কোন কোন খাবারে আছে
সবুজ শাকসবজি, ডেইরি প্রোডাক্ট, ব্রকলি, সয়াবিন তেল, পুঁইশাক, বাঁধাকপি, পার্সলে, লেটুসপাতা, সরিষা শাক।
উপকারিতা
২০১০ সালের এপ্রিলে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ডায়াবেটিস কেয়ার’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, অধিক ভিটামিন ‘কে১’ (ফাইলোকুইনোন) ও ভিটামিন ‘কে২’ (মেনাকুইনোন) গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়। ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার আটরিচের গবেষকরা ৩৮ হাজার ৯৪ নারী-পুরুষের ওপর দীর্ঘ ১০ বছর ৪ মাস এ গবেষণা কর্মটি পরিচালনা করে। গবেষণা চলাকালীন ৯১৮ জন টাইপ-২ ডায়াবেটিস মেলিটাসে আক্রান্ত হন। গবেষকরা সবার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তে আসেন, যেসব নারী-পুরুষ অধিক ভিটামিন ‘কে১’ গ্রহণ করেন, তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম ভিটামিন ‘কে১’ গ্রহণকারী নারী-পুরুষের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে যায়। তারা আরও প্রমাণ করেন, যারা অধিক ভিটামিন ‘কে২’ গ্রহণ করেন, তাদেরও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় এবং রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিটামিন ‘কে;র প্রাকৃতিক উৎসগুলোর মধ্যে ব্রকলি, ফুলকপি, সয়াবিন, বাঁধাকপি, শালগম, পালংশাক, বিট, দুগ্ধজাতীয় খাবার, ডিম ও মাংস উল্লেখযোগ্য।
ভিটামিন 'কে'-এর অভাবে
রক্ত জমাট বাঁধার কিছু ফ্যাক্টর_ বলা যাবে ক্লটিং ফ্যাক্টরস টু, সেভেন ও টেন-এর তৈরিতে ভিটামিন 'কে'-এর দরকার হয়। সুতরাং এর অভাবে রক্তপাত ঘটে। শিশুর প্রথম বছর বয়সে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বেশি।
ভিটামিন 'কে'-এর শ্রেণীবিভাগ : কে১_ উৎস সবুজ পাতা শাকসবজি, লিভার, লিচু, উদ্ভিদ তেল। আমেরিকাতে বাজারের খাদ্যে সম্পৃক্ত করে দেওয়া হয়।
কে২_ পরিপাক নালির ক্ষুদ্রান্তে উৎপন্ন হয়। তবে মাংস, লিভার, পনির এসবে বেশ মেলে। অভাবজনিত সংকট : তিন প্রকারের নবজাতক সময়ের রক্তপাত
প্রথম ১-১৪ দিন বয়সে শিশুর পরিপাকতন্ত্র, ত্বক, নাভী হতে রক্তপাত। নবজাতক শিশুর ক্ষুদ্রান্ত এ সময়ে 'কে' ভিটামিন উৎপাদন করতে পারে না। গর্ভফুল হতেও বেশি 'কে' ভিটামিন জরায়ুতে থাকাকালীন শিশু পায় না। বুকের মধ্যেও এর মাত্রা কম। দেরি করে মাতৃদুগ্ধ পান শুরু করালে শিশু আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।
২-১২ সপ্তাহ বয়সের শিশুতে। তবে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত হতে পারে। শিশুতে লিভার ডিজিজ থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। 'কে' ভিটামিন দেওয়া না হলে প্রতি লাখ শিশুর ৪-১০ জন এতে আক্রান্ত হতে পারে। মস্তিকে, পাকস্থলী ও ত্বকে রক্তপাত দৃশ্য দেখা যায়।
ষজন্মক্ষণে বা কিছু পরে হতে পারে। মা যদি গর্ভকালীন কিছু ওষুধ যেমন ওয়ারফেরিন, ফেনোবারটাল ইত্যাদি গ্রহণ করেন তা 'কে' ভিটামিনের কাজে বাধা দেয়।
চিকিৎসা : মাংসে বা শিরায় ১ মিলিগ্রাম 'কে' ভিটামিন প্রয়োগ।
প্রয়োজনে ফ্রেশ ফ্লোজেন প্লাজমা (রক্তরস)
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা :জন্মের পরপর নবজাতক শিশুকে ১ মিলি গ্রাম 'কে' ভিটামিন মাংসে দেওয়া। মুখেও খাওয়ানো যায় ,যা প্রথম ১-১৪ দিন বয়সীদের রক্তপাত বন্ধে ভূমিকা রাখে।
No comments:
Post a Comment