10 May, 2018

মাদকের প্রভাবে বেড়েছে খুন-খারাপি


শিবগঞ্জে মাদকের প্রভাবে বেড়েছে খুন-খারাপির মতো নৃশংসত নানা অপরাধ
ফোর মার্ডারের নেপথ্যে মাদক সেবন-কেনাবেচা চক্রের বিরোধ!
পুলিশ খোঁজছে এক নারীকে?
রি‌পোর্টঃ সাংবা‌দিক খলিলুর রহমান আকন্দ,
ঈদ কিংবা কোনো পর্বে নয়, এখন নিয়মিত সীমান্ত পেরিয়ে আসছে বিপুল পরিমান মাদক বগুড়ার শিবগঞ্জে অঞ্চলে। যে কারনে চা‘স্টল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামে-গ্রামে, হাটেবাজারে এখন প্রকাশ্যে চলছে মাদকের কেনাবেচা। এই উপজেলার খুব কাছে ভারত তাছাড়া মহা-সড়কে যোগাযোগ হওয়ায় মাদকের চালান অনেক বেশি। মাদকের ভয়াবহ এই আগ্রাসনে পুরো এলাকার মানুষ ছেলে-মেয়েদের নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ফেন্সিডিল, ইয়াবাহ, গাঁজা, হেরোইন,প্যাথেডিন ইনজেকশন গ্রহন করছে উঠতি বয়ষের এসব কিশোর ও যুবকরা। মাদকের প্রভাবে উপজেলা জুড়ে বেড়ে গেছে চুরি,ডাকাতি, ছিনতাইসহ খুন-খারাপির মতো নৃশংসত নানা অপরাধ। নেশার টাকা জোগাতে এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়ষের ছেলে-মেয়েরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলা সদরসহ নাগরবন্দর, রায়নগর, মহাস্থান, মোকামতলা, আলীয়ারহাট, বেতগাড়ী, ভাইয়ের পুকুর, আটমুল, কিচকবাজার, পুরাতন কিচক, ধারিয়া বন্দর, সোনারপাড়া বন্দর, বলরামপুর বন্দর, খামটাহাট, পানিতলা বন্দর, দাড়িদহ বাজার, গুজিয়া বাজার, আমতলী বন্দর, হরিপুর বাজার, রহবল বন্দর, চুন্ডিহারা বাজার, পিরব বন্দর, বুড়িগঞ্জ বাজার, মাঝিহট্র বাজার, গাংনগর বন্দরসহ গ্রামাঞ্চলের চিহ্নিত প্রায় এক থেকে দেড় হাজার ষ্পটে এসব মাদকের ব্যবসা চললেও কর্তৃপক্ষের চোখ এড়িয়ে যায় রহস্যজনক কারণে। নেশাগ্রস্থরা চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই করছে শুধু নেশার টাকার জন্য। এসব চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। সেই সঙ্গে মাদকাসক্তের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। এলাকায় নেশাখোরদের মাতলামির শিকার হয়ে সমাজের ধর্মপ্রাণ লোকজনদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। শিবগঞ্জ পৌরসভার অদুরে, উপজেলা সদর, আটমুল ইউনিয়নের ভাইয়েরপুকুরে ক‘দিন আগে জুয়ার মেলার কারনে এলাকার মানুষ একরকম ফতুর হতে চলেছে।
গত রোববার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জে হাত বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে ফোর মার্ডারে নেপথ্যে কারা জড়িত আছে, উদঘটনে পুলিশ, ডিবি, সিআইড, এনেএসআইসহ ৬স্তরের প্রশাসন ছুটলেও ঘটনার একদিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত হত্যা কান্ডের ক্লু উদঘাটন করা যায় নি। তবে পুলিশ প্রশাসন মুলরহস্য উদঘটনের সর্বাত্রক চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধারনা এলাকার মাদকের নিয়ন্ত্রন, চোরা কারবারী, জুয়া, চুরি, জঙ্গী সংপৃক্ততা সহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে এ হত্যা কান্ড ঘটতে পারে। আর এই সুত্রেই অপরাধিদের সন্মাক্ত করা সম্ভব বলে পুলিশ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছিন।
এ হত্যা কান্ডকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ভোর পুলিশি অভিযান চলে। এসময় থানা পুলিশ ৭জনকে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আটক করে। আটকৃতরা হলো বাদলা দিঘী গ্রামের মৃত জসিমুদ্দিনের পুত্র মোঃ রফিকুল ইসলাম, ডাবুইর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে রুবেল ও তার স্ত্রী নাজনিন বেগম, মেয়ে নাতাশা, একই গ্রামের আফছার আলীর ছেলে আব্দুল হালিম,ধামাহার গ্রামের জাকিরুল, ছোট্র বেলঘরিয়া কুলুপাড়ার ব্যবসায়ী প্রফুল্ল সরকারের ছেলে লিটন সরকার।
তবে জাকিরুল,ও নাতাশা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ এর ছেড়ে দেন,
উল্লেখ্য গত সোমবার উপজেলার ডাবইর ধান ক্ষেত থেকে থানা পুলিশ ৪জন ব্যক্তির হাত পা বাধাঁ গলা কাটা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে নিহত অপর অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তি জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পুনট নান্দাইল(লকর) গ্রামের ছামছদ্দিন মন্ডল এর পুত্র খবির উদ্দিন @ বাউশা।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার সকালে কয়েকজন কৃষক ওই মাঠে ধান কাটতে গিয়ে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে শিবগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ যুবকের লাশ উদ্ধার করেন। সংবাদ পেয়ে সকাল ১০ টায় কাঁদা পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞাঁ।
এদিকে মাদক কেনাবেচার বিরোধে খুনের শিকার ওই যুবকদের হত্যার একটু আগে নারী কন্ঠে মোবাইলে প্রেমের নিবেদনে ডেকেছে। সেই লাভলী নামের নারীকে পুলিশ খোঁজছেন।
সম্প্রতি মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি বিপুল সংখ্যক ফেন্সিডিল ও হিরোইন এবং গাঁজা সহ দু‘দফায় ৬ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। গত এক মাসে ভাইয়েরপুকুর বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে পুলিশ ও আর্ম পুলিশ কয়েক‘শ পিচ ইয়াবাহ ও গাঁজা সহ অন্তত ৬জনকে আটক করেছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ভাইয়েরপুকুর বাজার মাদকের সবচেয়ে অভয় এলাকা, বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকাসহ, কাঠগাড়া,কুলুপাড়া মিলে কয়েক‘শ পরিবারের লোকজন ফেন্সিডিল, ইয়াবাহ, গাঁজা, হেরোইনসহ মাদক সেবীও ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। এ চক্রের সহায়তাকারি ও অর্থদাতা হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসিন দলের নামধারী বেশ কয়েকজন ভাইয়েরপুকুর বাজার সর্বক্ষনিক তাদের অবস্থান। স্থানীয়দের অভিযোগ এদের কাছ থেকে প্রশাসনের নামধারী লোকজন নিয়মিত মাসোয়ারা গ্রহন করে থাকেন। যে কারনে তারা পুলিশকেও তেমনটা পড়োয়া করেন না। তাছাড়া এসব অপরাধিদের আটক করে জেলে পাঠিয়েও দু/একদিনের মধ্যে তারা বেড়িয়ে আসছেন। এসব কিছুই মাদক প্রবনতা বৃদ্ধির কারন বলে মনে করেন সুধিমহল। এছাড়াও গত সপ্তাহে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কে, পিরব ও মহাস্থানে বিপুল সংখক মাদকদ্রব্য সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। মাদক কারবারিরা এসব বহনে কখনো সেমাইয়ের খাচাঁ আবার কখনো মুরগির বাচ্চা বহনকারি বহন ছাড়াও অভিনব পন্থা অনুসরণ করছে। এ কারণে আইনশৃঙখলা বাহিনীও বিভ্রান্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য কিছু মাদক ধরা পড়লেও বেশির ভাগ থাকছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। এই মাদক চোরাচালান ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছে এলাকাভিত্তিক এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি। অনেক সময় তারা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আবার কখনো তাদেরকে ম্যানেজ করে ভারত থেকে নিয়ে আসছে ফেন্সিডিল, ইয়াবাহ, গাঁজা, হেরোইন ও প্যাথেডিন। সুত্রমতে মাদকের মিনিগুদাম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে শিবগঞ্জ নাগরবন্দর, মহাস্থান, মোকামতলা, আলীয়ারহাট, বেতগাড়ী, কিচক ও ভাইয়ের পুকুর এলাকার শতাধিক বসতবাড়ি। সেখান থেকে উপজেলার অন্যসব ষ্পটে সরবরাহ সহ বড় ধরনের চালান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রন থানা পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ আছে এই মাদক ব্যবসায়ী মালিকদের সাথে। কৌশল হিসেবে তারা কখনো নামীদামি মাইক্রোবাস এর গ¬াসের সামনে মন্ত্রনালয়ের ষ্ট্রিকার ব্যবহার করে, কখনো লক্কড় ঝক্কড় মার্কা ভটভটি, পিকাপ ভ্যান, কখনো বালুভর্তি ট্রাক আবার কখনো এলাকার সহজ-সরল মহিলাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে মাদক বিক্রেতাদের আইনশৃঙখলা বাহিনী ধরার পর থানায় আসার আগেই ধরা পরা মাদক গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ওইসব পয়েন্ট থেকে সাদা পোষাকদাধী প্রশাসনের লোক অথবা ডিবি‘র পরিচয়ে প্রায় বিকেলে কিংবা রাতে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা গ্রহন করে থাকেন। বিশেষ করে আলিয়ারহাট, বেতগাড়ী ও ভাইয়েরপুুকুর বন্দরে প্রশাসনের কয়েক জনকে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে হোটেল কিংবা চা স্টোলে আড্ডা দিতে দেখা যায়। যা জনগনের নজর পরেছে, এতে একদিকে প্রশাসনের ভাবমূত্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে অপরদিকে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার সহকারি পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মোঃ মশিউর রহমান সাংবাদিককে বলেন,মাদক চোরাকারবারিদের সাথে পুলিশের কোনো আপোষ নেই। এটি বন্ধে আমাদের প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যহত আছে।

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন