশেষভাবে সাহায্য করতে পারে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের তাপ শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে ব্যবহার উপযোগী করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে সৌর শক্তির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।

বায়ু শক্তি: পৃথিবীর যে সকল দেশে সারা বছর একই দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয় তারা বায়ু প্রবাহ বিকল্প শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে বৃহত্তর কাজে লাগাতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বায়ু শক্তি ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

পরমাণু শক্তি: জ্বালানি আজ বিশ্বের অন্যতম একটি সমস্যা। আর এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিকল্প শক্তি হিসেবে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। বর্তমান বিশ্বে ৪২০টি পরমাণু ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। এদের মধ্যে ফ্রান্সে ৫৯টি এবং বেলজিয়ামে ৫৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। ফ্রান্স ৭৯ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় পরমাণু কেন্দ্র থেকে। চীন এ খাত থেকে উৎপাদন করছে ৯ হাজার মেগাওয়াট, ভারত ৪ হাজার ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ২০২০ সালের মধ্যে পাকিস্তান ৭ হাজার, ভারত ২০ হাজার এবং চীন ৪০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়। এ লক্ষ্যে ২০০৯ সালের ১৩ মে বাংলাদেশ রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তিতে সাক্ষর করে। এরপর ২০০৯ সালের ২১ মে মস্কোয় বাংলাদেশ ও রাশিয়া পরমাণু জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতায় ‘কাঠামো চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য পরমাণু ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি।

অন্যান্য শক্তি: অন্যান্য শক্তিগুলো হলো জোয়ার ভাটা থেকে প্রাপ্ত শক্তি, সাগরের তাপীয় শক্তি, তরঙ্গ শক্তি প্রভৃতি। এই বিকল্প শক্তি গুলো জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

উপসংহার: বাংলাদেশের ভূ-গর্ভে যথেষ্ট খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা থাকার কথা বলা হলেও নানা জটিলতার কারণে তা আবিষ্কার করা যায়নি। ফলে ধীরে ধীরে এ দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদেরকে তাই জ্বালানির বিকল্প শক্তির উৎসগুলো খুঁজতে হবে। দেশের জ্বালানি সংকট দূর করে বিকল্প শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আরো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

১০. বাংলার সংস্কৃতি, বাংলা রচনা

বাংলা রচনা


(সংকেত: ভূমিকা; সংস্কৃতি; সংস্কৃতির ধারক পাড়া গাঁ; বাংলার সংস্কৃতির ভিত্তি; বাংলার সংস্কৃতির ধরণ; বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য; সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন; বাংলা সংস্কৃতির অবক্ষয়; বাংলার সাংস্কৃতিক অবক্ষয়রোধে করণীয়; উপসংহার।)

ভূমিকা: প্রত্যেক দেশ বা জাতির একটি নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। এই সংস্কৃতির মাধ্যমেই জাতীয় জীবনকে দাঁড় করিয়ে প্রত্যেক দেশ ও জাতি তাদের নিজস্ব পরিচয় ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে। আর সাংস্কৃতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ও আত্মপ্রকাশের মাধ্যমেই প্রত্যেক জাতির গৌরবময় রূপ ফুটে ওঠে। মূলত একটি জাতির ইতিহাস, জীবন প্রণালী, ভাষা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, চিন্তাভাবনা, শিল্পকলা, সাহিত্য সব কিছুই তার জাতীয় সংস্কৃতির অন্তর্গত।

সংস্কৃতি: সংস্কৃতির খাঁটি বাংলা হচ্ছে কৃষ্টি। যার অর্থ হলো কর্ষণ বা চাষ। সংস্কৃতির ইংরেজি রূপ Culture শব্দটি ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম ব্যবহার করেন ফ্রান্সিস বেকন ষোল শতকের শেষ দিকে। সংস্কৃতি সনাক্তকরণের কোনো নির্দিষ্ট মানদ-, বৈশিষ্ট্য ও গন্ডি নেই। সমাজতত্ত্ববিদ Jones বলেন, “মানুষ যা সৃষ্টি করে তার সামগ্রিক রূপই হচ্ছে সংস্কৃতি।” নৃবিজ্ঞানী E.B.Tylor বলেন, “সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জিত আচার-আচরণ, ব্যবহার, জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি-প্রথা, আইন ইত্যাদির জটিল সমাবেশই হলো সংস্কৃতি।”

সংস্কৃতির ধারক পাড়া-গাঁ: পল্লীগ্রামই মূলত সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বাংলার সংস্কৃতিকে যেন আকড়ে ধরে রেখেছে পল্লী অঞ্চল। পাড়াগাঁয়ে প্রতিবেশিদের মধ্যে আন্তরিকতা, মমত্ববোধ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পল্লী জীবনের পোশাক-পরিচ্ছেদ, প্রথা, উৎসব, চিন্তা-ভাবনা, আচার-ব্যবহার সবকিছুর মধ্যে সমজাতীয়তা ও পারস্পরিক আত্মিক সংযোগ প্রকাশ পায়। পল্লী জীবনের এই অনন্য ও স্থায়ী সামাজিক আচরণ-অনুষ্ঠানের সমষ্টিই হলো জাতির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এই পল্লীগ্রামেই লালিত-পালিত হয়। শীতের পিঠাপুলি উৎসব, নবান্নের উৎসব, পৌষমেলা, বৈশাখীমেলা, ঈদ-পার্বণ, জারিসারি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী গান ও বিভিন্ন ধরণের খেলাধূলা প্রভৃতি বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে প্রস্ফূটিত করে বিশ্ব অঙ্গনে।

বাংলা সংস্কৃতির ভিত্তি: একটি জাতির সংস্কৃতি তার ভৌগোলিক পরিবেশ, ধর্মীয় বিধিবিধান, সামাজিক রীতি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও নিরূপিত হয়। বাঙালি জাতির সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রেও এ সকল বিষয় ভিত্তিভূমি হিসেবে কাজ করেছে। এদেশের মানুষের খাদ্যাভাস, পোশাক-পরিচ্ছেদ, প্রভৃতি জাতির মন ও চরিত্র গঠনে প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় বিধিবিধান, শাস্ত্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সকল ধর্মের আলাদা আলাদা আচার-অনুষ্ঠান, রীতি-নীতি গড়ে উঠেছে। এসব কিছু মিলেই বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির সৃষ্টি। আর এগুলোই বাংলার সংস্কৃতির ভিত্তি।

বাংলার সংস্কৃতির ধরণ: বাংলার সংস্কৃতিকে ড. ওয়াকিল আহমেদ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। যেমন-

(ক) বাংলার নগর সংস্কৃতি: শহরের মানুষের যান্ত্রিক জীবন ইটের চার দেয়ালে লোহার খাচায় আবদ্ধ। নগর জীবনে পশ্চিমা তথা বিদেশিদের প্রভাব রয়েছে। নগরে বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির মিশ্রণে গড়ে উঠেছে মিশ্র সংস্কৃতি।

(খ) বাংলার লোক সংস্কৃতি: লোক সংস্কৃতি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি। এটি সহজে পরিবর্তন হয় না। বিদেশি, পশ্চিমা ও নগর সংস্কৃতির প্রভাব এখানে কমই পড়ে।

(গ) আদিম সংস্কৃতি: বাংলায় বসবাসরত ক্ষুদৃ নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়। বহির্জগতের সাথে তাদের সম্পর্ক খুবই কম। তারা নিজস্ব আচার, অনুষ্ঠান, ধর্মীয় বিশ্বাস ও জীবন প্রণালীতে অভ্যস্ত ও শ্রদ্ধাশীল। তারা সাধারণত চাষাবাদ, শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে জীবীকা নির্বাহ করে। গ্রহণ-বর্জনের রীতি না থাকায় এবং আনাগোনা ও লেনদেনের অভাবে ক্ষুদৃ নৃ-গোষ্ঠীদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ও বিস্তার প্রায় থেমেই আছে।

বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: বাংলার প্রকৃতি ও সমাজ জীবনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার সাংস্কৃতিক জীবনধারার বিকাশ ঘটেছে। এখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ নানা জাতির ধর্ম বর্ণের মানুষের বাস। তারা সবাই মিলেমিশে প্রাণ খুলে তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে। পরস্পরের সাথে তারা আনন্দ ভাগ করে নেয়, একের উৎসব অনুষ্ঠানে অন্যরা যোগদান করে। বাংলার প্রধান প্রধান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে, লোকসাহিত্য, সঙ্গীত, ঋতুভিত্তিক উৎসব, বিভিন্ন প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন, খেলাধুলা, সামাজিক প্রথা প্রভৃতি রয়েছে। ঈশ্বরে বিশ্বাস, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে গ্রামীণ কবি সাহিত্যিকরা লোক সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। লোকসাহিত্যের মধ্যে আছে ছড়া, গীতিকা, ধাধাঁ, ব্রতকথা, উপকথা, রূপকথা, প্রবাদ-প্রবচন, খনার বচন ইত্যাদি। গ্রামীণ সঙ্গীতের মধ্যে রয়েছে ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, জারি, মারফতী, পালাগান ইত্যাদি। গ্রামীণ উৎসব ও বাঙালির আমেজের মধ্যে রয়েছে বাংলা নববর্ষ, নবান্ন উৎসব, শীতের পিঠা-পুলির উৎসব ইত্যাদি। বাংলার ঐতিহ্যবাহী জামদানী শিল্প আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ঢাকার শাখাঁর কাজ, টাঙ্গাইলের শাড়ি, জামালপুরের বাসন, সিলেটের শীতল পাটি প্রভৃতি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। গ্রামীণ খেলাধুলার মধ্যে দাঁড়িয়া বান্ধা, গোল্লাছুট, হা-ডু-ডু, নৌকা বাইচের মতো সংস্কৃতি আজ কালের গর্ভে নিমজ্জিত। যৌথ পারিবারিক প্রথা, সামাজিক বন্ধন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে। তথাপি শান্তি প্রিয় মানুষ সামাজিক ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন: বাঙালি জীবনবোধের উপর গড়ে উঠেছে আমাদের সংস্কৃতি। তবে বিভিন্ন সময়ে আমাদের সাংস্কৃতি পরিবর্তন হয়েছে। মূলত বিভিন্ন সময়ে এ দেশ শাসন করতে আসা বিদেশিদের দ্বারাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি প্রভাবিত হয়েছে। ফলে বাংলা সংস্কৃতিতে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন।

বাংলা সংস্কৃতির অবক্ষয়: আজকের দিনে বাংলা সংস্কৃতির অবক্ষয় সুস্পষ্ট সমাজের সর্বস্তরে অপসংস্কৃতির কুপ্রভাব সমগ্র জাতিকে গ্রাস করেছে। শিক্ষার নামে নৈতিকতাবিহীন কুশিক্ষা আর সমাজ সেবার নামে দলাদলি চলছে। রাজনীতির নামে কাদাছোড়াছুড়ি, সঙ্গীতের নামে বহু ভাষার মিশ্রণে সুরহীন হৈহুল্লোড়, পোশাক পরিচ্ছেদে পশ্চিমা অনুকরণ আর চিত্তবিনোদনের ক্ষেত্রে প্রধান বিষয় যৌনতা আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনকে কলুষিত ও গ্লানিময় করে তুলেছে।

বাংলার সাংস্কৃতিক অবক্ষয়রোধে আমাদের করনীয়: বর্তমানে একই পৃথিবীর বাসিন্দা হিসেবে বিশ্ব সাম্রাজ্যের মধ্যে থেকেই আমাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আর এ জন্য আমাদের করনীয়-

বিদেশি সংস্কৃতির লালন বন্ধ করতে হবে এবং বিদেশি সংস্কৃতির মোকাবেলায় দেশীয় সংস্কৃতিকে উপযোগী করতে হবে।
বিদেশি সংস্কৃতির খারাপ দিকটা বাদে উত্তম দিক গ্রহণ করতে হবে।
আমাদের সংস্কৃতিকে স্যাটেললাইট চ্যানেলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে বিশ্বের সবপ্রান্তে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বিদেশি সংস্কৃতির নেতিবাচক দিক সর্ম্পকে সকলকে সচেতন করতে হবে।
বিজাতীয় কুরুচিপর্ণ সংস্কৃতি বন্ধের সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করতে হবে।
উপসংহার: দেহের জন্য যেমন প্রাণ, তেমনি জাতির জন্য সংস্কৃতি অপরিহার্য। সংস্কৃতি আমাদের সমাজ জীবনের প্রতিচ্ছবি। আর বাঙালির গর্ব এই বাংলার বহুকালের সংস্কৃতি। এখানে আছে অসাম্প্রদায়িকতা, বিভেদহীনতা ও অপরকে আপন করার ইচ্ছা। বিশ্বায়নের প্রভাবে আধুনিক ও বিদেশি অপসংস্কৃতির প্রভাবে আমরা আমাদের স্বতঃস্ফুর্ত জীবনধারা ও স্বতন্ত্র সংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে হারিয়ে ফেলতে বসেছি। তাই বাংলার সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে। বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা সংহতকরণের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।

৯. শিক্ষা সফর, বাংলা রচনা


বাংলা রচনা


ভূমিকা: ভ্রমণ মানুষকে কুপমন্ডুকতার ছত্রছায়া থেকে মুক্ত করে বিশাল পৃথিবীর অপার সৌন্দর্যের মধ্যে ঠাঁই দেয়। মানুষের মনকে করে তোলে উদার। ক্ষুদ্র এ মানব জীবনকে দান করে গতিশীলতা। আর সেই ভ্রমণ যদি হয় শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে তাহলে তো কথাই নেই। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে মানুষের অসম্পূর্ণ ও আবদ্ধ জ্ঞান বিকাশ লাভের সুযোগ পায়। শিক্ষা সফর একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে করে আনন্দময় ও পরিপূর্ণ। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায় নিজের দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তথা নিজের শেকড় সম্পর্কে জানতে। এছাড়া দেশের বাইরে সফরের মাধ্যমে তারা নানা দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সাথে পরিচিত হতে পারে যা তাদের জ্ঞানের সীমাকে প্রসারিত করে।

শিক্ষার পূর্ণতা লাভে সফর: বই পড়ে যে শিক্ষা অর্জন করা হয় তা পরিপূর্ণ শিক্ষা নয়। শিক্ষার সাথে বাস্তব জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলেই তা হয়ে উঠে পরিপূর্ণ শিক্ষা। নানা রকম ব্যবহারিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে এ পূর্ণতা অর্জন করা যায়। এসব কর্মকান্ডের মধ্যে শিক্ষা সফর অন্যতম। শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু আনন্দ লাভই করে না, বরং ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয় প্রত্যক্ষ করে এবং সে বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করে। তাই প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা অর্জনের জন্য শিক্ষা সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা সফরের প্রয়োজনীয়তা: বিজ্ঞানের এ যুগে চার দেয়ালের মাঝে বসেই শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর নানা প্রান্তের নানা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। কিন্তু সেই অর্জিত জ্ঞান কতটা ফলপ্রসূ সেটাই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোনো কিছু চোখে দেখে শেখা আর সে বিষয় মুখস্ত করে শেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। মুখস্ত বিদ্যার চেয়ে হাতে কলমে ব্যবহারিক শিক্ষা অধিক শ্রেয়। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন সেন্ট মার্টিন, দুটি পাতা একটি কুড়ির দেশ সিলেট, প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ পাহাড়পুর প্রভৃতি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীরা বইয়ে পড়ে এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে শুনে। কিন্তু তারা যদি এসব স্থান নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করে তাহলে সে ছবি সারাজীবনের জন্য তাদের হৃদয় মন্দিরে জাগ্রত হয়ে থাকবে। শিক্ষা সফরের বিষয়গুলো সহজে আত্মস্থ হয়ে যায় এবং তা কখনোই স্মৃতি থেকে মুছে যায় না।

সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশে শিক্ষা সফর: শিক্ষা সফরে গিয়ে ছেলেমেয়েরা অবাধ স্বাধীনতা পায়। এ সময়টুকু তারা নিজেদের ইচ্ছা মতো ব্যয় করতে পারে। নিত্য দিনের পড়াশুনার চাপ ভুলে মেতে উঠে আনন্দে। শিক্ষা সফরের অন্যতম আকর্ষণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি, কৌতুক ইত্যাদি নানা রকমের বিষয় থাকে। ফলে একদিকে যেমন তাদের বিনোদন হয় অন্যদিকে তেমনি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতারও বিকাশ ঘটে।

সাহায্য সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মনোভাব গড়তে শিক্ষা সফর: একটি শিক্ষা সফর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আনুষঙ্গিক অনেক কাজ করতে হয়। যেমন, স্থান নির্বাচন করা, যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, খাবার সরবরাহ করা ইত্যাদি। এসব কাজ শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীরা সম্মিলিতভাবে করে থাকে। ছাত্রছাত্রীরা মিলেমিশে তাদের শিক্ষা সফরের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাপনা করে থাকে। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মনোভাব গড়ে ওঠে। তাছাড়া এসব কাজ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ব সচেতনতা বোধ জন্মে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনেও বড় রকমের দায়িত্ব গ্রহণে সাহায্য করে।

দেশপ্রেমের উন্মেষে শিক্ষা সফর: শিক্ষা সফরে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজ দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের জীবন-যাত্রার অবস্থা শিক্ষার্থীদের ভাবিয়ে তোলে যা তাদের মনের মধ্যে দেশাত্মবোধের চেতনা জাগ্রত করে। এটি তাদের প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসাবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।

শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভে শিক্ষা সফর: ছাত্র জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য পড়াশুনা করা। কিন্তু সারাক্ষণ ক্লাস, পড়া, পরীক্ষা এসবের মাঝে থাকতে থাকতে এক সময় পড়াশুনার প্রতি একঘেয়েমী চলে আসে। সামান্য একটু অবসরের জন্য মন আকুল হয়ে উঠে। লেখাপড়ার বেশি চাপে অনেক সময় ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। শারীরিক অসুস্থতা মনকেও প্রভাবিত করে। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চিত্তবিনোদনের প্রয়োজন আছে। এই বিনোদনের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় শিক্ষা সফর। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন জ্ঞান অর্জন করতে পারে তেমনি শারীরিক ও মানসিকভাবেও প্রশান্তি লাভ করতে পারে।

শিক্ষা সফরের উপযোগী স্থান: শিক্ষা সফরের জন্য এমন স্থান নির্বাচন করা উচিত যা হবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক। বাংলাদেশে এরূপ অনেক স্থান আছে যেগুলো শিক্ষা সফরের উপযোগী। এদেশে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার যা বিশেষ করে ভূগোল ও মৎস্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এ স্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে তারা বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী, সামুদ্রিক পরিবেশ ও মৎস্য বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে জ্ঞান লাভ করতে পারে। সুন্দরবন উদ্ভিদ বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, সিলেট-এর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগ করার জন্য প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী এ সকল স্থানে আগমন করে। নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর, বগুড়ার মহাস্থানগড়, কুমিল্লার ময়নামতি বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন। এসব স্থানে বিভিন্ন বৌদ্ধ আশ্রম ও স্মৃতিস্তম্ভের ধ্বংসাবশেষ, বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত তাম্রলিপি ও ব্রোঞ্জ নির্মিত মূর্তি প্রভৃতি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অন্যতম উপাদান। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণার অন্যতম উপাদানও এগুলো। তাছাড়াও ছোট ছেলেমেয়েদের দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও অতীত ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করাতে নিয়ে যাওয়া যায় বিভিন্ন জাদুঘরে।

দেশভ্রমণ ও শিক্ষা সফরের পার্থক্য: আটপৌড়ে জীবনের একঘেয়েমী কাটাতে অনেক মানুষ ভ্রমণ করে দেশ দেশান্তরে। দেশভ্রমণ তাদের কাছে বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু শিক্ষা সফর নিছক সময় কাটানো কিংবা বিনোদনের উদ্দেশ্যে করা হয় না। শিক্ষাসফরের প্রধান উদ্দেশ্য পাঠ্যসূচি সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন, অজানা পৃথিবীর বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করা। তাই দেশভ্রমণ ও শিক্ষাসফর এক কথা নয়।

উপসংহার: শিক্ষাসফর শিক্ষার অন্যতম একটি অংশ। বই থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্তরে ধারণ করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে যায় সে অর্জিত জ্ঞান প্রত্যক্ষ করতে। বইয়ের পড়া আর চোখের দেখা এই দুইয়ে মিলে পরিপূর্ণভাবে আলোকিত হয়ে উঠে শিক্ষার্থীর অন্তর্লোক। শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের যেমন মুক্তি দেয় লেখাপড়ার একঘেয়েমী থেকে, তেমনি তাদের পুস্তক লব্ধ জ্ঞানকে দৃঢ়তা ও স্থায়িত্ব প্রদান করে। শিক্ষা সফরে গিয়ে বিশাল পৃথিবীর অপরিমিত সৌন্দর্য অবলোকনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করারও সুযোগ পায়।

৮. ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, বাংলা রচনা


বাংলা রচনা



(সংকেত: ভূমিকা; সুন্দরবনের আয়াতন ও অবস্থান; সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ বন বলার কারণ; সুন্দরবন নামকরণ ও বিশ্বস্বীকৃতি; সুন্দরবন পরিচিতি; প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি; সুন্দরবনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব; সুন্দরবন রক্ষা; উপসংহার।)

ভূমিকা: বাংলাদেশের জাতীয় বন হলো সুন্দরবন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও ঐশ্বর্যমন্ডিত বনগুলোর মধ্যে আমাদের সুন্দরবন অন্যতম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি এ বন। এর চার দিক নিবিড় ঘন, চিরসবুজ এবং নিস্তব্ধ। সর্বত্রই সবুজের রাজত্ব। গাছপালা অপরূপ সাজে সজ্জিত। ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্দরবনের মতো এতো বড় অরণ্যসঙ্কুল বন আর নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের সৌন্দর্যের মধ্যমণি হয়ে সুন্দরবন শোভাবর্ধণ করে যাচ্ছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ভয়াল গর্জন, হরিণের ছোটাছুটি, পাখিদের কিচিরমিচির, সুন্দরবনের চির পরিচিত দৃশ্য। বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ সুন্দরবনের আরেক নাম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট।

সুন্দরবনের আয়াতন ও অবস্থান: পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ ম্যানগ্রোভ বনের আয়তন ৫৭৪৭ বর্গ কি.মি বা ২৪০০ বর্গ মাইল। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে জেগে আছে সুন্দরবন। বাংলাদেশের পাঁচটি জেলা ঘিরে সুন্দর বনের অবস্থান। এগুলো হলো খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী। বাংলাদেশে সুন্দরবনের ৬২ ভাগ অবস্থিত আর বাকি ৩৮ ভাগ ভারতে অবস্থিত। তবে বাংলাদেশে এর অবস্থান বেশি বলে একে এদেশের বন হিসাবেই গণ্য করা হয়।

সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ বন বলার কারণ: লোনা পানি বা কাদার মধ্যে জেগে থাকা খুঁটির মতো এক ধরণের শ্বাস গ্রহণকারী শিকড় বিশিষ্ট উদ্ভিদের অরণ্যকে বলে ম্যানগ্রোভ বন। যে বনে এ ধরণের উদ্ভিদ খুব বেশি পরিমাণে জন্মে সে বনকেই ম্যানগ্রোভ বন বলে। বিশ্বের গ্রীষ্মম-লীয় উপকূলে এ বনের অবস্থান বেশি। ম্যানগ্রোভ বনের সকল বৈশিষ্ট্যই সুন্দরবনের রয়েছে বলে সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়। আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বা লোনা পানির বন হলো সুন্দরবন।

সুন্দরবন নামকরণ ও বিশ্বস্বীকৃতি: বিশ্বের প্রতিটি নিদর্শনের নামকরণে কোনো না কোনো কারণ থাকে। সুন্দরবনেরও তেমনই রয়েছে। এ বনের বৃক্ষকূলের মধ্যে অন্যতম হলো সুন্দরী বৃক্ষ। এ বনে প্রচুর পরিমাণে সুন্দরী বৃক্ষ জন্মে বলেই এ বনকে সুন্দরবন বলা হয়। সুন্দরী বৃক্ষের কাঠে মজবুত তক্তা হয় এবং তা নৌকা ও ঘরের দরজা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। সুন্দর বন পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ বন। যার স্বীকৃতি স্বরূপ জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে ঘোষণা করে। বিশ্ব ঐতিহ্যের ক্রমানুসারে সুন্দরবনের অবস্থান ৫২২তম। এ বিরল সম্মাননা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা।

সুন্দরবন পরিচিতি: বিশ্ব ঐতিহ্যের অপরূপ নিদর্শন হিসাবে সুন্দরবনের রয়েছে অনন্য পরিচিত। যা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্ব সভ্যতার জন্য ঈশ্বরের উপহার স্বরূপ। নিচে এ বনের নিদর্শনগুলো তুলে ধরা হলো-

গাছপালা: বৃক্ষ ছাড়া বন কল্পনা করা যায় না। এক্ষেত্রে সুন্দরবন অনন্য, অসাধারণ। কারণ সুন্দরবনে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন রকমের গাছপালা রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরী গাছের কথা বলতেই হয়। কেননা এ গাছের নাম অনুসারেই সুন্দরবনের নামকরণ করা হয়েছে। সুন্দরী গাছ ছাড়াও সুন্দরবনে যেসব গাছ রয়েছে সেগুলো হলো- গেওয়া, পশুর, ধুন্দুল, বাঁশ, বাইন, গরান, গর্জন, সেগুন, আমলকি, বৈলাম, কেওড়া, গোলপাতা প্রভৃতি ।

পশু-পাখি: পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস ভূমি হলো সুন্দরবন। পৃথিবীর একমাত্র সুন্দরবনেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাস করে। এছাড়াও সুন্দরবনে নানা ধরণের পশু বিচরন করে। এগুলো হলো- কুমির, হরিণ, সাপ, বানর, মৌমাছি, চিতাবাঘ, সজারু, শয়াল, বন মোরগ, বন বিড়াল প্রভৃতি। আর সুন্দরবনে প্রচুর পরিমাণে পাখ-পাখালির সমাগমও চোখে পড়ার মতো। সুন্দরবনের পাখ-পাখালির মধ্যে রয়েছে শালিক, টিয়া, ময়না, কোকিল, বক, হাঁস, টুনটুনি, ফিঙে, শকুন, মাছরাঙ্গা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মৎস্য: সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর মধ্যে মাছ অন্যতম। সুন্দরবনের বুকের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে অনেক নদ-নদী, খাল-বিল। সুন্দরবন যেহেতু লোনা পানির বন তাই এ বনের লোনা পানির মাছও পাওয়া যায় প্রচুর। সুন্দরবনের মাছের মধ্যে রয়েছে -করাল, বোয়াল, রূপচাঁদা, চিংড়ি, রুই, কাতল ছাড়াও নানা ধরণের মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এ বনের খাল-বিল নদ-নদীগুলোতে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি: সুন্দরবনকে বলা হয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী। কেননা এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু সবুজের সমারোহ। যা দেখলে শুধু-অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে মন চায়। নিবিড় ঘন, চির সবুজ এবং নিস্তব্ধ এই সুন্দরবনে সর্বত্র সবুজের রাজত্ব। সুন্দরবন প্রতিনিয়ত সৌন্দর্য পিপাসু হৃদয়কে আকর্ষণ করে প্রবলভাবে। সুন্দরবনের বাঘের গর্জন, পাখিদের কিচির-মিচির, বনের ফাঁকে ফাঁকে এক ফালি রোদের উঁকিঝুঁকি, বৃক্ষ লতাদের বাতাসে দোল খাওয়া, নদীতে মৎসকুলের খেলা এসব কিছুই যেন এক একটি সৌন্দর্যের প্রকাশ। এছাড়া হিরণ পয়েন্টসহ ছোট ছোট চর বা দ্বীপ সুন্দরবনকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। তাই তো প্রতিনিয়ত বাংলদেশসহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসে এ ম্যানগ্রোভ বনে। স্বীয় নয়ন দ্বারা সৌন্দর্যপিপাসু ব্যক্তিরা উপভোগ করে ম্যানগ্রোভ বনের সৌন্দর্য।

সুন্দরবনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব: সুন্দরবনের প্রত্যেকটি উপাদানই অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। সুন্দরবনের বৃক্ষের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হলো পশুর গাছের কাঠ। এছাড়া সুন্দরী, গেওয়া গাছের কাঠেরও সুনাম রয়েছে দেশে-বিদেশে। কারণ এর কাঠ পেন্সিলের কাঠ, দিয়াশলাইয়ের কাঠি, নিউজপ্রিন্ট কাগজ, দৈনন্দিন আসবাপত্র, নৌকা, প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সুন্দরবনের মৎস্যকুল আয়ের একটা বড় উৎস, যেখান থেকে কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। মৌয়ালিরা সুন্দরবন থেকে প্রচুর মধু ও মোম সংগ্রহ করে, যা দেশের মধু চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এগুলো ছাড়াও সুন্দরবন নানা ধরণের পশু-পাখির জন্য বিখ্যাত। সুন্দরবনে প্রায় ৪২ প্রজাতির প্রাণীর বাস। যা শুধু সুন্দরবনকেই সমৃদ্ধ করেনি বরং সমৃদ্ধ করেছে এদেশের অর্থনীতিকে। প্রতিবছর এখান থেকে কাঠ, মাছ, প্রাণী দেশে-বিদেশে রপ্তানি করা হয়। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে।

সুন্দরবন রক্ষা: সুন্দরবন প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের আকর। যা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো পৃথিবীর জন্যই গৌরবের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমানে কিছু কুচক্রী মহল সুন্দরবনের সৌন্দর্য বিনষ্টে তৎপর রয়েছে। তারা অবাধে ধ্বংস করছে বৃক্ষ, আশেপাশে গড়ে তুলছে কলকারখানা। যা আমাদের দেশসহ বিশ্ব পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এছাড়া এক শ্রেণির পাচারকারী শিকারিরা পৃথিবী বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, কুমির, পাখ-পাখালি, মৎস্য অবাধে শিকার করে চলছে। তাদের হীনস্বার্থ আর লোভের কারণে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে পৃথিবীর বিখ্যাত এ ম্যানগ্রোভ বন। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন সুন্দরবন হারাবে তার সৌন্দর্য, ঐশ্বর্য, যা আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে। তাই সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো থাকতে হবে। দৃঢ় হাতে দমন করতে হবে কুচক্রীদের। এছাড়া বৃদ্ধি করতে হবে জনসচেতনতা। যাতে সকল শ্রেণির মানুষ সুন্দরবন রক্ষায় এগিয়ে আসতে পারে।

উপসংহার: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী হলো সুন্দরবন। প্রকৃতি তার সকল সৌন্দর্য যেন নির্ধিদায় ঢেলে দিয়েছে এ ম্যানগ্রোভ বনের বুকে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে দিয়েছে অসীম মর্যাদা। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এর সম্পদ। এদেশের পরিবেশের উপরও সুন্দরবনের প্রভাব অপরিসীম। তাই সকল কুচক্রী থেকে মুক্ত রাখতে হবে এ বনকে। কেননা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ ম্যানগ্রোভ বন শুধু আমাদেরই নয় পুরো বিশ্বের।

৭. T-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০১৪, বাংলা রচনা

বাংলা রচনা


(সংকেত: ভূমিকা; T-২০ ক্রিকেটের ইতিহাস, T-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট-২০১৪; স্বাগতিক দেশ; উদ্বোধনী অনুষ্ঠান; অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ; বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবস্থান; সেমিফাইনাল; ফাইনাল ম্যাচ; বিশ্বকাপের রোল অব অনার; T-২০ বিশ্বকাপ-২০১৪ এর রেকর্ডসমূহ; উপসংহার।)

ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বে রাজকীয় খেলা নামে পরিচিত ক্রিকেট খেলা ক্রমান্বয়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তাকেও অতিক্রম করতে শুরু করেছে। বিশেষত এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এ খেলা জনপ্রিয়তার র্শীষে অবস্থান করছে। ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা খেলাটিকে দান করেছে উত্তেজনা, উদ্দীপনা আর জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থান। ICC এর অধীনে প্রতি দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় T-২০ বিশ্বকাপ আসর। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মার্চ, ২০১৪ অনুষ্ঠিত হলো ৫ম ICC T-২০ বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ।

T-২০ ক্রিকেটের ইতিহাস: ক্রিকেট খেলার উৎপত্তি হয় ইংল্যান্ডে। আঠারো শতক থেকে এ খেলা ইংল্যান্ডে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে ক্রিকেট আন্তর্জাতিক খেলায় পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে শুরু হয় ODI খেলা। এরই ধারাবাহিকতা ODI ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে উৎপত্তি লাভ করে বিশ ওভারের T-২০ খেলা। England and Wales Cricket Bord এর পরামর্শে ২০০৩ সালে এর উৎপত্তি হয়। T-২০ ক্রিকেট ২০০৭ সালে ICC প্রথম T-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করে।

T-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট-২০১৪: ১৬ মার্চ-৬ এপ্রিল ২০১৪ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হলো ICC ওর্য়াল্ড T-২০ বিশ্বকাপের ৫ম আসর। এটি ছিল পুরুষদের ৫ম আর নারীদের ৪র্থ T-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। র্দীঘ ২২ দিনের তুমুল রোমাঞ্চ ও শিহরণের সমাপ্তি ঘটে পুরুষ বিভাগে শ্রীলংকা আর মহিলা বিভাগে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে।

স্বাগতিক দেশ: ৫ম T-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট -২০১৪ আসরের স্বাগতিক দেশ ছিল বাংলাদেশ। এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ বাংলাদেশ এককভাবে আয়োজন করে। এই সময়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ে ICC-র চাহিদা অনুযায়ী ভেন্যু প্রস্তুত, আবাসন এবং আইন শৃঙ্খলাসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। ৩টি ভেন্যু অর্থাৎ শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে গৌরবের বিষয় দেশের রাজনৈতিক টানা-পোড়েনের মধ্য দিয়েও বাংলাদেশ T-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট-২০১৪ সুন্দরভাবে সফল করতে সক্ষম হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। “অপরূপ বাংলাদেশ” নামক প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ICC-র প্রেসিডেন্ট অ্যালান রেনল্ড আইজ্যাক, BCB প্রধান নাজমুল হাসান পাপন প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ ভাষণ দেন। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত গায়ক অ্যাকন, ভারতের এ. আর. খান প্রমুখ। দর্শক শ্রোতার আনন্দময় উপস্থিতি আর আতশবাজির ঝলকানিতে এক মহোৎসবে পরিণত হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। T-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অফিসিয়াল ইভেন্ট সং- এর শিরোনাম ছিল চার ছক্কা হই হই/ বল গড়াইয়া গেল কই।

অংশগ্রহণকারী দল/দেশ সমূহ: আইসিসি T-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৪ -তে অংশগ্রহণ করে মোট ১৬টি দেশ। এদের মধ্যে ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ যথাঃ ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ। বাকী ৬টি দেশ হলো আফগানিস্তান, হংকং, নেপাল, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এবারের বিশ্বকাপে টেস্ট খেলুড়ে দল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে ১ম পর্বের খেলা পেরিয়ে মূল পর্বে অংশগ্রহণের জন্য শর্ত দেওয়া হয়।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবস্থান: বিশ্বকাপ ক্রিকেট T-২০ ২০১৪-তে বাংলাদেশ ছিল ১ম পর্বের গ্রুপ ‘এ’-তে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল আফগানিস্তান, নেপাল ও হংকং। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ-আফগানিস্তানকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শুভ সূচনা করে। ১৮ মার্চ বাংলাদেশ নেপালকে হারায় ৮ উইকেটে। কিন্তু ২০ মার্চ বাংলাদেশ দুর্বল হংকং এর কাছে ২ উইকেটে লজ্জাজনকভাবে হেরে যায়। তারপরও বাংলাদেশ রান রেটে এগিয়ে থাকায় নেপালকে পিছনে ফেলে সুপার টেনের গ্রুপ ‘২’ এ জায়গা করে নেয়। এখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উল্লেখ্য যে, সুপার টেনের সবগুলো ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে বিশ্বকাপ হতে ছিটকে পড়ে সেমিফাইনালের আগেই। বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব ৭ ম্যাচে সর্বমোট ১৮৬ রান আর আল-আমিন ১০ উইকেট নেয়।

সেমিফাইনাল: ৫ম T-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ভারত, শ্রীলংকা, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩ এপ্রিল ১ম সেমিফাইনালে শ্রীলংকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে DL পদ্ধতিতে ২৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ৪ এপ্রিল ২য় সেমিফাইনালে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি করে নেয়।

ফাইনাল ম্যাচ: বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ৫ম আসরে ফাইনাল ম্যাচে অনুষ্ঠিত হয় সার্কভুক্ত দুটি দেশ ভারত এবং শ্রীলংকার মধ্যে। ৬ এপ্রিল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে সংগ্রহ করে মাত্র ১৩০ রান। জবাবে শ্রীলংকা ৬ উইকেট হাতে রেখেই সাঙ্গাকারার অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে মাত্র ১৭.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। শ্রীলংকা প্রথম বারের মতো T-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে। ব্যাটিং নৈপুণ্যে অসাধারণ ইনিংস খেলে ৩৫ বলে ৫২ রান করায় ম্যান অব দ্যা ফাইনাল হন শ্রীলংকার কুমারা সাঙ্গাকারা। ভারতের বিরাট কোহলির ৪টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৬ ম্যাচে মোট ৩১৯ রান করে ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট বা বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

একই সাথে মহিলা T-২০ বিশ্বকাপও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা বিভাগে ইংল্যান্ডের ১০৪ রানের জবাবে ১৫.১ ওভারেই জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। মহিলা বিভাগে ম্যান অব দ্যা ফাইনাল হন অস্ট্রেলিয়ার সারাহ কোয়াট। মহিলা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আনিয়া মার্বসোল ১৩টি উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

বিশ্বকাপের রোল অব অনার: ২০০৩ সাল হতে T-২০ খেলার উৎপত্তি হলেও ২০০৭ সালে প্রথম T-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করা হয়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় ৫ম T-২০ বিশ্বকাপ। এক নজরে T-২০ বিশ্বকাপের রোল অব অনার।

কততম বিশ্বকাপ সাল সাল স্বাগতিক দেশ চ্যাম্পিয়ন রানার্স আপ
১ম T-২০ বিশ্বকাপ ২০০৭ দক্ষিণ আফ্রিকা ভারত পাকিস্তান
২য় T-২০ বিশ্বকাপ ২০০৯ ইংল্যান্ড পাকিস্তান শ্রীলংকা
৩য় T-২০ বিশ্বকাপ ২০১০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া
৪র্থ T-২০ বিশ্বকাপ ২০১২ শ্রীলংকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলংকা
৫ম T-২০ বিশ্বকাপ ২০১৪ বাংলাদেশ শ্রীলংকা ভারত
T-২০ বিশ্বকাপ-২০১৪-এর রেকর্ডসমূহ: T-২০ বিশ্বকাপের (২১ মার্চ, ২০১৪) আয়াল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডের ম্যাচটি ছিল রেকর্ডময়। আয়ারল্যান্ডের ১৯০ রানের টার্গেট নেদারল্যান্ড মাত্র ১৩.৫ ওভারেই টপকে গিয়ে সুপার টেনে জায়গা করে নেয়। এ বিশ্বকাপের একমাত্র সেঞ্চুরি করেন ইংল্যান্ডের অ্যালেক হেল ৬৪ বলে ১১৬ রান। বেশি রান বিরাট কোহলি ৩১৯। ইমরান তাহির সর্বাধিক উইকেট লাভ করেন। মহিলা বিভাগে অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং সর্বাধিক রান ২৫৭, সর্বোচ্চ উইকেট ইংল্যান্ডের আনিয়া মকুসোল। এই বিশ্বকাপেই প্রথম আলোর স্ট্যাম্প ও স্পাইডার ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। বিশ্বকাপের থিম সং ও ফ্ল্যাশ মব বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়।

উপসংহার: ১৬ মার্চ-৬ এপ্রিল ২০১৪ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় ICC ওয়ার্ল্ড T-২০ বিশ্বকাপের ৫ম আসর। প্রথম বারের মতো T-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ সবদিক থেকে বিশ্ববাসীর প্রশংসা পেয়েছে। বিশ্বকাপে যদিও বাংলাদেশ খুব বেশি ভালো করতে পারেনি কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়েও আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে।

৬. ছাত্র সমাজ ও রাজনীতি, বাংলা রচনা

বাংলা রচনা


(সংকেত: ভূমিকা; বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির পটভূমি; ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব; ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা; স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের ভূমিকা; ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজ; ছাত্ররাজনীতির অতীত ও বর্তমান; বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির যৌক্তিকতা; বর্তমান প্রেক্ষাটপটে ছাত্রদের করনীয়; উপসংহার।)

ভূমিকা: বিদ্যা অর্জন করা ছাত্র জীবনের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি ছাত্রদের আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। আজকের ছাত্রই যেহেতু আগামী দিনের নেতা তাই ছাত্রজীবন নেতৃত্ব গঠনের মূখ্য সময়। এজন্য ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। বলিষ্ট নেতৃত্ব গঠনের জন্য ছাত্র রাজনীতির বিকল্প নেই। বাংলাদেশে রাজনীতিতে ছাত্র রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন স্থান দখল করে আছে। ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৯০ এর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে ছাত্ররাই ছিল সামনের সারিতে।

বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির পটভূমি: বাংলদেশের ছাত্র রাজনীতির গোড়াপত্তন হয় বৃটিশদের আগমনের প্রায় ১০০ বছর পরে। বৃটিশদের অত্যাচার অনাচার থেকে মুক্তির জন্য ছাত্ররা বিভিন্ন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। স্বদেশি আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনেও ছাত্ররা জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৭- এর দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ নামক ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলেন। এর পর থেকেই ছাত্ররা সাংগঠনিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা সাংগঠনিকভাবে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছে এই ছাত্ররাই।

ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব: জনদাবী আদায়ে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা অনস্বীর্কায। অন্য কোনো শ্রেণি বা পেশার মানুষ ততটা সংগঠিত হতে পারে না যতটা হতে পারে ছাত্ররা। তারুণ্য নির্ভর তেজোদীপ্ত সংগঠিত ছাত্রদের দৃঢ় আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খানের মতো স্বৈরশাসকেরও পতন হয়েছে, তেমনি পতন হয়েছে স্বৈরশাসক এরশাদেরও। ছাত্ররা সমাজের সবচেয়ে বড় সচেতন গোষ্ঠী। রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো অন্যায় করলে ছাত্ররাই প্রথমে ফুঁসে উঠে তার প্রতিবাদ জানায়। এজন্যই সুশৃংখলিত এবং সুসংগঠিত ছাত্র রাজনীতি যেকোনো দেশের সার্বিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা: ১৯৪৮ সালে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন ঘোষণা দিলেন “উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা” তখনই ছাত্র জনতা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছাত্ররা ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে ছাত্ররা সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। এতে পুলিশ ছাত্রদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় আর শহিদ হন সালাম, রফিক, শফিক, বরকত সহ আরও অনেকেই। আন্দোলন আরো বেগবান হলে পাকিস্তানের অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠী মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়। ছাত্রদের আন্দোলনের কারণেই আমরা পেয়েছি আমাদের মাতৃভাষা।

৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা: ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থবিরোধী শিক্ষানীতি প্রনয়ণ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।

৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের ভূমিকা: ১৯৬৬ সালের ৬ দফাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী “আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা” নামক একটি মামলা দায়ের করে। এতে প্রধান আসামী করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তখন ছাত্ররা বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই গণঅভ্যুত্থানের চাপে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করে। বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে করা মামলাও প্রত্যহার করে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের ভূমিকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের ভূমিকা বিশ্বনন্দিত। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সে দেশের ছাত্র সংগঠন এতো সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এজন্যই ১৯৭১ সালের ২৫ শে র্মাচের কাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উপরই প্রথম আক্রমন চালিয়েছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। কিন্তু তাতে ছাত্ররা দমে যায়নি বরং গোরিলা যুদ্ধ, সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পর্যুদস্তু করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।

১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজ: ১৯৮০ এর দশকে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাধঁতে শুরু করে। দীর্ঘ ৯ বছরের মাথায় ছাত্রদের আন্দোলনের তীব্রতায় স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়।

ছাত্ররাজনীতির অতীত ও বর্তমান: ছাত্ররাজনীতির অতীত অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল হলেও বর্তমানে তা আর নেই। বরং বর্তমান ছাত্র সংগঠনগুলো দ্বন্দ্ব-কলহ-সংঘর্ষ,চাদাবাজি,খুন ইত্যাদি অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। এতে যেমন পড়াশুনার স্বাভাবিক পরিবেশে নষ্ঠ হচ্ছে তেমনি অভিভাবকদের উদ্বিগ্নতাও বেড়ে যাচ্ছে। ২০০২ সালের ১৬ জুন বুয়েটের শিক্ষার্থী সনি মারা যায় ছাত্র সংঘর্ষের ফলে। ২০১১ সালে রাজশাহীতে, ২০১২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যার ঘটনা নিষ্ঠুর ছাত্র রাজনীতিরই ফল। অথচ অতীতের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা ছাত্র রাজনীতির অনেক গৌরবময় অর্জন দেখতে পাই।

বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির যৌক্তিকতা: বর্তমান সময়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে দেশের জনগণের মধ্যে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি উঠেছে। ছাত্ররা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে কেবল তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাই নয় বরং জনগণও এর ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে পড়ছে। নৈতিক আদর্শ এবং জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য দৃঢ় থাকলে বর্তমান সময়েও ছাত্র রাজনীতির আবশ্যকতা রয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্রদের করণীয়: বর্তমান ছাত্ররাজনীতির প্রতি নেতিবাচক ধারণা দূর করার জন্য ছাত্রদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য তাদেরকে দেশের জন্য কল্যাণকর হয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার থাকতে হবে। সন্ত্রাস, নিজেদের মধ্যে মারামারি,চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। রাজনীতিবিদরা যেন ছাত্রদেরকে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

উপসংহার: বাংলাদেশে কিছু ক্ষেত্রে ছাত্র সংগঠনগুলোই আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ এবং দেশের অস্থিরতার জন্য দায়ী। এজন্য বাস্তবতার নিরীখে ছাত্ররাজনীতির লাগাম টেনে ধরা দরকার। তবে বর্তমানে ছাত্র নেতাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় ছাত্ররাজনীতির সেই পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে। এজন্য ছাত্রদেরকে ব্যক্তিস্বার্থ পরিত্যাগ করে জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে রাজনীতি করা উচিত। হীন মানসিকতার রাজনীতিবিদের হাতের ক্রীড়ানক না হয়ে দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্ররাজনীতি করতে হবে।

৫. ইভটিজিং, বাংলা রচনা

বাংলা রচনা


(সংকেত: ভূমিকা; ইভিটিজিং কী; ইভটিজিং-এর ধরণ; ইভটিজিং কেন এবং কারা করে; নৈতিকতার অবক্ষয় ও ইভটিজিং; ইভটিজিং-এর প্রভাব; বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইভটিজিং; ভিন্ন আঙ্গিকে ইভটিজিং; ইভটিজিং প্রতিরোধে করণীয়; উপসংহার।)

ভূমিকা:

“জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য- লক্ষ্মী নারী
সুষমা- লক্ষ্মী নারীই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি।”
- কাজী নজরুল ইসলাম
মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। নারী মাতৃরূপে মমতা দেয়, ভাগনী রূপে স্নেহ দেয়, আবার প্রেয়সী রূপে দেয় প্রেরণা। কিন্তু এই পুরুষশাসিত সমাজ যুগে যুগে নারীকে তাঁর অধিকার থেকে করেছে বঞ্চিত, নানা ভাবে করেছে শোষণ। একবিংশ শতাব্দীতে নারী তাঁর হাজার বছরের অবরুদ্ধ জীবনের গ্লানি থেকে মুক্তি পেয়েছে বটে কিন্তু এখনো পায়নি তাঁর পরিপূর্ণ সামাজিক মর্যাদা। নারী সত্তার অপমৃত্যু ঘটাতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এর আদিম কর্দয প্রয়াস, যার নাম ‘ইভটিজিং’। সমাজের প্রতিটি স্তরে এক ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধি রূপে ছড়িয়ে পড়েছে ইভটিজিং। পুরুষশাসিত এই সমাজ ইভটিজিং এর মাধ্যমে মেয়েদেরকে ঠেলে দিচ্ছে করুণ পরিণতির দিকে।
ইভটিজিং কী: ইভটিজিং একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ নারীদের উত্যক্ত করা। ‘ইভ’ হলো ‘হাওয়া’- যে পৃথিবীর প্রথম নারী। সুতরাং ইভটিজিং নারীদেরকে উত্যক্ত করাকে নির্দেশ করে। নারীদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করাই ইভটিজিং। একজন নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করা, তাকে হেয় করে অশালীন কথা বলা, মানুষের সামনে অপদস্থ করা ইভটিজিং-এর মধ্যে পড়ে।

ইভটিজিং এর প্রভাব: সমাজে ইভটিজিং এর ভয়াবহ প্রভাব প্রতিদিনের সংবাদপত্রগুলোই আমাদেরকে বলে দেয়। সমাজের উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, এবং নিম্নবিত্ত সকল শ্রেণির মেয়েরাই ইভটিজিং এর শিকার হয়। শতশত মেয়েরা ইভটিজিং-এর শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এছাড়া ইভটিজিং এর কারণে অনেক নারী লেখাপড়া বন্ধ করে দিচ্ছে যেটি দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিরূপ প্রভাব বয়ে আনবে। এর ফলে সামাজিক স্থিতিশীলতাও নষ্ট হচ্ছে।

ইভটিজিং কেন হয় এবং কারা করে: সমাজে ছেলেদের উচ্ছৃঙ্খল মানসিকতার জন্য ইভটিজিং হয়ে থাকে। ইভটিজিং-এর মাধ্যমে মেয়েদের হয়রানি করে তারা এক ধরণের বিকৃত প্রশান্তি লাভ করে। নারীবাদী সংগঠন "women for women'' এবং "Steps toward Development"-এর যৌথ সমীক্ষায় ইভটিজিংকারীদের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়- উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান ১৫% উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ৬০% এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান ২৭% ইভটিজিং-এর সাথে জড়িত। আর এটা থেকে প্রমাণিত হয় যে ইভটিজিং-এ সাধারণত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই বেশি জড়িত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইভটিজিং: বাংলাদেশে একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে সবশ্রেণির মেয়েরাই ইভটিজিং-এর শিকার হয় আমাদের দেশে ১২-১৪ বছরের মেয়েরা ২৮.৩৩%। ১৪-১৬ বছরের মেয়েরা ৫৬.৬৭% এবং ১৬-১৮ বছরের মেয়েরা ১৫% ইভটিজিং-এর শিকার হয়। এছাড়া একক পরিবারের মেয়েরা ৮৮.৩৩% এবং যৌথ পরিবারের মেয়েরা ১১,৬৭% ইভটিজিং-এর শিকার হয়।

নৈতিকতার অবক্ষয় ও ইভটিজিং: ইভটিজিং ও নৈতিকতার অবক্ষয় একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইভটিজিং এর প্রধান কারণ হচ্ছে নৈতিকতার অবক্ষয়। এখনকার সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় চরম আকার ধারন করেছে। এই পরিস্থিতি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যার ফলে তারা আর্দশহীন হয়ে যাচ্ছে। আজকের যুবসমাজ শিক্ষার মূল চেতনাকে অনুধাবন করতে পারছে না ফলে তারা নিজেদেরকে সুপথে পরিচালিত করতে পারে না। নানা ধরণের প্রতিকূল অবস্থার কারণে যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। আর এভাবেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মতো ইভটিজিং একটি দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

ইভটিজিং-এর ধরণ: বিভিন্ন সময়ে ইভটিজিং বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। ইভটিজিং কারীরা বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ইভটিজিং করে থাকে। ২০০৯ সালে ১৪ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে ইভটিজিং দূর করার জন্য কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়। যে ধরণের কাজগুলো ইভটিজিং বলে গণ্য হয় সেগুলো হলো-

যেকোনো ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বা রসিকতা।
গায়ে হাত দেয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করা।
ই-মেইল, এসএমএস, টেলিফোনে বিড়ম্বনা।
পর্নোগ্রাফি বা যেকোনো ধরণের চিত্র, অশ্লীল ছবি, দেয়াল লিখনের মাধ্যমে বিরক্ত করা।
অশালীন উক্তিসহ আপত্তিকর কোনো ধরণের কিছু করা, কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে সুন্দরী বলা।
কোনো নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কোনো চাপ প্রয়োগ করা।
মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সর্ম্পক স্থাপন করা, যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দাবি বা অনুরোধ করা প্রভৃতি।
ভিন্ন আঙ্গিকে ইভটিজিং: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ইভটিজিং-এ এসেছে নতুনত্ব। ফেসবুকের মাধ্যমে ইভটিজিংকারীরা অশালীন ছবি বা কথার্বাতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফেসবুক হ্যাকিং-এর মাধ্যমে একজনের আইডি নিয়ে সেটিতে বিভিন্ন প্রকার সম্মানহানিকর ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। এছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে কল করে ইভটিজিং করা হচ্ছে। ইভটিজিংকারীরা ফোনকেও বেছে নিয়েছে ইভটিজিং-এর হাতিয়ার স্বরূপ।

ইভটিজিং প্রতিরোধে করণীয়: নারীর প্রতি এই অমানবিক নির্যাতন দূর করার জন্য সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। নাগরিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রতিবাদের সম্বনয়ে ইভটিজিং প্রতিরোধ সম্ভব। নিচের বিষয় গুলো ইভটিজিং প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে-

সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি: সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে হবে। তাতে ইভটিজিং প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

আইন প্রণয়ন: ইভটিজিংকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি: সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ইভটিজিং প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।

শিক্ষার বিকাশ: শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশে সাহায্য করে। এই শিক্ষার আলো যদি যুবসমাজে ছড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে তারা ভালো-মন্দ পার্থক্য করতে পারবে এবং খারাপ পথ থেকে সরে আসবে।

পারিবারিক মূল্যবোধ: বাবা-মায়ের উচিত তাদের শিশুর মনুষ্যত্ব যেন পরিপূর্ণ ভাবে বিকশিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। ছেলেরা যেন বাজে কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সর্তক দৃষ্টি রাখা। তাহলে ইভটিজিং কমে আসবে।

নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি: পুরুষ যখন নারীকে সম্মান করতে শিখবে কেবলমাত্র তখনই নারীদের প্রতি অশালীন আচরন করতে তাদের বিবেক বাধা দিবে। সুতরাং নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: সকল বেকার যুবকের জন্য কাজের ব্যবস্থা করলে তারা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং ইভটিজিং থেকে দূরে অবস্থান করবে।

পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা: যে সকল জায়গাগুলোতে সাধারণত ইভটিজিং হয়ে থাকে যেমনঃ স্কুল, কলেজ, শপিং সেন্টার, ব্যস্ততম মোড় ইত্যাদি স্থানে পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে।

মাদক দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাস: মাদকসক্ত হয়ে যুবসমাজ তাদের বিবেক হারিয়ে নারীকে ইভটিজিং করে যাচ্ছে। তাই ইভটিজিং রোধে মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রন করা প্রয়োজন।

উপসংহার:

“নারীর বিরহে নারীর মিলনে, নর পেল কবি-প্রাণ
যত কথা তার হইল কবিতা, শব্দ হইল গান
নর দিল ক্ষুধা, নারী দিল সুধা, সুধায় ক্ষুধায় মিলে
জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু তিলে তিলে।”
- কাজী নজরুল ইসলাম
নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, একে অপরের সহযোগী। নারীর প্রতি পুরুষের সহিংসতা সমাজকে ভালো কিছু দিতে পারে না। এর ফলে সমাজ শুধু পিছিয়েই পড়ে । নারীর প্রতি পুরুষের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান বদলে দিতে পারে আমাদের সমাজজীবন, বন্ধ করতে পারে ইভটিজিং এর মতো ঘৃন্য অপরাধ।

৪. যৌতুক প্রথা,বাংলা রচনা


বাংলা রচনা


(সংকেত: ভূমিকা; যৌতুকের সংজ্ঞা; যৌতুক প্রথার উৎপত্তি ও ইতিহাস; যৌতুক প্রথার কারণ; যৌতুকের বিরূপ প্রভাব; নারী নির্যাতনে যৌতুক প্রথা; সাম্প্রতিককালে যৌতুকের বলি ও নারী নির্যাতনের চিত্র/ঘটনা; যৌতুক প্রথা রোধে গৃহীত পদক্ষেপ; যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে আইন ও যথাযথ প্রয়োগ; উপসংহার।)

ভূমিকা: যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর বিষক্রিয়ায় আমাদের গোটা সমাজ আক্রান্ত। বর্তমানে যৌতুক প্রথার ভয়াবহতা বাড়লেও এর প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই। নারীজীবনে এ প্রথা অভিশাপস্বরূপ। প্রতিনিয়ত অসংখ্য নারী অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হচ্ছে যৌতুকের কারণে। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর সুখের সংসার ভেঙে যাচ্ছে যৌতুকের অভিশাপে। যৌতুকের করাল গ্রাসে নারীর সামাজিক ও মানবিক মর্যাদা লাঞ্ছিত হচ্ছে। যৌতুক প্রথা কেবল নারীকে মর্যাদাহীনই করে না বরং গোটা নারী জাতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে সমগ্র দেশের উন্নয়নের গতিকে মন্থর করেছে।

যৌতুকের সংজ্ঞা: যৌতুকের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে '''Dowry'''। বিয়ের সময়, আগে, পরে কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে যে সকল অর্থ, সম্পদ, অলংকার, আসবাবপত্র, বিনোদনমূলক সামগ্রী দিয়ে থাকে তাকেই যৌতুক বলা হয়। বর্তমানে ধনী পরিবারগুলোতে বিয়ের উপটোকন হিসেবে বাড়ি-গাড়ি ও জায়গা জমিও আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

যৌতুক প্রথার উৎপত্তি ও ইতিহাস: যৌতুক প্রথার উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায় না। তবে প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে এ প্রথা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বিস্তার লাভ করেছে। প্রাচীন যুগের রামায়ন ও মহাভারতের বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রের বিয়েতে যৌতুক আদান-প্রদানের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। রাজা বল্লাল সেনের সময় প্রচলিত কৌলীণ্য প্রথার ফলে কন্যার পিতাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দানের চুক্তিতে কন্যা অরক্ষণীয়া হওয়ার আগেই কুলীন পাত্রে পাত্রস্থ করতে হত। এছাড়া একটু নিচু বংশের মেয়েকে উঁচু বংশে বিয়ে দিতে হলে মেয়ের বাবাকে পাত্র পক্ষকে প্রচুর অর্থ সম্পদ দেয়াটা ছিল তখনকার দিনের নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। এছাড়াও মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যসহ অন্যান্য কাব্যে যৌতুক প্রথার ব্যাপক প্রচলন সম্পর্কে জানা যায়।

যৌতুক প্রথার কারণ: যৌতুক প্রথার প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থলোভ। অনেক সময় অর্থের লালসায় ছেলের পরিবার ছেলেকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে থাকে। এছাড়াও আমাদের দেশে দারিদ্র্য বা আর্থিক দূরবস্থাও যৌতুক প্রথা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দরিদ্রতার চাপে বা অভাবে পরে অনেকে যৌতুক নিয়ে থাকে। পুরুষ শাসিত সমাজে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস নারীদের উপযুক্ত মর্যাদাদানে বাধা দেয় যা যৌতুক প্রথাকে উদ্বুদ্ধ করে। শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর নারীকে সমাজ মূল্যহীন ভাবে আর এর ফলে সৃষ্ট নারীর অজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা যৌতুক প্রথা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। এছাড়া অধিকারহীনতা ও অশিক্ষা, সামাজিক প্রতিপত্তি ও প্রতিষ্ঠা লাভের মোহ, উচ্চবিলাসী জীবনযাপনের বাসনা ইত্যাদি যৌতুক প্রথার অন্যতম কারণ।

যৌতুকের বিরূপ প্রভাব: যৌতুক প্রথা আমাদের সমাজ জীবনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের লোভে পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে না হওয়ায় অনেক সময়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিলবন্ধন তৈরি হয় না। যৌতুকের অর্থের পরিমাণ সামান্য কম হলেই দরিদ্র পরিবারের মেয়ের উপর নানারকম অসহনীয় অত্যাচার ও নির্যাতন করে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। প্রতিনিয়ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির আবদার মেটাতে গিয়ে অনেক দরিদ্র মেয়ের বাবাই নিঃস্ব ও অসহায় হয়েছে। যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পেরে অনেক নারীকেই স্বামীগৃহ ত্যাগ করে পিতৃগৃহে ফিরে আসতে হয়। কখনো কখনো তালাকও প্রদান করা হয়। এভাবে প্রতিনিয়ত অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক নারীই আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ প্রথা নারী পুরুষের ভেদাভেদ ঘটিয়েছে, নারীকে সামাজিকভাবে হেয় ও পণ্যে পরিণত করেছে। শুধুমাত্র নারী ও পুরুষের মধ্যে অসমতাই সৃষ্টি করে না বরং সামাজিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে। এটি অত্যন্ত জঘন্য ও আমানবিক সামাজিক রীতি ও প্রথা যা নারীর মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। অনেক দরিদ্র পিতা-মাতাই যৌতুকের অভিশাপে কন্যা সন্তানকে সানন্দে গ্রহণ করে না। যৌতুকের বিরূপ প্রভাব নারী জীবনের জন্য অবমাননাকর ও আত্মমর্যাদাহানিকর।

নারী নির্যাতনে যৌতুক প্রথা: বর্তমানে যৌতুক প্রথার ফলে নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা ও নারী নির্যাতন স্বাভাবিক ব্যাপার। জন অস্টিন যৌতুক প্রথার দ্বারা নারী নির্যাতন সম্পর্কে বলেছেন, ''Dowry system paves the way to women oppression'' যৌতুকের অর্থ না দিতে পারলে সদ্য বিবাহিত নারীকে পদে পদে হেয়, নিচু ও বিদ্রƒপ করা হয়। এছাড়া শারীরিকভাবে অমানবিক নির্যাতনের দ্বারা হত্যা করে আত্মহত্যা বলে দাবি করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এছাড়াও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এসিড দগ্ধ করা কখনো পুড়িয়ে বা বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা, শ্বাসরোধ করে বা গলায় দড়ি আটকিয়ে মেরে ফেলা প্রভৃতি নৃশংসতা হয়ে থাকে যৌতুকের কারণে।

সম্প্রতি যৌতুকের বলি ও নারী নির্যাতনের চিত্র: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের সাম্প্রতিক রিপোর্টে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০১৩) দেখা যায়, ২০১৩ সালে মোট ২৬৫ জন নারী যৌতুকের বলি হয়েছে। এর মধ্যে ১০৯ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার, ৩ জন এসিডদগ্ধ, ৪ জন স্বামীর গৃহ থেকে বিতাড়িত, ১২৮ জন হত্যার শিকার ও ২১ জন আত্মহত্যা করেছে। ২০১২ সালের একটি রিপোর্টে দেখা যায়, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যথাক্রমে মোট ৩৭ জন ও ২৪ জন যৌতুকের শিকার। ২০১২ সালের অক্টোবরে ৩৭ জনের মধ্যে ১৮ জন নির্যাতনের শিকার, ১৮ জন হত্যার শিকার ও ১ জন আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া BSHER-এর রিপোর্টে দেখা যায়, ২০০৯-১০ বছরে, যৌতুকের ফলে ৩৫৮ জন মৃত ও ১৬৯ জন নির্যাতিত হয়েছে। এছাড়া আরেকটি রিপোর্ট A wife's darkest hour : Dowry violence in bangladesh- এ বলা হয়, ২০০৮ সালে ১৮৬ জন এবং ২০০৭ সালে ১৭২ জন যৌতুকের শিকার হয়েছে। অপর একটি রিপোর্ট' 'Dowry'- A social evil'-এ বলা হয়েছে ২০০৪ সালে ৩৬৭ জন মহিলা যৌতুকের শিকার হয়েছে।

যৌতুক প্রথারোধে গৃহীত পদক্ষেপ: সমাজ থেকে যৌতুক প্রথার মূল উৎপাটনের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সুস্থ্য মানসিকতা, বলিষ্ঠ জীবনবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক, গঠনশীল দৃষ্টিভঙ্গিই পারে যৌতুক প্রথা নিমূল করতে। যৌতুক প্রথারোধে বর্তমান তরুণ সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তরুণরাই পারে স্বশিক্ষিত ও বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন হয়ে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে। এছাড়া নারীসমাজের প্রতি পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। নারীকে পণ্যদ্রব্য হিসেবে বিবেচনা না করে নিজেদের অর্ধাঙ্গী হিসেবে সঠিক মর্যাদা দিতে হবে সমাজের প্রত্যেক পুরুষকে। পুরুষদের অর্থলোভ ত্যাগ করে নারীর গুণ ও গৌরবের তাৎপর্য উপলব্ধি করে সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যৌতুক দেয়া ও নেয়াকে ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে সকলকে বিবেচনা করতে হবে।

যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে আইন ও যথাযথ প্রয়োগ: বাংলাদেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বিভিন্ন আইন পাশ করেছে। নারীদের উন্নয়নের জন্য সরকার নারী উন্নয়ন ম্যাগনাকার্টা নামে পরিচিত ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি’ ঘোষণা করেছে। নারী নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন আইন প্রণীত হয়েছে। যেমনঃ (১) যৌতুক বিরোধী আইন ১৯৮০, (২) নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ১৯৮৩ (৩) বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯৮৪, (৪) মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ [সংশোধিত ১৯৮৫] (৫) পারিবারিক আদালত আইন ১৯৮৫, (৬) সন্ত্রাস বিরোধী আইন ১৯৯২, (৭) নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০। নারী নির্যাতন বিরোধী আইনে যৌতুকের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০-এ বলা হয়েছে যৌতুকের কারণে কোনো নারীর মৃত্যু হলে এর শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড। মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করা হলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হবে। যৌতুকের কারণে আহত করা হলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হবে। আহত করার চেষ্টা করা হলে অনধিক ১৪ বছরের এবং সর্বনিম্ন ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হবে এবং সকল ক্ষেত্রে আর্থিক দন্ডের বিধান করা হয়েছে।

উপসংহার: নারী জাতির উন্নয়নের জন্য যৌতুক নামক বিষবৃক্ষের শিকড় নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে সমাজ থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। সমাজের সকলকে উপলব্ধি করতে হবে নারীরা আমাদেরই মা, বোন ও সন্তান। তাহলেই সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রে নারীদের সঠিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।

ইসমাইল হোসেন