08 November, 2018

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান


  1. যেখানে অন্যায়, অবিচার, শোষণ আছে, বঞ্চিত মানুশের পক্ষে কথা বলার জন্য সেখানেই আমি হাজির।
  2. আমি বিশ্বাস করিনা ক্ষমতা বন্দুকের নলে। আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমতা বাংলার জনগনের কাছে।
  3. বাংলাদেশের লাখ লাখ যুবক, লাখ লাখ কৃষক, লাখ লাখ শ্রমিক রক্ত দিয়েছে । আর কারো কথায় নয়, শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকেই তারা জীবন দিয়েছে। স্বাধীনতার ইতিহাস কোনদিন মিথ্যা করতে নাই।
  4. এক নম্বর হলো- দুর্নীতিবাজ খতম করা, দুই নম্বর হলো-কারখানা ক্ষেতে খামারে প্রোডাকশন বাড়ানো, তিন নম্বর হলো-পপুলেশন প্ল্যানিং, চার নম্বর হলো- জাতীয় ঐক্য । জাতীয় ঐক্য করার জন্য একদল করা হয়েছে।
  5. আমি যে সুখী ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, সংগ্রাম করেছি এবং দুঃখ-নির্যাতন বরন করেছি, সেই বাংলাদেশ এখনো আমার স্বপ্ন রয়ে গেছে। গরীব কৃষক ও শ্রমিকের মুখে যতদিন হাসি না ফুটবে ততদিন আমার মনে শান্তি নাই।
  6. আমাদের অস্ত্রের সংগ্রাম শেষ হয়েছে। এবার স্বাধীনতা সংগ্রামকে দেশ গড়ার সংগ্রামে রূপান্তরিত করতে হবে। 
  7. বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন তারা সকলেই এই দেশের নাগরিক। সকল ক্ষেত্রে তারা সমঅধিকার ভোগ করবেন।
  8. সাত কোটি বাঙ্গালীর ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি কিন্তু বাংলাদেশের মানুশের ভালোবাসা হারাতে পারবো না।
  9. বাঙ্গালী বীরের জাতি। পৃথিবীর কোন শক্তি আমাদের পদানত করতে পারবে না।
  10. ছোট ভাইয়েরা আমার, যার মনের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা, সে হলো বন্য জীবের সমতুল্য।তা সত্ত্বেও অনেককে ক্ষমা করা হয়েছে। কিন্তু কথা হলো আজ সুযোগ পেয়ে যারা বাংলার গ্রামে-গ্রামে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন শুরু করো। ধর্মনিরপেক্ষতার পতাকা সমুন্নত রাখো।
  11. বাংলাদেশ শুধু নিজেই মুক্তি-সংগ্রামে সাফল্য অর্জন করে ক্ষান্ত নয়, বিশ্বের যে কোন নিপীড়িত দেশ ও মুক্তি সংগ্রামীদের পাশে আমরা রয়েছি।
  12. এই স্বাধীনতা তখনি আমার কাছে পকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে, যেদিন বাংলাদেশের কৃষক-মজুর ও দুঃখী মানুশের সকল দুঃখের অবসান হবে।
  13. সশস্ত্র বাহিনীর ভাইয়েরা, আপনারা জনগনের আর জনগণ আপনাদের। আপনারা কোন আলাদা জাত নন। আপনারা সবাই এ দেশের সন্তান তাই দেশের সাধারন মানুশের সুখ-দুঃখের সাথে শরিক হয়ে বিধ্বস্ত বাংলাকে পুনর্গঠনের জন্য তাদের পাশে আপনাদের দাড়াতে হবে। আল্লাহ্‌ ও আপনাদের সহায়।
  14. আমরা চাই মানুষ সুখী হোক, গরীব-দুঃখী, বড়-ছোট সবাই পেট ভরে ভাত খাবে। তাহলেই তো আমাদের স্বাধীনতা সার্থক হবে। যারা আত্মত্যাগ করেছে, রক্ত দিয়েছে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
  15. ছাত্র সমাজের লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়া করে মানুষ হতে হবে। জনগণ টাকা দেয় ছাত্রগণকে মানুষ হবার জন্য। মানুষ হতে হবে, আমরা যেন পশু না হই।
  16. বাবারা, একটু লেখাপড়া শিখো। ঠিকমতো লেখাপড়া না শিখলে কোন লাভ নেই। আর লেখাপড়া শিখে যে সময়টুকু থাকে বাপ-মাকে সাহায্য করো।
  17. বাংলার মানুষকে আমি ডাক দিয়েছিলাম, ৭ই মার্চ আমি তাদের প্রস্তুত করে দিয়েছিলাম।
  18. শৃঙ্খলা ছাড়া কোন জাতি সংগ্রামে জয়লাভ করতে পারেনা।
  19. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিসের প্রয়োজন তা হচ্ছে নেতৃত্ব, মেনিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী ও সংগঠন।
  20. কত হাজার হাজার লাখ লাখ লোক শহীদ হয়েছে বাংলার স্বাধীনতার জন্য। লাখ লাখ মা-বোনের আর্তনাদ আজও মোছে নাই, আজ ও থামে নাই। আজও তাদের চোখের পানি যায় নাই।
  21. একটা জাতি যখন ভিক্ষুক হয়, মানুশের কাছে হাত পাতে, আমারে খাবার দাও, আমারে টাকা দাও, সেই জাতির ইজ্জত থাকতে পারেনা। আমি ভিক্ষুক জাতির নেতা হতে চাই না।
  22. একজন বাঙ্গালী ও প্রাণ থাকতে এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেবেনা। আমরা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গনতন্ত্র সেই গনতন্ত্র যা সাধারন মানুশের কল্যাণ সাধন করে থাকে।
  23. পড়ো, জানো, শেখো, বোঝো। তারপর বিপ্লবের কথা বলো। বিপ্লব রাতের অন্ধকারে গুলি কইরা টেরোরিজম কইরা হয় না। মানুষ মরতে পারে কিন্তু নীতি বা আদর্শ মরে না কোনোদিন।
  24. ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকেনা। বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে এনে দেশকে গড়া যাবে না।
  25. আমরা গনতন্ত্র চাই কিন্তু উচ্ছৃঙ্খলতা চাই না, কারো বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি করতেও চাই না।
  26. যে সংস্কৃতির সঙ্গে দেশের মাটির সম্পর্ক নেই, যে সাহিত্য দেশের অবহেলিত-লাঞ্ছিত মানুশের কথা বলে না, সে সংস্কৃতি ও সাহিত্য চিরস্থায়ী হতে পারে না।
  27. ত্যাগ এবং সাধনা ছাড়া এ দেশকে গড়া যাবেনা। সবুর করতে হবে। সহ্য করতে হবে। কাজ ও করতে হবে।
  28. গ্রামে গ্রামে বেগুন গাছ লাগাও, কয়টা মরিচ গাছ লাগিও, কয়টা লাউ গাছ ও কয়টা নারিকেলের চারা লাগিও। বাপ মারে একটু সাহায্য করো। কয়টা মুরগি পালো, কয়টা হাস পালো, জাতীয় সম্পদ বাড়বে। তোমার খরচ তুমি বহন করতে পারবে।
  29. ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিক্তিতে শোষণহীন সমাজ গঠন করতে পারে, তাহলে আমার জীবন সার্থক, শহীদদের রক্তদান সার্থক।
  30. বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতি উৎখাত করতে হবে। দুর্নীতি আমার বাংলার কৃষক করে না। দুর্নীতি আমর বাংলার শ্রমিক করে না। দুর্নীতি করে আমাদের শিক্ষিত সমাজ।
  31. বর্বর পাক-বাহিনী আমার দেশের মা বোনদের উপর যে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে, তা সভ্য সমাজের কল্পনাতীত। আমাদের সমাজে তাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  32. আমি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিত চাই যে, আমাদের দেশ হবে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক দেশ। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, হিন্দু- মুসলমান সবাই সুখে শান্তিতে থাকবে।
  33. সাত কোটি বাঙ্গালীর ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি কিন্তু বাংলাদেশের মানুশের ভালোবাসা হারাতে পারবো না।

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন