তওয়াফ
তওয়াফ অর্থ কোন কিছুর চারদিকে ঘুরা। সুনির্দিষ্ট নিয়মে কাবা শরীফের চতুর্দিকে
ঘুরাকে ইসলামি শরীয়তের ভাষায় তওয়াফ বলে।
তওয়াফের প্রকারভেদ:
ফরজ তওয়াফ
তওয়াফ অর্থ কোন কিছুর চারদিকে ঘুরা। সুনির্দিষ্ট নিয়মে কাবা শরীফের চতুর্দিকে
ঘুরাকে ইসলামি শরীয়তের ভাষায় তওয়াফ বলে।
তওয়াফের প্রকারভেদ:
ফরজ তওয়াফ
- তওয়াফে উমরা: হজ্জ ও উমরা পালনকারী মক্কা শরীফে পৌঁছে যে তওয়াফ করে।
- তওয়াফে যিয়ারত: হজ্জ পালনকারী উকুফে আরাফা ও মুযদালিফা শেষে মিনায় পাথর নিক্ষেপের পর ১০, ১১ জিলহজ্জ যে কোন সময় ও ১২ জিলহজ্জ সূর্যাস্তের পূর্বে যে তওয়াফ করে।
ওয়াজিব তওয়াফ
- হজ্জ শেষে মক্কা শরিফ ত্যাগের পূর্বে যে তওয়াফ করা হয়।
নফল তওয়াফ
- ফরজ এবং ওয়াজিব তওয়াফ ছাড়া অন্য যে কোন সময় নিজের সুবিধামত যে তওয়াফ করা হয়।
তওয়াফের ফরজ
- তওয়াফের নিয়ত করা।
- কাবার চারিদিকে ঘুরা।
তওয়াফের ওয়াজিব
- সতর ঢাকা।
- ওযুসহ তওয়াফ করা।
- পায়ে হেঁটে তওয়াফ করা।
- কাবাকে বাম দিকে রেখে ডান দিকে তওয়াফ করা।
- হাতিমের বাইরে দিয়ে তওয়াফ করা।
- সাত চক্কর পূর্ণ করা।
- তওয়াফ শেষে দু‘রাকাত সালাত আদায় করা।
তওয়াফের সুন্নত
- হাজরে আসওয়াদ থেকে প্রত্যেক চক্কর শুরু করা এবং হাজরে আসওয়াদ এসে শেষ করা।
- হাজরে আসওয়াদে চুমু প্রদান, হাত কিংবা অন্য কিছু দিয়ে ইশারা করা।
- উমরা ও হজ্জ পালনকারীদের প্রথম তওয়াফে (তওয়াফে কুদুম) ইজতিবাসহ রমল করা।
- ইজতিবা- ইহরামের চাদরের এক অংশ ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধে উঠিয়ে রাখতে হয় যাতে ডান কাঁধ কাপড় দিয়ে ঢেকে না থাকে। ইজতিবা তওয়াফের সাত চক্করে বহাল থাকে। তওয়াফ শেষে ইহরামের কাপড় দ্বারা ডান কাঁধ ঢেকে দিতে হয়।
- রমল- তওয়াফের প্রথম তিন চক্কর হেরে দুলে দ্রুত পায়ে চলা।
- ইজতিবা ও রমল শুধু পুরুষের জন্য প্রযোজ্য।
- বিরতিহীনভাবে সাত চক্কর পূর্ণ করা।
- তওয়াফের নামায শেষে জমজমের পানি পান করা।
- প্রতি চক্করে রুকনে ইয়ামানি ডান হাতে স্পর্শ করা।
- রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত “রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আযাবাননার” পাঠ করা।
- ওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমে “ওয়াত্তাখিযু মিম মাকামে ইব্রাহিমা মুসল্লা” পাঠ করা।
তওয়াফের সময় নিষিদ্ধ
- বিনা ওযুতে তওয়াফ করা।
- মহিলাদের জানাবাত অবস্থায় তওয়াফ করা।
- হাতিমের ভিতর দিয়ে তওয়াফ করা।
- হাজরে আসওয়াদ ছাড়া অন্য কোন স্থান থেকে তওয়াফ শুরু করা।
- সাত চক্কর পূর্ণ না করা।
- তওয়াফের কোন ওয়াজিব বাদ দেওয়া।
তওয়াফের মুবাহ
- সালাম দেওয়া।
- হাঁচির পর আলহামদুলিল্লাহ বলা।
- প্রয়োজনীয় মাসআলা জিজ্ঞাসা করা বা বলা।
- প্রয়োজনীয় কথা বলা।
তওয়াফের মাকরূহ
- অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা।
- ক্রয়-বিক্রয় করা।
- কবিতা/গান করা।
- উচ্চস্বরে দু‘আ তাসবিহ পড়া।
- অপরিচ্ছন্ন কাপড়ে তওয়াফ করা।
- তওয়াফে কুদুমে ইজতিবা ও রমল বাদ দিয়ে তওয়াফ করা।
- অপ্রয়োজনে বাহন ব্যবহার করা।
- কাবার দিকে মুখ করে তওয়াফ করা।
তওয়াফ শেষে নামায
প্রত্যেক তওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমে দু’রাকাত তওয়াফের নামায আদায় করা
ওয়াজিব।
জমজমের পানি পান
তওয়াফ শেষে জমজমের পানি পান করা সুন্নাহ।
সাঈ
সাঈ অর্থ দৌড়ান বা দ্রুত চলা। হজ্জ বা উমরার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সাফা ও মারওয়ার
মধ্যে সাঈ করা ওয়াজিব।
সাঈ-এর ওয়াজিব
- সাঈ সাফা থেকে শুরু করা এবং মারওয়াতে শেষ করা।
- পায়ে হেঁটে সাঈ করা।
- সাতবার চক্কর পূর্ণ করা।
- দৌড়ান বা হাঁটা।
- উমরা পালনে ইহরাম অবস্থায় সাঈ করা।
- সাফা এবং মারওয়ার মধ্যবর্র্তী দুরত্ব সম্পূর্ণভাবে অতিক্রম করা।
সাঈ-এর সুন্নত
- হাজরে আসওয়াদে ইস্তিলাম (চুমু দিয়ে) করে সাঈ-এর উদ্দেশ্যে বের হওয়া।
- তওয়াফের পরপরই সাঈ করা।
- সাফা ও মারওয়ায় আরোহণ করা।
- সাফা ও মারওয়ায় আরোহণ করে কেবলামুখী হওয়া।
- সাঈ-এর চক্করসমূহ পর পর সমাপন করা।
- জানাবত, হায়েয ও নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া।
- সবুজ বাতিদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে দ্রুত চলা।
মাথা মুন্ডান বা চুল কাটা
মাথা মুন্ডান বা চুল কাটা হজ্জ বা উমরার অন্যতম একটি ওয়াজিব। হজ্জকারী বা উমরা পালনকারী মাথা মুন্ডান না করে ইহরাম থেকে বের হতে পারে না। উমরার সময় তওয়াফ ও সাঈ শেষ করে মাথা মুন্ডানো বা চুল কাটতে হয়। আর হজ্জের সময় ১০-১২ জিলহজ্জ জামারায় পাথর নিক্ষেপের পর কুরবানি শেষ করে মাথা মুন্ডানো বা চুল কাটতে হয়। নিজের চুল কেটে স্বাভাবিক না হয়ে অন্যের চুল কাটা যায় না।
মাথা মুন্ডানো বা চুল কাটার উত্তম পদ্ধতি
দর কষাকষি না করা, কিবলামুখী হয়ে বসা, শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, ডান দিক থেক শুরু করা। শেষে আল্লাহু আকবার বলা, দু’রাকাত নামায পড়া।
No comments:
Post a Comment