১.হজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইহরাম অবস্থায় কি কি কাজ করা যাবে আর কি করা যাবে না তা বারবার পড়ারও স্মরণ রাখা। যেমন ধরুন মশা আপনাকে কামড় দিল এমতাবস্থায় আপনি অভ্যাসবশত মশাটি মেরে ফেললেন। তাও আপনি মারতে পারবেন। মারলে ইহরাম ছুটে যাবে।
২.স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে হজ করবেন। মনে রাখতে হবে ইহরাম অবস্থায় একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া, গীবতসহ যাবতয়ি নিষিদ্ধ কাজথেকে বিরত থাকা। কারণ স্বামী স্ত্রী দুজনই আল্লাহর মেহমান।
৩.মক্কা-মদিনার দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া। একা একা না গিয়ে কয়েকজন মিলে যাওয়া। বিশেষ করে পানীয় ও জুস জাতীয় খাবার সঙ্গে রাখা জরুরী।
৪.হজে যাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ইবাদত তাই, নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে গিয়ে বসে না থাকলে মসজিদের ভেতর জায়গা পাবেন না। বিশেষ করে জুম্মার নামাজ শুরু হওয়ার ২ ঘণ্টা আগে গেলে মসজিদের ভেতর ভালো জায়গা পাওয়া সম্ভব।
৫.অধিকাংশ নারীই জামাআতের সহিত নামাজ আদায় করতে পারেন না। নারীদের সঙ্গে মুহরিম যারা, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে নারী আত্মীয়দের জামেআতে নামাজ পড়ার নিয়ম-কানুনগুলো শিখিয়ে দেয়া। কারণ আমাদের দেশের নারীরা মসজিদে নামাজ পড়তে অভ্যস্ত নন। হজে যাওয়ার আগেই তা শিখে নিন।
৬.হজের মওসুমে প্রায় প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তেই জানাজার নামাজ হয়। অনেক নারী-পুরুষ জানাজার নামাজ আদায়ের নিয়ম-কানুন জানেন না। হজে যাওয়ার আগেই তা শিখে নিন। জানাজার নামাজ আদায়ে রয়েছে অনেক ছাওয়াব।
৭.হজের সময় আপনি সারা দুনিয়ার মানুষকে একসঙ্গে দেখতে পাবেন। দেখতে পাবেন নানান রকম মানুষের নানান রকম মত আর নিয়ম কানুন। যদি কেউ কোনো ভুল করে তাহলে তাকে সাবধানে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করুন। কাউকে সরাসরি শোধরানোর চেষ্টা করবেন না। অপর ব্যক্তি না বুঝলে চুপ থাকুন। কারণ মনে রাখবেন, হজ হচ্ছে বিশ্ব মুসলিমের মহা সম্মিলন।
৮.দোয়া কবুল হওয়ার স্থানে মন ভরে দোয়া করুন এবং আগে থেকে ঠিক করে রাখুন কি দোয়া করবেন। অনেক সময় আবেগের কারণে কি দোয়া করবেন তা মনে থাকে না।
৯.কাবার ভালবাসা যার অন্তরে নেই। সে নিতান্তই কমজোর মুসলমান। কারণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবা খুব ভালবাসতেন। যা পরিলক্ষিত হয়েছে, হিজরতসহ পরবর্তী সময়গুলোতে। সুতরাং মন ভরে কাবা ঘর দেখে নিবেন। কারণ দ্বিতীয়বার কাবা ঘর দেখার নসিব নাও হতে পারে।
১০.মসজিদে হারাম বা মসজিদে নববী যেখানেই যান, আপনাকে অনেকক্ষণ মসজিদে থাকতে হবে। তাই সঙ্গে খেজুর, বাদাম বা শুকনো খাবার রাখবেন। মনে রাখতে হবে, কোনোভাবেই আপনাকে অসুস্থ হওয়া চলবে না। অসুস্থ হবেন এমন খাবার বিশেষ করে তৈলাক্ত খাবার থেকে যতটা পারা যায় বিরত থাকুন। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনি অসুস্থ হয়ে যান। যেমন বেশি উমরা করতে গিয়ে অনেকে এমন অসুস্থ হয়ে যান যে, ফরজ কাজ করতে পারবেন না।
১১.আপনি হজের আগে সামান্য রিলাক্স মুডে থাকতে পারেন, এতে হজের সময় কষ্ট কম হবে। অতিরিক্ত জিয়ারাহ বা তাওয়াফ হজের পরে করাই ভালো। প্রচুর পরিমাণে পানি ও জুস খেতে হবে। হজের সময় হাল্কা স্যান্ডেল ও ঢিলে-ঢালা জামা-কাপড় ব্যবহার করবেন।
১২.আপনি যখন মিনা, মুজদালিফা ও আরাফায় অবস্থান করবেন, তখন চেষ্টা করবেন আপনার ব্যাগের ওজন যেন কম হয়। কারণ অনেক হাঁটতে হবে এবং সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করতে হবে।
১৩.জামাআরাহতে (পাথর নিক্ষেপের জায়গা) বড় ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেবে না। অনেক সময় নিরাপত্তা রক্ষীরা ব্যাগ নিয়ে ফেলে দেয়। সেই ক্ষেত্রে সাবধান। নিক্ষেপ করার পাথর মোয়াল্লেমের মাধ্যমে হোক আর ব্যক্তিগতভাবেই হোক আগে থেকেই সংগ্রহে রাখবেন।
১৪.জামাআরাহতে যখন পাথর মারা হয় তখন অনেকেরই একটা জোশ চলে আসে। অনেকেই জুতা, স্যান্ডেল, বোতল ছুড়ে মারেন। এটা করা যাবে না। পাথর মারার সময় দোয়া পড়তে পড়তে পাথর মারতে হবে এবং মনের ভেতর এমন একটা ফিলিংস আনতে হবে যে, আমি খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে পাথরটা ছুড়ে মারছি। কারণ এখানেই ইব্রাহীম আলাইহস সালাম শয়তানকে পাথর ছুড়ে মেরেছিলেন তাচ্ছিল্যের সঙ্গে।
১৫.ইহরাম অবস্থায় বাথরুম ব্যবহার করার পর সাবান দিয়ে হাত মুখ ভালভাবে পরিস্কার এবং ওজু করে নিজেকে পবিত্র রাখুন।বাথরুমের বাইরে অনেক লোক অপেক্ষা করে থাকে। তাই চেষ্টা করবেন দ্রুত বাথ রুমের কাজ শেষ করা যায়।
১৬.ইহরাম অবস্থায় কোনো সুগন্ধি বা সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করতে পারবেন না। অনেকেই বিভিন্ন লোশন ও সাবান ব্যবহার করেন যা সুগন্ধি যুক্ত। এ ক্ষেত্রে সুগন্ধিমুক্ত লোশন ও ভেসলিন ব্যবহার করতে পারেন।
১৭.আরাফার ময়দানে অনেক নিম গাছ দেখতে পাবেন। ইহরাম অবস্থায় কোনো গাছের ডাল ভাঙতে পারবেন না। কিন্তু অনেকেই গাছের ডাল ভেঙে মেসওয়াক করে। এ ব্যাপারে সাবধান।
১৮.প্রয়োজনীয় ঔষধ সঙ্গে রাখবেন। বিশেষ করে মুভ, প্যারাসিটামল, অ্যাসিডিটির ওষুধ, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।
১৯.মদিনায় মসজিদে কুবায় যাওয়ার আগেই হোটেল বা বাসা থেকে অজু করে যাবেন। কারণ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে কুবায় দু রাকাআত নফল নামাজ পড়লে একটা উমরা হজের সওয়াব পাওয়া যায়।
২০.আপনি/আপনারা মক্কা বা মদিনা যেখনেই থাকুন না কেন, কাফেলার সবাই মিলে সেখানে একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখবেন। কোনো কারণে আপনি/আপনার সঙ্গী বা হারিয়ে গেলে সে যায়গায় এসে কাফেলার সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অথবা সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশ হজ ক্যাম্পে জানান। তারাই আপনাকে জায়গামত আপনার খিমায় বা কাফেলায় পৌঁছে দেবে।
২১.হজের সময় যতটা সম্ভব এদিকে সেদিক ছোটাছুটি না করে হজের কাজ সম্পাদনের সঙ্গে সঙ্গে তাওয়াফ, বায়তুল্লাহ ও মসজিদে নববীতে ইবাদতের কাটানোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলে চেষ্টা করাই হবে প্রত্যেক হজে গমনকারীর জন্য উত্তম কাজ।
No comments:
Post a Comment