06 December, 2018

ইহরাম ও তার মাসয়ালা


১.হজ্জের নিয়ত করে হজ্জের পোষাক পরিধান করা ও তালবিয়া পড়াকে ইহরাম বলে। হজ্জের নিয়ত করে তালবিয়া পড়ার পর লোক মুহরেম হয়ে যায়। যেমন নামাজে তাকবীর বলার পর লোক নামাজে প্রবেশ করে এবং তারপর খানাপিনা, চলাফেরা প্রভৃতি হারাম হয়ে যায়, তেমনি ইহরাম বাধার পর হজ্জ শুরু হয়ে যায়। তারপর বহু জিনিষ যা ইহরাম বাধার পরে জায়েয ও মুবাহ ছিল, ইহরাম অবস্থায় সেসব কাজ হারাম হয়ে যায়। এজন্য একে ইহরাম বলে।
২.যে কোন কারণে মক্কা যেতে হোক ভ্রমণ ব্যবসা বাণিজ্য অথবা যে কোনো উদ্দেশ্যই হোক মীকাতে পৌঁছে ইহরাম বাধা অত্যাবশ্যক। ইহরাম ছাড়া মীকাত থেকে সামনে অগ্রসর হওয়া মাকরুহে তাহরীমা।
৩.ইহরাম বাধার পূর্বে গোসল করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। শিশুদের গোসল করাও মসনুন। মেয়েলোক হায়েয নেফাস অবস্থায় তাদের গোসল করাও মসনুন। হ্যাঁ তবে গোসল করতে অসুবিধা হলে বা কষ্ট হলে অযু অবশ্য করে নেওয়া উচিৎ। এ অযু বা গোসল শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য, পাক পবিত্রতার জন্য নয়। এ জন্য পানি না পেলে তায়াম্মুম করার দরকার নেই।
৪.ইহরামের জন্য গোসল করার জন্য চুল কাটা, নখ কাটা ও সাদা চাদর ও তহবন্দ পরা এবং খসবু লাগানো মুস্তাহাব।
৫.মীকাতে পৌছার পূর্বেও ইহরাম বাধা জায়েয। ইহরামের সম্মান রক্ষা করতে পারলে তা ভালো। নতুবা মীকাতে পৌছার পর ইহরাম বাধা ওয়াজিব।
হজ্জের সময় তালবিয়াহ নামক দোয়া পাঠ করা হয়। এটি নিম্নরূপঃ তালবিয়াহ হল- লাব্বাইকা আল্লাহহুম্মা লাব্বাইকা, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা। ইন্নাল হামদা ওয়ান নেয়মাতা লাকা ওয়াল মূলকা লা শারীকা লাকা। অর্থঃ হে আল্লাহ আমি হাজির। আমি তোমার ডাকে হাজির। আমি তোমার দরবারে হাজির আছি, তোমার কোনো শরীক নেই। এটা সত্য যে, প্রশংসা ও শোকর পাবার অধিকারী তুমি। দান ও অনুগ্রহ করা তোমারই কাজ। তোমার প্রভুত্ব কর্তৃত্বে কেউ শরীক নেই।
১.ইহরাম বাধার পর একবার তালবিয়া পড়া ফরয। বেশী বলা সুন্নাত।
২.ইহরাম বাধার পর থেকে ১০ই যুলহাজ্জ তারিখে প্রথম জুমরায় পাথর মারা পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকতে হবে। প্রত্যেক নীচুতে নামার সময় এবং ওপরে ওঠার সময় প্রত্যেক কাফেলার সাথি মিলিত হবার সময় প্রত্যেক নামাযের পর এবং সকাল-সন্ধ্যায় তালবিয়া পড়তে হবে।
৩.জোরে জোরে তালবিয়া পড়া সুন্নাত। নবী (স) বলেন, আমার কাছে জিবরাঈল (আ ) এসে এ ফরমান পৌছিয়ে দেয় যে, আমি যেন আমার সঙ্গীদেরকে হুকুম দেই তারা যেন উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়ে। (মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক (র) তিরমিযি, আবু দাউদ প্রভৃতি। কিন্তু মেয়েরা উচ্ছস্বরে তালবিয়া পড়বে না। হেদায়ায় আছে মেয়েরা তালবিয়া পড়ার সময় আওয়াজ বুলন্দ করবে না। এজন্যে যে এতে করে ফেতনার আশংকা সহতে পারে। তারা রমলও করবে না এবং সায়ী করার সময় দৌড়াবে না। এজন্যে যে, এতে পর্দা নষ্ট হবে।)
৪.তালবিয়া পড়লে তিনবার পড়তে হবে। তিনবার পড়া মুস্তাহাব।
৫.তালবিয়া পড়ার সময় কথা বলা মাকরূহ। সালামের জবাব দেয়া যেতে পারে।
৬.যে তালবিয়া পড়ছে তাকে সালাম না দেয়া উচিত। তাকে সালাম করা মাকরূহ।
৭.তালবিয়ার পর দরুদ পড়া মুস্তাহাব।
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
১।ইহরাম বাঁধার পর সাংসারিক কাজ-কর্ম নিষেধ|
২।যৌন সম্ভোগ ও সে সংক্রান্ত আলোচনাও নিষেধ|
৩।পুরুষদের জন্য সেলাই করা পোশাক পরিধান করা বৈধ নয়, তবে মহিলাদের জন্য তা নিষিদ্ধ নয়|
৪।মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত না রাখা, তবে মহিলারা মাথা ঢেকে মুখ অনাবৃত রাখবেন|
৫।কথা ও কাজে সংযত থাকা|
৬।হাত ও পায়ের নখ কাটা যাবে না, তবে ভাঙ্গা নখ ভেঙ্গে ফেলায় কোনো ক্ষতি নেই|
৭।চুল, দাড়ি-গোঁফ এমনকি শরীরের একটি পশমও কাটা বা ছেঁড়া যাবে না|
৮।সুগন্ধি লাগানো যাবে না|
৯।শিকার করা যাবে না। তবে ক্ষতিকারক সব প্রাণী মারা যাবে, ক্ষতি করে না এমন কোনো প্রাণী মারা যাবে না।

No comments:

Post a Comment

ইসমাইল হোসেন